নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারীর বিচার শুরু হচ্ছে

নিউজিল্যান্ডের মসজিদ হামলাকারীর সাজা শুরু হচ্ছে ২৪ আগস্ট। গত বছরের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দু’টি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালান ব্রেনটন ট্যারেন্ট। ব্রেনটন তার হামলার দৃশ্য সরাসরি নিজের ফেসবুকে সম্প্রচারও করেন।

ওই হামলায় ৫১ জন নিহত হন। আহত ৪০ জন। নৃশংস ওই হামলায় অন্তত চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। পরে হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। আদালত গত ৩ জুলাই জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের নৃশংসভাবে ৫১ জন মুসলিমকে হত্যার অভিযোগে ব্রেন্টন ট্যারেন্টের সাজার শুনানি শুরু হয়েছে।

বিচারপতি ক্যামেরন ম্যান্ডার বলেন, শুনানিটি তিন দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিচারের প্রয়োজনে বেশিদিনও লাগতে পারে। তিনি আরও জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য যারা বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন এবং নিউজিল্যান্ডে ভ্রমণে অক্ষম তাদের জন্য সাজা দূরবর্তীভাবে দেখার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

করোনভাইরাসের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার পর উপযুক্ত তারিখ খুঁজতে ট্যারেন্টের রিমান্ড বাড়ানো হয়েছিল বলেও বিচারপতি ক্যামেরন ম্যান্ডার উল্লেখ করেন। ছবিঃ ইন্টারনেট

মোহাম্মদ আব্দুল মতিন’র সঞ্চালনায় ‘জীবন আদর্শে ইসলাম’ আগামী ১৪ মে থেকে শুরু

৩৬০ ইভেন্ট সেন্টারের প্রযোজনায় এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন এর সঞ্চালনায় “জীবন আদর্শে ইসলাম” শীর্ষক নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠান আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৭ টায় শুরু হবে।

৩৬০ ইভেন্ট সেন্টারের একজন মুখপাত্র জানান, ইসলামী এই আলোচনায় নিয়মিত ভাবে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহন করার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন, ড. মুফতী মুহাম্মাদ কফীলুদ্দীন সরকার সালেহী (অধ্যক্ষ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা)। এছাড়াও সিডনির সেন্ট মেরিস্ মসজিদের ইমাম মোহাম্মাদ আবু হুরাইরাহ আজহারী, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে শেখ এবং ইমামগন সহ বিভিন্ন দেশের বক্তারা ইসলাম ও জীবন সম্পর্কে তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদানের জন্য আমাদের সাথে আগামী অনুষ্ঠান গুলোতে পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করা যেতে পারেঃ https://facebook.com/events/s/islam-with-ideal-life-%E0%A6%9C%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%B6/2483470635086996/?ti=icl

মহান আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম

এই বিশ্ব চরাচরে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব প্রভৃতির পরিচায়ক কিছু সুন্দর নাম আছে। যেগুলোকে বলা হয় আল আসমাউল হুসনা বা সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহর গুণবাচক নাম প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমেই এরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাকে সেই সব নামেই ডাকবে।’ –সূরা আরাফ: ১৮০

আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো অতিশয় মোবারক ও পবিত্র। আল্লাহতায়ালার এসব নামের জিকিরের প্রচুর ফজিলতের কথা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে এসব নাম মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইমাম তিরমিজি (রহ.) এক হাদিসে মহান আল্লাহর ৯৯ টি গুণবাচক নাম উল্লেখ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহর ৯৯ টি নাম আছে, অর্থাৎ এক কম ১০০ টি। যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ (মুখস্থ) করবে সে জান্নাতে যাবে।

*** ইয়া আল্লাহ (তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) ***

১। ইয়া রাহমানু (হে করুনাময়) 

الرَّحْمَنُ  Ar Rahmaan (The Beneficent) He who wills goodness and mercy for all His creatures.

২। ইয়া রাহিমু ( হে পরম করুনাময় দয়ালু) الرَّحِيمُ-Ar-Raheem (The Merciful) He who acts with extreme kindness

৩।ইয়া আহাদু ( হে একক) اَلاَحَدُ Al-Ahad (The Sole One) The One 

৪। ইয়া আউয়ালু ( হে সর্ব প্রথম) الأوَّلُ Al-Awwal (The Very First) The First, The One whose Existence is without a beginning. 

৫। ইয়া আখিরু  ( হে অনন্ত) الآخِرُ Al-Akhir (The Infinite Last One) The Last, The One whose Existence is without an end.

৬। ইয়া বায়িছু ( হে পুনর্জীবন দাতা) الْبَاعِثُ Al-Ba’ith (The Infuser of New Life)The Resurrector, The Raiser (from death), The One who resurrects His slaves after death for reward and/or punishment.

৭। ইয়া বাতিনু ( হে অপ্রকাশ্য) الْبَاطِنُ Al-Baatin (The Imperceptible) The Hidden, The One that nothing is above Him and nothing is underneath Him, hence He exists without a place. He, The Exalted, His Existence is obvious by proofs and He is clear from the delusions of attributes of bodies.

৮। ইয়া বাররু ( হে শান্তি ও মঙ্গলদাতা) الْبَرُّ Al-Barr (The Fountain-Head of Truth) The Source of All Goodness, The Righteous, The One who is kind to His creatures, who covered them with His sustenance and specified whoever He willed among them by His support, protection, and special mercy.  

৯। ইয়া বাসিতু (হে সম্প্রসারণকারী) الْبَاسِطُ Al-Baasit (The Extender) The Englarger, The One who constricts the sustenance by His wisdom and expands and widens it with His Generosity and Mercy. 

১০। ইয়া বারিয়্যু ( হে মুক্তিদাতা) الْبَارِئُ Al-Baari (The Evolver) The Maker, The Creator who has the Power to turn the entities.

১১। ইয়া বাসীরু ( হে দ্রষ্ট )الْبَصِيرُ Al-Baseer (The All-Seeing)The All-Noticing, The One who Sees all things that are seen by His Eternal Seeing without a pupil or any other instrument. 

১২। ইয়া বাদিউ (হে প্রথম সৃষ্টিকারী) الْبَدِيعُ Al-Badi’ (The Unique One) The Incomparable, The One who created the creation and formed it without any preceding example.

১৩। ইয়া বাকিয়্যু (হে চিরবিরাজমান) اَلْبَاقِي Al-Baaqi (The Ever Surviving One) The Everlasting, The One that the state of non-existence is impossible for Him. 

১৪। ইয়া তাওয়য্যাবু (হে তওবাকবুলকারী) التَّوَابُ At-Tawwaab (The Ever-Acceptor of Repentance) The Relenting, The One who grants repentance to whoever He willed among His creatures and accepts his repentance.

১৫। ইয়া জাব্বারু (হে মহাপ্রতাপশালী) الْجَبَّارُ Al-Jabbar (The Omnipotent One) The One that nothing happens in His Dominion except that which He willed 

১৬। ইয়া জালিলু ( হে মহামহিমায়, মহিমান্বিত) الْجَلِيلُ Al-Jaleel (The Majestic One) The Sublime One, The Beneficent, The One who is attributed with greatness of Power and Glory of status.

১৭। ইয়া জামিউ (হে একত্রীকারী) الْجَامِعُ Al-Jaami’ (The Assembler of Scattered Creations) The Gatherer, The One who gathers the creatures on a day that there is no doubt about, that is the Day of Judgment.

১৮। ইয়া হাফিজু (হে রক্ষাকারী) الْحَفِيظُ Al-Hafiz (The Guarding One) The Preserver, The Protector, The One who protects whatever and whoever He willed to protect.

১৯। ইয়া হাকিমু (হে বিচারক) الْحَكِيمُ Al-Hakeem (The Wise One) The Wise, The Judge of Judges, The One who is correct in His doings.

২০। ইয়া হাকামু (হে ন্যায় বিচারক) الْحَكَمُ Al-Hakam (The Impartial Judge) The Judge, He is the Ruler and His judgment is His Word.

২১। ইয়া হালিমু ( হে ধৈর্যশীল) الْحَلِيمُ Al-Haleem (The Clement One) The Forebearing, The One who delays the punishment for those who deserve it and then He might forgive them. 

২২। ইয়া হাসীবু (হে হিসাব গ্রহনকারী) الْحسِيبُ Al-Haseeb (The Reckoning One) The Reckoner, The One who gives the satisfaction.

২৩। ইয়া হাক্কু (হে সত্য স্বরূপ) الْحَقُّ Al-Haqq (The Embodiment of Truth) The Truth, The True, The One who truly exists.

২৪। ইয়া হামিদু ( হে প্রশংসিত) الْحَمِيدُ Al-Hameed (The Sole-Laudable One) The Praiseworthy, The praised One who deserves to be praised.

২৫। ইয়া হাইয়্যু ( হে চিরন্জীব) الْحَيُّ Al-Hayy (The Eternally Living One) The Alive, The One attributed with a life that is unlike our life and is not that of a combination of soul, flesh or blood.

২৬। ইয়া খাবীরু ( হে মহা সংবাদ রক্ষক) الْخَبِيرُ Al-Khabeer (The All-Aware One) The One who knows the truth of things.

২৭। ইয়া খাফিদু ( হে অবনতকারী) الْخَافِضُAl-Khaafid (The Reducer),The Abaser, The One who lowers whoever He willed by His Destruction and raises whoever He willed by His Endowment.

২৮। ইয়া খালিকু ( হে সৃষ্টিকর্তা) الْخَالِقُ Al-Khaaliq (The Creator), The One who brings everything from non-existence to existence

২৯। ইয়া যুল জালালি ওয়াল ইকরাম ( হে মর্যাদাশীল ও মহিমাময়) ذُوالْجَلاَلِ وَالإكْرَامِ Zul-Jalaali-wal-Ikram (The Possessor of Majesty and Honour), The Lord of Majesty and Bounty, The One who deserves to be Exalted and not denied.

৩০। ইয়া রাজ্জাকু (হে রিজিকদাতা) الرَّزَّاقُ Ar-Razzaq (The Total Provider) The Sustainer, The Provider.

৩১। ইয়া রাফিউ (হে উন্নতি দানকারী) الرَّافِعُ Ar-Rafi (The Elevating One), The Exalter, The Elevator, The One who lowers whoever He willed by His Destruction and raises whoever He willed by His Endowment. 

৩২। ইয়া রাউফু ( হে অতিশয় দয়ালু) الرَّؤُوفُ Ar-Ra’oof (The Benign One),The Compassionate, The One with extreme Mercy. The Mercy of Allah is His will to endow upon whoever He willed among His creatures

৩৩। ইয়া রাক্বিবু ( হে রক্ষণাবক্ষণকারী) الرَّقِيبُ Ar-Raqeeb (The Watchful One), The Watcher, The One that nothing is absent from Him. Hence it’s meaning is related to the attribute of Knowledge.

৩৪।  ইয়া রাশিদু ( হে সৎপথ প্রদর্শক) الرَّشِيدُ -Ar-Rasheed (The Guide to Path of Rectitude) The Guide to the Right Path, The One who guides.

৩৫। ইয়া ছালামু (হে শান্তি দাতা) السَّلاَمُ As-Salam (The Embodiment of Peace) The One who is free from every imperfection.

৩৬। ইয়া সামিউ ( হে শ্রবনকারী) السَّمِيعُ As-Sami’ (The All-Hearer) The Hearer, The One who Hears all things that are heard by His Eternal Hearing without an ear, instrument or organ.

৩৭। ইয়া শাকুরু ( হে কৃতজ্ঞতা পছন্দকারী) الشَّكُورُ Ash-Shakoor (The Acknowledging One), The Grateful, The Appreciative, The One who gives a lot of reward for a little obedience.

৩৮। ইয়া শাহিদু (হে প্রত্যক্ষদর্শী, পর্যবেক্ষক)  الشَّهِيدُ Ash-Shaheed (The All Observing Witness) The Witness, The One who nothing is absent from Him.

৩৯। ইয়া ছামাদু ( হে নিয়ন্ত্রন কারী, অভাবহীন)  الصَّمَدُ As-Samad (The Supreme Provider) The Eternal, The Independent, The Master who is relied upon in matters and reverted to in ones needs. 

৪০। ইয়া ছাবুরু (হে ধৈর্যশীল) الصَّبُورُ As-Saboor (The Extensively Enduring One), The Patient, The One who does not quickly punish the sinners

৪১। ইয়া দাররু (হে বিপদ দানকারী) الضَّارَّ Ad-Daarr (The Distressor), The One who makes harm reach to whoever He willed and benefit to whoever He willed.

৪২। ইয়া জাহিরু (হে প্রকাশ্য) الظَّاهِرُ Az-Zaahir (The Perceptible) The Manifest, The One that nothing is above Him and nothing is underneath Him, hence He exists without a place. He, The Exalted, His Existence is obvious by proofs and He is clear from the delusions of attributes of bodies.

৪৩। ইয়া আলিমু (হে মহা জ্ঞানী) اَلْعَلِيْمُ Al-Alim (The All-Knowing One) The Knowledgeable; The One nothing is absent from His knowledge

৪৪। ইয়া আদলু (হে ন্যায় পরায়ণ) الْعَدْلُ Al-Adl (The Embodiment of Justice), The Just, The One who is entitled to do what He does.

৪৫। ইয়া আজীমু (হে মহিমান্বিত) الْعَظِيمُ Al-Azeem (The Magnificent One), The Great One, The Mighty, The One deserving the attributes of Exaltment, Glory, Extolement, and Purity from all imperfection. 

৪৬। ইয়া আলিয়্যু (হে শ্রেষ্ঠ, মহত্তম)  الْعَلِيُّ Al-Aliyy (The Sublime One) The Most High, The One who is clear from the attributes of the creatures.

৪৭। ইয়া আফুয়্যু (হে সর্ব শ্রেষ্ঠ মার্জনাকারী, ক্ষমাকারী) العَفُوُّ Al-Afuww (The Supreme Pardoner) The Forgiver, The One with wide forgiveness. 

৪৮। ইয়া আযীযু (হে পরাক্রমশালী) الْعَزِيزُ Al-Aziz (The Mighty One) The Strong, The Defeater who is not defeated

৪৯। ইয়া গাফ্ফারু (হে ক্ষমাশীল) الْغَفَّارُ Al-Ghaffaar (The Great Forgiver), The Forgiver, The One who forgives the sins of His slaves time and time again.

৫০। ইয়া গাফুরু (হে মহান ক্ষমাশীল) الْغَفُورُ Al-Ghafoor (The Great Forgiver) The All-Forgiving, The Forgiving, The One who forgives a lot. 

৫১। ইয়া গানিয়্যু (হে স্বয়ংসম্পূর্ন, সম্পদশালী) الْغَنِيُّ Al-Ghaniyy (The Self-Sufficient One) The One who does not need the creation.

৫২। ইয়া ফাত্তাহু (সর্বোচ্চ সমাধানকারী, সাহায্যকারী) الْفَتَّاحُ Al-Fattah (The Supreme Solver) The Opener, The Reliever, The Judge, The One who opens for His slaves the closed worldly and religious matters.

৫৩। ইয়া কারীমু  (হে মহিমাময়, করুনাময়) الْكَرِيمُ Al-Kareem (The Bountiful One)?The Generous One, The Gracious, The One who is attributed with greatness of Power and Glory of status.

৫৪। ইয়া ক্বাহহারু্ (হ নিয়ন্ত্রণকারী)   الْقَهَّارُ Al-Qahhaar (The All-Prevailing One), The Dominant, The One who has the perfect Power and is not unable over anything.

৫৫। ইয়া ক্বাবিদু (হে সংকোচনকারী) الْقَابِضُ Al-Qaabid (The Restricting One), The Constrictor, The Withholder, The One who constricts the sustenance by His wisdom and expands and widens it with His Generosity and Mercy.

৫৬। ইয়া ক্বুদ্দুছু ( হে পবিত্র) الْقُدُّوسُ Al-Quddus (The Most Sacred), The One who is pure from any imperfection and clear from children and adversaries 

৫৭। ইয়া কাওয়িয়্যু ( হে শক্তিশালী, শক্তিধর) الْقَوِيُّ Al-Qawwiyy ( The Strong One), The Most Strong, The Strong, The One with the complete Power 

৫৮। ইয়া ক্বাইয়ুমু (হে চিরস্থায়ী) الْقَيُّومُ Al-Qayyoom ( The Self-Subsisting One), The One who remains and does not end.

৫৯। ইয়া ক্বাদিরু (হে সর্বশক্তিমান) الْقَادِرُ Al-Qaadir (The Omnipotent One), The Able, The Capable, The One attributed with Power.

৬০। ইয়া কাবীরু (হে বৃহত্তম) الْكَبِيرُAl-Kabeer (The Great One), The Most Great, The Great, The One who is greater than e

৬১। ইয়া লতিফু (হে সূক্ষ্ম ) اللَّطِيفُ Al-Lateef (The Knower of Subtleties) The Subtle One, The Gracious, The One who is kind to His slaves and endows upon them.

৬২। ইয়া মালিকু( হে বিশ্বঅধিপতি) الْمَلِكُ Al-Malik ( The Eternal Lord) The Sovereign Lord, The One with the complete Dominion, the One Whose Dominion is clear from imperfection

৬৩। ইয়া মু’মিনু (হে মহাবিশ্বাসী) الْمُؤْمِنُ Al-Mu’min (The Infuser of Faith), The One who witnessed for Himself that no one is God but Him. And He witnessed for His believers that they are truthful in their belief that no one is God but Him

৬৪। ইয়া মোহাইমিনু (হে সত্য স্বাক্ষী) الْمُهَيْمِنُ Al-Muhaymin (The Preserver of Safety), The One who witnesses the saying and deeds of His creatures

৬৫। ইয়া মুতাক্কাবিরু (হে গৌরবশালী) الْمُتَكَبِّرُ Al-Mutakabbir (The Dominant One) The One who is clear from the attributes of the creatures and from resembling them.

৬৬। ইয়া মুছাওয়্যিরু (হে আকৃতি গঠনকারী) الْمُصَوِّرُ Al-Musawwir (The Flawless Shaper), The One who forms His creatures in different pictures.

৬৭। ইয়া মুয়িয্ যু ( হে সম্মানদানকারী) الْمُعِزُّ Al-Mu’izz (The Honourer-Bestower), He gives esteem to whoever He willed, hence there is no one to degrade Him; And He degrades whoever He willed, hence there is no one to give Him esteem.

৬৮। ইয়া মুযিল্লু (হে অপমানকারী) المُذِلُّ Al-Muzil (The Abaser), The Dishonourer, The Humiliator, He gives esteem to whoever He willed, hence there is no one to degrade Him; And He degrades whoever He willed, hence there is no one to give Him esteem.

৬৯। ইয়া মুক্বীতু (হে তত্ত্বাবধায়ক) المُقي Al-Muqeet (The Sustaining One), The Maintainer, The Guardian, The Feeder, The One who has the Power.

৭০। ইয়া মুজিবু (হে তওবা কবুলকারী) الْمُجِيبُ Al-Mujeeb ( The Responding One), The Responsive, The Hearkener, The One who answers the one in need if he asks Him and rescues the yearner if he calls upon Him.

৭১। ইয়া মাতিনু (হে অটল) الْمَتِينُ Al-Mateen (The Firm One), The One with extreme Power which is un-interrupted and He does not get tired.

৭২। ইয়া মুহছিয়্যু (হে পরিগণক) الْمُحْصِي (Al-Muhsee), The All-Enumerating One The Counter, The Reckoner, The One who the count of things are known to him. 

৭৩। ইয়া মুবদিয়্যু ( হে সৃষ্টিকারী) الْمُبْدِئُ Al-Mubdi (The Originator), The One who started the human being. That is, He created him.

৭৪। ইয়া মুঈদু (হে পুনরুদ্ধারকারী) الْمُعِيدُ Al-Mueed (The Restorer) The Reproducer, The One who brings back the creatures after death 

৭৫। ইয়া মুহয়িয়্যু (হে জীবনদানকারী) الْمُحْيِي Al-Muhyi (The Maintainer of life), The Restorer, The Giver of Life, The One who took out a living human from semen that does not have a soul. He gives life by giving the souls back to the worn out bodies on the resurrection day and He makes the hearts alive by the light of knowledge.

৭৬। ইয়া মুমিতু (হে মৃত্যুদানকারী) اَلْمُمِيتُ Al-Mumeet (The Inflictor of Death), The Creator of Death, The Destroyer, The One who renders the living dead.

৭৭। ইয়া মাজিদু (হে অতি মহিমান্বিত) الْمَجِيدُ Al-Majeed (The Glorious One), The Most Glorious One, The One who is with perfect Power, High Status, Compassion, Generosity and Kindness.

৭৮। ইয়া মুকতাদিরু (হে মহাশক্তিধর আধার) الْمُقْتَدِرُ Al-Muqtadir (The All Authoritative One), The Powerful, The Dominant, The One with the perfect Power that nothing is withheld from Him.

৭৯। ইয়া মুকাদ্দিমু (হে الْمُقَدِّمُ Al-Muqaddim (The Expediting One), The Expediter, The Promoter, The One who puts things in their head right places. He makes ahead what He wills and delays what He wills.

৮০। ইয়া মুয়াখ্খিরু (الْمُؤَخِّرُ-Al-Mu’akhkhir-The Procrastinator, The Delayer, the Retarder, The One who puts things in their right places. He makes ahead what He wills and delays what He wills 

৮১। ইয়া মুতা’য়ালী الْمُتَعَالِي (Al-Muta’ali) The Extremely Exalted One, The Most Exalted, The High Exalted, The One who is clear from the attributes of the creation.

৮২। ইয়া মুনতাকিমু (হে প্রতিশোধ গ্রহণকারী) الْمُنْتَقِمُ Al-Muntaqim (The Retaliator), The Avenger, The One who victoriously prevails over His enemies and punishes them for their sins. It may mean the One who destroys them.

৮৩। ইয়া মালিকালমুলকি (হে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী) مَالِكُ الْمُلْكِ Maalik-ul-Mulk (The Eternal Possessor of Sovereignty), The One who controls the Dominion and gives dominion to whoever He willed.

৮৪। ইয়া মুকছিতু (হে ন্যায়পরায়ণ) الْمُقْسِطُ Al-Muqsit (The Just One), The Equitable, The One who is Just in His 

৮৫। ইয়া মুগনিউ (হে উন্নতি সাধনকারী, সবকিছুর দাতা) الْمُغْنِي Al-Mughni (The Bestower of Sufficiency) The Enricher, The One who satisfies the necessities of the creatures.

৮৬। ইয়া মানিউ (হে রক্ষাকারী) اَلْمَانِعُ Al-Maani’ (The Preventer), The Withholder.

৮৭। ইয়া নাফিউ (হে সুফল দানকারী) النَّافِعُ An-Naafi’ (The Bestower of Benefits), The Propitious, The One who makes harm reach to whoever He willed and benefit to whoever He willed.

৮৮। ইয়া নুরু (হে জ্যোতির্ময়) النُّورُ An-Noor (The Prime Light), The Light, The One who guides. 

৮৯। ইয়া ওয়াহ্ বু (হে পুরস্কার দানকারী) الْوَهَّابُ Al-Wahhab (The Supreme Bestower), The One who is Generous in giving plenty without any return. He is everything that benefits whether Halal or Haram.

৯০।?ইয়া ওয়াসিউ الْوَاسِعُ Al-Waasi’ (The All-Pervading One), The Vast, The All-Embracing, The Knowledgeable.

৯১। ইয়া ওয়াদুদু (হে প্রিয় বন্ধু) الْوَدُودُ Al-Wadud (The Loving One) The One who loves His believing slaves and His believing slaves love Him. His love to His slaves is His Will to be merciful to them and praise them

৯২।ইয়া ইয়া ওয়াকিলু الْوَكِيلُ Al-Wakeel (The Universal Trustee), The Trustee, The One who gives the satisfaction and is relied upon.

৯৩। ইয়া ওয়াহিদু (হে অদ্বিতীয়) الْواحِدُ Al-Waahid (The Only One) The Unique, The One, The One without a partner. 

৯৪। ইয়া ওয়ারিসু (হে স্বত্ত্বাধিকারী) الْوَارِثُ Al-Waaris (The Eternal Inheritor) The Heir, The One whose. 

৯৫। ইয়া ওয়ালিউ (হে সাহায্যকারী বন্ধু) الْوَلِيُّ Al-Waliyy (The Protecting Associate) The Protecting Friend, The Supporter.

৯৬। ইয়া ওয়াজিদু (হে চিরস্থায়ী) الْوَاجِدُ AL-WAAJID (The Perceiver) The Finder, the Unfailing

৯৭। ইয়া মাজিদু (হে মহান) الْمَاجِدُ AL-MAAJID

(The Illustrious, the Magnificent) The Glorious, He who is Most Glorious.

৯৮। ইয়া ওয়ালি (হে অনুগ্রহকারী) الْوَالِي AL-WAALI (The Governor, The Patron) The One who owns things and manages them.

৯৯। ইয়া হাদিউ (হে পথ প্রদর্শক) الْهَادِي Al-Haadi-The Provider of Guidance, The Guide, The One whom with His Guidance His believers were guided, and with His Guidance the living beings have been guided to what is beneficial for them and protected from what is harmful to them)

সংগ্রহেঃ মোহাম্মদ আব্দুল মতিন

নাস্তিকদের ধর্মকথা

বিজ্ঞানের যতগুলো শাখা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিষ্ময়কর শাখা হচ্ছে মহাকাশ বিজ্ঞান। মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতিটি কথা ও আবিষ্কার আমাদেরকে কৌতুহলী করে তোলে। মহাকাশ বিজ্ঞানের গ্রহ-উপগ্রহ, সৌ্রজগৎ, ছায়াপথ, নক্ষত্র নিয়ে মহাবিশ্বের অবাক করা সাতটি ফ্যাক্টস্ রয়েছে। এই মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রতিদান দিবস সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র কুরআনের ৭৮ নম্বর সূরা আন-নাবা’র ১২,১৩,৩৭,৩৮ ও ৩৯ নম্বর আয়াতে বলেন; 

আর আমি তোমাদের উপরে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ (১২)। আর আমি সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল একটি প্রদীপ (১৩)। যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, পরম করুণাময়। তারা তাঁর সামনে কথা বলার সামর্থ্য রাখবে না (৩৭)। সেদিন রূহ* ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন সে ছাড়া অন্যরা কোন কথা বলবে না। আর সে সঠিক কথাই বলবে (৩৮)। ঐ দিনটি সত্য। অতএব যে চায়, সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক (৩৯)।

মহাকাশ বিজ্ঞানের ৭টি ফ্যাক্টস্ এর মধ্যে সপ্তম ফ্যাক্টটি হলো:  মহাবিশ্বে প্রায় দশ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে। দশ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির একটির নাম মিল্কিওয়ে। মিল্কিওয়েতে ছোট বড় সব মিলিয়ে আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন নক্ষত্র আছে (আরেকটা হিসাব বলছে ১০০ বিলিয়ন)। এই ২০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের একটির নাম সূর্য। সূ্র্যের ভর হচ্ছে ২০০০ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। পৃথিবীর ভর থেকে যা ৩০০,০০০ গুণ বেশি। যদিও সূ্র্যের বেশিরভাগ অংশই তৈরী মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা দুটি গ্যাস হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন দিয়ে সূর্যের আছে ৮ টি গ্রহ। এই ৮ টি গ্রহের একটি হল পৃথিবী। অনুমান করা হয় পৃথিবীতে এক ট্রিলিয়ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এদের মধ্যে একটি প্রজাতি মানুষ জাতি। 

২০২০ সালের এক হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা  মাত্র ৭.৭ বিলিয়ন। এই মানুষের মধ্যে কিছু কিছু অবিশ্বাসী মানুষ রয়েছে। যাদেরকে নাস্তিক বলা হয়। আবার কিছু কিছু মুসলমাননামধারী নাস্তিকও রয়েছে। যাদেরকে কখনো রোযা- নামাযে দেখা যায়না। এই নাস্তিকরা তাদের ফেসবুক, ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন পন্থায় পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কিছু কিছু অংশ বিকৃতভাবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষদেরকে বিভ্রান্তি করে। আমরা অনেকেই ভালভাবে না পড়ে না বুঝে লাইক ও শেয়ার দিয়ে যাচ্ছি। নাস্তিকদের এই ধর্মকথা থেকে আমাদেরকে সাবধানঅবলম্বন করতে হবে।

এই মহাবিশ্ব এবং সাত আসমান ও জমিনে আল্লাহ্ তা’আলার সৃষ্ট ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন …………মাকলুকাত  ও সবকিছু তাদের রবের প্রশংসায় মশগুল। কিছু সংখ্যক  মানুষ আল্লাহকে অবিশ্বাস করলে তাঁর কিছুই যায়-আসেনা। কিন্তু আমরা যারা বিশ্বাসী তাঁরা অবশ্যই আল্লাহ্ তা’আলা ও সৃষ্টির সেরা মানব রাসূলুল্লাহ (সা.) বিধি বিধান অনুযায়ী চলতে হবে এবং আমাদের রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে দুনিয়ার ফেৎনা থেকে হেফাজত করে ইসলামী জীবনবিধান অনুযায়ী চলার তৌফিক দান করুক। আমিন।

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

পবিত্র কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের মিল দেখলে অনেক নাস্তিকের গাত্রদাহ শুরু হয়। তারা কুরআন ও হাদিসের সাথে বিজ্ঞানের অমিল খোঁজার আপ্রাণ চেস্টা অব্যাহত রাখে। এক নাস্তিক ব্লগে লিখেছে আধুনিক এটমিক (পরমাণু) তত্ত্বের জনক গ্রীক দার্শনিক না কি স্বয়ং আল্লাহ? (নাউযুবিল্লাহ)

তিনি আরো লিখেছেন, আজকের বিজ্ঞান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোন আবিষ্কার বা কোন জ্ঞানের কাছাকাছি কিছূ বা অংশত কিছু সরাসরি বা ঘুরিয়ে পেচিয়ে যদি কোন ধর্মগ্রন্থে মিলেও যায়- তারপরেও তাকে আজকের বিজ্ঞানের সাথে মেলানো যাবে না, কারণ বিজ্ঞান হতে গেলে একটা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি লাগে। কোন ধর্মগ্রন্থের ঐ সব মিলকে বিজ্ঞান বলা যাবে না। (নাউযুবিল্লা)

পবিত্র আল কুরআনের ৩৪ নম্বর সূরা ‘সাবা’ এর তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা পরিস্কারভাবে অণু-পরমাণুর কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে- : وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ ۖ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ ۖ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَٰلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِين আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না।’ বল, ‘অবশ্যই, আমার রবের কসম! যিনি গায়েব সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহ ও যমীনে অণু পরিমাণ কিংবা তদপেক্ষা ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, বরং সবই সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে,এই আয়াতের ভুল ধরতে যেয়ে ওই নাস্তিক (ইউছুফ আলী, পিকথাল ও শাকির) এর ইংরেজী অনুবাদ খুঁজতে গিয়ে দেখেন যে, তিনজনের অনুবাদেই দেখা যায় “atom” শব্দটি বিদ্যমান।

YUSUFALI: The Unbelievers say, “Never to us will come the Hour”: Say, “Nay! but most surely, by my Lord, it will come upon you;- by Him Who knows the unseen,- from Whom is not hidden the least little atom in the heavens or on earth: Nor is there anything less than that, or greater, but is in the Record Perspicuous:

PICKTHAL: Those who disbelieve say: The Hour will never come unto us. Say: Nay, by my Lord, but it is coming unto you surely. (He is) the Knower of the Unseen. Not an atom‘s weight, or less than that or greater, escapeth Him in the heavens or in the earth, but it is in a clear Record,

SHAKIR: And those who disbelieve say: The hour shall not come upon us. Say: Yea! by my Lord, the Knower of the unseen, it shall certainly come upon you; not the weight of an atom becomes absent from Him, in the heavens or in the earth, and neither less than that nor greater, but (all) is in a clear book.

এবারে কি করা যায়? আবারো ইউছুফ আলী, পিকথাল ও শাকির এর সূরা ‘আল-যিলযাল’ অনুবাদে দেখেন:099.007YUSUFALI: Then shall anyone who has done an atom‘s weight of good, see it!
PICKTHAL: And whoso doeth good an atom‘s weight will see it then,SHAKIR: So. he who has done an atom‘s weight of good shall see it099.008YUSUFALI: And anyone who has done an atom‘s weight of evil, shall see it.PICKTHAL: And whoso doeth ill an atom‘s weight will see it then.SHAKIR: And he who has done an atom‘s weight of evil shall see it.

ভালো মুশকিলেই পড়ে গেল! অণু পরিমাণ, পরমাণু বা এটমের ওজনের সমান, রেণু পরিমাণ, ধুলিকণার সমান- কোনটা ঠিক? নাকি সবই? সবগুলো আয়াত ভালো করে পড়ার চেস্টা করলেন। পড়ে মনে হলো- সব অনুবাদই সঠিক। সবগুলোকে সঠিক অবশ্য কেবল তখনই বলা যাবে যখন مِثْقَالُ ذَرَّةٍ শব্দটিকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বা সামান্য পরিমাণে এরকম অর্থে ধরা হবে। অর্থাৎ আয়াতসমূহে উল্লেখিত ‘পরমাণু’ বা ‘অণু’ পরিমাণ মানে পদার্থের গঠন উপাদান “অণু” বা “পরমাণু” বা ‘ধুলি কণা সম’ মানে রাস্তাঘাটের ধুলাবালিও নয়- এটা মানে একদম ক্ষুদ্র পরিমাণ।

এভাবে ধরলে কোন সমস্যাই থাকে না।তাই ভাবলো অভিধানে مِثْقَالُ ذَرَّةٍ শব্দটির কি অর্থ করা হয়েছে? হাতের কাছে ছিল ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান এর “আধুনিক আরবী-বাংলা অভিধান” বইটা, সেখানে দেখলেন مِثْقَالُ শব্দের অর্থ করা হয়েছে: পরিমাণ বা ওজন, বাটখারা, সামান্য পরিমাণ, বিন্দুমাত্র, রত্তি। আর, ذَرَّة এর অর্থ করা হয়েছে- বিন্দু (ডট), অতি ক্ষুদ্র, শস্যদানা, ক্ষুদ্র কণিকা, বালি কণা। এবং এই ذَرَّة শব্দের অর্থ কখনো কখনো পরমাণুও করা হয়েছে। এত প্রমাণের পরেও ওই নাস্তিক লিখেছেন- যদি ধরে নিই যে- সুরা সাবা’র ৩ নং আয়াতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর কথাই বলা হয়েছে, তাহলেও কিছু কথা থেকে যায়:

গ্রীক দর্শনে এটম এর আবির্ভাব। গ্রীক দার্শনিক Leucippus, তার ছাত্র Democritus জানান – বস্তুজগৎ মাত্রই ক্ষুদ্রতম কণিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্র কণিকার নাম এটম বা পরমাণু বা অবিভাজ্য কণিকা।
ওই সকল নাস্তিকদের উদ্দেশ্যে বলছি; গ্রীক দার্শনিককে সৃষ্টি করেছেন কে? আল্লাহ্! পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন কে? আল্লাহ্! সেই আল্লাহ্ তা’আলাই পবিত্র কুরআনের ৩৬ নম্বর সুরা ‘ইয়া-সীন’ এর দ্বিতীয় আয়াতে বলেন, وَالْقُرْآنِ الْحَكِيم বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ। পবিত্র কুরআনকে তিনি বিজ্ঞানময় কুরআন বলেছেন এবং পরমাণু বিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান, ভ্রুণতত্ত্ব, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ সমস্ত উদ্ভাবন ও সৃষ্টি রহস্য পবিত্র কুআনে। নিহিত রয়েছে।

এত কিছুর পরেও যদি পরিষ্কার না হয়- তাহলে আর কিছুই করার নেই। চোখের ঠুলি সরাতে এবং অন্তরের কালিমা গুছাতে যদি কেউ না চায় – অন্যের কি সাধ্য?যারা বিবেক ব্যবহার করে আর যারা বিবেক ব্যবহার করে না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলছেন :‎‪…قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَ الْبَصِيْرُ…‬…‘বল, ‘অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান?’.‎إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِيْنَ لَا يَعْقِلُوْنَ‘আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব সেই বধির ও মূক যারা কিছুই উপলব্ধি করে না।’আরও বলা হয়েছে :‎وَ مَنْ كَانَ فِيْ هٰذِه أَعْمَى فَهُوَ فِى الْآخِرَةِ أَعْمَى وَ أَضَلُّ سَبِيْلًا‘আর যে ব্যক্তি এখানে অন্ধ সে আখিরাতেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট।এমনকি তাদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বলা হয়েছে :‎‪…لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا وَ لَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِهَا وَ لَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِهَا أُولَائِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَائِكَ هُمُ الْغَافِلُوْنَ‬…‘তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে, তা দিয়ে দেখে না এবং তাদের কান আছে, তা দিয়ে শোনে না, এরাই পশুর ন্যায়, বরং তারা তার চেয়েও নিকৃষ্ট। তারাই গাফেল।মহান আল্লাহ্ বলছেন :‎‪…فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَ لكِنْ تَعْمَى الْقُلُوْبُ الَّتِيْ فِي الصُّدُوْرِ‬…‘বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।’

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

রাসূলুল্লাহ (সঃ)’র ৪০ হাদিস

হযরত আবুদ্দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইলমের কোন স্তর পর্যন্ত পৌঁছলে কেউ ফকীহ বা আলীম হতে পারে? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের বিষয়ে চল্লিশটি হাদিস হিফজ্ (মুখস্থ) করবে (এবং অপরকে তা পৌঁছাবে) রোজ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাকে ফকীহ বা আলীমরূপে উঠাবেন। এছাড়া কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী ও স্বাক্ষী হব।

-[সহিহ্ আল বুখারী ও মুসলিম]

(সিডনি প্রতিদিন এর পাঠকদের জন্য নিম্নে ৪০টি হাদিস প্রদান করা হলো। সহিহ্ আল বুখারী, মুসলিম, মিশকাত শরীফ, শমায়েলে তিরমিযি, আবু দাউদ, দুররে মনসুর ও তাফসীরে ইবনে কাছীর থেকে হাদিসগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে)

হাদিস নং: ১

ইমাম তিরমিজি (রহ.) এক হাদিসে মহান আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নাম উল্লেখ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, অর্থাৎ এক কম ১০০টি। যেই ব্যক্তি সেইগুলো অনুধাবন করবে ও সংরক্ষণ (মুখস্থ) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বেজোড় এবং বেজোড়কে ভালবাসেন।

-[সহিহ্ আল বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ২

আমিরুল মু’মিনিন উমার ইবনে খাত্তাব (রা:) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি- “সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিবাহ করার জন্য তার হিজরত সেজন্য বিবেচিত হবে-যে জন্য সে হিজরত করেছে।

-[সহিহ্ আল বুখারী:১, সহিহ্ মুসলিম:১৯০৭]

হাদিস নং: ৩

হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম)-বলেছেন, চারটি বদাভ্যাস যার মধ্যে রয়েছে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে তার একটি আছে, সে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।

(১) যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে খেয়ানত করে,

(২) যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে;

(৩) যখন অঙ্গীকার করে, ভঙ্গ করে এবং

(৪) যখন কারো সাথে কলহ্ করে, তখন অশালীন কথা বলে।

-[সহিহ্ আল বুখারী, মুসলিম]

হাদিস নং: ৪

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম) বলেছেন: “ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতে ঈমান রাখে, তার উচিত হয় উত্তম কথা বলা অথবা চুপ থাকা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতে ঈমান রাখে, তার উচিত আপন প্রতিবেশীর প্রতি সদয় হওয়া। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও আখেরাতে ঈমান রাখে, তার উচিত আপন অতিথির সম্মান করা।”

-[বুখারী:৬০১৭, মুসলিম:৪৭]

হাদিস নং: ৫

হযরত আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কারো নিকট শয়তান আসতে পারে এবং সে বলতে পারে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? ঐ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করতে করতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমাদের প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন ব্যাপারটি এ স্তরে পৌঁছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং বিরত হয়ে যায়।

-[সহিহ্ বুখারী]

হাদিস নং: ৬

আবু হুরায়রাহ (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-বলেছেন, ‘জুমু’আর দিনে মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতা এসে দাঁড়িয়ে যায় এবং যে ব্যক্তি প্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, তার নাম লিখে নেয়। অত:পর ক্রমান্বয়ে পরবর্তীদের নামও লিখে নেয়। ইমাম যখন বসে পড়েন তখন তারা এসব লেখা পুস্তিকা বন্ধ করে দেন এবং তারা মসজিদে এসে যিকর্ শুনতে থাকেন।’

-[সহিহ্ আল বুখারী]

হাদিস নং: ৭

আবু হুরায়রাহ (রা:) বলেন, রাসূলালুলাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-বলেছেন, আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি জিব্ রাঈল (‘আ:)-কে ডেকে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ওমুক বান্দাহকে ভালবাসেন, কাজেই তুমিও তাকে ভালবাস। তখন জিব্ রাঈল (‘আ:)-ও তাকে ভালবাসেন এবং জিব্ রাঈল (‘আ:) আকাশের অধিবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাহকে ভালবাসেন। কাজেই তোমরাও তাকে ভালবাস। তখন আকাশের অধিবাসীরা তাকে ভালবাসতে থাকে। অত:পর পৃথিবীতেও তাকে সম্মানিত করার ব্যবস্থা করা হয়।

-[সহিহ্ আল বুখারী]

হাদিস নং: ৮

আবু হুরায়রাহ (রা:) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাত রত অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ এ বলে দু’আ করতে থাকে, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দিন এবং হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করুন যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি সালাত ছেড়ে না দাঁড়ায় কিংবা তার উযু ভঙ্গ না হয়।’

-[সহিহ্ আল বুখারী]

হাদিস নং: ৯

আবু হুরায়রাহ (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-বলেছেন: যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতিত অন্য কোন ছায়া থাকবেনা, সেদিন আল্লাহ তা’আলা সাত প্রকার মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দিবেন।

(১) নায়পরায়ণ শাসক।

(২) যে যুবক আল্লাহর ইবাদতের ভিতর গড়ে উঠেছে।

(৩) যার অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সাথে।

(৪) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে দু’ব্যক্তি পরস্পর মহব্বত রাখে, উভয় একত্রিত হয় সেই মহব্বতের উপর আর পৃথক হয় সেই মহব্বতের উপর।

(৫) এমন ব্যক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী (অবৈধ মিলনের জন্য) আহব্বান জানিয়েছে। তখন সে বলেছে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।

(৬) যে ব্যক্তি গোপনে এমনভাবে সদকা করে যে, তার ডানহাত যা দান করেছে বামহাত তা জানতে পারে না।

(৭) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ হতে অশ্রু বের হয়।

-[সহিহ বুখারী]

হাদিস নং: ১০

আবু হুরায়রাহ (রা:) বলেন, রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহ পাক বলেছেন, আমি আমার নেক্কার বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি।

-[সহিহ বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ১১

হযরত আনাস (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও অন্য সবার চেয়ে প্রিয়তম না হই।

-[সহিহ্ আল বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ১২

হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, যার মধ্যে তিনটি বিষয় থাকবে, তদ্বারা সে ঈমানের সুমিষ্ট স্বাদ লাভ করতে পারবে। (১) তার কাছে আল্লাহ ও রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয়তম হবে। (২) যে অন্য কাউকে ভালবাসবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ।(৩) যে কুফরী থেকে মুক্তি লাভের পর কুফ্ রীতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করে।

-[বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ১৩

হযরত আনাস (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বল্লেন, হে বৎস! তুমি যদি সারাদিন এইভাবে কাটিয়ে দিতে পার যে, তোমার মনে কারো প্রতি কোনরূপ হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তবে তাই করো। তারপর তিনি বল্লেন, বৎস! এটা আমার সুন্নতের শামিল এবং যে আমার সুন্নতকে ভালবাসে সে আমাকেই ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসে সে বেহেশতে আমার সাথেই থাকবে।

-[তিরমিযী]

হাদিস নং: ১৪

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে যেন আমাকেই দেখল। কারণ, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারেনা।

-[সহিহ্ আল বুখারী, সহিহ্ মুসলিম, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, দারেমী, জামেউস সগীর]

হাদিস নং: ১৫

আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমত করেছি; কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তিনি কখনো আমার কোন কাজে ‘উহ’ শব্দটি পর্যন্ত করেননি। আমি করেছি এমন কোন কাজের ব্যপারে তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করেছি? আর না করার ব্যাপারেও তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করোনি? চরিত্র মাধুর্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। কোন রেশমী কাপড় বা কোন বিশুদ্ধ রেশম বা অন্য কোন এমন নরম জিনিস স্পর্শ করিনি, যা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাতের তালুর চেয়ে নরম। আমি এমন কোন মিশক বা আতরের সুবাস পাইনি, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘামের ঘ্রাণ হতে অধিক সুগন্ধিময়।

-[শামায়েলে তিরমিযি, হা/২৬৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৬৪; দারেমী, হা/৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩০৫৭;]

হাদিস নং: ১৬

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’য়ালা ফরমাইতেছেন, আমি বান্দার সহিত ঐরূপ ব্যবহার করিয়া থাকি যেইরূপ বান্দা আমার সম্বন্ধে ধারণা করিয়া থাকে। যখন সে আমাকে স্মরণ করে আমি তখন তাহার সঙ্গে থাকি। আর যখন সে আমাকে অন্তরে অন্তরে ডাকিতে থাকে আমিও তাহাকে অন্তরে অন্তরে স্মরণ করিয়া থাকি আবার যদি সে কোন মজলিশে আমার জিকির করে তবে আমি তাহাদের মজলিশ হইতে উত্তম (ফেরেশতাগের) মজলিশে তাহার আলোচনা করিয়া থাকি। বান্দা যদি আমার দিকে অর্ধহাত অগ্রসর হয় তখন আমি তাহার দিকে একহাত অগ্রসর হই। আর যখন আমার দিকে একহাত অগ্রসর হয় আমি তখন তাহার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর সে আমার দিকে হাঁটিয়া হাঁটিয়া আসিতে থাকিলে আমি তাহার দিকে দৌড়াইয়া আসিতে থাকি।

-[ সহিহ্ আল বুখারী, মুসলিম, তিরমিযি, নেছায়ী, এবনে মাজাহ্]

হাদিস নং: ১৭

হযরত আবু দারদা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার সাহাবীগণে বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে এমন একটি আমলের কথা বলিবনা? যাহা যাবতীয় আমল হইতে উত্তম এবং তোমাদের মালিকের নিকট সবচেয়ে বেশী পবিত্র এবং তোমাদিগকে সবচেয়ে বেশী মর্যাদাদানকারী এবং স্বর্ণ, রৌপ্য আল্লাহর রাহে খরচ করিবার চেয়েও উত্তম। আর শত্রুর সহিত জিহাদ করিবার সময় পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করিবার চেয়েও উত্তম। সাহাবীগণ বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ অবশ্যই বলুন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বলিলেন, তাহা হইল আল্লাহর জিকির।

হাদিস নং: ১৮

হযরত আবু হুরায়রাহ্ ও হযরত আবু ছায়ীদ (রা:) দুইজনই স্বাক্ষ্য দিতেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমাইয়াছেন, যেই জামাত আল্লাহর জিকিরে লিপ্ত হয়, ফেরেশতাগণ চতুর্দিক দিয়ে তাহাদিগকে বেষ্টন করিয়া ফেলে এবং আল্লাহর রহমত তাহাদিগকে আচ্ছন্ন করিয়া লয় এবং তাহাদের উপর ছাকিনা ( শান্তি ও বিশেষ রহমত) অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তা’য়ালা আপন মজলিশে গর্বসহকারে তাহাদের আলোচনা করিয়া থাকেন।

-[ আহমদ – মুসলিম]

হাদিস নং: ১৯

হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা:) বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন: যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একশ’বার পড়বে ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ (অর্থাৎ – আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- কিয়ামতের দিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বাক্য নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবেনা, সে ব্যক্তি ব্যতীত যে এর সমপরিমাণ বা এর চেয়ে বেশী পড়বে।

-[বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ২০

হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা:) বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন: সুবহা-নাল্লা-হ [আল্লাহ পবিত্র], ওয়াল হাম্ দুলিল্লা-হ [আল্লাহর জন্য প্রশংসা], ওয়ালা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই], ওয়াল্লা-হু আকবর [আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান] বলা, আমার কাছে সমগ্র বিশ্ব অপেক্ষাও বেশী প্রিয়।

-বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ২১

হযরত ওসমান (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমাইয়াছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ, যিনি কোরআন শরীফ স্বয়ং শিখিয়াছেন এবং অপরকে শিক্ষা দিয়াছেন।

-[বোখারী]

হাদিস নং: ২২

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেন, এলমে কোরআনে পারদর্শী ব্যক্তি ঐসব ফেরেশতাদের শ্রেণীভুক্ত, যাহারা মহা পুণ্যবান ও (আল্লাহর হুকুমে) লেখার কাজে লিপ্ত। আর যে ব্যক্তি কষ্টসাধ্য করিয়া ঠেকিয়া ঠেকিয়া কোরআন পড়ে সে দ্বিগুন সওয়াব প্রাপ্ত হইবে।

-[বোখারী]

হাদিস নং: ২৩

হযরত আবু হোরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন শরীফের একটি আয়াত মনোযোগ সহকারে শুনিবে তাহার জন্য দ্বিগুন সওয়াব লেখা হইবে। আর যে ব্যক্তি স্বয়ং তেলাওয়াত করিবে কেয়ামতের দিন তাহার জন্য নূর হইবে।

-[আহমদ-]

হাদিস নং:২৪

হযরত ইবনে ওমর (রা:) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমাইয়াছেন, একমাত্র দুই ব্যক্তির উপর ঈর্ষা করা যাইতে পারে। এক ব্যক্তি যাহাকে আল্লাহ পাক কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষমতা দান করিয়াছেন এবং সে দিন-রাত তেলাওয়াতে লিপ্ত থাকে। দ্বিতীয় ঐ ব্যক্তি যাহাকে আল্লাহ পাক প্রচুর ধন-ধৌলত দান করিয়াছেন এবং সে দিন-রাত উহা হইতে (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করিয়া থাকেন।

-[বুখারী]

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, যাহার অন্তরে কোরআনের কোন শিক্ষা নাই উহা বিরান ঘর সমতুল্য।

-[তিরমিজি]

বিরান ঘরের সহিত তুলনার অর্থ এই যে, জনমানবহীন শূন্য ঘরে যতসব ভূত পেত্নী আশ্রয় লয়। তদরূপ কোরআন বিহীন অন্তরকেও শয়তান দখল করিয়া লয়।

হযরত আবু হোরায়রাহ (রা:) বলেন, যেই ঘরে কোরআন তেলাওয়াত করা হয় সেই ঘরের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বরকত দেখা দেয় ও তথায় ফেরেশতা অবতরণ করেন এবং সেই ঘর হইতে শয়তান দূরে সরিয়া যায়। পক্ষান্তরে যেই ঘরে তেলাওয়াত হয়না সেই ঘর হইতে ফেরেশতা চলিয়া যায় এবং উহাতে শয়তান ঢুকিয়া পড়ে। অন্য হাদিসে আছে, শূন্য ঘর উহাকে বলে যেখানে কোরআন তেলাওয়াত হয়না।

হাদিস নং: ২৫

হযরত ওমর (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করিয়াছেন, আল্লাহ তা’য়ালা এ কোরআনে পাকের দরুন অনেক লোককে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। আবার অনেককে বেইজ্জত ও অপদস্ত করেন। অর্থাৎ যাহারা কোরআনে বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং আমল করেন, আল্লাহ পাক দুনিয়া ও আখিরাতে তাহাদিগকে সম্মান দান করেন। আর যাহারা উহার উপর আমল করেনা তাহাদিগকে অপদস্ত ও লাঞ্চিত করিয়া থাকেন।

-[মুসলিম]

হাদিস নং: ২৬

হযরত ওসমান (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যখনই কোন মুসলমানের নিকট ফরজ নামাযের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়, আর সে উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করে। উত্তমরূপে তার বিনয় ও তার রুকু (ও সিজদা) সমপন্ন করে তার সেই নামায তার পূর্বেকার সকল গুনাহর জন্য প্রায়শ্চিত্ত হয়ে যায়, যতক্ষন পর্যন্ত না সে কবীরা গুনাহ করে। আর এটা সর্বাদাই হতে থাকে।

[মুসলিম]

হাদিস নং:২৭

হযরত আবু মূসা আশআরী (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, নামাযের সওয়াবের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিই সকলের তুলনায় বেশী সওয়াবের অধিকারী, যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী দূর থেকে হেঁটে আসে এবং যে ব্যক্তি নামাযের জন্য অপেক্ষা করে ইমামের সাথে তা আদায় করার জন্য। যেই ব্যক্তি একাকী নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে সেই ব্যক্তির সওয়াব হতে ঐ ব্যক্তি বেশীগুন সওয়াবের অধিকারী।

-[বুখারী, মুসলিম]

হাদিস নং: ২৮

হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে একদল ফিরিশতা এসে থাকে রাত্রে। আর একদল দিনে এবং উভয় দল মিলিত হয় ফজরের নামাযে এবং আছরের নামাযে। অত:পর যারা তোমাদের নিকট রাত্রি কাটিয়েছিলেন তারা আল্লাহর নিকট উর্ধ্বে চলে যান। তখন প্রতিপালক তাদেরকে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। অথছ তিনি তাদের চেয়ে এ ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত আছেন। তোমরা আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় রেখে এলে? তাঁরা বলেন, আমরা তাদেরকে নামাযরত অবস্থায় রেখে এসেছি এবং আমরা যখন তাদের নিকট পৌঁছেছি তখনও তারা নামাযরত অবস্থায় ছিল।

-[সহিহ্ আল বুখারী ও মুসলিম]

হাদিস নং: ২৯

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ পাক ফরমাইয়াছেন, আপনার উম্মতের উপর আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করিয়াছি এবং আমি এই প্রতিজ্ঞা করিয়াছি যে, যে ব্যক্তি এই নামায সমূকে গুরুত্ব সহকারে সময়মত আদায় করিবে তাহাকে আপন জিম্মাদারীতে বেহেশতে প্রবেশ করাইব। আর যে ব্যক্তি নামাযের প্রতি যত্নবান হইলনা তাহার ব্যাপারে আমার কোন জিম্মাদারী নাই।

-[দুররে মনসুর]

অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এহ্ তেমামের সহিত ও গুরুত্ব সহকারে নামায আদায় করিবে আল্লাহ তা’য়ালা তাহাকে পাঁচ প্রকারে সম্মানিত করিবেন।

(১) রুজী রোজগার ও জীবনের সংকীর্ণতা হইতে তাহাকে মুক্ত করিবেন।

(২) তাহার উপর হইতে কবরের আজাব হটাইয়া দিবেন।

(৩) ক্বেয়ামতের দিন তাহার আমলনামা তাহার ডান হাতে দান করিবেন।

(৪) সে ব্যক্তি পুলছেরাতের উপর দিয়ে বিদ্যুতের মত পার হইয়া যাইবে।

(৫) বিনা হিসাবে সে বেহেশতে প্রবেশ করিবে।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নামাযে শৈথিল্য প্রদর্শন করে, আল্লাহ তা’য়ালা তাহাকে পনের প্রকার শাস্তি প্রদান করিবেন।

হাদিস নং: ৩০

হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তি মসজিদে ঢুকে নামায পড়লেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন মসজিদের এক পাশে উপবিষ্ট ছিলেন। লোকটি নামায পড়ে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে তাঁকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালামের জবাব দিয়ে বল্লেন, যাও গিয়ে আবার নামায পড়। তোমার নামায় হয়নি। লোকটি পুন:রায় নামায পড়ে তাঁর নিকট এসে তাঁকে সালাম দিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালামের জবাব দিয়ে বল্লেন, যাও আবার নামায পড়। তোমার নামায হয়নি। এভাবে তৃতীয়বার কিংবা চতুর্থবারের পর লোকটি বল্ল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আমাকে নামাযের রীতি শিখিয়ে দিন। তখন তিনি বল্লেন, যখন তুমি নামাযে দাঁড়ানোর ইচ্ছা করবে, প্রথমে উত্তমরূপে অজু করে কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়াবে এবং তাকবীরে তাহরীমা বলবে। তারপর কুরআনে পাকের যা তোমার পক্ষে সহজ হয় তা পাঠ করবে। তারপর রুকু করবে এবং রুকুতে স্থির থাকবে। তারপর মাথা উঠাবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এরপর সিজদাহ করবে এবং সিজদায় স্থির থাকবে। এরপর মাথা উঠাবে এবং স্থির হয়ে বসবে। তারপর (দ্বিতীয়) সিজদাহ করবে এবং সিজদায় স্থির থাকবে।এরপর মাথা উঠাবে এবং স্থির হয়ে বসবে। বর্নানান্তরে রয়েছে, অতপ:র মাথা উঠাবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অত:পর তোমার সমস্ত নামাযেই এরূপ করবে।

-[সহিহ্ বুখারী, মুসলিম]

হাদিস নং: ৩১

ইবনে উমার (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাঁধ ধরে বল্লেন: দুনিয়াতে অপরিচিত অথবা ভ্রমণকারীর মুসাফিরের মত হয়ে যাও।

ইবনে উমার (রা:) বলতেন, সন্ধ্যা বেলা উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা করোনা। আর সকাল উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করোনা। অসুস্থতার জন্য সুস্থতাকে কাজে লাগাও আর মৃত্যুর জন্য জীবিত অবস্থা থেকে (পাথেয়) সংগ্রহ করে নাও।

-[বুখারী]

হাদিস নং: ৩২

হযরত আবু হুরায়রাহ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, মানুষ মারা যাওয়ার সাথে সাথে তার আমল ও তার পূণ্য বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিনটি আমল (ও পূণ্য) বন্ধ হয়না। যথা: (১) সাদাকায়ে জারিয়া, (২) ইলম-যদ্বারা (মানুষের) উপকার হয়ে থাকে এবং (৩) নেক্কার সন্তান- যে তার জন্য দু’য়া করে।

-[মুসলিম]

হাদিস নং: ৩৩

হযরত ওসমান (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে ফারেগ হওয়ার পর সেখানে দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকদেরকে বলতেন, তোমাদের ভ্রাতার জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফেরাত কামনা কর এবং দু’য়া কর যেন আল্লাহ এখন তাকে (ফেরেশতাদের প্রশ্নের জবাবে) ঈমানের উপর অটল রাখেন, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।

-[আবু দাউদ]

হাদিস নং:৩৪

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: বান্দাকে কবরে রাখার পর তার সঙ্গী-সাথীগণ যখন তথা হতে ফিরে যেতে থাকে, তখন সে তাদের পায়ের চলার শব্দ শুনতে পায়। এমন সময় তাঁর নিকট দুইজন ফেরেশতা আগমন করে এবং তাকে উঠিয়ে বসান। অত:পর মুহাম্মাদ (স:)-এর প্রতি ইশারা করে তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি দুনিয়ায় এই ব্যক্তি সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করতে? তখন মু’মিন ব্যক্তি বলে, আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তখন তাকে বলা হয় এই দেখ, তুমি দোযখী হলে তোমার জন্য সেই দোজখের স্থান দেখে নাও। আল্লাহ পাক তোমার সেই স্থানকে বেহেশতের স্থানের সাথে বদলে দিয়েছেন। তখন সে (বেহেশত ও দোযখের) উভয় স্থানই দেখতে পায়। কিন্তু মুনাফিক ও কাফির তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে বলা হবে তুমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে কি ধারণা রাখতে? তখন সে বলে তা আমি জানিনা। মানুষ যা বলত আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হয় (বুঝা গেল) তুমি তোমার বিবেক দ্বারাও বোঝার চেস্টা করনি এবং কিতাবাদি পড়েও জানার ইচ্ছা করনি। অত:পর তাকে লৌহ মুন্ডর দ্বারা কঠিনভাবে শাস্তি দেয়া হতে থাকে। এতে সে এমন এক চিৎকার দেয়, যা শুধু জ্বিন ও মানব ছাড়া নিকটবর্তী সকলেই শুনতে পায়।

-[ বুখারী, মুসলিম, শব্দ গুলো বুখারীর]

হাদিস নং: ৩৫

আমিরুল মু’মিনিন হযরত উসমান (রা:) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি কোন ক্ববরের নিকট দাঁড়ালে ক্রন্দন শুরু করতেন। তাতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। একদা তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হযরত! আপনি বেহেশত ও দোযখের প্রসঙ্গ উঠলে তখন তো এরূপ ক্রন্দন করেন না, অথচ কবরের কাছে এলে কাঁদেন (এরূপ কাঁদার কারণ কি)? তিনি প্রত্যুত্তরে বল্লেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আখিরাতের মন্জীলসমূহের মধ্যে ক্ববর হলো প্রথম মন্জীল। কেউ যদি এই মন্জীলে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে পরের মন্জীলসমূহ অতিক্রম করা তার জন্য সহজসাধ্য হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি এ মন্জীলে মুক্তি লাভ করতে পারলনা, তার জন্য পরবর্তী মন্জীলসমূহ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অত:পর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটাও বলেছেন, ক্ববর থেকে বেশী কঠিন কোন ভয়ঙ্কর জায়গা আমি কক্ষনো দেখিনি।

[সহীহ্ তিরমিযী]

হাদিস নং: ৩৬

হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানগুলোকে শিকলবন্দী করে দেয়া হয়।

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন: যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ‘ইবাদ করে, তার পিছনের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে।

[সহিহ্ বুখারী]

হাদিস নং: ৩৭

হযরত মু’আয (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে অসিয়ত করেছেন:

(১) তোমাকে যদি হত্যাও করা হয় বা জ্বলিয়ে দেয়া হয় তবুও আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করোনা,

(২) পিতা-মাতার অবাধ্য হয়োনা যদিও তাঁরা তোমাকে পরিবার-পরিজন ও ধনমাল থেকে সরে যেতে আদেশ দেন,

(৩) স্বেচ্ছায় ফরয নামায তরক করোনা, কেননা যে ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামায তরক করে তার ব্যাপারে আল্লাহর কোন দয়িত্ব থাকেনা,

(৪) মদ পান করোনা, কারণ তা সর্বপ্রকার অশ্লীলতার উৎস,

(৫) পাপাচার বর্জন কর, কেননা পাপের কারণে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নেমে আসে,

(৬) ময়দানে জেহাদ থেকে পলায়ন করোনা যদিও সবাই নিহত হয়ে যায়,

(৭) মহামারী লাগলে (পূর্ব থেকে) যদি তুমি সেখানে থাক তা হলে সেখানে অবস্থান কর,

(৮) তোমা সামর্থ্য পরিমাণ পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যায় কর,

(৯) তাদের সদাচার শিক্ষা দান কর এবং শাসন করা থেকে হাত গুটিয়ে রেখনা এবং

(১০) তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাও।

-[আহমদ]

হাদিস নং: ৩৮

হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ পরিমাণে (অর্থাৎ অত্যাধিক পরিমাণে) সওয়াব পেতে ইচ্ছা করে, সে যখন আমার উপর এবং আমার পরিবারের উপর দরুদ পাঠ করে, তখন যেন এটা পাঠ করে, “আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মীয়ি ওয়া আযওয়াজিহি উম্মাহতিল মু’মীনা ওয়াল যুররিইয়্যাতিহি ওয়া আহলে বাইতিহি কামা ছাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”। অর্থাৎ হে আল্লাহ! উম্মী নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর স্ত্রীগণ যারা মু’মিনদের জননী। তাঁর বংশধর ও পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করুন। যেভাবে আপনি ইব্রাহিম (আ:) এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন।

-[আবু দাউদ]

হাদিস নং: ৩৯

সায়িদ ইবনে ইয়াজিদ (রা:) বলেন, একদা আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলেন। এরপর তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু’আ করলেন। তারপর তিনি ওজু করলেন। আমি তাঁর ওজুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম এবং তাঁর পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সহসা তাঁর দু’কাঁধের মধ্যস্থ মোহরে নবুওয়াতের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে, যা দেখতে পাখির (কবুতরের) ডিমের মতো।

-[সহিহ্ বুখারী, সহিহ্ মুসলিম, মুজামুল কাবীর, শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত, শামায়েলে তিরমিযি]

{মোহরে নবুওয়াত হলো রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দু’কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি গোশতের টুকরা। এটি ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের নিদর্শন; আর এ নিদর্শনের কথা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহেও বর্ণিত ছিল।}

হাদিস নং: ৪০

আনাস ইবনে মালিক (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি শেষবারের মতো দর্শন করলাম, যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত সোমবার ফযরের নামাযের সময়; তখন তিনি পর্দা তুলে উম্মতের সালাতের অবস্থা দেখছিলেন। আমি তাঁর চেহারায় যেন আল-কুরআনের পৃষ্ঠা জ্বলজ্বল করতে দেখছিলাম। লোকেরা আবু বকর (রা:) এর পিছনে সালাত আদায় করছিল। (লোকেরা সরে দাঁড়াতে চাইল) কিন্তু তিনি ইঙ্গিতে সকলকে স্থির থাকার নির্দেশ দিলেন এবং আবু বকর (রা:) ইমামতি করলেন। সেদিন শেষ বেলায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। [১]

-[সহিহ্ বুখারী, সহিহ্ মুসলিম, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, সহিহ্ ইবনে হিব্বান, বায়হকী, শারহুস সুন্নাহ, মুসনাদে হুমাইদী, শামায়েলে তিরমিযি ]

Hadith about Fasting

Abu Huraira related that the Prophet (peace and blessings be upon him) said: Whoever fasts during Ramadan with faith and seeking his reward from Allah will have his past sins forgiven. Whoever prays during the nights in Ramadan with faith and seeking his reward from Allah will have his past sins forgiven. And he who passes Lailat al-Qadr in prayer with faith and seeking his reward from Allah will have his past sins forgiven (Bukhari, Muslim).