সিডনিতে এক্সএআইউবিয়ান অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক পুনর্মিলনী উদযাপন

তামান্না চৌধুরী নিতুঃ স্থানীয় সময় আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সিডনির ক্যাম্পবেলটাউনস্থ স্প্রিং ফার্ম পার্কে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্ব-পরিবারে তাদের বার্ষিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদযাপন করে।

বার্ষিক পুনর্মিলনী উপলক্ষে কেক কেটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যাহ্নভোজ, অপরাহ্নের চা-চক্রে মুড়ি ও ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবার পরিবেশন করা হয়। দেশীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান ও আনন্দ ঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

কোভিড বিধি নিষেধের কারনে এআইইউবি এর অনেক সদস্য ও তাদের পরিবার বর্গ এই অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি। পাশাপাশি তারা আগামী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান গুলোতে অংশ গ্রহন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এক্সএআইউবিয়ান অস্ট্রেলিয়া তাদের সদস্য হবার জন্য প্রবাসে বসবাসকারী সকল প্রাক্তন এআইইউবি শিক্ষার্থীদের নিম্নের ফেসবুক গ্রুপে যোগদান করার জন্য সাদর আমন্ত্রন জানিয়েছে https://www.facebook.com/groups/394895177697376/

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার বিচার ও খুনীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির খুনের ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে একটি রাজনৈতিক দলের দুই নেতার সমর্থকদের গোলাগুলি হয়। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহানউদ্দিন মুজাক্কির। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) দিনগত রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুবরণ করেন মুজাক্কির।

নিহত মুজাক্কির উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি। এছাড়া নোয়াখালীর স্থানীয় দৈনিকে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করছিলেন তিনি।

সিডনিতে বাংলাদেশী তিনজন তরুণের মৃত্যুতে আগামী শুক্রবার দোয়া মাহফিল

আসসালামু আলাইকুম। বাংলাদেশী কমিউনিটির সকলেই অবগত আছেন যে, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী শুক্রবার দিবাগত রাতে পোর্ট কেম্বলাতে মাছ ধরতে যেয়ে আমাদের কমিউনিটির দুইজন তরুণ পরিচিতমুখ মেহেদী হাসান খান এবং মোজাফফর আহমেদ এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। এর মাত্র কিছুদিন আগেই আরেকটি দূর্ঘটনার শিকার হয়ে ইন্তেকাল করেন আরেক সম্ভাবনাময় তরুণ শাহাদ সামস নোমানী। খুবই অল্প সময়ের ব্যাবধানে এই তিনজন তরুণের মৃত্যু আমাদের কমিউনিটিকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই তিনজনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ইসলামিক প্র্যাকটিস এন্ড দাওয়াহ সার্কেল, নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষ থেকে অষ্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য আলেমদেরকে সাথে নিয়ে একটি দোয়া ও আলোচনা মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখ শুক্রবার আসর নামাযের পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওয়ানজি রোডে অবস্থিত লাকেম্বা বড় মসজিদে (ইমাম আলী ইবনে আবি তালেব মসজিদ) এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের সাথে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কমিউনিটির দুইজন প্রখ্যাত আলেম; অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শেখ সাদী আল সুলায়মান এবং ইসলামিক প্র্যাকটিস এন্ড দাওয়াহ সার্কেলের প্রেসিডেন্ট ড. রফিকুল ইসলাম।

এই দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য আমরা কমিউনিটির পক্ষ থেকে এবং মৃতদের শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে সবিনয়ে অনুরোধ করছি। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সিডনিতে ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানালো ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল

আশফাক রহমানঃ আমরা ছাড়া কে পেরেছে মায়ের ভাষাকে এমন করে ভালবাসতে। আমরা ছাড়া কে পেরেছে ভাষার জন্য প্রান বিলিয়ে দিতে। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করা জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতি বছরের মত এবারো ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল সিডনিতে আয়োজন করেছিলো অমর একুশে (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস)এর অনুষ্ঠান।

২১শে ফেব্রুয়ারি (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থেকে ভাষা সংগ্রামীদের স্মরণ করে। কোভিড মহামারী সংখ্যা নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ থাকায় শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে এবারের আয়োজন পরিবেশিত হয়। অমর একুশের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মত গাওয়া ” অ আ বাংলা ভাষা” গানের গীতিকবি ও সুরকার, জয়পুরহাটের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সুনিল দাস এবং এই গানের সংগ্রাহক বিশিষ্ট সংবাদিক প্রয়াত অধ্যাপক আবুল হোসেনের স্মৃতির প্রতি বাংলা স্কুলের পরিবেশনাটি উৎসর্গ করা হয়।

সকাল সাড়ে দশটার প্রভাত ফেরির মাধ্যমে দিনের অনুষ্ঠানসৃচীর সূচনা ঘটে। প্রভাত ফেরিটি স্কুলের খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে পুরো স্কুল প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনালের বেদীমূলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। 

সকাল এগারোটার বাংলা স্কুল সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান সবাইকে অমর একুশে (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) দুই হাজার একুশের আয়োজনে সবাইকে স্বাগত জানান। এরপরই কোভিড সংখ্যা নিষেধাজ্ঞার কারণে স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও লিখিত বাণী পাঠান ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসেভিক, স্থানীয় স্টেট এমপি এনালাক চানটিভং এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসান জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম। তাদের পাঠানো বক্তব্য অনুষ্ঠানে পাঠ করেন স্কুল সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন। সভাপতি তার বক্তব্যে স্কুল পরিচালনা এর প্রসারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।  তিনি এই অনুষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এই পর্যায়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে অসামান্য অবদান রাখা বিশিষ্ট সমাজ কর্মী, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলার হাতে একুশে সম্মাননা ২০২১ তুলে দেয়া হয়। গোলাম মওলার হাতে সম্মাননা তুলে দেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান, অধ্যক্ষ রোকেয়া আহমেদ, কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফায়সাল খালিদ শুভ এবং কোষাধ্যক্ষ রুমানা খান মোনা।

এই পর্ব শেষে বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা একটি অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানায়। পাঁচটি একক আবৃত্তি, দুটি একক গান, দুটি বৃন্দ আবৃত্তি এবং তিনটি সমবেত সংগীতের প্রতিটিতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়। একক আবৃত্তিতে অংশ নেয় রুশনান, তাইশা, স্বপ্নীল, স্বাধীন এবং দৃপ্ত।

একক সংগীত পরিবেশন করে রেহনুমা ও এলভিরা। বৃন্দ আবৃত্তি নিয়ে  আসে ইয়াসফিন, আরিয়ান, মারজান, রেহনুমা, মাহদিয়া, রুশনান। মহান ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে একটি চমৎকার ক্ষুদ্র নাটিকা ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। আভিনয়ে অংশ নেয় নুরিন, এলভিরা, দৃপ্ত, স্বপ্নীল, নাদিন, সম্প্রীতি, আনিকা, রোদ্দুর, অলিভিয়া, তাইশা, শায়ান, সাফওয়ান, মাহাদিয়া, রেহনুমা, রাইনা, আজনিহা, আইজা, সুহারদিতি, কাইজান, সাজিদ, নারমিন, মারজান, ইয়াসফিন, স্বাধীন, এশান, অর্ণিলা, মেহরাব, সেহজাদ, অস্কার, ইয়ারা, রাইসা, সাদাফ শহীদ ও রাশমিয়া। শহীদ মিনারের প্রতীকী ভূমিকায় ছিলেন ইয়াকুব, সাগর ও রাফায়েল। মসিউল আজম খান স্বপন এর মূল ভাবনায়, নাটিকার সংলাপ রচনা করেন ফয়সাল খালিদ শুভ। নির্দেশনায় ছিলেন মাসি খান স্বপন, আজিম সাগর ও মৃন্ময় পাল।

এই পুরো পর্বটি পরিচালনা করেন স্কুলের সংগীত শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি এবং অমর একুশে অনুষ্ঠান আহবায়ক বিজয় সাহা। সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন অধ্যক্ষ রোকেয়া আহমেদ এবং শ্রেণি শিক্ষক নুসরাত আহমেদ।

শেষ পর্বে পরিবেশনা নিয়ে আসেন সিডনির বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ। গানে গানে শ্রদ্ধা জানান ফারিয়া নাজিম, নাফিসা আজাদ, রুমানা ফেরদৌস লনি এবং ফয়সাল খালিদ শুভ। আবৃত্তিতে ছিলেন মৌমিতা চৌধুরী।

পুরো অনুষ্ঠানে তবলায় সংগত করেন বিজয় সাহা। দোতারা ও বাশিতে ছিলেন তারিক আহমেদ। শব্দ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেন স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নাফিসা আজাদ।

শহীদ মিনার নির্মাণ ও মঞ্চ সজ্জায় ছিলেন ইয়াকুব, সাগর, ফারহানা, রাফায়েল, স্বপন, শুভ, শাহিন, মেহেদী মৃন্ময় ও গৌরব। আপ্যায়ন ছিলেন দিশা, সুমনা, মোনা, রুপক ও শাহিন। খাবার সরবরাহ করেন ওলি আহমেদ। অনুষ্ঠান আহবায়ক বিজয় সাহার পরিচালনায় আর রুমানা খান মোনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অমর একুশের অনুষ্ঠানটি বিকাল তিনটায় শেষ হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।

সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে। স্থানীয় সময় গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বাস্থ একটি রেঁস্তোরার হলরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর সংগঠনের সিনিয় সহ সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিনে উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রথমেই মাতৃ ভাষা বাংলার উৎপত্তি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন সহ সভাপতি শিবলী আবদুল্লাহ।

একুশের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। বাংলা আজ সমগ্র বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। একুশ আমাদের আত্ম পরিচয়ের অধিকার অর্জনের মাইল ফলক। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সহ সভাপতি মোহাম্মেদ আসলাম মোল্লা, কার্যকরী পরিষদের সদস্য নাইম আবদুল্লাহ, ড. ফজলে রাব্বি, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল আউয়াল, দিলারা জাহান, আলতাফ হোসেন, ড. সৈয়দ ফাওযুল আজীম, আবুল বাশার রিপন, হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, এস এম দিদার হোসেন প্রমুখ। দেশাত্ববোধক সংগীত পরিবেশন করেন তৌফিক আহমেদ।

অনুষ্ঠানের শেষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা দো’য়া করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি সিডনিতে নিহত দুই যুবক মাহাদী ও মোজাফ্ফরের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সবশেষে নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আজ স্থানীয় সময় ২১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) অস্ট্রেলিয়ার জনগণকে ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভ্যাকসিন নেওয়ার দৃশ্য স্থানীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৬০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া সম্পন্ন হবে বলা আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিন বিরোধী কয়েকজন বিক্ষোভকারী এ কার্যক্রম শুরুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। আজ প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার পধান নার্স প্রফেসর অ্যালিসন ম্যাকমিলান এবং প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রফেসর পল কেলিও ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তারা ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে, আগামী মাসে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনও দেবে দেশটি।

সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল’র শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ

স্থানীয় সময় আজ ২১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সকালে ‘সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সিডনির মিন্টোর রন মুর কম্যুনিটি সেন্টারের পাশে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন, সহ সভাপতি শিবলী আবদুল্লাহ, কার্যকরী পরিষদের সদস্য নাইম আবদুল্লাহ, নামিদ ফারহান ও গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে কাউন্সিলের সদস্য সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এই পুষ্পস্তবক অর্পনে অংশগ্রহণ করেন।

মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সবাইকে অংশগ্রহন করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়াও তিনি আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। আমরা বাংলাদেশীর পক্ষ থেকে এই অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ, ভাষা শহীদ প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সময় ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিডনিতে এসপিএমসির আলোচনা সভা ২০ ফেব্রুয়ারি

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বাস্থ ধানসিঁড়ি রেঁস্তোরায় এক আলোচনা সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল ইনক্।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন বলেন, একুশ আমাদের অহংকার। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা ও বাংলা সাহিত্যের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী এখানে রাজত্ব করেছে বিভিন্ন সম্প্রদায়। যুগেই আমাদের বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে নিজস্ব ধারায়। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। বাংলা আজ সমগ্র বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাকে সম্মান জানাতে আমাদের আলোচনা সভা। তিনি কাউন্সিলের সম্মানিত সকল সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে ওখানেই স্যাটেল হতে চাই প্রেক্ষিত: অস্ট্রেলিয়া

আমাদের দেশে এইচ এস সি/অনার্স শেষ পরীক্ষা শেষ করে ৭০ শতাংশ ছেলে-মেয়েদের চিন্তা ভাবনা থাকে ঠিক এমনটাই, যদিও পরিবারের আর্থিক অবস্থা কিংবা সাপোর্ট এর কারনে অনেকেরই এই স্বপ্নটি পূরন হয় না। কিছু শতাংশ সাপোর্ট পাবার পরও সফল হতে পারে না, কিছু কমন ভুলের কারনে। অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,ইউরোপ, আমেরিকার মত দেশে গিয়েও বিভিন্ন জটিলতার স্বীকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অবৈধ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে নতুবা অনেকে এসাইলেম ( রাজনৈতিক আশ্রয়) নিয়ে বছর কে বছর পরে আছে নিজের পরিবার বিহীন, অনেকের আবার বিয়ের বয়স পেরিয়ে ৪০ এর কৌঠায় ঠেকছে, এমন দৃষ্টান্তের ও অভাব নেই। প্রতিনয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আমাকে বেশ কিছু প্রশ্নের স্বীকার হতে হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি”ভাইয়া কোন দেশের সুযোগ সুবিধা কেমন” বা “কোথায় গেলে আমি পারমেনেন্ট রেসিডেন্সী/ স্যাটেল হতে পারবো”সেই বিষয় গুলো নিয়েই আজকের আলোচনা:

এইচ এস সি কিংবা অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা  দিয়েছো? বেশ! এখন নিজে কে প্রশ্ন করো তুমি কি চাও?তুমি কি বাহিরে গিয়ে পড়াশোনা করবে নাকি টাকা আয় করবে? ৫০% স্টুডেন্ট এর ইচ্ছে থাকে পড়াশোনা করবে পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করবে। তা বেশ!সেক্ষেত্রে যতদিন পড়াশোনা করবে ততদিন ফ্যামিলির জন্য দেশে টাকা পাঠানোর কথা একেবারেই ভুলে যেতে হবে। কারন অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, কানাডা তে পড়াশোনার খরচ, লিভিং কস্ট অনেক এক্সপেন্সিভ। এবার তোমাকে দেখতে হবে কোথায় তুমি পার্ট টাইম জব করে টিউশন ফিস দিতে পারবে এমন একটি দেশ তোমাকে বাছাই করতে হবে। কারন সব দেশে পার্ট টাইম জবের সুযোগ থাকে না। যদি তুমি জব না করে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চাও তাহলে চায়না যেতে পারো। বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের চায়না সব চেয়ে বেশি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। সব দেশে পড়াশোনা শেষ করে স্যাটেল হবার সুযোগ থাকে না এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। অতএব এক্ষেত্রে তোমাকে চিন্তা করতে হবে কোন দেশগুলোতে তুমি পার্ট টাইম জব করে পড়াশোনা শেষ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে আমি যে দেশগুলোকে সাপোর্ট করি সেগুলো হচ্ছে: অস্ট্রেলিয়া,কানাডা, জার্মানী, ইউকে। আর যে দেশগুলোকে সাপোর্ট করিনা সেগুলো হচ্ছে: আমেরিকা, পোলেন্ড, সুইজারল্যান্ড,  ইতালী,হাংগেরি, ফিনলেন্ড, রাশিয়া, চায়না, মালেশিয়া, লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, মালটা, লুক্সিনবার্গ। এখন তুমি প্রশ্ন করতে পারো, আপনার সাপোর্ট করা কিংবা না করার যুক্তিকতা কি? আজকের লিখা অনেক বড় হয়ে যাবে বিধায়, আমি সে দিকে যাচ্ছি না। তবে এর পিছনে কারন রয়েছে, ঐ সব দেশে সহজে স্যাটেলমেন্টের প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক নিরাপওা, আবহাওয়া, ভাষা, জব ফ্যাসিলিটি, নাগরিকদের প্রতি সরকারের সুবিধা সমূহ ইত্যাদি।  

এবার আসা যাক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের নিয়ে, এই ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের চিন্তা ভাবনা থাকে ঠিক এমন পড়াশোনা করে আর কি হবে ভালো একটা দেশে স্যাটেল হয়ে যাবো। বেশ!খারাপ না কিন্তু যতোটা সহজ ভাবছো ব্যাপারটা ততোটা সহজ না। ওয়ার্ক পারমিট বা ভালো একটা দেশের ভিসা অনেক শিক্ষার্থী এর স্বপ্ন বুনেছে আবার অনেকের ভেঙেছে। ভিসা তো পেয়েছি, রেসিডেন্স তো পেলাম না,কারন ইউরোপের দেশগুলোতে রেসিডেন্স ছাড়া নৌকা ছাড়া মাঝির মত। তাই দেশ থেকে যে যেই দেশেই যাও না কেন যদি ইউরোপের কোন দেশে আসো তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে সব সময় ফোকাস রাখবে রেসিডেন্স কার্ড বা ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট এর ওপর। নাহলে, বছরের পর বছর ইউরোপ এ লাইফ লীড করে একসময় দেশে ব্যাক করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কোন দেশ রেসিডেন্স দিচ্ছে কোন সিনিয়র ভাই কার্ড পেয়েছে,কোন ভাই পাসপোর্ট পেয়েছে এই বিষয় গুলো খোজ খবর রাখতে হবে বেশি। আমি কাউকে ভয় দেখাচ্ছি না কেবল মাএ সতর্ক করছি।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ

আমাদের বাংলাদেশ হতে যেমন প্রতি বছর অনেক ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে যাচ্ছে লেখাপড়া করার জন্য, তেমনি শুধু বাংলাদেশ নয় আরো অনেক দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ যাচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করার জন্য। প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী বাইরে থেকে আসে । সরকারী হিসেব মতে ২০১৮ সালে এ সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি । আমাদের দেশ থেকেও প্রতিবছর কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে । তবে যোগ্যতা থাকলেও উপযুক্ত তথ্যের অভাবে আমাদের দেশের অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আসতে পারে না । অনেক সময় দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্থা বা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আর্থিকভাবে প্রতারিত হয় । এক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে । এজন্য দরকার উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট গুলোতে। কারন, সরকারী ওয়েবসাইট গুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন সংযোজন ও বিযোজন গুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা \’ (The Australian Education International) সংস্হার \’ স্টাডি ইন অস্ট্রেলিয়া \’ (Study in Australia) হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গূলোর নাম, পড়াশোনার বিষয়, পড়ালেখা ও থাকার-খাওয়ার খরচ, বৃত্তি, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ও অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

স্কলারশিপের খোঁজ-খবর কিভাবে পাবো?

এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্স গুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোন বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তিছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনরূপ পক্ষপাতিত্ব না করে সকল আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভাল ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় ও এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় আবেদনকারীদেরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বৃত্তি দেয়।

অস্ট্রেলিয়াতে কি পার্টটাইম কাজের সুযোগ আছে?

বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং, টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী) পার্টটাইম চাকুরী করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ যোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে এক জন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তি প্রাপ্তদের জন্য কোথাও (যেমন , মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে) সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে।

সর্বোপরি অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতির মূল ধাপগুলি কি কি?

অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার জন্য ছয়টি মূল ধাপ আছে । এগুলো হল – পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশ ত্যাগের পূর্বে করণীয়, ও অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়। নিচে আমরা প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

 ১. পড়ার পরিকল্পনাঃ সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। মানে সে কোন বিষয়ে পড়া লেখা করতে চায় , তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু , সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে , এবং সর্বোপরি সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন । উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতে চার ধরনের পড়ালেখার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রী আসতে পারে – বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী , কারিগরি ডিগ্রী , স্কুল-কলেজ , এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা । এরপর প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াকালীন সময়ে খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয় । টিউশন ফি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয় । থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে বিভিন্ন হয় । মনে রাখা প্রয়োজন , ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থ্য দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রাহ্য হয় না । এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বেশিরভাগ পুর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে , কারন স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত ও তাদের জন্য কোন রকম ধার বা লোনের ( loan) ব্যবস্থাও নেই । অনুরূপভাবে, ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে । তবে , স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে , যেমন, IPRS, AusAid, গ্রেজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি

২. বিষয় নির্বাচনঃ অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের যেসব বিষয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ দেয, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে, সেগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এর পর দেখতে হবে, এসব বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। অনেক বিষয়ে (যেমন, এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন, IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নূন্যতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি বা ভিসা কোনোটির আবেদনই বিবেচনা করা হয় না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে পাঠাতে হয়।

 ৩. ভর্তির আবেদনঃ একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় আমাদের দেশের ছাএছাএীদেরকে আবশ্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন অথোরাইজড এজেন্টদের মাধ্যমে আবদেন করতে হয়।

৪. ভিসার আবেদনঃ একজন আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফিসহ জমা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের আগে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে ১ বছরের মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (ECOE-Electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে, যা ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কি না, এর ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের জোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে (টিউশন ফি, মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স, থাকা, খাওয়া) এবং বছরে কত দেবে তা স্পষ্টভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে। এর পর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। উল্লেখ্য, প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এজন্য আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।

ফান্ডের ধরণঃ ফান্ড হিসেবে একজন আবেদনকারী স্কলারশীপ, ফিক্সড ডিপোজিট, ব্যাঙ্ক থেকে কেনা সঞ্চয়পত্র (জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো বা পোস্ট অফিস থেকে নয়) অথবা লোন দেখাতে পারবেন। এগুলো আবেদনকারীর নিজের অথবা তার স্পন্সরের নামে ইস্যু করা থাকতে হবে। ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্র কে ফান্ড দেখালে সেটা কমপক্ষে ছয় মাস ব্যাঙ্কে থাকতে হবে, এর বিপক্ষে কোন লোন বা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি থাকতে পারবে না এবং এই ফিক্সড ডিপোজিট/সঞ্চয়পত্র থেকে উক্ত ছয় মাসের মধ্যে টাকা উঠানো বা যোগ করাও যাবে না। যদি কোন কারণে এরূপ ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্র না করা থাকে, তাহলে একটাই উপায় আছে, সেটা হল লোন। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক থেকে ১০ লক্ষ টাকার বেশি শিক্ষা লোন সাধারণত নেওয়া যায় না। কাজেই কেউ যদি পুরো ফান্ড হিসেবে লোন দেখাতে চান, তাহলে ফান্ড থেকে কিছুটা বেশি টাকার একটা নুতন ফিক্সড ডিপোজিট করে সেটাকে সিকিউরিটি দেখিয়ে ওভারড্রাফট লোন নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিট এর ৯০%-৯৫% পর্যন্ত লোন নেওয়া যায়, ব্যাঙ্ক অনুযায়ী। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ফিক্সড ডিপোজিট এর অর্থের উৎস যেন গ্রহণযোগ্য হয়। যেমন-বাড়ি/জমি বিক্রির টাকা, সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো’র পরে প্রাপ্ত টাকা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে কোন ব্যক্তিগত লোন বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ কখনোই ফিক্সড ডিপোজিট এর অর্থের উৎস হতে পারবে না। মোটকথা, ফান্ডের সাথে সম্পর্কিত সকল লেনদেন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে করা হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র অবশ্যই থাকতে হবে।

সবরকম ঝামেলা এড়ানোর জন্য ক্লাস শুরু হওয়ার অন্তত ৪ মাস আগে ভিসা আবেদন করা উচিৎ। তাহলে দেখা যায় যে ভিসা পেয়ে যাওয়ার পরেই টিকেট বুকিং দেওয়া যায়, আন্দাজে আগে আগে বুকিং দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

 ৫. দেশত্যাগের আগে করণীয়ঃ ভিসা পাওয়ার পর তারিখ ঠিক করে বিমানের টিকিট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। যেমন¬ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক জোগাড় এবং প্রাথমিকভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্য কারো সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন¬ মোনাশ, মেলবোর্ন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোনো সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানাতে হয়।

৬. পৌঁছার পর করণীয়ঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে কাগজে-কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি সম্পন্ন করতে হয়। অনেক সময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে, যেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্রছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো না হলে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

এবার আমি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা আর ইউকে’র মাইগ্রেশান নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। পোস্ট স্ট্রাডি’র পর এইসব দেশে শিক্ষার্থীদের ২/৪ বছরের টেম্পরারী রেসিডেন্স দিয়ে থাকে, এটা ডিপেন্ট করে কোন প্রদেশে এবং কোন প্রোগ্রামে ( কোর্স ওয়ার্ক/ রিসার্চ) শিক্ষার্থী তার পড়াশুনা শেষ করেছে। পয়েন্ট ভিত্তিক মাইগ্রেশান পলিসির কারনে শিক্ষার্থীরা টেম্পরারী রেসিডেন্স থাকাকালীন সময়ে আরো অনেক পয়েন্ট সংগ্রহ করে, যেমন প্রপেশনাল স্টাডি, NAATI, রিজোনাল লিভিং, ইংলিশ প্রোপিয়েন্সীর মাধ্যমে পয়েন্ট সংগ্রহ করে স্কিল মাইগ্রেশান এর জন্য আবেদন করতে পারে।

প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন

প্রধান নির্বাহী, আজি ইমি এন্ড এডুকেশানাল কনসালটেন্সী

For More Info:

https://www.studyinaustralia.gov.au

https://cricos.education.gov.au

https://immi.homeaffairs.gov.au

aussieconsultancy.com.au

Email: info@aussieconsultancy.com.au

Mobile: +61 430 594 661 ( WhatsApp)

সিডনিতে দুই বাংলাদেশী যুবকের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া

স্থানীয় সময় গত ১২ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সিডনির পোর্ট ক্যাম্বেলার হিল সিক্সটি লুক আউটে মাছ ধরতে গিয়ে ঘটনাস্থলে বাংলাদেশী মাহাদী খান (৩৩) এবং হাসপাতালে মোজাফ্ফর আহমেদ (৪২) মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ….রাজেউন)।

পুলিশ জানায়, মাহাদী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে উলংগং হাসপাতালে নেয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

মাহাদী খান লাকেম্বায় তাঁর বাবা মায়ের সাথে বাস করতেন। বছর খানেক আগে বাংলাদেশে বিয়ে করা তাঁর স্ত্রী এখনো দেশে আছেন। মাহাদী পারিবারিক ব্যবসা ‘মাহী হালাল বুচারি’ এবং ‘ঘরোয়া কিচেন’ দেখাশোনা করতেন। তাঁর দেশের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে।

সিডনির ওয়ালি পার্কে বসবাসকারী মোজাফ্ফর আহমেদ লাকেম্বায় বাংলাদেশী গ্রোসারি শপে কাজ করতেন। তাঁর দেশের বাড়ি ফেনিতে।

স্থানীয় নিউজ জানায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে উদ্ধারকারীরা হেলিকপ্টার ও এম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থল পোর্ট ক্যাম্বেলায় উদ্ধার কাজ চালায়। এর আগে লাইফগার্ড এবং হাইওয়ে পেট্রল পুলিশ তাদের ডুবে যেতে দেখলে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। সিডনির ওয়ালীপার্কের বাসিন্দা ৪২ বছরের অন্য যুবক নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

পুলিশ জানায়, লাশ দুইটির ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারপরই তাদের জানাজা ও দাফনের তারিখ জানানো হবে। বাংলাদেশী দুই যুবকের মৃত্যুতে সিডনির বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত দুই যুবকের শোকে অসংখ্য প্রবাসী লাকেম্বায় একত্রিত হন।