ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রাঙ্গনে ইয়াকুব আলীর “নদীর জীবন” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আশফাক রহমানঃ সিডনির প্রখ্যাত লেখক এবং বাংলা স্কুল পরিবারের সদস্য ইয়াকুব আলির  সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম  গ্রন্থ “নদীর জীবন”  এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ১৮ এপ্রিল (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে ইয়াকুব আলির নদীর জীবনের মোড়ক উন্মোচন করেন সিডনীতে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল আহসান খান। নাজমুল আহসান খান তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন তিনি ইয়াকুব আলির লেখা নিয়মিত পড়েন এবং তিনি নদীর জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

লেখক ইয়াকুব আলি তার বক্তব্যে বলেন তিনি যা বিশ্বাস করেন, যা হৃদয়ে ধারণ করেন তা লেখায় তুলে আনেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে, বইটি সংগ্রহ করে পড়ার অনুরোধ করেন তিনি। স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ বলেন একটি বই একজন লেখকের কাছে নিজের সন্তানের মত। নদী ভাঙ্গনে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও ইয়াকুব আলির নদীর প্রতি ভালবাসা তার অসাধারণ লেখক সত্তাকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলা স্কুল সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন  তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন তিনি ইয়াকুব আলির একজন গুণমুগ্ধ পাঠক। যে কোন বিষয়ের উপর ইয়াকুবের সাবলিল লেখা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তিনি আরও বলেন ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল অতীতের মত সবসময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ও উৎকর্ষ সাধনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে। তিনি সবাইকে বাংলা স্কুলের কর্মকাণ্ডের সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে আহবান জানান।

বাংলা স্কুলের সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমানের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে স্কুলের কার্যকরী কমিটির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দানের পাশাপাশি এর চর্চা, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। আর তাই বাংলা বইয়ের পাঠাভ্যাস তৈরিতে বাংলা স্কুল সবসময় সচেষ্ট।

নদীর জীবন মূলত লেখকের শৈশব কৈশোরের স্মৃতিকথা হলেও এতে উঠে এসেছে আবহমান গ্রাম বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শহুরে সংস্কৃতির সাথে গ্রামীন সংস্কৃতির সংঘাত ও সামঞ্জস্য। এই বইয়ের মূল উপজীব্য মানুষ এবং সময়ের সাথে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নদীর জীবনের শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে বিশ ডলার। প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রাঙ্গন থেকে বইটি সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া সরাসরি লেখকের সাথে যোগাযোগ করেও ( ইয়াকুব আলি ০৪৫২১৭৭৫৯২ ) বই সংগ্রহ করা যাবে।

সিডনিতে ফাগুন হাওয়া’র বৈশাখী আড্ডা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন ফাগুন হাওয়ার আয়োজনে হয়ে গেল বৈশাখী আড্ডা। পহেলা বৈশাখে সিডনির বেক্সলি ম্যানর ফাংশন সেন্টারে এই আয়োজন করা হয়। ষোল আনা বাঙালি ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে এবারের অনুষ্ঠান সাজানো হয়। করোনার বিধিনিষেধ মেনে এতে প্রায় সাড়ে চারশ’ প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন।

এবারের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ফাগুন হাওয়ার পক্ষ থেকে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি বৈশাখে টিম গঠন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও ক্যান্টারবুরি ব্যাঙ্কসটাউনের এক্স কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু সহ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এই অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাহে জামান টিটু বলেন, ফাগুন হাওয়ার যেকোনো গঠনমূলক কাজের সাথে তিনি সবসময় থাকবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর একে একে ছিল নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি। নাচে মৌসুমি সাহা ও তার দল, আনুভা আদ্রিতা রায়। কবিতা আবৃত্তি করেন শহিদুল আলম বাদল, আকিদুল ইসলাম, ফয়জুন্নেছা পলি, মোশতাক আহমেদ ও আরিফুর রহমান। রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন পলশ্রী রায়। দেহতাত্ত্বিক গানে মাতিয়ে রেখেছিলেন নামিদ ফরহান ও আয়শা কলি। সবশেষে সিডনির নামকরা ব্যান্ডদল কৃষ্টি বৈশাখী গান সহ জনপ্রিয় বাংলা গান পরিবেশন করে।

আপ্যায়ন পর্বে চমক রেখেছিল আয়োজক কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো প্রায় চারশ’ জনের জন্য গরম গরম ইলিশ মাছ ভেনুতেই ভেজে পরিবেশন করা হয়। রকডেলের ফুসকা হাউজের খাবারও ছিল। এছাড়াও হরেক রকম পিঠা, মিষ্টি, দই-চিড়া, খই, নাড়ু, মুড়ি মুড়কি সহ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার ছিল অনুষ্ঠানে। এতে বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পোলাও, রোস্ট, ডিম, চিপস ও সুসজ্জিত ফ্রুটস প্লাটার পরিবেশন করা হয়। ছিল বাংলার অন্যতম অনুষঙ্গ মজাদার পান। বৈশাখী আড্ডার পরিপূর্ণ আমেজ ফুটিয়ে তুলতে বৈশাখী মেলার আয়োজনও ছিল। সেখানে বাচ্চাদের খেলনা ও বড়দের বিভিন্ন বাঙালি পোশাক বিক্রি করা হয়।

 অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফাগুন হাওয়া’র সভাপতি তিশা তাসমিম তানিয়া বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্ডিয়ান, কলকাতার বাঙালি ও নেপালিরা অংশগ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন বাঙালি ঐতিহ্য ও কৃষ্টি কালচারের সাথে সব দেশ সব দেশীয় মানুষকে পরিচিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এ সময় ফাগুন হাওয়ার সাধারণ সম্পাদক সাজেদা আক্তার সানজিদা আগামী বছর আবারও বৈশাখী আড্ডা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।   

একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

সিডনিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেছে একুশেএকাডেমি অস্ট্রেলিয়া। ১১ এপ্রিল দুপুর ১২ টায় সিডনির বেলমোর কমিউনিটি সেন্টারে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম, ডঃ সুলতান মাহমুদ, ডঃ কাইউম পারভেজ, নেহাল নেয়ামুল বারী, ডঃ শাখাওয়াত নয়ন প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ শিক্ষা, যোগাযোগ, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। সাক্ষরতার হার বাড়লেও সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি নৈতিকতার চর্চা কমেছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

পরে মুনা মোস্তফার উপস্থাপনায় কবিতা আবৃত্তি, শিশু -কিশোরীদের নৃত্য এবং দেশের গান নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন অমিয়া মতিন, অভিজিৎ বড়ুয়া, পিয়াসা বড়ুয়া, সুমিতা দে প্রমুখ। তবলায় সংগীত পরিবেশন করেন জন্মেজয় রায়।

করোনায় আক্রান্ত ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রধান সম্পাদক ফয়সাল আজাদ সবার দোয়াপ্রার্থী

অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক, স্বদেশ এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার, সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্য ফয়সাল আজাদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সিডনিতে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে রয়েছেন। তাঁর করোনা পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

ফয়সাল আজাদ ও তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগম গত কয়েক মাস বাংলাদেশে অবস্থান শেষে গত ২ এপ্রিল সিডনি ফিরে আসেন। সিডনিতে কোয়ারান্টাইনে থাকা অবস্থায় করোনা পরীক্ষায় গত ১১ এপ্রিল ফয়সাল আজাদের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তার মাতাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন।  

ফয়সাল আজাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। জনপ্রিয় এই মানুষটি ও তার মায়ের জন্য বিভিন্ন অঙ্গনের খ্যাতিমান ও গুণীজনেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দোয়া ও সুস্থতা কামনা করে সমবেদনা বার্তা প্রকাশ করেছেন।

অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’র সভাপতি মো. সিরাজুল হক ও সাধারণ সম্পাদক পিএস চুন্নু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদা, সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মতিন, স্বদেশ বার্তা’র নির্বাহী সম্পাদক আইজিদ আরাফাত অরূপ, স্বদেশ বার্তা’র সম্পাদক শেখ জাহিদ আজিম, ক্রিয়েটিভ সম্পাদক এফ.জেড পলাশ, মিরাক্কেলখ্যাত কমিডিয়ান আবু হেনা রনি ও মো. জামিল হোসেনসহ প্রমুখ। ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রধান সম্পাদক ফয়সাল আজাদ ও তার মায়ের সুস্থতার জন্য তাঁর সহধর্মিনী সুমি আজাদ দেশে ও প্রবাসে সবার নিকট দোয়া কামনা করেছেন।

সিডনিতে আগামী ১৩ এপ্রিল ও ১৪ এপ্রিল পবিত্র রমজান শুরু

আগামীকাল ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) এবং ১৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র রমজান শুরু হবে। অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ইমাম ও আলেম সংগঠন “মুনসাইটিং অষ্ট্রেলিয়া”র সূত্র মতে, নিউ সাউথ ওয়েলস, ক্যাপিটাল টেরিটোরি, ভিক্টোরিয়া, কুইন্সল্যান্ড, ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়া ও পার্থে আজ রমজানের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় তারা আগামী ১৪ এপ্রিল (বুধবার) থেকে রোজা শুরু হবে বলে জানান।

অন্যদিকে অষ্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল ইতিমধ্যেই আগামীকাল ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। এই রমজানে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার মসজিদ এবং মাসালায় স্বল্প পরিসরে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তারাবীহ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য গত বছর কোভিড-১৯ এর জন্য সিডনীতে কোথাও রমজানের তারাবীহর জামাত হয়নি।

মহানবী (সা.) রজম মাসের শুরু থেকেই রমজানের প্রস্ততিস্বরূপ নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেন, “আল্লাহুমা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।” অর্থ: হে আল্লাহ! রজব ও শাবানকে আমাদের জন্য বরকতময় কর এবং রমজান পর্যন্ত আমাদের হায়াত দীর্ঘ কর।

বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এসোসিয়েশন ক্যানবেরা আয়োজিত বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত

আইজিদ আরাফাত অরূপঃ স্থানীয় সময় আজ ১০ এপ্রিল (শনিবার) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এসোসিয়েশন ক্যানবেরা (ব্যাক) স্থানীয় ইসলামিক সেন্টার প্রাঙ্গনে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত আয়োজিত এই মেলায় প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক জনসমাগম হয়। মেলায় অসংখ্য দেশী খাবারের স্টলের সাথে ছিল বাহারি শাড়ি, জামা কাপড় এবং বিভিন্ন অলংকারের সমাহর। পাশাপাশি মেলায় ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখ বরনের আয়োজন সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলার আয়োজক কমিটির পক্ষে ব্যাকের সাধারন সম্পাদক সাকিব ইয়ামিন উপস্থিত সকলকে এই মেলা সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানান। সংগঠনের সভাপতি আমিনুর রশিদ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের নির্বাচন আগামী ২০শে জুন

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামি ২০ জুন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিডনির ব্যাংকস্ টাউনে অবস্থিত লেমনগ্রাস থাই রেঁস্তোরা কাউন্সিলের কার্যকরী পরিষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মোহাম্মাদ আসিফ ইকবালের ক্বোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। কাউন্সিলের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের উপস্থাপনায় এই সভায় কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যন্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন; মোহাম্মেদ আসলাম মোল্লা (সহ-সভাপতি), শিবলী আবদুল্লাহ (সহ-সভাপতি), আবদুল আউয়াল (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), মাকসুদা সুলতানা (কোষাধ্যক্ষ), নামিদ ফারহান (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মোহাম্মাদ আসিফ ইকবাল (মিডিয়া অ্যান্ড কমুনিকেশন সম্পাদক) এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য নাইম আবদুল্লাহ ও ড. ফজলে রাব্বি। এছাড়াও মিজানুর রহমান সুমন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক) এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মাদ রেজাউল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পেরে দু:খ প্রকাশ করেন এবং কার্যকরী পরিষদের সকল সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেন।

কার্যকরী পরিষদের সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলের বর্তমান কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীমকে সর্বসম্মতিক্রমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচন করে তিন সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। বাস্তবায়ন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ড. ফজলে রাব্বি ও নাইম আবদুল্লাহ। কাউন্সিলের সভাপতি ড. এনামুল হক মেলবোর্ন অবস্থান করায় এবং এপর্যন্ত কার্যকরী পরিষদের কোন সভায় তিনি উপস্থিত থাকতে না পারায় কাউন্সিলের বর্তমান কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন সিদ্বান্তের পর অনুষ্ঠানের সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম সবাইকে নৈশভোজের আহব্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রশান্ত পাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে আগাম বাংলা নববর্ষ উদযাপন

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ আজ স্থানীয় সময় ৩ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে সিডনির এক ঝাঁক প্রত্যয়ী ও প্রগতিশীল রমনীদের নতুন সংগঠন “আমাদের কথা” সিডনির ইঙ্গেলবার্ন রিসার্ভে আগেভাগেই নুতন বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করে। তারা বিশাল বনরাজি শোভিত ছায়া সুনিবিড় ইঙ্গেলবার্ন পার্কে রমনার বটমূলের আদলে মঞ্চ তৈরী করে ও মঙ্গল শোভাযাত্রার চিত্রকর্ম দিয়ে সাজিয়ে বাংলা বর্ষবরণ করে।

সংগঠনের পরিচালক পূরবী পারমিতা বোসের সঞ্চালনায় তিশা তানিয়া, চিনু দাস, মুনা মোস্তফা, নিলুফা ইয়াসমিন ও আরো একঝাঁক প্রত্যয়ী তরুণীদের অংশগ্রহণে  “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” আবাহন দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ উপস্থাপনায় ছিলো বর্তমান প্রজন্মের কিশোর কিশোরীদের অংশগ্রহণে বাংলা গান, সাথে নাচ ও কবিতা আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের দেশজ খাবার, হরেক রকমের ভাজি, ভর্তা, সবজি, মাছের ঝোল, মুরগি ভুনা সহ প্রায় বিশ পদের খাবারে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

মধ্যাহ্ন ভোজের পরে শুরু হয় বড়োদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । বিকেলের নাস্তায় দেশজ পিঠা, পুলি, রসগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আমাদের কথা সংগঠনের আয়োজক কমিটি জানান, সব ধরনের মুখরোচক খাবার আমাদের সদস্যবৃন্দ নিজেরা তৌরি করেছে। তারা সিডনির রেনেসাঁ সংগঠনকে একটি পরিশীলিত বর্ষবরণ উপহার দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সিডনিতে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘অটিজম দিবস’ পালিত

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি দিবস যা প্রতিবছর ২রা এপ্রিল পালিত হয়। অটিজম হচ্ছে স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যা। অটিজমের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়াতে সিডনির ল্যাকান্বায় একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘Autism Day’ বা অটিজম দিবস পালিত হয়। অটিজম সম্পর্কে গণজনসচেতনতা বাড়াতেই এই সেমিনারের আয়োজন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আবিদা আসওয়াদ। সাংবাদিক আব্দুল মতিন কোরআন তেলয়াত পাঠের পর আলোচনা শুরু হয়।

প্রধান বক্তা ডাক্তার রোজিনা বেগম অটিজম দিবসটির উপর ব্যাপক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং বড় হওয়া পর্যন্ত থাকে। অটিস্টিক ডিজঅর্ডার, পার্ভেসিভ ডেভোলাপমেন্টাল ডিজঅর্ডার, এসপারজার সিন্ড্রোম, উপসর্গ, কারণ, রোগ নির্ণয়, করনীয় নিয়ে ডা: রোজিনা আলোচনা করেন।

সহকারী নার্স ও মানসিক স্বাস্থ্য এডুকেটর আবুল কালাম আজাদ খোকন বলেন, এই রোগটি নিয়ে আগে অনেকেই সচেতন ছিলেন না কিন্তু এখন অটিজম সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়াতে ১৫০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন অটিজমে আক্রান্ত।

চাইল্ড কেয়ার এডুকেটর লিপি আক্তার বলেন, অটিজম একটি জটিল স্নায়বিক বিকাশ সংক্রান্ত রোগ যা সামাজিক বিকলতা, কথা বলার প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং একই ধরনের আচরণ  দ্বারা চিহ্নিত হয়। এটা একটি মস্তিষ্কের রোগ যা  সাধারণত: একজন ব্যক্তির অন্যদের সাথে কথা বলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। রুমানা সাফেইন ও ফারহানা আমিন বলেন, অটিজম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা।

অটিজম এমন একটা অবস্থা যেখানে শিশুর সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারে না। এরা একা একা থাকতে ভালবাসে।

ইজ্ঞিনিয়ার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এদের কথা বলা শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সাধারণত হাত দিয়ে কোনো জিনিস দেখা বা হাসি-কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের যে ভঙ্গি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অটিজম-এ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো দেখা যায় না।

সাংবাদিক আব্দুল মতিন বলেন, অটিজম রোগের কোনো নিরাময় নেই। এটা ঔষধ ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষার সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি থাকে এবং একই কাজ এরা বারবার করতে থাকে।

আয়োজক আজাদ খোকন সকলকে ধন্যবাদ জানান। ডিনারের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার উম্মুক্ত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া এর এক যুগ পূর্তি আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষে এসোসিয়েশন আয়োজন করে উম্মুক্ত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। ৩২ টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ২১ মার্চ সিডনির লাকেম্বাস্থ পেরী পার্কে খেলা উদ্বোধন করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি কেসিম শামীম। তিনি সুন্দর একটি বক্তৃতার মাধ্যমে সবাইকে সহযোগীতা করার জন্য অনুরোধ করেন। এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক রাশেদ খান এর সক্রিয় উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ব্যাডমিন্টন পরিবারের একমাত্র মুক্তিযাদ্ধা জনাব হেলাল উদ্দিনকে ক্রেষ্ট দিয়ে সন্মান জানানো হয়। ক্রেষ্ট নিয়ে হেলাল উদ্দিন আবেগ প্রবন হয়ে পড়েন।

খেলা পরিচালনার সার্বিক দিয়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আসাদুজ্জামান শাহীন এবং আদিল শরীফ রবীন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ছিলেন আরমান শেখ, শহীদুজ্জামান বাবু ও সুমিত মাসুম। আসাদুজ্জামান শাহীনের সুন্দর এবং সাবলীল উপস্থাপনা সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক রশীদ ভুইয়া সঙ্গে থেকে সবাইকে অনুপ্রানিত করেন।

এসোসিয়েশনের একযুগ পূর্তি উপলক্ষে একটা স্মরনিকা বের করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং এসোসিয়েশনের একজন উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা এর সম্পাদনার দায়িত্ব নেন এবং সবার সাহায্য নিয়ে যথাসময়ে এটা সম্পন্ন করেন। সভাপতি ম্যাগাজিনের মোড়ক উম্মোচন করেন।

তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর টান টান উত্তেজনা নিয়ে খেলা চলে এক সপ্তাহ ধরে। অনেক উত্থান পতন আর অনিশ্চয়তা নিয়ে চারটি দল সেমি ফাইনালে এবং এর মধ্য হতে দুই দল ফাইনালে উঠে। ফাইনালে উত্তীর্ন দুইটি দলের একটা দল আরাফাত ও রাকেশ এর এবং অন্য দল ওয়াসেল ও নবীন।

২৮ মার্চ নির্ধারিত হয় ফাইনাল খেলা। অনেক উৎসাহী দর্শক, খেলোয়াড়, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্পন্সর এর উপস্হিতিতে খেলার জায়গাটা মুখরিত হয়ে উঠে। ক্যাম্বলটাউন কাউন্সিলের সন্মানিত কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী ফাইনাল খেলা উদ্ভোধন করে অনুষ্ঠানকে আরও প্রানবন্ত করে তুলেন। সঙ্গে থাকেন কেসিম শামীম এবং রাশেদ খান। বরাবরের মতো রশীদ ভুইয়া সবাইকে উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যতেও সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আসাদুজ্জামান শাহীন।

শুরু থেকেই তুমুল উত্তেজনা নিয়ে ফাইনাল খেলা শুরু হয়। চলতে থাকে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই। আন্দাজ করা কষ্ট হচ্ছিল কোন দল জিতবে। প্রথম খেলায় জয়ী হয় আরাফাত ও রাকেশ দল। দ্বিতীয় খেলায় জয়ী হয় ওয়াসেল ও নবীন। উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে যখন শুরু হয় তৃতীয় খেলা। এক শ্বাস রুদ্ধকর এবং দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো খেলে আরাফাত ও রাকেশ দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে শুরু হয় বহুল প্রতিক্ষিত পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। সেমি ফাইনালে উত্তীর্ন সব খেলোয়াড়কে ট্রফি দেয়া হয়। তারপর রানার আপ ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়নদ ট্রফি। খেলোয়ড়দের ট্রফি দেবার আগে সকল স্পন্সরদের ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। স্পন্সরদের সবাই আগামীতে সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন। স্বেচ্ছাসেবক এবং উপদেস্টাদের সন্মানিত করা হয় উপহার দিয়ে। সবশেষে সুস্বাদু খাবার এর সাথে গল্পে মেতে উঠে সবাই। আগামীতে আরও ভালোভাবে এই আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়ে রবিবার অনেক রাত পর্যন্ত খাটুনী খেটে আয়োজকরা বাড়ী যান।