সিডনিস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন  

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ গত ১৮ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় সিডনিস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটে শেখ রাসেল দিবস উদযাপিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভায় সিডনির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ কনসুলেটের কর্মকতা কর্মচারী বৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

কনসাল আশফাক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। কনসাল আশফাক হোসেন শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে প্রেরিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করে শোনান। দুটো দুর্লভ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের পর আলোচনা সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় ড. রতন কুণ্ডু অতি সম্প্রতি দুর্গাপূজায় বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন ও দোষীদের অতিদ্রুত স্পেশাল ট্রাইবুনালের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য কনসাল জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী বরাবর অনুরোধ জানান।

কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে সভায় জানান। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে কিছু স্পর্শকাতর অধ্যায় পাঠ করলে অনুষ্ঠানে এক বিষাদময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি কনসাল জেনারেল কারাগার জীবনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে এই দিবসে শিশু অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। আগত শিশু কিশোর ও তাদের মায়েদের নিয়ে শেখ রাসেলের জন্মদিনের কেক কাটার পর অতিথিদের সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা ও কোরআন অবমানকারীদের গ্রেফতার এবং শাস্তি দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টএসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষত্মাকভাবে কোনো ধর্মকে অবমাননা ইসলাম সমর্থনকরেনা। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ওসহযোগিতার মনোভাব পোষণ করাই একান্ত কাম্য। সকল ধরণের মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে এরূপ নৃশংসতা পুরোপুরিভাবেঅগ্রহণযোগ্য।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ আবাসভূমি হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। সুদূরপ্রবাসে আমরা মুসলমানরাও সংখ্যালঘু, তাই বলে সংখ্যাগরিষ্ঠরা আমাদের উপর হামলা করবে? কিন্তু দু:খের বিষয় হলো শুধুবাংলাদেশ নয়, অনেক দেশই আজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি নয় যা অত্যন্ত দু:খজনক। ধর্মকেঅপব্যবহারের যে কোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়বিদ্বেষী সকল অপশক্তিকে প্রশ্রয় না দেয়া, জঙ্গিধর্মভিত্তিক শক্তির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠভাবে সংগ্রাম পরিচালনা করাআমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র ও জনসমাজকে সম্মিলিতভাবে আজ এ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ধর্মীয় গ্রন্থেরঅবমাননা ও নাশকতামূলক কাজের জন্য অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে।

সিডনিতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের পরিবেশনা রুদ্ধ সময়েও মুক্ত প্রান অনুষ্ঠিত

কাজী আশফাক রহমানঃ বিযুক্ত সময়ে সংযুক্তির আহবানে আয়োজিত হয়েছে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের পরিবেশনা রুদ্ধ সময়েও মুক্ত প্রান। গত ১৬ অক্টোবর (শনিবার) স্কুলের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং সিডনির প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দ অংশ নেন। সিডনি সময় সন্ধা ৭টা এবং বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে যুক্ত হন দুই বাংলা অন্যতম শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, একুশে পদক প্রাপ্ত কিংবদন্তী নজরুল গীতি শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের প্রবাদ প্রতিম শিল্পী সেলিনা আজাদ।

বাংলাদেশে ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পর বাংলা স্কুল সাধারণ সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান। এরপর স্কুলের উপর নির্মিত একটি চমৎকার তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। স্কুলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে একক সংগীত পরিবেশন করে রাসমিয়া, জেইনা, রেহনুমা, আরিক, রুশনান, এলভিরা, অর্ণা, দৈত সংগীতে অংশ নেয় নাদিন ও নারমিন, একক আবৃত্তি নিয়ে আসে মারজান, নাজিহা, সাফা,স্বপ্নীল,স্বাধীন, এষাণ ও মেহুলী, দৃপ্ত, আলিশা,আরিক, ইয়াশফিন। একক নৃত পরিবেশন করে অলিভিয়া। স্বাধীনতার গল্প বলে সবাইকে অভিভূত করে তোলে অপলা ও অরূপা। স্কুলে বাংলা শেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সব শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানায় অস্কার। ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি পরিবেশনা অনলাইন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

সিডনির প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী লুৎফা খালেদ, তামিমা শাহরিন এবং ফায়সাল খালিদ শুভ, রুমানা ফেরদৌস লনি সংগীত পরিবেশন করে সবাইকে বিমোহিত করে তোলেন। বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব দোতারায় প্রানের সুর তুলে আনেন আহমেদ তারিক। কবিতা পাঠ করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মৌমিতা চৌধুরী। স্বনামধন্য নৃত্য শিল্পী অমৃতা পাল চৌধুরীর ধ্রুপদী নৃত্য অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

বাংলা সংগীতের তিন দিকপাল শিল্পী এই সুদূর প্রবাসে দীর্ঘ দুই দশকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের গৌরবজ্জল ভূমিকার ভূয়সি প্রশংসা করেন। তাঁরা স্কুলের উত্তরোত্তর আরো উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তারা এক প্রাণবন্ত আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে তাদের জীবনের স্মরণীয় ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য আবদুল জলিল ও শাহ আলম সৈয়দ। তারা স্কুলের আজকের অবস্থানের জন্য সবার অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং আগামীতেও প্রত্যেকের সহযোগিতা কামনা করেন । প্রধান সমন্বয়কারী মেহেদী হাসান ও রুমানা ফেরদৌস লনির পরিকল্পনায় এই অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কারিগরি নিয়ন্ত্রণ, অঙ্গসজ্জা ও পরিচালনায় ছিলেন রাফায়েল রোজারিও। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ ও স্কুলের সংগীত শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি। সহায়তায় ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক আনজুমান আরা আইরিন, শায়লা ইয়াসমিন নুসরাত, অনিতা মন্ডল, মাহবুব শাহরিয়ার, শারমিন সুলতানা ও সাজ্জাদ সিদ্দিক। প্রচারে ছিলেন ইয়াকুব আলী ও রুমানা খান মোনা। সিডনি সময় রাত বারোটায়  বাংলা স্কুল সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলে কোভিড মহামারির প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মুখোমুখি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অনলাইনে শিক্ষাক্রম নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চলছে। বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন করবে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের এক সভায় বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় মানবিক সহযোগিতা, কমিউনিটি ডায়ালগ, মিডিয়া কর্মশালা, অভিষেক সন্ধ্যা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসহ নানা কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনে স্থানীয় সময় ১১ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেবাস্থ এক রেস্তরাঁয় কার্যকরী পরিষদের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের উপস্থাপনায় কার্যকরী পরিষদের এই সভায় প্রথমে পবিত্র ক্বোরআন থেকে তেলোয়াত করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্যা। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ বিরতি পর স্বশরীরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সভার প্রথম পর্বে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন কার্যকরী পরিষদের সদস্য আকিদুল ইসলাম, নাইম আবদুল্লাহ ও ডক্টর রতন কুন্ডু।

নৈশভোজের বিরতির পর কাউন্সিলের বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে মতামত পেশ করেন, ডক্টর তারিকুল ইসলাম (সহ-সভাপতি) আতিকুর রহমান (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), দিলারা জাহান (কোষাধ্যক্ষ), হাজী মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), তাম্মি পারভেজ (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মোহাম্মাদ জিয়াউল কবির (মিডিয়া অ্যান্ড কমুনিকেশন সম্পাদক) ও কাউন্সিলের সদস্য এস এম দিদার হোসেন।

কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আগামি ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহান ‘বিজয় দিবস’ পালন, ২৬ জানুয়ারী ‘অস্ট্রেলিয়া দিবস’ ২০শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এবং ২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিডনির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কমিউনিটি ডায়ালগ, মিডিয়া কর্মশালা, মতবিনিময় সভা, সেমিনার, বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিক সহযোগিতায় অনবদ্য ভূমিকা পালন ও মানবতার পাশে দাঁড়াবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।

এছাড়াও, কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সম্প্রতি স্বপ্রনোদিত হয়ে মিডিয়ার বিরুদ্ধে নির্লজ্জ ও ঘৃণ্য অপপ্রচার চালানোর দায়ে সিডনির তথাকথিত পাঁচ ব্যক্তিকে বয়কট এবং ঘৃণ্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এই পাঁচ ব্যক্তি মিডিয়ার কাছে নি:শর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সংগঠনের সদস্যরা তাদের কোনপ্রকার সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র কার্যকরী পরিষদের সভা আগামী ১১ অক্টোবর

আগামী সোমবার ১১ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র কার্যকরী পরিষদের প্রথম সভা ও নৈশভোজ সিডনির ল্যাকেম্বাস্থ ধানসিঁড়ি রেঁস্তোরায় অনুষ্ঠিত হবে। এসোসিয়েশন’র সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞতিতে কার্যকরী পরিষদের সকল সম্মানিত সদস্যদের পরিষদের প্রথম সভায় উপস্থিত থাকার পাশাপাশি করোনার দুইটি ভ্যাক্সিনের সনদপত্র সাথে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সিডনিতে আমাদের কথা সংগঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ গত ১ অক্টোবর (শুক্রবার) সিডনিতে আমাদের কথা নামের বাংলা সংস্কৃতি ভিত্তিক সংগঠনের ভার্চুয়ালি প্রথম বর্ষপূর্তির ধারাবাহিক অনুষ্ঠানসূচীর প্রথম অনুষ্ঠান পালন করে।  কোভিড বিধিনিষেধের কারণে এই বর্ষপূর্তির ভার্চুয়ালি উদযাপন করা হয়েছে। পঞ্চকন্যার এই সংগঠনের পুরোধা হলেন পূরবী পারমিতা বোস ও মঞ্জুশ্রী মিতা । মডারেটরবৃন্দ হলেন নিলুফা ইয়াসমীন, কিশোয়ারে সুলতানা ও দ্বিপান্বিতা লোপা।  এ ছাড়াও আছেন অনেক সক্রিয় সদস্য।

এই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল ২০২০ সালের ১৫ ই অক্টোবর। এর বৃষপূর্তির অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমাদের কথার সম্মানিত সদস্য সুচিত্রা কুন্ডু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী, সিডনির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক ও কলামিস্ট ড. রতন কুন্ডু ও আমাদের কথার মডারেটর ও সিডনির সুকণ্ঠী গায়িকা নিলুফা ইয়াসমিন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন আমাদের কথার সব মডারেটর, সদস্যবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী শুভাকাঙ্খীরা। কারিগরি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সন্ধ্যে ৮ টায় পূরবী পারমিতা বোসের ভূমিকা ও স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সুচিত্রা কুন্ডু পারিবারিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির উপর আলোচনা করেন। এরপর রতন কুন্ডু তাঁর কাব্য কথা মেঘদূত নিয়ে আলোচনার সূচনা করেন। নিলুফা ইয়াসমিন জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন। রতন কুন্ডুর পুঁথি পাঠ ও নিলুফা ইয়াসমিনের মধুর কন্ঠী সংগীত সবাইকে আপ্লুত করে। পূরবী ও নিলুফা আমাদের কথা সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করেন। একটি মননশীল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেয়ার জন্য ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা সবাই আমাদের কথাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতি শুক্রবারে এ জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তাঁদের অনুরোধের  কথা জানান।

প্রশান্তপারের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে বাঙালি অভিভাষণের বয়স কাল মাত্র তিন দশকের। এর বহু আগে একজন দুজন করে এলেও এই পরিমণ্ডলে তাঁরা সামাজিক ভাবে বাংলা সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে পারেনি। ইদানিং বাংলা অভিবাসীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে বৈধ বাঙালির সংখ্যা ছিলো ৪১২৩৩ জন। পরবর্তীতে হাজার হাজার ছাত্র পড়াশুনা করতে অস্ট্রেলিয়া এসে স্বপরিবারে এখানেই বসতি গড়েছে। আজ অব্দি বাংলাদেশির সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়েছে বলে অনুমিত হচ্ছে। বিগত তিন দশকে বাঙালি সংগঠনগুলো সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বিগত দশকে আগত নুতন প্রজন্ম প্রচলিত বৃত্ত ভেঙে বাঙালি সংস্কৃতিকে আলাদা মাত্রা দিতে সক্ষম হয়েছে।

অনেক নারীরা এগিয়ে এসে নতুন নতুন নারী সংগঠনের জন্ম দিয়েছে। সব গুলো সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন নারীরা। সিডনিতে পূরবী পারমিতা বোসের নেতৃত্বে আমাদের কথা, ফারিয়া নাজিমের নেতৃত্বে ভবের হাট, তিশা তানিয়ার নেতৃত্বে ফাগুন হাওয়া, তাম্মি পারভেজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ফ্যাশন এসোসিয়েশন, মৌসুমী সাহার নেতৃত্বে নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমী, অর্পিতা সোম চৌধুরীর নাচের স্কুল ও ওয়েব ভিত্তিক সংগঠন হার্মোনিক মিরর, মাহমুদা রুনুর নেতৃত্বে কবিতার বিকেল, প্রয়াত শারমিন পাপিয়ার নেতৃত্বে আনন্দ ধারা, এলিজা আজাদ টুম্পার নেতৃত্বে গল্পকথা সংগঠন ও অস্ট্রেলিয়ায় নারী পরিচালিত প্রথম বাংলা পত্রিকা আরঙ্গ  সহ রয়েছে আরো অনেক সংগঠন। এ ছাড়াও মেলবোর্ন, পার্থ, ক্যানবেরা, ব্রিসবেন সহ আরো শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে আরো অনেক নারী শুধুমাত্র নেতৃত্বই নয়, তাঁরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারেও বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সিডনি আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভাটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দেশ-বিদেশের সহযোগী-অঙ্গসংগঠন ও আওয়ামী মতাদর্শের বিভিন্ন সংগঠনের প্রাজ্ঞ নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদার সভাপতিত্বে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ সঞ্চালনা করেন। সঞ্চালনায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবোর্নের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. রাশিদুল হক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম।

আলোচনা সভার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ, তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আমাদের একটাই চাওয়া, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্বাস্থ্যময় দীর্ঘায়ু দান করেন। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপদ আশ্রয়স্থল একমাত্র শেখ হাসিনা। তিনি যতদিন দেশ পরিচালনায় থাকবেন ইনশাল্লাহ তত দিন কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন আমাদের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, একবার চোখ বুজে চিন্তা করেন তাঁর যদি জন্ম না হতো এই যে ক্ষুধা-দারিদ্রের বাংলাদেশ, হত্যা-সন্ত্রাসের বাংলাদেশ, জঙ্গীবাদের বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঘুরে দাঁড়াতে পারতো? এক কথায় উত্তর পারতো না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন আমাদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষকে বুকে ধারন করতেন, ঠিক সেইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের মানুষকে ভালোবাসেন। আমরা গর্ব করতে পারি যে, এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। জন্মদিনে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর বারবার হামলা হয়েছে, বিশেষ করে ২০০৪ সালে যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তিনি আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে আছেন। তিনি আজকে আমাদের মাঝে আছেন বিধায় দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দৃঢ় সাহসিকতার সঙ্গে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে সমঝোতাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সবই প্রধানমন্ত্রী বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি ড. রতন কুণ্ডু বলেন, সারাজীবন জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আদর্শ যেন বুকে পালন করতে পারি সেই প্রত্যাশাই করি। আলোচনা সভায় প্রত্যেক বক্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্যময় দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবোর্নের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোল্লা মো. রাশিদুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবোর্নের সভাপতি ড. আলম মাহবুব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যানবেরার সভাপতি ড. শামীম আলম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম সরকার ও ড. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন ও হাজী দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সদস্য মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আমিনুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী  নাদেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আইনজীবী সানজিদা খানম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক মিতা চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা উত্তর শাখার আইন সম্পাদক এ্যাডভোকেট যুগলুল কবির, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি ড. রতন কুণ্ডু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বেলজিয়ামের সভাপতি বজলুর রশীদ বুলু ও ক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সৌদি আরবের সভাপতি রেজাউল করিম মিলন।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কচি ও মোহাম্মদ আলী শিকদার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন,  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন লাল্টু ও শাজাহান মিল্টন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন বেপারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সাংগঠনিক সম্পাদক আইজিদ আরাফাত অরূপ  ও মো. মজনু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সদস্য নাজমুল হক, দেওয়ান মুন্না প্রমুখ।

পেন্সিল অষ্ট্রেলিয়া’র ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপন

নওশীন ঠাকুর: গত দেড় বছর জুড়ে যেন অন্যরকম এক পৃথিবীতে কাটছে আমাদের মানবজীবন।পরমাণু সমান জীবাণুর মহামারী গ্রাস করে আছে পুরো বিশ্ব। অনিশ্চয়তা আর আতংকের মাঝে থমকে গেছে আমাদের নিত্যদিনের জীবনযাপন। ঘরবন্দী সময়, সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন আর আইসোলেশন হয়ে উঠেছে আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। শত বৈরীতার মাঝেও সৃজনশীল মানুষের নান্দনিক আর সৃজনশীল কাজ কিন্তু থেমে থাকতে পারে না।আর তারই প্রতিফলন আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি অনলাইন সামাজিক মাধ্যম পেন্সিলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নান্দনিক সৃষ্টিশীল শুদ্ধ চর্চার এক দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম পেন্সিল। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙ্গালীদের বাংলাভাষা, বাংলা সংস্কৃতি তথা বাঙ্গালীয়ানা চর্চার এক অবিসংবাদিত মাধ্যম হয়ে উঠেছে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া। এই করোনা কালে ঘরবন্দী পরিবেশের মাঝেও পেন্সিলরদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ নির্মল বিনোদন ছড়িয়েছে বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে এবং পৌঁছে গেছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

১২ ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ছিল এই তুমুল জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পেন্সিলের ৫ম বর্ষপূর্তি।করোনার নীল ছোবলে অষ্ট্রেলিয়ার জনজীবন যখন ঘরবন্দী একঘেয়ে জীবনযাপনে বিপর্যস্ত ঠিক তখনই পেন্সিল অষ্ট্রেলিয়ার ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষন যেন ছড়িয়ে দিয়েছিল এক অনাবিল আনন্দের ধারা।বিশেষ করে অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাঙালী সংস্কৃতিমনা পেন্সিলরদের প্রাণচাঞ্চল্য ছিল সত্যি প্রশংসীয়।

পেন্সিল অষ্ট্রেলিয়ার ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অষ্ট্রেলিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পেন্সিলরদের শুভেচ্ছা বানী, গানে, ছবিতে এবং বিভিন্ন রকম সৃজনশীল কাজের পোষ্টে সারাদিনব্যাপী এর ফেসবুক পেজ ছিল সরব আর বর্নিল।তার সাথে ছিল অনলাইন ভিত্তিক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। কবিতা পাঠের আসর জমে উঠেছিল প্রিয় আবৃত্তিকার জেরিন আফরীন আর নওশীন ঠাকুরের আবৃত্তিতে। সুরের মুর্ছনায় গানের ডালি সাজিয়ে দর্শকদের বিমোহিত করেছিল প্রিয় সংগীতশিল্পী রছি শেইখ আর ইলোরা খান।

১২ ই সেপ্টেম্বরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন ছিল ছোট পেন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত যাদুর পেন্সিল পর্বটি। সাইদা মুহুরী আর ফারিনা মাহমুদের পরিকল্পনায় এবং ফারিনা মাহমুদের সন্চালনায় এই পর্বে অংশগ্রহণ করে সন্দীপন গুহ, মেহুলি বোস, নোভেলিয়া রহমান, ইশায়াত রহমান, ফারিন ফরহাদ,আরিয়া মুহূরী, সাফিনা জামান, হেমন্তিকা হেম, মাহরুস সাফির আহমেদ, আবরার গাজী,অহনা দে, শাবাজ খান, জোহাইব আইহাম মাজীদ, ঐশিক স্বপ্নীল মজুমদার,রোহান রহমান,আদিত্য চৌধুরী, আরশি চৌধুরী,ইয়ারা হক,ইপ্সিতা রুপন্তী,রেহনুমা আহমেদ,ইরিনা আফরিন চৌধুরী, ঈশাল আবেদাবুন, শাহরান ইসলাম খান এবং জিতেশী পাল।এই পর্বে ছোট্ট পেন্সিলররা গান, নাচ, আবৃত্তি, গল্পবলা, ছবি আঁকা, বাদ্যযন্ত্র, এমনকি জাদু শিল্পেও চমৎকৃত করেছে দর্শকদের।ফারিনা মাহমুদের চমৎকার উপস্হাপনায় এবং ছোট সোনামনিদের স্বতস্ফূর্ত পরিবেশনায় যেন সত্যিকারের যাদুর পেন্সিল দর্শক স্রোতাদের মন আর প্রান ছুঁয়ে দিয়েছিল।সৃজনশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে প্রাণবন্ত এই পুরো আয়োজনের সার্বিক পরিকল্পনা আর তত্ত্বাবধানে ছিলেন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সাকিনা আক্তার, জয় কবির, নীরা রহমান, জিয়াউল ইসলাম তমাল, অনামিকা ধর।

আমি ভীষনভাবে বিশ্বাস করি যে প্রবাসের হাজার হাজার বাঙালি আমার মতোই ছোট্ট এক খন্ড বাংলাদেশ বুকের মাঝে নিয়ে এই প্রবাসে বাস করছেন। আমাদের সবারই স্বপ্ন এই পৃথিবীর বুকে বাংলা ভাষা,সংস্কৃতি আর সৃষ্টিশীল কাজ সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হোক।আমরা চাই প্রবাসের নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার যে চমৎকার ধারা দেখতে পাচ্ছি এই ধারা প্রবাহমান থাকুক পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আর ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতরে।

পেন্সিল এবং পেন্সিল অষ্ট্রেলিয়া প্ল্যাটফর্ম সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাঙালীর এই স্বপ্নটুকুকে খুব যত্নের সাথে ছড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর অসংখ্য প্রান্তে। আর তাই তো পেন্সিলের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত উর্দ্ধমূখী। করোনার এই বৈরীতার মাঝেও এরকম নান্দনিক আর সৃজনশীল ৫ম বর্ষপূর্তি উদযাপন আয়োজনের জন্য পেন্সিল অষ্ট্রেলিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই অনেক ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন।সেই সাথে কামনা করি পেন্সিল অষ্ট্রেলিয়ার এই পথচলা আরও সাফল্যমন্ডিত, নান্দনিক আর সৃজনশীল কর্মময়তায় ভরে উঠুক!

সিডনিতে কৃষিবিদ মোতাহার হোসেনের ইন্তেকাল 

কৃষিবিদ মোতাহার হোসেন আজ স্থানীয় সময় (বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে তার ইঙ্গেলবার্ন বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলীহে রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। 

মোতাহার হোসেনের নামাজে জানাজা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় নারেলন কবরস্থানে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর তাকে ঐ কবরস্থানে দাফন করা হবে। সিডনিতে কোভিড  সীমাবদ্ধতা এবং লকডাউনের কারণে তার জানাজায় মাত্র ১০ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন। 

মৃতের জানাজা ও দোয়ার অংশ নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার  আগামীকাল (বৃহস্পতিবার ১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় এক ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করেছে। জুম মিটিং লিংক: https://us02web.zoom.us/j/2067720006?pwd=MFpWaHY4N1BBZFg2N2pVclRSeXovUT09। মিটিং আইডি: 206 772 0006পাসকোড: 2007। 

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সাধারন সম্পাদক ড: আনিসুল আফসার মোতাহার হোসেনের বিদেহী আত্মার জন্য দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন। 

নূরুল আজাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভার্চুয়াল স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি নূরুল আজাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক ভার্চুয়াল স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডনি থেকে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় প্রথিতযশা ব্যক্তিগণ অংশগ্রহণ করেন। যাদের প্রত্যেকেই কীর্তিমান নূরুল আজাদের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন।

বিশেষ করে নূরুল আজাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।এ সময় মরহুমের জ্যেষ্ঠ সন্তান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ তাঁর বাবার যাপিত-জীবন সম্পর্কে আলোচনা করেন। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কীর্তিমান নূরুল আজাদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সে কথাই ব্যক্ত করেন আলোচকগণ।

নূরুল আজাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান ফয়সাল আজাদ বলেন, বাবার বহুমাত্রিক গুণের কথা ভেবে আমি নিজেই অবাক হই! একজন মানুষ কি করে এত গুণ গুণান্বিত হতে পারেন। তিনি একাধারে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বোধ সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা নূরুল আজাদ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সভাপতি। তিনি সারাজীবন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রচার ও প্রসার করে গেছেন। এ সময় তিনি তাঁর বাবার সমাজ কল্যাণমূলক সকল কাজকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান।

ভার্চুয়াল এই স্মরণ সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন,  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি রতন কুণ্ডু, বাসভূমি টেলিভিশনের কর্ণধার আকিদুল ইসলাম, বিডি হাব-এর সভাপতি আবুল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম রতন, ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকার সাবেক প্রধান সম্পাদক লুৎফুর রহমান শাওন, বিএনপি নেতা একেএম হক, অস্ট্রেলিয়া প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মো. রহমতুল্লাহ, লেখক ও সাংবাদিক আবু আবদুল্লাহ, সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিল-এর সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, বিশিষ্ট গবেষক ড. মাসুদুল হক, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ অ্যাসোসিয়েশের সাধারণ সম্পাদক রাসেল ইসলাম, জন্মভূমি টেলিভিশনের কর্ণধার আবু আরেফিন,  ‘প্রভাত ফেরী’ পত্রিকার সম্পাদক আতিকুর রহমান, ড. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবর্নের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি নির্মল কস্তা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন ও হাজী দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সাংগঠনিক সম্পাদক আইজিদ আরাফাত অরূপ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম, বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুদ্দিন ইফতু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার নেতা মঞ্জু তালুকদার,  সাবেক কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু, ক্যাম্বেলটাউনের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, নূরুল আজাদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া, মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা, ১৩৭ নং বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জলিল, মরহুম নূরুল আজাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মো. আবদুস সোবহান, লিটন ভূইয়া ও মো. একেএম হক, মরহুমের ফুফাতো ভাই মোহাম্মদ কফিলুদ্দিন সরকার সহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) মরহুমের জন্মভূমি চাঁদপুরের কচুয়ায় তাঁরই প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নূরুল আজাদ কলেজ’, মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৩৭ নং বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা  নূরুল আজাদের প্রতিষ্ঠিত হাজী ফাতেমা জামে মসজিদ ও কচুয়ার বিভিন্ন মাদ্রাসা-এতিমখানায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় মুসল্লী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে তোবারক বিতরণ করা হয়। ( প্রেস বিজ্ঞপ্তি)