এক ঝাঁক পায়রা

ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারের ইকোনমিক্স ডিপার্টমেন্টের প্রথম বর্ষের ক্লাস  চলছে।  কিছুক্ষনের মাঝেই বুঝে গেলাম আমি আসলে ভুল সাবজেক্ট পড়তে এসেছি। বাবা ব্যাংকে চাকরি করতেন, আমার আদর্শ। সেই সূত্রে  মনে হয়েছিল আমিও ইকোনোমিক্স পড়ে ব্যাংকে চাকরি করব। 

অথচ আমার অন্তরের আকর্ষণ  সঙ্গীত, চিত্র শিল্প, শিল্পের  অন্যান্য মাধ্যম। ক্লাসে যখন সবাই গভীর মনোযোগে মনোয়ারউদ্দিন আহমেদ স্যারের লেকচার শুনছে,  আমি ছটফট করছি কি মুশকিল চিন্তা করে!

হঠাৎ করে দেখলাম দোতালার ক্লাসরুমের ছাদ অনেক উঁচু। একটু দূরে কয়েকটা খোপের মত ভেন্টিলেশন আছে।  সেই ফাঁকায় কেমন করে যেন একটা সুন্দর সাদা পায়রা এসে বসে আছে। দারুন আগ্রহ নিয়ে দেখতে লাগলাম পায়রার খেলা। ভুলেই গেলাম ক্লাসের কথা। এই ছিল আমার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা।

সারাক্ষণ মনের মাঝে অস্থিরতা আর দুষ্টুমি কাজ করতো। সুযোগ খুজতাম কেমন করে ফাঁকি দেয়া যায়, কারণ পড়াশোনায় একদমই মন নেই ।  একদিন খুব সিরিয়াস ক্লাস চলছে।  আমি বুঝতে পারছি না কেমন করে একটু শিথিল হওয়া যায়। 

আমার পাশে বসেছিল রুমানা হক,  আমাদের ক্লাসের পড়ুয়াদের অন্যতম।  আমি সামনে রাখা জ্যামিতি বক্সটা একটু একটু করে ঠেলে হাত দিয়ে নিচে ফেলে দিলাম। সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল।  ক্লাসে গুঞ্জন শুরু হল কিছুক্ষনের জন্য।  আমার সে কি আনন্দ!  রুমানা অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইল আমার দিকে! 

ইউনিভার্সিটির বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আমার ভারি মজা লাগতো।  বন্ধুদের কাছে আমি আমার জীবনে অনেক সহায়তা পেয়েছি।  ওরাই আসলে পরবর্তীতে আমাকে উৎসাহিত করেছে পরীক্ষাগুলো উতরে যেতে।

মাস্টার্স পড়তে পড়তে আমি গ্রামীনফোনে চাকরি শুরু করেছিলাম কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট এর ডেপুটি ম্যানেজার হিসাবে।  ক্লাস করতে পারিনি ঠিকমত। আমি চির কৃতজ্ঞ আমার বন্ধুদের কাছে কঠিন সময় গুলোয় আমার পাশে থাকার জন্য। 

কোন এক অলস দুপুরে তিন তালার বারান্দার অপেক্ষা করছিলাম পরবর্তী ক্লাস শুরু হবার।  হঠাৎ করে দেখলাম পড়ুয়া ছাত্র রবি হেলেদুলে আসছে পিঠে এক বিশাল বড় ব্যাগে বই খাতা ভর্তি। কেন জানিনা বলে উঠলাম,  তুমি ক্লাস ওয়ানে সানফ্লাওয়ার প্রিপারেটরি স্কুলে আমার সাথে পড়তে।  রবি প্রায় উল্টে পড়ে যাচ্ছিলো বারান্দা থেকে চরম বিস্ময়ে। তুমি কি করে জানলে আমি ওই স্কুলে পড়তাম,  বিস্ময় তখনও কাটেনি ওর। স্বভাবসুলভ হাসি হেসে বললাম,  আমার একটা বন্ধু ছিল ক্লাশে প্রথম হত, ঠিক তোমার মত বিশাল বড় ব্যাগ ভর্তি বইখাতা নিয়ে আসতো আর শুধু পড়াশোনা করত, আমি খুব বিরক্ত হতাম আর রাগ লাগতো এত কেন পড়বে? সেই থেকে মনে হল তুমিই হবে হয়তো! 

চরম উৎসাহ, উত্তেজনা নিয়ে একবার আমরা স্টাডি ট্যুরে চিটাগাং, পতেঙ্গা বিচ , রাঙামাটি গিয়েছিলাম ডিপার্টমেন্ট থেকে। তখন মোবাইল কিংবা ল্যান্ডফোন এত সহজলভ্য ছিল না। রাঙামাটি যখন গিয়েছি যে বাংলোতে আমরা ছিলাম, হঠাৎ করেই ফোন করার সুযোগ পাওয়া গেল। 

রুমানা বললো ও বাসায় ওর মাকে ফোন করবে।  অনেক চেষ্টার পরে কোনোরকমে লাইন মিলল।  ও ফোন করার সাথে সাথে হোটেলের একটা ছেলে পাশে দাঁড়িয়েছিল ক্রমাগত মনে করাতে লাগল এক মিনিট ৬০ টাকা। খানিকটা হাস্যকর ছিল।  খেলার ধারাভাষ্য এর মত বলতে শুরু করল ৫৮ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ৪৭ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ৩৫ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ১০ সেকেন্ড ৬০ টাকা… কথার মাঝখানে হঠাৎ করে রুমানা বলে ফেলল ওর মাকে মা এক মিনিট ৬০ টাকা! তারপর হতবিহ্বল হয়ে ফোনটা রেখে দিল।  রাখার পর খুবই বিরক্ত হয়ে ছেলেটাকে বলল এক মিনিট ৬০ টাকা তো কি?  ছেলেটা বলল আপা এমনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলাম! এমনিতেই ফোনে লাইন পাওয়া দুষ্কর, এভাবে ফোন রাখা দেখে আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে ছিলাম। 

খুব ছোট ছোট ভালোলাগায় জীবন আনন্দপূর্ণ ছিল তখন। ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ার পড়ার সময় একদিন আমাদের ক্লাসের এক ছেলে ডেকে বলল, আমার সাথে একটু কাঁটাবনে যাবে?  ফুল কিনতে হবে, ঠিক বুঝেনা কোনটা ভালো হবে। নিঃসংকোচে সাথে গেলাম, সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়াটা কিনে নিয়ে এলো।  রিকশায় করে ফিরছিলাম দুইজন।  এমন দূরত্ব মাঝে রইল,  যেন ছোঁয়া লাগলে ভয়ানক অন্যায় হয়ে যাবে।

সারা পথে আর কোন কথা হল না। ইউনিভার্সিটি বাসে করে বাসায় চলে আসব, রেজিস্টার বিল্ডিং নেমে গেলাম। ছেলেটা আমাকে অবাক করে বলল ফুলটা তুমি নিয়ে যাও।  আমি অত্যাশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেন?  উত্তরে বলল ভালোবাসি তাই। আমি বললাম আমি এই ভালবাসার প্রতিকৃতি গ্রহণ করতে পারছি না, আন্তরিক  ভাবে দুঃখিত।  ছেলেটা খুব ধীর স্থির স্বরে বলল, এটা নিয়ে আমি কি করব?  তোমার জন্য কেনা।  তুমি এখনি ডিসিশন জানিও না।  ফুলটা নিয়ে বাসায় যাও; যদি তুমি নিজে রাখ তাহলে ধরে নেবো, কখনো কখনো স্বপ্ন সত্যি হয়।  আর যদি অন্য কাউকে দিয়ে দাও, পুরো ঘটনাটা ভুলে যাব আমরা। 

ঐদিন আসলে ছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বার্থডে। আমার বান্ধবীকে বাসায় ফেরার পথে অদ্ভুত সুন্দর  ফুলটা দিয়ে এলাম। ফুলের সুন্দর রং আর গন্ধে অনামিকার চমকে যাওয়ায় আমার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল।

পরের দিন সকালে দেখা হওয়ার সাথে সাথে অনন্তকে বললাম, আমার বান্ধবী খুব খুশি হয়েছে ফুলটা পেয়ে।  কঠিন চেহারায়, গম্ভীর স্বরে বলল এই কাহিনী যদি দ্বিতীয় কেউ জানে খুন করে ফেলব। 

আমি শুধু মুচকি হেসে ছিলাম,  আসলেই আর কখনো বলা হয়নি এই অভিজ্ঞতা। জীবনের মাধুর্য হচ্ছে,  পরক্ষণেই আমরা সত্যি ভুলে গেলাম এমন কিছু কখনো ঘটেছিল।

জীবনের অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে উপলব্ধি করেছি , পায়রা আসলে আনাচে-কানাচেই রয়েছে সে যত বদ্ধ দুয়ারই থাকুক না কেন।  এখনো শুনতে পাই কিচিরমিচির পাখির মতো আনন্দে মুখরিত সেই দিনগুলোর প্রতিধ্বনি।

সাকিনা আক্তার, সিডনি

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক মোঃ ইয়াকুব আলীর প্রথম বই ‘নদীর জীবন’ প্রকাশিত

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক মোঃ ইয়াকুব আলীর প্রথম বই ‘নদীর জীবন’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি এখন ঢাকায় বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। বইটি মূলত লেখকের শৈশব কৈশোরের স্মৃতিকথা হলেও এতে উঠে এসেছে আবহমান গ্রাম বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শহুরে সংস্কৃতির সাথে গ্রামীণ সংস্কৃতির সংঘাত ও সামঞ্জস্য। এই বইয়ের মূল উপজীব্য মানুষ এবং সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। তাই এই বই হয়ে উঠেছে একটা সময়ের দলিল। বইটি প্রকাশ করেছে ‘প্র প্রকাশনী’ আর প্রচ্ছদ করেছেন ‘ব্রত রায়’। বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৯১ নং ‘আনন্দম’ এর স্টলে; পাঠকেরা অনলাইনে বইটি ক্রয় করতে তাইলে নিচের লিংকে অর্ডার করতে পারবেন। https://www.kablewala.com.bd

প্রাক্তন

চেনা এই নগরীতে আবার তোমার সাথে দেখা

শুধু আমার জায়গায় অন্য কেউ তোমার পাশে,

জানিনা কেন এখনও অশ্রুসিক্ত হয়ে আঁখি

স্মৃতিগুলো বারবার হৃদয়ে ভাসে।

ভালোবেসে তুমি আমায় ‘পাগলী ‘বলে ডাকতে

আমার পাগলামি ও ছিল অদ্ভুত

মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলতাম-

ভালোবাসো আমায়?

তুমি ঘুম ঘুম চোখে উত্তর দিতে

হুম! পাগলী আমার!

আমি একটু একটু করে করে নিজেকে

হারিয়ে ফেলেছিলাম তোমার ভিতর,

আমার সমস্ত অস্তিত্বে

মিলেমিশে তুমি একাকার।

আমি একটা সময় সত্যিই

তোমার জন্য পাগল,

আর তুমি! একটু একটু করে

ভাঙতে শুরু করলে

আমার ভালোবাসার আগোল।

তোমার সেই অবহেলায় অনেক কেঁদেছি

এখন চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে

কাঁদতেও আজ ভুলে গিয়েছি

নিজেকে খুঁজি নিঃসঙ্গতার মাঝে।

তুমি নতুন সাথীকে নিয়ে

বেঁধেছ সুখের ঘর

এখন তুমি অন্য কারো বর।

আর আমি!

সেই প্রাক্তনেই আটকে আছি।

তোমার জায়গাটা যে আমি

অন্য কাউকে দিতে পারিনি।

জানো! আজও তোমার নামেই সিঁদুর পড়ি

সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালিয়ে

তোমার জন্যই অপেক্ষা করি।

কি বোকা আমি তাই না!

তুমি তো কবেই আমাকে ছুড়েঁ ফেলেছ

কবেই দিয়েছ বিসর্জন।

তোমার কাছে তো আমি শুধুই ” তোমার প্রাক্তন”।

লাভলী রায়

অভাগী মেয়ে

চিনতে পারছো আমায়?

আজ খবরের কাগজের প্রথম পাতায়

যার ছবিটা খুব বড় করে ছাপা হয়েছে।

কেউ কেউ খুব আফসোস করছে

কারোর চোখে ঝরছে জল।

আবার কেউ কেউ বলছে-

হয়তো মেয়েটাই নষ্টা ছিল।

হ্যাঁ, আমি সেই অভাগী মেয়ে-

কাল রাতে যাকে নরপশুদের লালসার শিকার হয়ে

গলাটিপে মেরে চলন্ত বাস থেকে

ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

হ্যাঁ,আমি সেই………..।

আজ আমি খুব নিরাপদে আছি

আর ভয়ে কাটাতে হবে না

প্রতিটা দিন প্রতিটা মূহুর্ত।

বেঁচে থাকার জন্য ছুটতে হবে না

কারখানার মালিকদের দ্বারে দ্বারে।

গরীব বাপের ঘরে জন্ম

পেটের ক্ষুধার জন্য তাইতো

শক্ত হাতে ধরতে হয়েছে

কারখানার মেশিনের চাকা।

অর্থনীতির চাকা ঘুরছে আমাদের হাতে

অথচ আমরাই দিন কাটাই

অর্ধাহার নতুবা অনাহারে।

দু’তিন মাসের মজুরি পাইনা

চাইলেই জোটে শুধু লাঠিপেটা।

বাড়ি ভাড়ার টাকা না দিতে পারায়

বাড়িওয়ালা বের করে দেয় রাস্তায়।

গরীবেরা এভাবে শোষিত হচ্ছে বারংবার

আর বিত্তবানরা গড়ছে সম্পদের পাহাড়।

জানো মা, আমি অনেক বার

পশুগুলোর হাত পা ধরেছিলাম,

বাঁচার জন্য অনেক আকুতি করেছিলাম।

ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না।

মৃত্যুর আগে শুধু তোমার মুখটা

ভাসছিল চোখে।

আর কখনো টাকা পাঠাতে পারব না

ছোট্ট ভাই বোনের পড়ালেখা ও হবে না।

মা, আমি এখন খুব ভালো আছি

এখানে মানুষরূপী কোন হায়না নেই,

বাঁচার জন্য লড়াই করতে ও হয় না।

একটাই শুধু কষ্ট

তোমার কোলে কখনও আর

মাথা রাখতে পারবো না।

লাভলী রায়

কষ্ট?!

দিয়েছ কি কাউকে কষ্ট?!

করছ শুধুই সময় নষ্ট। 

জানোনা ওই সময়টাই হতো, 

তোমার সাথে তার শ্রেষ্ঠ। 

চিন্তা করছ! কথা হবে কাল!

জানো না তুমি –

রাত  গড়িয়ে হবে কি সকাল ?!

মনের ভেতর মান, 

নম্র হলে কখনো কমেনা সম্মান। 

চিন্তা! চিন্তা! আর চিন্তা 

হয়েছে মাথা গরম, বেড়েছে দুশ্চিন্তা?!

কপালে পড়েছে ভাজ, 

মনোমালিন্যওই, আজ হয়েছে মাথার তাজ। 

চোখেতে ধরেছে লজ্জা, 

ঢিলে ঢালা হয়েছে মনের কব্জা। 

কানেতে হয়েছে চুলকানি, 

টল টল করছে চোখের পানি, 

কথা বললে কখনো হবেনা সম্মান হানি। 

জানি, আমরা সবাই জানি, 

তারপরও আমরা সবাই, 

এসব নিয়ে করি শুধুই টানাটানি। 

কথায় বেড়েছে কথা, 

বেড়েছে কথার লতাপাতা। 

হয়েছে দু কান ভারী, 

আসুন এসব ছাড়ি। 

মানুষকে দিবোনা কষ্ট, 

একটু নেই আড়ি, 

মনটা হোক শুধুই হাঁসির বাড়ি। 

এনামুল হক মজুমদার শাকিল 

সিডনি

কৃষ্ণচুড়া

টিপটা কপালের ঠিক মাঝখানটায় পড়েছি। আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে দেখে একটু অচেনা লাগছে।  নিজেকে ভালোমতো দেখার সময় হয়নি কখনো সংসার আর কর্মব্যস্ত জীবনের দৌড়ে। 

অজান্তেই হেসে উঠলাম। ইন্টারমিডিয়েট পড়তে কি চঞ্চলা ছিলাম আমি! দৌড়ঝাঁপ করে বেড়াচ্ছি সারাক্ষণ। গানের স্কুলে শাড়ি পড়ে যেতাম ওটাই ড্রেস কোড ছিল। কলেজে পড়ে মনে হতো পৃথিবীর সবাই আমার ছোট। দোতালার একটা কর্নারে আমার ক্লাস হতো। নিচে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় তাকিয়ে দেখি ঠিক পাশেই বেঞ্চে বসে আছে একটা মিষ্টি ছেলে। প্রায় চিবুক ছুঁয়ে জিজ্ঞেস করলাম কী পড়ো?  

বলল মাস্টার্স ফাস্ট পার্ট পড়ছি। দৌড়ে পালালাম! কি জ্বালা এ তো আমার থেকে অনেক বড়!  এরপরে আর কোনদিন সামনে পড়িনি। এড়িয়ে পালিয়ে গেছি ভয়ে লজ্জায়। 

কোথা দিয়ে বছর গড়িয়ে ইউনিভার্সিটি উঠে গেলাম। কিছু বন্ধুদের সাথে বসে আছি মাঠে। কেউ গান করছে, কেউ বা গল্প করছে, কারো ব্যস্ততা ক্লাস নোট আদান প্রদানে, কেউ কারো কথা না শুনে হাত-পা নাড়িয়ে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে, গড়িয়ে পড়ছে হাসিতে। শরতের সুন্দর সকাল। নীল আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে চারিদিক উজ্জ্বল করে। হঠাৎ থেমে গিয়ে, সবাই মিলে তাকিয়ে রইলাম একজন সুদর্শন যুবক ফুল হাতে হেঁটে আসছে আমাদের দিকে। অস্বস্তি বাড়তে লাগল কারণ ছেলেটা আমাদের দিকেই আসছে। ঠিক আমার সামনে এসে ৫০ টা গোলাপ ফুল আমাকে হাত বাড়িয়ে দিল ! আমি নির্বাক তাকিয়ে রইলাম। এই সেই ছেলে যাকে আমি কি পড়াশোনা করছে জানতে চেয়ে পালিয়ে ছিলাম!  

আমি বললাম তোমার ফুলগুলো তো আমি নিতে পারবো না। সে বলল ফুলগুলো তোমার জন্যই আনা আহনা, কি করবো? বন্ধুরা এগিয়ে এল, ফুল গুলো এত সুন্দর নিমেষেই অন্য হাতে চলে যাচ্ছিল। 

আমি খুব অস্বস্তিতে মাঠের পাশে পরে থাকা একটা ঘাস ফুল হাতে তুলে হতচকিত ভাবছিলাম এলোমেলো।

কিছুক্ষণ দাড়িয়ে, ধীর পায়ে সেই যে চলে গেল আর কখনো দেখা হয় নাই।

ভুলেই গেলাম এই সব স্মৃতি। জীবনের কঠিন কিছু সত্য, অনেক ঝড়, উথান, পতন পেরিয়ে একদিন অলস দুপুরে বসে ফেসবুক দেখছিলাম। কিছুদিন হয় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হয়েছে আমার। নতুন এক চমক। কত বন্ধু, আপন জন ২৫ বছর পর ফেসবুকে খুঁজে পেলাম হঠাৎ করেই। কি আশ্চর্য!  সব কিছু আগের মত রয়ে গেছে, শুধু আমি ছিটকে দূরে হারিয়ে গিয়েছিলাম। 

কেমন করে যেন সেই সূর্য আবার উদয় হল। আমি ফ্রেন্ড   রিকুয়েস্ট পাঠালাম। অ্যাড না করে মেসাঞ্জার এ জানতে চাইল আবার অপদস্থ করতে চাইছি কি না! বললাম না, বিশেষ কোন কারনে নয় অনেক কমন বন্ধু, এমন কি আমার পরিবারের সদস্য আছে তোমার তালিকায় তাই! 

একসেপ্ট করল। 

তেমন কোন কথা হয় না আর। জেনেছি বিয়ে করেনি কারন পছন্দের কাউকে পায়নি আজ অব্ধি।

এক দিন অবাক করা দুটা জিনিশ পেলাম ওর কাছে। 

অনেকগুলো টিপ উপহার দিল, যা আমার এক মাত্র প্রিয় সাঁজ। এক দিন সাদা গোলাপ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম,  মাড়িয়ে গেছে অনেকে পাপড়িগুলো অবহেলায়। 

আমার পছন্দের ফুল কৃষ্ণচুড়া। হাতে নিয়েই অনুভব করলাম টিপ মাথায়  করে রাখতে হয়! 

অশেষ বিস্ময় অপেক্ষা করছিল তখনো। সত্যিকারের ভালবাসার গভীরতা উদাস করে অন্তর। দেখালো ২৫ বছর আগে মাঠে পাওয়া আমার হাতের ওই ঘাস ফুল সযত্নে রেখেছে আজও!

সাকিনা আক্তারঃ সিডনি প্রবাসী লেখিকা

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অনিক সারাফাত আল রহমান

বিএনপি ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সাহায্যের উদ্যোগ

COVID 19 এ সারা পৃথিবীর মানুষ আজ বিপন্ন।অস্ট্রেলিয়ার সিডনীও এর বাইরে নয়। কিছুদিন আগেও যারা ছিল স্বচ্ছল, জীবন ছিল কর্ম চাঞ্চল্যে ভরপুর হঠাৎ করেই তাদের জীবনে নেমে এসছে অমাবস্যার অন্ধকার। বিশেষ করে যারা এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য আইনী লড়াই করে যাচ্ছন অথবা মেধাবী ছাত্র যারা এখানে এসেছেন পড়াশুনা করতে তাদের অবস্থা  অত্যন্ত সংগীন। তাদের কথা মাথায় রেখে বিএনপি ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করে। এ সমস্ত লোকদের জন্য ‘মানুষ মানুষের জন্যে জীবন জীবনের জন্যে’ শ্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল তারা কিছু ব্যক্তি এবং পরিবারকে প্রায় ৩ সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী তাদের ঘরে পৌছে দেন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তেল, ছোলা, লবন, মুড়ি এবং সামান্য ফলমুল ও সবজি।

সকলের বাসায় খাদ্য সামগ্রী পৌছানো সহ কার্য্যক্রম তদারকী করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আহ্বায়ক ড. প্রফেসর ড. হুমায়ের চৌধুরী, বিএনপি নেতা ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক সোহেল ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আলম লেনিন, জাসাস অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আব্দুস সামাদ শিবলী, মনজুরুল ইসলীম আলমগীর, তাফতুন নাঈম নিতু, দিপু সহ অন্যান্যরা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর শাহ জামান টিটু এবং কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বাবু। উল্লেখ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রহমান এই ক্রান্তিকালে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পার্শে দাড়ানোর জন্য বিএনপি এবং তার অংগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রিয় অঞ্জন দত্ত

মানুষটার সাথে আমার পরিচয় অন্যদের তুলনায় বেশ দেরীতেই। ১৯৯৭ ইং সালে বাবা-মা, ভাই, বোনের সাথে আমার চট্টগ্রাম ঘুরতে যাওয়া। উঠি ছোট নানা ভাই এর বাসায়। সাথে বেশ কিছু গল্পের বই নিয়েছিলাম। কখনো অলস ভাবে ড্রয়িং রুমে, কখনো বা বারান্দায় শুয়ে বসে বই পড়া হতো। কেন জানি একদিন লিটন মামার ঘরে ঢুকে নতুন বই ঘাঁটাতে গিয়ে ওনার কালেকশানের কিছু ক্যাসেট পেয়ে গেলাম… আমি খুব একটা গান শুনে বেড়ে উঠিনি, তাই ওপার বাংলার সুমন ছাড়া বাকি সকলেই ছিল অচেনা। কি ভেবে এমন এক অচেনা ক্যাসেট, প্লেয়ার এ ছাড়া মাত্রই কথা, সুর, গায়কী ভঙ্গিতেই মজে গেলাম। মনে হল আরে! এ যে দেখি আমাদের মতো কিশোরদের জন্য গাওয়া ( রঞ্জনা, আমি আর আসব না)। খুব মজা পেয়ে টানা কয়েক বার শুনেছিলাম। তখনো বুঝিনি ক্যাসেট এর দ্বিতীয় গানটি হয়ে যাবে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় গান গুলোর একটি। আমি অসম্ভব ভুলো মনা, দুইদিন আগের কিছুই আমি মনে রাখতে পারি না এমনকি আমার বিবাহ বার্ষিকী, বা কারো জন্মদিন (যদিও এটা কোন সুখকর কিছু না) তবু এই ২০/২২ বছরে গানটির এক লাইন ও ভুলি নাই। একমই ভুলি নাই John Denver এর Annie’s Song, হেমন্তের ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুব তারা’ বা আব্দুল জব্বারের ‘ওরে নীল দরিয়া’…

আহা কৈশোর! আমারও কৈশোরে ছিল এক অঞ্জন আর সেই সাথে তার ‘2441139’

প্রথমবারের মতো তাঁকে সিডনিতে এসে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিলো এ বছর ১৪ই মার্চ।বলাবাহুল্য আমি এ সুযোগ হেলায় হারাতে চাইনি। আর সে জন্যেই বিনে পয়সায় এক কথায় রাজি হয়েছিলাম তাঁর গানের অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে। আজ কিছু ছবি দিলাম অঞ্জন আর তাঁর ছেলে নীল দত্তের।

আমরা বুড়ো হব, প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে, যাবে

কিন্তু তাঁর সৃষ্টি থেকে যাবে, ছুঁয়ে যাবে দুই বাংলার অজস্র হৃদয়…

প্রিয় অঞ্জন দত্ত;

আপনি হয়তো কখনোই এই লেখা পরবেন না। আপনি ছিলেন, আজও আছেন এবং থাকবেন শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়। আবারও ভবিষ্যতে দেখা হবে, কথা হবে। আপনি কথা সুর দিয়ে মানুষের মনে স্বপ্ন বুনবেন আর আমি না হয় দূর থেকেই কিছু মুহূর্ত ফ্রেম বন্দী করে রাখবো।

ভালবাসান্তে-

তুমন আহসান

এপ্রিল, ২০২০ ইং

দেখছি শুধু…..

‍কাটছে সময় রুমে ঘুরে, 

চলে যাচ্ছে মন শুধু দূরে। 

মাঝে মাঝে থাকছে চোখ টিভিতে, 

থাকছেও চোখ CVতে। 

হয়ে যাচ্ছে কান ভারী 

কথা হচ্ছে অবিরাম, 

নেই কোনো কমা-দাড়ি। 

খেলা হচ্ছে মোবাইলে অনবরত, 

মন বসেনা ঘরে আর কতো। 

টিভি দেখছি যত, 

মন খারাপ হচ্ছে ততো, 

মানুষ মারা যাচ্ছে আর 

ত্রাণ চুরি হচ্ছে কতো। 

মানবতা নেই এই মহাদুর্যুগে, 

দেখছি কতো কিছুই অবশেষে, 

মানুষও কান দিচ্ছে হুজুগে। 

কাটছে সময় বিছানায় শুয়ে-শুয়ে, 

লাফ দিয়ে উঠি আতঙ্কে আর ভয়ে। 

জানিনা থাকবে আর কতদিন করোনা, 

করছেনা একটুও করুনা। 

এনামুল হক মজুমদার (শাকিল)

করোনা- করেনা- করুনা

আম গাছে জাম
কলা গাছে আম,
করোনা ভাইরাসের কথা কি আর কইতাম।
জ্বরের মধ্যে পরছেন,
এইবার ধরা খাইছেন‌।
হয়নি করোনা, হয়েছে জ্বর,
বলবে সবাই- ওর উপর হয়েছে কোরোনার ভর।
দিবেন একটা কাশি
হতেও পারে ফাঁসি।
যদি হয় সর্দি
হাসপাতালে, ভুলেও হবেনা ভর্তি।
করোনা হয়েছে ! মানুষ দিবে উঁকি,
আসবেনা এগিয়ে, নিবেনা ঝুঁকি।
সামাজিক দূরত্ব একটু মেনে চলুন ,
এই কথাটা সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে বলুন।
বসে থাকুন ঘরে, পরিবারের সাথে,
নামাজ পড়ুন, রোজা রাখুন, দোআ করুন দুহাতে।
হাঁচি-কাঁশি দিতেই পারেন শিষ্টাচার মেনে
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, খুশি হবো জেনে।

এনামুল হক মজুমদার শাকিল