সিডনিতে ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা ২০২১’ র জমজমাট শুরু

নিউ সাউথ ওয়েলস কোভিড সেইফটি রুলস্ অনুসরন করে ত্রিমাত্রা অস্ট্রেলিয়া ইন্ক্ আয়জিত  দুই দিন ব্যাপী (পরপর দুই শনিবার) ঈদ উল ফিতরের ” ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা”-র জমজমাট শুরু হয়েছে গত পহেলা মে (শনিবার)।  সিডনি প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র লাকেম্বার ‘ল্যাকেম্বা ইউনাইটিং চার্চ এ অনুষ্ঠিত  হয়ে গেল  দুই  দিনব্যাপী (পর পর দুই শনিবার ) ‘ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা ২০২১’- এর প্রথম দিন। আগামী ৮ মে শনিবার  আবারো লাকেম্বার ‘ল্যাকেম্বা ইউনাইটিং চার্চ এ, দ্বিতীয়  এবং এবারের ঈদ উল ফিতরের শেষ মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।  অন্যবারের মতো এবারও সকাল ১১ টা থেকে রাত ১০ টা পযন্ত সিডনির  বিখ্যাত ফ্যাশান হউসগুলোর অংশগ্রহনে “ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা” অনুষ্ঠিত  হচ্ছে।

ঈদ মেলাকে ভিন্নরূপ দেয়াই ত্রিমাত্রার নতুনত্ব। মেলার প্রথম দিন ঈদ মেলায় যেমন ছিল প্রচুর লোকের সমাগম তেমনি ছিল নতুন বুটিক্স এবং দেশীও কাপড়ের সমাহার। প্রবাসে বসে সিডনির নারী উদ্যোক্তাদের তাদের প্রদর্শিত পণ্য প্রবাসী ক্রেতাদের পৌঁছে দিতে ,প্রবাসে বসে দেশের স্বাদ গ্রহন করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে  দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেই ঈদ মেলার আয়োজন। সকাল থেকে প্রচুর  ক্রেতার সমাগম ঘটে। দেশি ঈদ শপিং বলতে  আমরা যেমন  নিউমার্কেট-গাওসিয়া, মিরপুর, বসুন্ধারা কিংবা ধানমন্ডির জমজমাট শপিংমল ও লোকারণ্য বুঝি, তেমনি জমজমাট স্বাদ ত্রিমাত্রার এই ঈদ মেলায় দেখা গেছে। প্রত্যেকটি ফ্যাশন  হউস তাদের পোশাকে নতুনত্ব বজায় রেখেছে। সিডনির  বিখ্যাত ফ্যাশন হাউসগুলো ছিল এই মেলায়। তাদের রকমারি পোশাক আমাদের মেলার সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। সবগুলো স্টল সজ্জিত ছিল রকমারি দেশিও পোশাকে। দেশী শাড়ি ,সালওয়ার-কামিজ , গহনা, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ছোটোদের পোশাক, এবং রকমারি খেলনার পসরা সাজিয়ে নিয়ে এসেছিলেন বিক্রেতারা। এছাড়া জুয়েলারি এবং মেহেদী , ঈদের হেয়ার কেয়ার,ও রূপসজ্জার বিভিন্ন প্রোডাক্টের ষ্টল ছিল মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ক্রেতাদের কেনাকাটা দেখে মনে হয়েছে আমরা যেন বাংলাদেশেরই কোন বিপনিকেন্দ্রে আছি। আর ছিলো দেশীও খাবার, যা চিরচেনা বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত

গত রবিবার (২ মে) সন্ধ্যায় সিডনির রকডেলে এক রেস্টুরেন্টে ভাবগম্ভীর ও সোহার্দপূর্ণ পরিবেশে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের ইফতার ও দোআ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর নাজমুল হুদা সহ কমুনিটির অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ববর্গ, সেই সাথে বিভিন্ন জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের সম্মানিত সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দোআ মাহফিলে ইফতার এর পূর্বে কোরআন তেলোয়াত দোআ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের কোষাধাক্ষ জনাব আবুল কালাম আজাদ। মোনাজাতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত সকল বাংলাদেশির সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলের জন্য দোয়া করা হয়।

ইফতার পরবর্তী আলোচনা সভায় সহ-সভাপতি কাজী সুলতানা শিমি’র প্রাণবন্ত সঞ্চলনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডঃ শাখাওয়াত নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ টুটুল। ডঃ নয়ন বলেন, আমরা এমন একটি দিনে এক হয়েছি যখন বাংলাদেশ পুড়ছে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে, সময় হয়েছে প্রতিবাদ করার। জনাব ইকবাল টুটুল সংগঠনের গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের এই গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে এবং সাংবাদিক ও সম্মাদকদের স্বার্থ রক্ষা করবে এটাই প্রত্যাশা সকলের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলমকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন সংগঠনের সভাপতি জনাব রহমত উল্লাহ। পরবর্তীতে আন্তজার্তিক ভাষা দিবস উপলক্ষে লাকেম্বাতে স্মৃতি সৌধ তৈরিতে অনবদ্য অবদান রাখায় সংগঠনের সদস্য নোমান আল শামীম ও সদস্য কাউন্সিলর নাজমুল হুদা কে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করেন কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলম।

এসময় সভাপতি জনাব রহমতুল্লাহ জয়যাত্রা টিভির পক্ষ্য থেকে প্রভাতফেরী পত্রিকার সম্পাদক শ্রাবন্তী কাজী আশরাফীর সম্মানতা তু্লে দেন জনাব সুলাইমান দেওয়ানের হাতে।

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলম, তিনি বলেন, বিদেশে আপনাদের অনবদ্য কাজেই দেশ জানতে পারে আমাদের এই ভুবনের কথা, আপনারা আপনাদের ভাল কাজ কম্যুনিটির জন্য উৎসর্গ করুন। সংগঠনের উপদেষ্টা জনাব আবু রেজা আরেফিন বলেন, সিডনির একটি বিশেষ মুহুর্তে আমাদের সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের জন্য তৈরি হয়েছিলো এই সংগঠন, যা আমাদের জন্য গর্বের। ABBC অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে বলেন, বিভেদ নয় ঐক্যই আমাদের কাম্য।

কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বলেন, আমাদের সৌধ কোনো ব্যক্তির নয়, জনগনের। দিন শেষে এটাই আমাদের প্রাপ্তি। সংগঠনের সিনিয়র সদস্য নোমান আল শামীম ফুলেল শুভেচ্ছার জন্য সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, আমাদের কাজটাই থেকে যাবে, আমাদের কথা কেউই মনে রাখবে না। কমুনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব জনাব গামা কাদির তার বক্তব্যে স্মৃতি সৌধের বিরুদ্ধে দাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের ভর্তসনা করে বলেন, যাদের কোনো অবদান নেই তারাই এসব করে বেড়ায়, অথচ এই পরিশ্রম অন্য যায়গায় করলে এরকম আরো সৌধ গড়ে উঠতে পারতো। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সেক্রেটারি আব্দুল মতিন তাকে এই মহিমান্বিত ইফতারে দাওয়াতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংগঠনের মধ্যকার সম্পর্কটা খুব দরকার। সাবেক বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ নিউ সাউথ ওয়েলস এর সভাপতি আকম শফিক বলেন, এই ধরনের ইফতার মাহফিলে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে উঠে, যা আমাদের জন্য সুখকর।

পরিশেষে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য প্রদান করেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি জনাব রহমত উল্লাহ। অনুষ্ঠান শেষে সম্মানিত অতিথিবৃন্দের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিডনিতে অজবাংলা নিউজ পোর্টালের পথ চলা শুরু

গতকাল ২ মে (রবিবার) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চার টায় সিডনির বেলমোর ইয়ুথ এন্ড রিসোর্স সেন্টারে অজবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পথ চলা শুরু করে। কোভিড-১৯ এর সীমাবদ্ধতার জন্য পত্রিকাটি এতদিন পরীক্ষামূলক সম্প্রচার করে আসছিল।

ইফতারের পূর্বে অনুষ্ঠানে ইসলামের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন, অজবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টালের রহমান মোস্তাফিজ বাবু। ড: সৈয়দ আজিমের সঞ্চালনায় পত্রিকাটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, পত্রিকাটির ভিত্তি হলো দেশে এবং প্রবাসে উদিয়মান তরুণ-তরুণী ও অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণ যারা এই নিউজ পোর্টালটির জন্য সময় দিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষতে পত্রিকাটির প্রিন্টিং ভার্ষণে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অজবাংলার ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিনিয়র কলামিস্ট ড: ওয়ালী ইসলাম উপস্থিত অতিথিদের অবহিত করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পত্রিকটির কারিগরি বিষয়ের দায়িত্বে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান লাবু।

উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড: আব্দুল ওয়াহাব, মনিরুল হক জর্জ। পরে উপস্থিত অতিথিদের সংঙ্গে নিয়ে অজবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সবশেষে অতিথিদের ইফতার ও রাতের খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।

সিডনিতে বাসভূমির ১৭ বছর উৎসব আগামি ৫ জুন

বাসভূমি অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক বাংলা মিডিয়া। গত ১৭ বছর ধরে এই ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বাসভূমি আমাদের ভাষা, শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্য বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট বাংলা পত্রিকা ও প্রথম অনলাইন টেলিভিশন বাসভূমির অন্যতম কৃতিত্ব। এ ছাড়া নাটক, টেলিফিল্ম, ট্রাভেল শো, তথ্যচিত্র নির্মাণ ইত্যাদি বাসভূমির নিয়মিত কাজের অংশ।

বিষয়ভিত্তিক বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান করে বাসভূমি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আগামি ৫ জুন (শনিবার) বাসভূমির ১৭ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বক্তৃতা ছাড়া শুধু মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি একেবারে আদি ও চিরন্তন বাঙালি ঐতিহ্যমন্ডিত বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রমী ফটো তোলার লোকেশন তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছেন শামীমা সুমী।

করোনায় আক্রান্ত ফয়সাল আজাদ ও তাঁর মায়ের সুস্থতার জন্য ইফতার দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ ও তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগমের সুস্থতা কামনা করে স্থানীয় সময় ২৬ এপ্রিল (সোমবার) সিডনির ল্যাকেম্বাস্থ ধানসিঁড়ি রেঁস্তোরার হলরুমে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু এম পি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের শাশুড়ীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস মোল্লার সদ্যপ্রয়াত বাবা , যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: আলি সিকদারের বাবা ও সিডনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বিপ্লবের মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব ও রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সহ সভাপতি মিল্টন আহমেদের বাবা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার কোষাধক্ষ্য এইচ এম লাবুর মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রুহের মাগফেরাত কামনাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল হাওলাদারের বাবার আশু রোগ মুক্তি কামনা এবং সর্বোপরি সকল অসুস্হ ব্যক্তিদের আশু সুস্হতা ও মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাবিব আহসান টুলু।

এসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আইনজীবি মো: সিরাজুল হক, সাধারন সম্পাদক পি এস চুন্নু, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি ড. মাসুদুল হক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. রতন লাল কুন্ডু, সিডনি প্রেস এবং মিডিয়ার সাধারন সম্পাদক  মো: আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার নেতৃবৃন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবন্দ এবং সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জন্মভুমি টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন

গত ২৫ এপ্রিল (রবিবার) সিডনির ওআইলি পার্কে জন্মভুমি টেলিভিশনের ঈদ আনন্দমেলার রেকর্ডিং শুরু হয়। হরিজন থিয়েটারের খোলা মঞ্চে এই রেকর্ডিং এ সিডনি প্রবাসীরা ঈদের গান, ফ্যাশন শো, কবিতা, একক গান ও দলীয় নাচ সহ নানা আয়োজনে অংশ গ্রহন করে।

এছাড়াও সিডনির মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও তাদের সহধর্মিণীরা ঈদের আনন্দ মেলায় অংশ গ্রহন করেন। মঞ্চে সহযোগিতা করেন জন্মভুমি টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ আসাদ সামস ও সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মতিন।

ঈদ আনন্দ মেলার পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা করেছেন আবিদা আসওয়াদ। মঞ্চ সজ্জার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ডাইরেক্টর প্রোটকল আসওয়াদ বাবু ও ইভেন্ট ডাইরেক্টর কানিতা আহমেদ।

জন্মভুমি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন জানান, আমরা দর্শকদের জন্য প্রতি বছর নুতন আঙ্গিকে ঈদ আনন্দ মেলা উপহার দিয়ে থাকি। এই বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। এবারের ঈদ আনন্দ মেলায়ও অনেক চমক রয়েছে। তিন দিন ব্যাপী রয়েছে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার বেশিরভাগ রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জন্মভুমি টেলিভিশনের দর্শকদের ঈদের দিন ও পরবর্তী দুইদিন ব্যাপী প্রচারিত ঈদ অনুষ্ঠানমালা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঈদের আনন্দমেলাটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন তিনি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য আলোচনার মধ্য দিয়ে আইপিডিসি’র ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

ইসলামিক প্র্যাকটিস এন্ড দাওয়াহ সার্কেল, এনএসডব্লিউ শাখার উদ্যোগে গত ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) সিডনির মুসলিম কমিউনিটি সহ অন্যান্য কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রিজেস প্যারামাটা হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তারা পবিত্র রমজান মাসের শিক্ষা ও তাৎপর্য সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির বৃহত্তম সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ইসলামিক প্র্যাকটিস ও দাওয়াহ সার্কেল (আইপিডিসি) মূলত কমিউনিটির মুসলিম সদস্যদের মাঝে সারা বছর জুড়েই ইবাদত, ইসলামী শিক্ষা ও সামাজিক সেবা নির্ভর নানা কর্মসূচী পালন করে থাকে। পবিত্র রমজান মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্টেটের নানা এলাকায় স্থানীয়ভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে আইপিডিসির সক্রিয় সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা ইসলামী আলোচনা ও সম্মিলিত ইফতার পালন করে থাকেন। এর মাঝেই নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেট শাখার উদ্যোগে গত শুক্রবারের অনুষ্ঠানটি মূলতঃ আয়োজন করা হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ান বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে।

সিডনির সেন্ট মেরিস মসজিদের সম্মানিত ইমাম আবু হোরায়রার পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইফতার মাহফিল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার সূচনা হয়। অতিথিদের সংক্ষিপ্ত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের সমাহারে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিবলী আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইপিডিসি এনএসডব্লিউ শাখার সভাপতি কামাল মাহমুদ।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অতিথিদের সামনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান আলেম এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিলের সভাপতি শায়খ শাদী আল সুলায়মান, নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেটের বিরোধী দলীয় সংসদীয় নেতা জোডি মেককেই এমপি, স্টেটের সংসদ সদস্য ডেভিড শুব্রিজ এমএলসি, সিডনি এলায়েন্সের চেয়ারপার্সন মেরি ওয়াটারফোর্ড, অস্ট্রেলিয়ান সিনেটের প্রাক্তণ সদস্য লী রিয়ানন, অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির প্রতিনিধি শায়খ আদীদ আল রুবাই, কলাম্বান সেন্টার ফর খ্রিশ্চিয়ান-মুসলিম রিলেশনস এর ডাইরেক্টর রেভারেন্ড প্যাট্রিক ম্যাকার্নি, সিডনির সুপরিচিত তরুণ আলেম শায়খ জালাল শামি, বিশপ অফ প্যারামাটা ভিনসেন্ট লং, আইপিডিসি’র মাল্টিকালচারাল এফেয়ার্স সেক্রেটারী ড. মাজহারুল তালুকদার প্রমুখ। এছাড়াও আয়োজক সংগঠন আইপিডিসির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আইপিডিসির কেন্দ্রীয় সভাপতি এসোসিয়েট প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনির হোসাইন।

অতিথিদের বক্তব্যে পবিত্র রমজান মাসের অপরিসীম গুরুত্ব, ইসলামে সামাজিক সুবিচার ও মানবিক সাম্যের শিক্ষা, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হওয়া, রোযা পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিমের জ্য উন্নত চরিত্র গঠনের সুযোগ ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে।

আইপিডিসি’র এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্বের মাঝে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. জান আশিক আলী, অস্ট্রেলিয়ায় সউদি আরব দুতাবাসের দাওয়াহ ম্যানেজার আনওয়ার আলসুউলি, চ্যারিটি রাইট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ড. নাঈম ইসলাম, অস্ট্রেলেশিয়ান মুসলিম টাইমসের প্রধান সম্পাদক জিয়া আহমেদ, চ্যারিটি অস্ট্রেলিয়া ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ওয়াজাহাত আলী রানা, ইসলামিক ফোরাম ফর অস্ট্রেলিয়ান মুসলিমসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কাশিফ আজিজ, ট্রিবিউন ইন্টারন্যাশনাল সম্পাদক সাইয়েদ আতিকুল হাসান, সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম, সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সেক্রেটারী মুহাম্মদ আবদুল মতিন, হালাল অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট মারুফ খান, অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক মিশন ইয়ুথের প্রেসিডেন্ট ওমর আল জামাল, সিডনি এলায়েন্স বোর্ড মেম্বার সানদিপ কিরপালানি, সিডনি এলায়েন্সের মুসলিম কমিউনিটি ম্যানেজার শায়খ আবদুল নাসের প্রমুখ সহ সিডনি এলায়েন্স, ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, কমিউনিটি মাইগ্রেট রিসোর্স সেন্টার, এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ এনএসডব্লিউ ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, হিউম্যান এপিল, অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক মিশন, পাঞ্চবোল মসজিদ, আল কাউসার, মার্সি মিশন, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল প্রভৃতি সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

এক ঝাঁক পায়রা

ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারের ইকোনমিক্স ডিপার্টমেন্টের প্রথম বর্ষের ক্লাস  চলছে।  কিছুক্ষনের মাঝেই বুঝে গেলাম আমি আসলে ভুল সাবজেক্ট পড়তে এসেছি। বাবা ব্যাংকে চাকরি করতেন, আমার আদর্শ। সেই সূত্রে  মনে হয়েছিল আমিও ইকোনোমিক্স পড়ে ব্যাংকে চাকরি করব। 

অথচ আমার অন্তরের আকর্ষণ  সঙ্গীত, চিত্র শিল্প, শিল্পের  অন্যান্য মাধ্যম। ক্লাসে যখন সবাই গভীর মনোযোগে মনোয়ারউদ্দিন আহমেদ স্যারের লেকচার শুনছে,  আমি ছটফট করছি কি মুশকিল চিন্তা করে!

হঠাৎ করে দেখলাম দোতালার ক্লাসরুমের ছাদ অনেক উঁচু। একটু দূরে কয়েকটা খোপের মত ভেন্টিলেশন আছে।  সেই ফাঁকায় কেমন করে যেন একটা সুন্দর সাদা পায়রা এসে বসে আছে। দারুন আগ্রহ নিয়ে দেখতে লাগলাম পায়রার খেলা। ভুলেই গেলাম ক্লাসের কথা। এই ছিল আমার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা।

সারাক্ষণ মনের মাঝে অস্থিরতা আর দুষ্টুমি কাজ করতো। সুযোগ খুজতাম কেমন করে ফাঁকি দেয়া যায়, কারণ পড়াশোনায় একদমই মন নেই ।  একদিন খুব সিরিয়াস ক্লাস চলছে।  আমি বুঝতে পারছি না কেমন করে একটু শিথিল হওয়া যায়। 

আমার পাশে বসেছিল রুমানা হক,  আমাদের ক্লাসের পড়ুয়াদের অন্যতম।  আমি সামনে রাখা জ্যামিতি বক্সটা একটু একটু করে ঠেলে হাত দিয়ে নিচে ফেলে দিলাম। সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল।  ক্লাসে গুঞ্জন শুরু হল কিছুক্ষনের জন্য।  আমার সে কি আনন্দ!  রুমানা অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইল আমার দিকে! 

ইউনিভার্সিটির বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আমার ভারি মজা লাগতো।  বন্ধুদের কাছে আমি আমার জীবনে অনেক সহায়তা পেয়েছি।  ওরাই আসলে পরবর্তীতে আমাকে উৎসাহিত করেছে পরীক্ষাগুলো উতরে যেতে।

মাস্টার্স পড়তে পড়তে আমি গ্রামীনফোনে চাকরি শুরু করেছিলাম কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট এর ডেপুটি ম্যানেজার হিসাবে।  ক্লাস করতে পারিনি ঠিকমত। আমি চির কৃতজ্ঞ আমার বন্ধুদের কাছে কঠিন সময় গুলোয় আমার পাশে থাকার জন্য। 

কোন এক অলস দুপুরে তিন তালার বারান্দার অপেক্ষা করছিলাম পরবর্তী ক্লাস শুরু হবার।  হঠাৎ করে দেখলাম পড়ুয়া ছাত্র রবি হেলেদুলে আসছে পিঠে এক বিশাল বড় ব্যাগে বই খাতা ভর্তি। কেন জানিনা বলে উঠলাম,  তুমি ক্লাস ওয়ানে সানফ্লাওয়ার প্রিপারেটরি স্কুলে আমার সাথে পড়তে।  রবি প্রায় উল্টে পড়ে যাচ্ছিলো বারান্দা থেকে চরম বিস্ময়ে। তুমি কি করে জানলে আমি ওই স্কুলে পড়তাম,  বিস্ময় তখনও কাটেনি ওর। স্বভাবসুলভ হাসি হেসে বললাম,  আমার একটা বন্ধু ছিল ক্লাশে প্রথম হত, ঠিক তোমার মত বিশাল বড় ব্যাগ ভর্তি বইখাতা নিয়ে আসতো আর শুধু পড়াশোনা করত, আমি খুব বিরক্ত হতাম আর রাগ লাগতো এত কেন পড়বে? সেই থেকে মনে হল তুমিই হবে হয়তো! 

চরম উৎসাহ, উত্তেজনা নিয়ে একবার আমরা স্টাডি ট্যুরে চিটাগাং, পতেঙ্গা বিচ , রাঙামাটি গিয়েছিলাম ডিপার্টমেন্ট থেকে। তখন মোবাইল কিংবা ল্যান্ডফোন এত সহজলভ্য ছিল না। রাঙামাটি যখন গিয়েছি যে বাংলোতে আমরা ছিলাম, হঠাৎ করেই ফোন করার সুযোগ পাওয়া গেল। 

রুমানা বললো ও বাসায় ওর মাকে ফোন করবে।  অনেক চেষ্টার পরে কোনোরকমে লাইন মিলল।  ও ফোন করার সাথে সাথে হোটেলের একটা ছেলে পাশে দাঁড়িয়েছিল ক্রমাগত মনে করাতে লাগল এক মিনিট ৬০ টাকা। খানিকটা হাস্যকর ছিল।  খেলার ধারাভাষ্য এর মত বলতে শুরু করল ৫৮ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ৪৭ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ৩৫ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ১০ সেকেন্ড ৬০ টাকা… কথার মাঝখানে হঠাৎ করে রুমানা বলে ফেলল ওর মাকে মা এক মিনিট ৬০ টাকা! তারপর হতবিহ্বল হয়ে ফোনটা রেখে দিল।  রাখার পর খুবই বিরক্ত হয়ে ছেলেটাকে বলল এক মিনিট ৬০ টাকা তো কি?  ছেলেটা বলল আপা এমনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলাম! এমনিতেই ফোনে লাইন পাওয়া দুষ্কর, এভাবে ফোন রাখা দেখে আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে ছিলাম। 

খুব ছোট ছোট ভালোলাগায় জীবন আনন্দপূর্ণ ছিল তখন। ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ার পড়ার সময় একদিন আমাদের ক্লাসের এক ছেলে ডেকে বলল, আমার সাথে একটু কাঁটাবনে যাবে?  ফুল কিনতে হবে, ঠিক বুঝেনা কোনটা ভালো হবে। নিঃসংকোচে সাথে গেলাম, সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়াটা কিনে নিয়ে এলো।  রিকশায় করে ফিরছিলাম দুইজন।  এমন দূরত্ব মাঝে রইল,  যেন ছোঁয়া লাগলে ভয়ানক অন্যায় হয়ে যাবে।

সারা পথে আর কোন কথা হল না। ইউনিভার্সিটি বাসে করে বাসায় চলে আসব, রেজিস্টার বিল্ডিং নেমে গেলাম। ছেলেটা আমাকে অবাক করে বলল ফুলটা তুমি নিয়ে যাও।  আমি অত্যাশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেন?  উত্তরে বলল ভালোবাসি তাই। আমি বললাম আমি এই ভালবাসার প্রতিকৃতি গ্রহণ করতে পারছি না, আন্তরিক  ভাবে দুঃখিত।  ছেলেটা খুব ধীর স্থির স্বরে বলল, এটা নিয়ে আমি কি করব?  তোমার জন্য কেনা।  তুমি এখনি ডিসিশন জানিও না।  ফুলটা নিয়ে বাসায় যাও; যদি তুমি নিজে রাখ তাহলে ধরে নেবো, কখনো কখনো স্বপ্ন সত্যি হয়।  আর যদি অন্য কাউকে দিয়ে দাও, পুরো ঘটনাটা ভুলে যাব আমরা। 

ঐদিন আসলে ছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বার্থডে। আমার বান্ধবীকে বাসায় ফেরার পথে অদ্ভুত সুন্দর  ফুলটা দিয়ে এলাম। ফুলের সুন্দর রং আর গন্ধে অনামিকার চমকে যাওয়ায় আমার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল।

পরের দিন সকালে দেখা হওয়ার সাথে সাথে অনন্তকে বললাম, আমার বান্ধবী খুব খুশি হয়েছে ফুলটা পেয়ে।  কঠিন চেহারায়, গম্ভীর স্বরে বলল এই কাহিনী যদি দ্বিতীয় কেউ জানে খুন করে ফেলব। 

আমি শুধু মুচকি হেসে ছিলাম,  আসলেই আর কখনো বলা হয়নি এই অভিজ্ঞতা। জীবনের মাধুর্য হচ্ছে,  পরক্ষণেই আমরা সত্যি ভুলে গেলাম এমন কিছু কখনো ঘটেছিল।

জীবনের অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে উপলব্ধি করেছি , পায়রা আসলে আনাচে-কানাচেই রয়েছে সে যত বদ্ধ দুয়ারই থাকুক না কেন।  এখনো শুনতে পাই কিচিরমিচির পাখির মতো আনন্দে মুখরিত সেই দিনগুলোর প্রতিধ্বনি।

সাকিনা আক্তার, সিডনি

সিডনিতে ফয়সাল আজাদ ও তাঁর মায়ের সুস্থতার জন্য ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

করোনায় আক্রান্ত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি ফয়সাল আজাদ এবং তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগমের সুস্থতার কামনা করে ১৯ এপ্রিল (সোমবার) তারাবীর নামাজের পর সিডনিস্থ মাস্কট মুসাল্লায় দোয়া করা হয়। এই সময় মাস্কটে অবস্থিত অজ প্রিন্টিং এর পরিচালক মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিন মিয়ার সদ্য প্রয়াত পিতার রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মাদ আহসান ফরায়জী। এসময় সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সহ সভাপতি মোহাম্মেদ আসলাম মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক মেহাম্মাদ আবদুল মতিন সহ স্থানীয় মুসল্লীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ফয়সাল আজাদ ও তাঁর মা লুৎফেয়ারা বেগমের করোনা আক্রান্ত থেকে আরোগ্য কামনা করে একই সন্ধ্যায় সিডনির ল্যাকেম্বা মাসাল্লায় ইফতার ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র রমজানের ইফতারের পরে দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শাহীন ও তারাবীর পর দোয়া পরিচালনা করেন ল্যাকেম্বা মাসাল্লার ইমাম।

দোয়া মাফিলের আয়োজন করেন  হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ এনাম, ইমরান হোসেন, আবু সুফিয়ান মেন্থন, মাসুদুর রহমান, ফখরুল রিয়া, মাহফুজুর রহমান ও ফয়সাল চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ শামীম, মঞ্জুরুল আহসান ভুলু, নজরুল ইসলাম, শেখ ইসলাম, সোহেল, রুবেলসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য যে, ফয়সাল আজাদ ও তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগম গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে সিডনি এসে দুই সপ্তাহের কোয়ারান্টাইনে ছিলেন। এরপর ১১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার পর উভয়ের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। বর্তমানে ফয়সাল আজাদ ও তার মা কনকর্ড হাসপাতালের  আইসোলেশনে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

ফয়সাল আজাদ অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রধান সম্পাদক, সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সদস্য, সিডনি আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। আমরা পরম করুনাময় মহান আল্লাহর কাছে ফয়সাল আজাদ এবং তার মমতাময়ী মায়ের সুস্থতা কামনা করছি। ফয়সাল আজাদের সহধর্মিণী সুমি আজাদ তাঁর স্বামী ও শাশুড়ীর জন্য সবার নিকট দোয়া কামনা করেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ দোয়া

বিএনপির চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে অস্ট্রেলিয়ার বিএনপির উদ্যোগে গত ১৮ এপ্রিল (রবিবার) সিডনির বেলমোর কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক ও অস্ট্রেলিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এম এ ইউসুফ শামীমের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন  বিএনপি নেতা মনিরুল হক জর্জ, মো.দেলোয়ার হোসেন, ড.হুমায়ের চৌধুরী রানা, লিয়াকত আলী স্বপন,কুদরত উল্লাহ লিটন, ড.আব্দুল ওয়াহাব,মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, রাশেদুল হক,আলহাজ্ব লুৎফুল কবির,হাবিব রহমান,মোবারক হোসেন, হায়দার আলী, নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, আবুল হাসান, ফজলুল হক শফিক, তারেক উল ইসলাম তারেক, সোহেল ইকবাল মাহমুদ, ইয়াসির আরাফাত সবুজ, ইলিয়াস কান্চন শাহীন, এএন এম মাসুম, শিবলু গাজী, খাইরুল কবির পিন্টু , আশরাফুল আলম রনি, আব্দুস সামাদ শিবলু, সেলিম লকিয়ত, এস এম খালেদ, নাফিস আহম্মেদ, সুলতান জয়, জাকির আলম লেলিন, শেখ সাইফ, এস এম রানা সুমন, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল করিম, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ , মোহাম্মদ জুমান হোসেন, পবিত্র বড়ুয়া, মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ কারুজ্জামান, ফাহাদ সিদ্দক মিজান, আব্দুল হাকিম, জোসেফ ঘোষ, অসিত গোমেজ, জাহাঙ্গীর হোসেন, এমডি জাহিদুল ইসলাম,খাজা দাউদ হোসেইন,আব্দুল মতিন উজ্জ্বল,,কামরুল,মুনা মোস্তফা,ময়না,মিনটু,এম,এ সাত্তার প্রমুখ।

এছাড়া ,সিডনিতে পরলোকগত বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির,গাজী শাখাওয়াত আরিফ,এ কে এম শামসুজ্জামান ও শামসুজ্জামান বিজুর জন্য বিএনপির প্রতিটি অনুষ্ঠানে দোয়ার অনুরোধ জানান দোয়া ও ইফতার মাহফিলের  সমন্বয়ক এম এ ইউসুফ শামীম।

বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সমগ্র মুসলমান জাতির জন্য দো’য়া করেন ল্যাকেম্বা কোরানিক সোসাইটির অন্যতম নেতা হাজি রিদওয়ান একাউয়ী। মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানটি বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার নবীন প্রবীণ সকলের উপস্থিতি এক মিলন মেলায় রূপান্তরিত হয়।

বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কোরআন খতম ও বিভিন্ন এতিম খানায় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সকলের মাঝে ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। (সুপ্রভাত সিডনি পত্রিকার সৌজন্যে)