প্রাক্তন

চেনা এই নগরীতে আবার তোমার সাথে দেখা

শুধু আমার জায়গায় অন্য কেউ তোমার পাশে,

জানিনা কেন এখনও অশ্রুসিক্ত হয়ে আঁখি

স্মৃতিগুলো বারবার হৃদয়ে ভাসে।

ভালোবেসে তুমি আমায় ‘পাগলী ‘বলে ডাকতে

আমার পাগলামি ও ছিল অদ্ভুত

মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলতাম-

ভালোবাসো আমায়?

তুমি ঘুম ঘুম চোখে উত্তর দিতে

হুম! পাগলী আমার!

আমি একটু একটু করে করে নিজেকে

হারিয়ে ফেলেছিলাম তোমার ভিতর,

আমার সমস্ত অস্তিত্বে

মিলেমিশে তুমি একাকার।

আমি একটা সময় সত্যিই

তোমার জন্য পাগল,

আর তুমি! একটু একটু করে

ভাঙতে শুরু করলে

আমার ভালোবাসার আগোল।

তোমার সেই অবহেলায় অনেক কেঁদেছি

এখন চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে

কাঁদতেও আজ ভুলে গিয়েছি

নিজেকে খুঁজি নিঃসঙ্গতার মাঝে।

তুমি নতুন সাথীকে নিয়ে

বেঁধেছ সুখের ঘর

এখন তুমি অন্য কারো বর।

আর আমি!

সেই প্রাক্তনেই আটকে আছি।

তোমার জায়গাটা যে আমি

অন্য কাউকে দিতে পারিনি।

জানো! আজও তোমার নামেই সিঁদুর পড়ি

সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালিয়ে

তোমার জন্যই অপেক্ষা করি।

কি বোকা আমি তাই না!

তুমি তো কবেই আমাকে ছুড়েঁ ফেলেছ

কবেই দিয়েছ বিসর্জন।

তোমার কাছে তো আমি শুধুই ” তোমার প্রাক্তন”।

লাভলী রায়

অভাগী মেয়ে

চিনতে পারছো আমায়?

আজ খবরের কাগজের প্রথম পাতায়

যার ছবিটা খুব বড় করে ছাপা হয়েছে।

কেউ কেউ খুব আফসোস করছে

কারোর চোখে ঝরছে জল।

আবার কেউ কেউ বলছে-

হয়তো মেয়েটাই নষ্টা ছিল।

হ্যাঁ, আমি সেই অভাগী মেয়ে-

কাল রাতে যাকে নরপশুদের লালসার শিকার হয়ে

গলাটিপে মেরে চলন্ত বাস থেকে

ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

হ্যাঁ,আমি সেই………..।

আজ আমি খুব নিরাপদে আছি

আর ভয়ে কাটাতে হবে না

প্রতিটা দিন প্রতিটা মূহুর্ত।

বেঁচে থাকার জন্য ছুটতে হবে না

কারখানার মালিকদের দ্বারে দ্বারে।

গরীব বাপের ঘরে জন্ম

পেটের ক্ষুধার জন্য তাইতো

শক্ত হাতে ধরতে হয়েছে

কারখানার মেশিনের চাকা।

অর্থনীতির চাকা ঘুরছে আমাদের হাতে

অথচ আমরাই দিন কাটাই

অর্ধাহার নতুবা অনাহারে।

দু’তিন মাসের মজুরি পাইনা

চাইলেই জোটে শুধু লাঠিপেটা।

বাড়ি ভাড়ার টাকা না দিতে পারায়

বাড়িওয়ালা বের করে দেয় রাস্তায়।

গরীবেরা এভাবে শোষিত হচ্ছে বারংবার

আর বিত্তবানরা গড়ছে সম্পদের পাহাড়।

জানো মা, আমি অনেক বার

পশুগুলোর হাত পা ধরেছিলাম,

বাঁচার জন্য অনেক আকুতি করেছিলাম।

ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না।

মৃত্যুর আগে শুধু তোমার মুখটা

ভাসছিল চোখে।

আর কখনো টাকা পাঠাতে পারব না

ছোট্ট ভাই বোনের পড়ালেখা ও হবে না।

মা, আমি এখন খুব ভালো আছি

এখানে মানুষরূপী কোন হায়না নেই,

বাঁচার জন্য লড়াই করতে ও হয় না।

একটাই শুধু কষ্ট

তোমার কোলে কখনও আর

মাথা রাখতে পারবো না।

লাভলী রায়

কষ্ট?!

দিয়েছ কি কাউকে কষ্ট?!

করছ শুধুই সময় নষ্ট। 

জানোনা ওই সময়টাই হতো, 

তোমার সাথে তার শ্রেষ্ঠ। 

চিন্তা করছ! কথা হবে কাল!

জানো না তুমি –

রাত  গড়িয়ে হবে কি সকাল ?!

মনের ভেতর মান, 

নম্র হলে কখনো কমেনা সম্মান। 

চিন্তা! চিন্তা! আর চিন্তা 

হয়েছে মাথা গরম, বেড়েছে দুশ্চিন্তা?!

কপালে পড়েছে ভাজ, 

মনোমালিন্যওই, আজ হয়েছে মাথার তাজ। 

চোখেতে ধরেছে লজ্জা, 

ঢিলে ঢালা হয়েছে মনের কব্জা। 

কানেতে হয়েছে চুলকানি, 

টল টল করছে চোখের পানি, 

কথা বললে কখনো হবেনা সম্মান হানি। 

জানি, আমরা সবাই জানি, 

তারপরও আমরা সবাই, 

এসব নিয়ে করি শুধুই টানাটানি। 

কথায় বেড়েছে কথা, 

বেড়েছে কথার লতাপাতা। 

হয়েছে দু কান ভারী, 

আসুন এসব ছাড়ি। 

মানুষকে দিবোনা কষ্ট, 

একটু নেই আড়ি, 

মনটা হোক শুধুই হাঁসির বাড়ি। 

এনামুল হক মজুমদার শাকিল 

সিডনি

কৃষ্ণচুড়া

টিপটা কপালের ঠিক মাঝখানটায় পড়েছি। আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে দেখে একটু অচেনা লাগছে।  নিজেকে ভালোমতো দেখার সময় হয়নি কখনো সংসার আর কর্মব্যস্ত জীবনের দৌড়ে। 

অজান্তেই হেসে উঠলাম। ইন্টারমিডিয়েট পড়তে কি চঞ্চলা ছিলাম আমি! দৌড়ঝাঁপ করে বেড়াচ্ছি সারাক্ষণ। গানের স্কুলে শাড়ি পড়ে যেতাম ওটাই ড্রেস কোড ছিল। কলেজে পড়ে মনে হতো পৃথিবীর সবাই আমার ছোট। দোতালার একটা কর্নারে আমার ক্লাস হতো। নিচে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় তাকিয়ে দেখি ঠিক পাশেই বেঞ্চে বসে আছে একটা মিষ্টি ছেলে। প্রায় চিবুক ছুঁয়ে জিজ্ঞেস করলাম কী পড়ো?  

বলল মাস্টার্স ফাস্ট পার্ট পড়ছি। দৌড়ে পালালাম! কি জ্বালা এ তো আমার থেকে অনেক বড়!  এরপরে আর কোনদিন সামনে পড়িনি। এড়িয়ে পালিয়ে গেছি ভয়ে লজ্জায়। 

কোথা দিয়ে বছর গড়িয়ে ইউনিভার্সিটি উঠে গেলাম। কিছু বন্ধুদের সাথে বসে আছি মাঠে। কেউ গান করছে, কেউ বা গল্প করছে, কারো ব্যস্ততা ক্লাস নোট আদান প্রদানে, কেউ কারো কথা না শুনে হাত-পা নাড়িয়ে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে, গড়িয়ে পড়ছে হাসিতে। শরতের সুন্দর সকাল। নীল আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে চারিদিক উজ্জ্বল করে। হঠাৎ থেমে গিয়ে, সবাই মিলে তাকিয়ে রইলাম একজন সুদর্শন যুবক ফুল হাতে হেঁটে আসছে আমাদের দিকে। অস্বস্তি বাড়তে লাগল কারণ ছেলেটা আমাদের দিকেই আসছে। ঠিক আমার সামনে এসে ৫০ টা গোলাপ ফুল আমাকে হাত বাড়িয়ে দিল ! আমি নির্বাক তাকিয়ে রইলাম। এই সেই ছেলে যাকে আমি কি পড়াশোনা করছে জানতে চেয়ে পালিয়ে ছিলাম!  

আমি বললাম তোমার ফুলগুলো তো আমি নিতে পারবো না। সে বলল ফুলগুলো তোমার জন্যই আনা আহনা, কি করবো? বন্ধুরা এগিয়ে এল, ফুল গুলো এত সুন্দর নিমেষেই অন্য হাতে চলে যাচ্ছিল। 

আমি খুব অস্বস্তিতে মাঠের পাশে পরে থাকা একটা ঘাস ফুল হাতে তুলে হতচকিত ভাবছিলাম এলোমেলো।

কিছুক্ষণ দাড়িয়ে, ধীর পায়ে সেই যে চলে গেল আর কখনো দেখা হয় নাই।

ভুলেই গেলাম এই সব স্মৃতি। জীবনের কঠিন কিছু সত্য, অনেক ঝড়, উথান, পতন পেরিয়ে একদিন অলস দুপুরে বসে ফেসবুক দেখছিলাম। কিছুদিন হয় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হয়েছে আমার। নতুন এক চমক। কত বন্ধু, আপন জন ২৫ বছর পর ফেসবুকে খুঁজে পেলাম হঠাৎ করেই। কি আশ্চর্য!  সব কিছু আগের মত রয়ে গেছে, শুধু আমি ছিটকে দূরে হারিয়ে গিয়েছিলাম। 

কেমন করে যেন সেই সূর্য আবার উদয় হল। আমি ফ্রেন্ড   রিকুয়েস্ট পাঠালাম। অ্যাড না করে মেসাঞ্জার এ জানতে চাইল আবার অপদস্থ করতে চাইছি কি না! বললাম না, বিশেষ কোন কারনে নয় অনেক কমন বন্ধু, এমন কি আমার পরিবারের সদস্য আছে তোমার তালিকায় তাই! 

একসেপ্ট করল। 

তেমন কোন কথা হয় না আর। জেনেছি বিয়ে করেনি কারন পছন্দের কাউকে পায়নি আজ অব্ধি।

এক দিন অবাক করা দুটা জিনিশ পেলাম ওর কাছে। 

অনেকগুলো টিপ উপহার দিল, যা আমার এক মাত্র প্রিয় সাঁজ। এক দিন সাদা গোলাপ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম,  মাড়িয়ে গেছে অনেকে পাপড়িগুলো অবহেলায়। 

আমার পছন্দের ফুল কৃষ্ণচুড়া। হাতে নিয়েই অনুভব করলাম টিপ মাথায়  করে রাখতে হয়! 

অশেষ বিস্ময় অপেক্ষা করছিল তখনো। সত্যিকারের ভালবাসার গভীরতা উদাস করে অন্তর। দেখালো ২৫ বছর আগে মাঠে পাওয়া আমার হাতের ওই ঘাস ফুল সযত্নে রেখেছে আজও!

সাকিনা আক্তারঃ সিডনি প্রবাসী লেখিকা

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অনিক সারাফাত আল রহমান

বিএনপি ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সাহায্যের উদ্যোগ

COVID 19 এ সারা পৃথিবীর মানুষ আজ বিপন্ন।অস্ট্রেলিয়ার সিডনীও এর বাইরে নয়। কিছুদিন আগেও যারা ছিল স্বচ্ছল, জীবন ছিল কর্ম চাঞ্চল্যে ভরপুর হঠাৎ করেই তাদের জীবনে নেমে এসছে অমাবস্যার অন্ধকার। বিশেষ করে যারা এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য আইনী লড়াই করে যাচ্ছন অথবা মেধাবী ছাত্র যারা এখানে এসেছেন পড়াশুনা করতে তাদের অবস্থা  অত্যন্ত সংগীন। তাদের কথা মাথায় রেখে বিএনপি ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করে। এ সমস্ত লোকদের জন্য ‘মানুষ মানুষের জন্যে জীবন জীবনের জন্যে’ শ্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল তারা কিছু ব্যক্তি এবং পরিবারকে প্রায় ৩ সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী তাদের ঘরে পৌছে দেন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তেল, ছোলা, লবন, মুড়ি এবং সামান্য ফলমুল ও সবজি।

সকলের বাসায় খাদ্য সামগ্রী পৌছানো সহ কার্য্যক্রম তদারকী করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আহ্বায়ক ড. প্রফেসর ড. হুমায়ের চৌধুরী, বিএনপি নেতা ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক সোহেল ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আলম লেনিন, জাসাস অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আব্দুস সামাদ শিবলী, মনজুরুল ইসলীম আলমগীর, তাফতুন নাঈম নিতু, দিপু সহ অন্যান্যরা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর শাহ জামান টিটু এবং কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বাবু। উল্লেখ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রহমান এই ক্রান্তিকালে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পার্শে দাড়ানোর জন্য বিএনপি এবং তার অংগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রিয় অঞ্জন দত্ত

মানুষটার সাথে আমার পরিচয় অন্যদের তুলনায় বেশ দেরীতেই। ১৯৯৭ ইং সালে বাবা-মা, ভাই, বোনের সাথে আমার চট্টগ্রাম ঘুরতে যাওয়া। উঠি ছোট নানা ভাই এর বাসায়। সাথে বেশ কিছু গল্পের বই নিয়েছিলাম। কখনো অলস ভাবে ড্রয়িং রুমে, কখনো বা বারান্দায় শুয়ে বসে বই পড়া হতো। কেন জানি একদিন লিটন মামার ঘরে ঢুকে নতুন বই ঘাঁটাতে গিয়ে ওনার কালেকশানের কিছু ক্যাসেট পেয়ে গেলাম… আমি খুব একটা গান শুনে বেড়ে উঠিনি, তাই ওপার বাংলার সুমন ছাড়া বাকি সকলেই ছিল অচেনা। কি ভেবে এমন এক অচেনা ক্যাসেট, প্লেয়ার এ ছাড়া মাত্রই কথা, সুর, গায়কী ভঙ্গিতেই মজে গেলাম। মনে হল আরে! এ যে দেখি আমাদের মতো কিশোরদের জন্য গাওয়া ( রঞ্জনা, আমি আর আসব না)। খুব মজা পেয়ে টানা কয়েক বার শুনেছিলাম। তখনো বুঝিনি ক্যাসেট এর দ্বিতীয় গানটি হয়ে যাবে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় গান গুলোর একটি। আমি অসম্ভব ভুলো মনা, দুইদিন আগের কিছুই আমি মনে রাখতে পারি না এমনকি আমার বিবাহ বার্ষিকী, বা কারো জন্মদিন (যদিও এটা কোন সুখকর কিছু না) তবু এই ২০/২২ বছরে গানটির এক লাইন ও ভুলি নাই। একমই ভুলি নাই John Denver এর Annie’s Song, হেমন্তের ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুব তারা’ বা আব্দুল জব্বারের ‘ওরে নীল দরিয়া’…

আহা কৈশোর! আমারও কৈশোরে ছিল এক অঞ্জন আর সেই সাথে তার ‘2441139’

প্রথমবারের মতো তাঁকে সিডনিতে এসে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিলো এ বছর ১৪ই মার্চ।বলাবাহুল্য আমি এ সুযোগ হেলায় হারাতে চাইনি। আর সে জন্যেই বিনে পয়সায় এক কথায় রাজি হয়েছিলাম তাঁর গানের অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে। আজ কিছু ছবি দিলাম অঞ্জন আর তাঁর ছেলে নীল দত্তের।

আমরা বুড়ো হব, প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে, যাবে

কিন্তু তাঁর সৃষ্টি থেকে যাবে, ছুঁয়ে যাবে দুই বাংলার অজস্র হৃদয়…

প্রিয় অঞ্জন দত্ত;

আপনি হয়তো কখনোই এই লেখা পরবেন না। আপনি ছিলেন, আজও আছেন এবং থাকবেন শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়। আবারও ভবিষ্যতে দেখা হবে, কথা হবে। আপনি কথা সুর দিয়ে মানুষের মনে স্বপ্ন বুনবেন আর আমি না হয় দূর থেকেই কিছু মুহূর্ত ফ্রেম বন্দী করে রাখবো।

ভালবাসান্তে-

তুমন আহসান

এপ্রিল, ২০২০ ইং

দেখছি শুধু…..

‍কাটছে সময় রুমে ঘুরে, 

চলে যাচ্ছে মন শুধু দূরে। 

মাঝে মাঝে থাকছে চোখ টিভিতে, 

থাকছেও চোখ CVতে। 

হয়ে যাচ্ছে কান ভারী 

কথা হচ্ছে অবিরাম, 

নেই কোনো কমা-দাড়ি। 

খেলা হচ্ছে মোবাইলে অনবরত, 

মন বসেনা ঘরে আর কতো। 

টিভি দেখছি যত, 

মন খারাপ হচ্ছে ততো, 

মানুষ মারা যাচ্ছে আর 

ত্রাণ চুরি হচ্ছে কতো। 

মানবতা নেই এই মহাদুর্যুগে, 

দেখছি কতো কিছুই অবশেষে, 

মানুষও কান দিচ্ছে হুজুগে। 

কাটছে সময় বিছানায় শুয়ে-শুয়ে, 

লাফ দিয়ে উঠি আতঙ্কে আর ভয়ে। 

জানিনা থাকবে আর কতদিন করোনা, 

করছেনা একটুও করুনা। 

এনামুল হক মজুমদার (শাকিল)

করোনা- করেনা- করুনা

আম গাছে জাম
কলা গাছে আম,
করোনা ভাইরাসের কথা কি আর কইতাম।
জ্বরের মধ্যে পরছেন,
এইবার ধরা খাইছেন‌।
হয়নি করোনা, হয়েছে জ্বর,
বলবে সবাই- ওর উপর হয়েছে কোরোনার ভর।
দিবেন একটা কাশি
হতেও পারে ফাঁসি।
যদি হয় সর্দি
হাসপাতালে, ভুলেও হবেনা ভর্তি।
করোনা হয়েছে ! মানুষ দিবে উঁকি,
আসবেনা এগিয়ে, নিবেনা ঝুঁকি।
সামাজিক দূরত্ব একটু মেনে চলুন ,
এই কথাটা সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে বলুন।
বসে থাকুন ঘরে, পরিবারের সাথে,
নামাজ পড়ুন, রোজা রাখুন, দোআ করুন দুহাতে।
হাঁচি-কাঁশি দিতেই পারেন শিষ্টাচার মেনে
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, খুশি হবো জেনে।

এনামুল হক মজুমদার শাকিল


প্রকৃতি মা

রহস্যময় প্রকৃতিও ধারন করে

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধন অকৃত্রিম

উদারতায় প্রানের ছোঁয়া

স্নেহের উষ্ণতার পরশ সর্বত্র

এক অদ্ভুত নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আত্মত্যাগ

সদাই মঙ্গল কামনার আরতি ছায়ায়

মায়ায় অনুভব করায় নিরাপদ আশ্রয়

পথের ধারে হেঁটে চলেছি উদ্দেশ্যবিহীন

হঠাৎ চমকে থমকে দাঁড়ালাম 

সৃষ্টির অসামান্য দৃশ্যমান প্রতিকৃতির সামনে

অন্তরের ভেতর থেকে অজান্তেই ধ্বনিত হলো 

মা

সাকিনা আখতার

সিডনি

বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে মত বিনিময় সভা

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সিডনির স্টার কাবাব ফাংশন সেন্টারে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে প্রবাসে করনীয় শীর্ষক এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয়  সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে কোন গণতন্ত্রের অস্তিত্ব নাই। একটা মিথ্যা বানোয়াট মামলায় ১৭ কোটি মানুষের আপষহীন নেএীকে আইন আদালতকে ব্যাবহার করে সাজানো রায়ের মাধ্যমে বন্দি করে রেখেছেন। কিন্তু জনগনের ভোটাধিকার হরন করে কেউ কোন দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে নাই আওয়ামীলীগ ও পারবেনা। নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, আপনারা হতাশ হবেন না শুধু ধৈর্য ধারন করুন। আমরা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য মৃত্যুবরন করতে প্রস্তুত তবু আপোষহীন নেএীকে মুক্ত করব।

মোঃ মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফের সঞ্চালনায় মত বিনিময় সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি মনিরুল হক জর্জ, সাবেক আহ্ববায়ক জনাব দেলোয়ার হোসেন, কাউন্সিলর মোঃ শাহে জামান টিটু, সহ সভাপতি ডাঃ আব্দুল ওহাব বকুল। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব লুৎফুল কবির, সিনিয়র সহ সভাপতি কুদরত উল্লাহ লিটন, আলহাজ্ব মোঃ নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, মোঃ মোবারক হোসেন, তারিক উল ইসলাম তারেক, ইয়াসির আরাফাত সবুজ, এএনএম মাসুম, আজাদ কামরুল হাসান আজাদ, আবু সায়েম সুমন, খাইরুল কবির পিন্টু, কামরুল ইসলাম শামীম, সুমন মোহাম্মদ রানা, হাবিব রহমান, মৌহাইমেন খান মিশু, জাবেল হক জাবেদ, আব্দুল করিম, গোলাম রাব্বানী শুভ, মোহাম্মদ জাকির হোসেন রাজু, জাহিদ আবেদীন, গোলাম রাব্বানী, মোহাম্মদ নাসির আহম্মেদ, আনিসুর রহমান ,নূর মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, অসিত গোমেজ, প্রবীএ বড়ুয়া, পংকজ বিশ্বাস, মোঃ কামরুজ্জামান প্রমুখ।