মোহাম্মদ আবদুল মতিনের কলামঃ করোনা যুদ্ধ বনাম মানবিক সহযোগিতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানব সভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে নভেল করোনাভাইরাস। বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। হুমকির মুখে মানব জাতির অস্তিত্ব। দেশে দেশে চলছে লকডাউন, ঘরে বন্দি মানুষ। তবুও প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত বাড়ছে প্রতি মিনিটেই। মৃতপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপ আমেরিকা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিলগ্নে সৌদি আরবের মহানুভবতার দু’টি ঘটনা উল্লেখ করছি। আমরা বিভিন্ন সময় সৌদি আরবের সমালোচনা করে থাকি। কিন্তু মানবিক সহযোগিতার দিক দিয়ে সৌদি সবসময়ই এগিয়ে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস রোধে আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ৫০ কোটি ডলার দান করেছে সোদি আরব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেবরিয়েসুস বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লড়াইয়ে সৌদি আরব সহায়তার মাধ্যমে উদারতা প্রকাশ করায় দুই পবিত্র মসজিদের জিম্মাদারের কাছে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মহামারি করোনাভাইরাসের এই দুর্বিষহ অবস্থায় সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মহাপরিচালক মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে সৌদি আরবের সকল করোনাভাইরাস রোগীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. তৌফিক বিন ফাওজান আল-রাবিয়াহ সম্প্রতি রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে বাদশার আদেশের বিষয়ে এ ঘোষণা দেন। তিনি আরো জানান, দেশটির স্থায়ী ও অস্থায়ী সহ সব ধরণের বাসিন্দারা এ সেবা পাবেন।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা করেছেন, করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছাড়া আর কারো দায়িত্ব নেবে না সরকার। স্কট মরিসন বলেছেন, যার জন্ম যে দেশেই হোক না কেন, তিনি যদি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হন তাহলে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। যারা অস্থায়ী ভিসা নিয়ে এদেশে আছেন নিজেদের খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকলে তাদেরকে ফিরে যেতে হবে নিজ দেশে।

করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর না হয়ে একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসি। এই মহামারি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের সংযোগ যেমন ভাইরাস ছাড়াতে পারে তেমনি অন্যদের সুস্থ করার  জন্য সহযোগিতা ও মানবিক সংযোগের কোন বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে সরাসরি সাহায্য করা সম্ভব নয় কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে পারি। বৈশ্বিক এই মহামারি থেকে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমরা টিকে যাব ইনশাআল্লাহ্ এবং এই সহযোগিতার জন্য অবশ্যই আমরা আখিরাতে পুরস্কৃত হবো।

“একুশে’র চেতনার বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন” বাস্তবায়নের রূপরেখা-৫

লেখক

(গণসম্পৃক্তকরণ/সম্প্রচারেরবৈশ্বিক কৌশল) প্রাকৃতিকভাবে মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি মাতৃভাষার মাধ্যমেই স্বাচ্ছন্দে সাবলীলতায় প্রকাশ পেয়ে থাকে।জীবিকা,প্রতিষ্ঠা অথবা উন্নততর আবাসনের প্রয়োজনে মানুষ ভিন্ন ভাষায়দক্ষ বাচর্চায় অভ্যস্থ হলেও প্রাথমিকভাবে মাতৃভাষায় রপ্ত মেধা-শিক্ষা-জ্ঞান-অভিজ্ঞতাই নতুন ভাষা শিক্ষা, সংকলন (ভাষান্তর) বা প্রকাশে প্রচ্ছন্ন ভূমিকা পালন করে। যে ভাষাই মানুষের ব্যবহারিক ভাষা হউক না কেন অসুস্থ্য, অসহায় বা অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি- দুর্ঘটনা, দুঃসংবাদ, শোক, আনন্দ, উত্তেজনা বা অপ্রত্যাশিত কোন প্রাপ্তি/হারানোর প্রতিক্রিয়ার তাৎক্ষনিক প্রকাশ নিজের অজান্তে আপনা থেকেই মাতৃভাষায় উচ্চারিত বা প্রকাশিত হয়। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ একমাত্র মাতৃভাষার মাধ্যমেই স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতি, শোক-দুঃখ-বেদনা-উল্লাস-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মানসিক প্রশান্তি বা স্নায়ুবিক শিথিলতার ছোঁয়া পায়, অস্থির-অশান্ত-পরিশ্রান্ত-জরাগ্রস্ত জীবন স্বস্থি-শান্তিতে প্রশমিত হয়।সঞ্চিত হয় প্রকৃতি, পরিস্থিতি, পারিপার্শ্বিকতা এবং সমাজের সাথে খাপ-খাইয়ে চলার পুনর্জীবনী শক্তি।গতিময় জীবন চলার পথে যার কোন বিকল্প নাই।

আত্মতৃপ্তি, মানসিক বা স্নায়বিক প্রশান্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জন্মগত ও প্রকৃতিসূত্রে গড়ে উঠা স্বাভাবিক অনুভূতি নিজের অজান্তেই প্রকাশিত হওয়া প্রাত্যহিক জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্দ অংশ। মাতৃভাষাই এই আত্মতৃপ্তির প্রকাশের মাধ্যম। প্রতিটি আধুনিক সামাজিক জীবনব্যবস্থায় মাতৃভাষার প্রচ্ছন্ন গুরুত্বের অতিবাস্তব বিষয়টি বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজে টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় নিমগ্ন প্রতিটি মানুষের কাছে পুনশ্চঃ মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন, তথা মাতৃভাষাসমূহের দ্রুত অবক্ষয়ের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরীও বটে।সভ্যতা-সমাজ-শিক্ষা ব্যবস্থার সনাতন ধারা থেকে আধুনিক ডিজিটালাইজড সমাজ ব্যবস্থামুখী বিবর্তনের আঙ্গিকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মাতৃভাষা সমূহেরবাস্তব ভিত্তি এবং চিরন্তন গুরুত্বের সত্য বার্তাটি সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেয়ার কৌশল হিসেবে নতুন প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটালাইজড প্রচারণার সর্বক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। প্রতিটি ভাষা সংরক্ষনে সংশ্লিষ্ট ভাষাভাষীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা তথা অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনে সকল পর্যায়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল-ডিজিটাল যোগাযোগ প্রযুক্তি, কম্পিউটারাইজড তথ্য-প্রযুক্তির সমন্বিত এবং সামগ্রিক সম্পৃক্ততা ভিত্তিক সম্প্রচারনার কোন বিকল্প নাই। বহুমুখী প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারনের সাথে নিজেকে খাপখাইয়ে নেয়ার উন্মুক্ত প্রতিযোগীতার বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজ নিজ মাতৃভাষাকে উজ্জ্বিবিত করে রাখার জন্য সর্বক্ষেত্রে প্রয়োজন সকল ভাষাভাষীর উপযোগ্য গণ সম্পৃক্ততা ভিত্তিক অর্থবহ আকর্ষণীয় কার্যকরী সম্প্রচারনার ব্যবস্থার প্রবর্তন। প্রতিটি মানুষের রয়েছে মাতৃভাষা, প্রত্যেকের নিজ নিজ আত্ম পরিচয়ের স্বার্থেই তার সংরক্ষণও প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, সকল ভাষাভাষীর জন্য অতি সাধারনভাবে সকল ধরন এবং পর্যায়ের প্রচারণার সকল মাধ্যমে একক এবং অভিন্নভাবে মাতৃভাষার চর্চা এবং প্রাত্যহিক সম্প্রচারের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সমাজের সকল স্তরে সকলের মানসিকতায় মাতৃভাষা সুরক্ষার চেতনা ভিত্তিক বিপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব। যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকল ভাষাভাষীর মধ্যে মাতৃভাষা সংরক্ষণের পক্ষেআবেগ অনুভূতি ভিত্তিক গণজাগরণ সৃষ্টির সাধারণ একটি কৌশলী পন্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে মাতৃভাষা অবক্ষয়ের ভয়াবহতার ধারাকে প্রতিহত করা যেতে পারে।

ফেইচবুক, টুইটার, ইনসটিগ্রাম, গুগুল, ইয়াহু ইতাদি ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তি নির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন আধুনিক বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নাগালের মধ্যে, হাতে হাতে। মাইক্রোসফট, অ্যাপেল ইত্যাদি প্রতিটি মানুষের নিত্য ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গী। মোবাইল ফোন,রেডিও, টেলিভিশন, ইউটিউব মানুষের যোগাযোগ এবং চিত্তবিনোদনের প্রাত্যহিক অবিচ্ছেদ্দ অংশ। আরটিএ’র ইলেক্ট্রনিক তথ্য নির্দেশনা, প্রচারণার সাথে প্রতিটি মোবাইল মানুষ খাপ খাইয়ে নিচ্ছে প্রাত্যহিক জীবনের সাথে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অভিনব সব কিছুরই ভিত্তিকোন না কোন একটি ভাষা। মানবজাতির কোন না কোন গুষ্ঠি সে ভাষার ব্যবহারকারী। আধুনিক প্রযুক্তির নিত্য ব্যবহার্য সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে মাতৃভাষার চর্চা, রক্ষা এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তার বার্তা নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে সকল মানুষের মাঝে নিজ নিজ মাতৃভাষা চর্চা তথা সংরক্ষণের আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব। বিশ্বের সর্বত্র নিত্য ব্যবহার্য প্রযুক্তির সকল মাধ্যমে নিয়মিতভাবে প্রচারিত মাতৃভাষা সুরক্ষার আকর্ষণীয়সংক্ষিপ্ত এবংসমন্বিত প্রচারণা প্রত্যেকটি মানুষকে মাতৃভাষা চর্চায় উদ্ভুদ্ধ করার মাধ্যমে সকল ভাষাভাষীর মধ্যে সামগ্রিক ও সমন্বিতভাবে গণজাগরণ সৃষ্টি বিশ্বব্যাপী সকল মাতৃভাষা সুরক্ষায় সকল ভাষাভাষীর মধ্যে এক ও অভিন্ন চেতনার বিকাশ ঘটাতে বাধ্য। জাতিসংঘ তথা ইউনেস্কোর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সকল সরকারি, আধাসরকারী, বেসরকারি, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান; ইলেক্ট্রনিক প্রচার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমেসকল ধরনের প্রচারণার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরে মাতৃভাষা অবক্ষয়ের ধারা প্রতিহত করার পাশাপাশি মাতৃভাষা সংরক্ষণে বিশ্বব্যাপী ঐকমত্যে উন্নীত করে গণসম্পৃক্ততা অর্জনেরলক্ষ্যে এমএলসি মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ইনক নিম্নোলিখিত কৌশলাদিপ্রণয়ন করেছেঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম/ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনে প্রচারণাঃ বিশ্বের সকল ভাষাভাষীর কাছে জনপ্রিয় এবং নিত্যব্যবহার্য ফেইচবুক, টুইটার, ইনসটিগ্রাম, গুগুল, ইয়াহু ইতাদি সকল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আধুনিক সমাজের প্রত্যেকেই কম বেশী ব্যবহার করে থাকে। প্রাত্যহিক জীবন ব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত প্রযুক্তির ব্যবহারের শুরুতে “To Protect and Conserve Practice Your Mother Language” অথবা “Do You Know Our Planet losing One Language in each fortnight!! To Protect/Conserve Practice Your Mother Language”জাতীয় বর্তার ইংরেজি অথবা ব্যবহারকারীর ভাষায় সম্প্রচার প্রত্যেকটি ব্যবহারকারীকে তার মাতৃভাষা চর্চা এবং সংরক্ষনে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে দায়িত্বশীল করে তুলবে।

মাইক্রোসফট, অ্যাপেল, মোবাইল ফোন ইত্যাদি সফটওয়ারে প্রচারণাঃ কম্পিউটারাইজড প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সকল সফটওয়ারের ওপেনিং চীপের (Starter Chip) শুরুর প্রোগ্রামে মাতৃভাষা সংরক্ষণের একই ধরনের বার্তা “To Protect Language Diversity, Conserve Your Mother Language” অন্তর্ভুক্তিএবং প্রচারের স্থায়ী ব্যবস্থা প্রত্যেকটি ব্যবহারকারীকে নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষনেতাগিদ যোগাতে পারে। সকল ব্যবহারকারীদের মধ্যেই মাতৃভাষা সংরক্ষণের জাগ্রত চেতনা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব।

বেতার, টেলিভিশন, ভিডিও, সিনেমা ইত্যাদি চিত্তবিনোদন মাধ্যমে প্রচারণাঃবিশ্বের সকল দেশে বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহৃত এবং প্রচারিত মাধ্যমসমূহে সংশ্লিষ্ট ভাষায় মাতৃভাষার অবলুপ্তির ভয়াবহ গতির বিষয় এবং নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণের গুরুত্বের বিষয়ে“Mother Language is the key element of ethnical entity, culture, heritage and identity; Losing Mother Language losing your origin of ethnical identity; Practice, protect to Conserve Mother Language”, নিয়মিত প্রচারণা মাতৃভাষা সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বৈশ্বিক ধারা সৃষ্টিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে।

সড়ক ও জনপদ এবং উন্মুক্ত ইলেক্ট্রনিক বিজ্ঞাপণে প্রচারণাঃ প্রত্যেক দেশেই সড়ক ও জনপদ বিভাগ সার্বক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয়, নির্দেশকএবং পরিচিত সংকেতসহ বিভিন্ন নিয়ম, বিধি, গতি ইত্যাদির তথ্যাদি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে সাধারণকে অবহিত করে থাকে। আধুনিক বিশ্বের সাধারণ মানুষ প্রাত্যহিকভাবে চলার পথে সর্বশেষ তথ্যাদির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতেও অভ্যস্থ। এসব ইলেক্ট্রনিক প্রচারণা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে সকলকের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং নিজ নিজ মাতৃভাষা চর্চায় বিশেষভাবে নজর দেয়ার লক্ষ্যে, “Observe IMLD, the 21st February; Conserve Your Mother Language” নিয়মিত সম্প্রচার কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বিশেষ করে সারা ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী এই প্রচারণার ব্যবস্থা সকল ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে মাতৃভাষা চর্চার ব্যাপক আগ্রহ যোগাতে সক্ষম।

স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষালয় এবং প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রচারনাঃ সকল শিক্ষালয়ের মাতৃভাষা সংরক্ষণের বার্তা /বিজ্ঞাপন“Observe IMLD, the 21st February; Conserve Your Mother Language”সর্বসাধারণের দৃষ্টি গোচরীভূত হয় এমন স্থানসমূহে স্থাপনা করার মাধ্যমে শিক্ষালয়ের সকলকে বছরব্যাপী মাতৃভাষা চর্চা এবং সংরক্ষনে উৎসাহিত করবে। সারাবিশ্বব্যাপীপ্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষালয়ে নিজ নিজ মাতৃভাষা চর্চায় উৎসাহ প্রদানের সাধারণ সংস্কৃতি সৃষ্টিসহ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে সাধারণ নীতিমালা গ্রহণএবংতাবাস্তবায়নেরকার্যকরীব্যবস্থাসকলঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা চর্চা এবং সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখবে।

নার্সারি,ডেকেয়ারএবং প্রিস্কুল ভিত্তিকপ্রচারণাঃ আধুনিকএবং উন্নত সমাজ ব্যবস্থায় শিশুদেরকে শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় গড়ে তোলার জন্য নার্সারি, ডেকেয়ার এবং প্রিস্কুলে ভর্তি করা হয়। এই সকল প্রতিষ্ঠানে  সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত পেশাজীবী শিক্ষকগণ শিশুদের খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, বর্ণমালা পরিচিতি, শব্দ/বাক্য গঠন, বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন, হাসি-তামাসা, সামাজিক সংস্কৃতি-কৃষ্টি, আচার আচরণ ইত্যাদি বিষয়ের সাথে পরিচিতির মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়। এই ব্যাপক গঠনমূলক কার্যক্রমের সাথে প্রত্যেকটি শিশুর নিজ নিজ মাতৃভাষা শিক্ষা এবং শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হলে উঠতি প্রজন্মের কাছে নিজ নিজ মাতৃভাষা শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রতিটি শিশুর মাতা-পিতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট ভাষার তথ্য উপাত্ত সহ, বর্ণমালার ব্লক সরবরাহসহ সপ্তাহে এক/দুদিন কিছু সময় সেচ্ছাসেবা প্রদানের মাধ্যমে মাতৃভাষা চর্চার বাস্তব সম্মত নতুন ধারার প্রবর্তন করা সম্ভব। যা প্রজন্মান্তরে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে মাতৃভাষা সুরক্ষা এবং সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সমাজবদ্ধ জীবনব্যবস্থায় পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য ভাষার বিকল্প ভাষা হলেও সাবলীল প্রকাশে মাতৃভাষার কোন বিকল্প নাই। বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার অবক্ষয়ের ভয়াবহ ধারায় ঝুঁকিপূর্ণ ভাষাসমূহের ভাষাভাষীরা সাবলীল স্বাচ্ছন্দপূর্ণ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে মহা সংকটের মুখোমুখি। যেকোন ভাষার অবক্ষয় বহু ভাষাভিত্তিক সমাজ, সভ্যতা সৃষ্টির ক্রমধারায় অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি মানব সমাজ ও সভ্যতা বিকাশের উপর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণার ক্ষেত্র হবে সংকুচিত। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মানব সভ্যতাকে আরও গতিশীলভাবে সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ভাষাসমূহের অবক্ষয় হবে অন্তরায়। এই অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নিজ নিজ মাতৃভাষার চর্চা এবং সংরক্ষণে বিশ্বব্যাপী সামগ্রিকভাবে সকল ভাষাভাষীর সমন্বিত অংশগ্রহণের সম্প্রচার ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভাষাভাষী নিজ নিজ ভাষা রক্ষার উদ্ভুদ্ধ হয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে যথার্থতা বাস্তবায়নের অংশীদার হবে। এমএলসি মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের উদ্ভুত এই প্রচারণা কৌশলের প্রতীকী অংশ হিসেবে গত চার বছর থেকে একুশে বেতার নামে ক্যানবেরা ভিত্তিক একটি সাপ্তাহিক বেতার অনুষ্ঠানে (FM৯২.৩Mh) মাতৃভাষা সংরক্ষণের সম্প্রচার কার্যক্ষম পরিচালনা করে আসছে।

পরবর্তী লেখাঃ

একুশের চেতনার বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিকতা অর্জন

বাস্তবায়নের রূপরেখা-৬

(মাতৃভাষা’রবিশ্বপরিবারবিশ্বভাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ভিত্তি)

লেখক পরিচিতিঃ

নির্মল পাল

ইমেইলঃ nirmalpaul@optusnet.com.au

প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারপারশনঃ এমএলসি মুভমেন্ট ইনটারন্যাশন্যাল ইনক

প্রাথমিক নকশাপ্রণয়ন এবং বাস্তবায়নকারী দলনেতাঃ পৃথিবীর প্রথম“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ”

প্রকাশিত গ্রন্থঃ “বিশ্বায়নে শহীদ মিনার”

বৈশ্বিক দর্শনঃ “লাইব্রেরীতে একুশে কর্নার”(স্থানীয়বর্ণমালা সংরক্ষণ কেন্দ্র)

সিডনিতে দেশীয় সাংবাদিকতাঃ একটি সামাজিক আন্দোলন

সিডনিতে প্রায় দেড় থেকে দুই ডজনেরও বেশি প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে। আছে আইপি টিভি ও অনলাইন টিভি। অনেকে দেশের প্রিন্ট, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্যাটেলাইট টিভির সাথে কাজ করছেন। বিগত কয়েক বছর আগেও হাতে গোনা কয়েকটি প্রিন্ট পত্রিকা ছিল। তাতে স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নিউজও ছিল হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র।

প্রায় আট বছর আগে আমি যখন কিছু লেখালেখির চেষ্টার পাসশাপাশি প্রিন্ট পত্রিকাগুলিতে প্রকাশ করার আগ্রহ নিয়ে পাঠাই তখন তার একটাও প্রকাশিত হয়নি। লজ্জিত ভঙ্গিতে পত্রিকার সম্পাদক মহাদোয়দের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি যে তাদের সম্পাদকীয় কমিটি আমার লেখাগুলি প্রকাশের জন্য মনোনীত করেনি। আমি অন্যভাবে চেষ্টা করি। কিছু নিউজ ছবিসহ লিখে পাঠাই। কিন্তু আমার কোন নিউজও প্রকাশিত হয়না।

পরবর্তীতে  দেশের কিছু নামকরা পত্রিকায় গল্প ও নিউজ পাঠানো শুরু করলাম। তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো। কিভাবে নিউজ এডিট করতে হয় কিভাবে গল্পের প্লট সাজাতে হয় হাতে কলমে শিখতে লাগলাম। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সম্প্রতি সিডনি থেকে প্রকাশিত পাঠক প্রিয় বেশ কয়েকটি প্রিন্ট পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয় টিমে কাজ করার অফার দিয়েছে।

আসলে আমি বিষয়টি অন্যভাবে দেখছি। সিডনিতে এখনও দেশীয় সাংবাদিকতা শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পারেনি।আমি বরাবরই এখানকার প্রায় অনেকগুলি প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলিতে নিউজ ও গল্প নামে কিংবা বে নামে কন্ট্রিবিউট করে থাকি। এখন যদি কোন একটি নিদিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকীয় টিমে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হই সেক্ষেত্রে অন্য পত্রিকাগুলিতে নিউজের ঘাড়তি দেখা দিতে পারে। যা হয়তো এখানকার সংবাদ মিডিয়াকে টিকিয়ে রাখার জন্য হুমকি হতে পারে।

এখন অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের কোন মেলা বা অনুষ্ঠান করার আগে অন্ততঃ একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। রান শিটের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা শেয়ারের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। মেলায় সাংবাদিকদের জন্য ফ্রি এন্ট্রি, গাড়ী পার্কিং সহ মিডিয়া সেলের ব্যবস্থা থাকে।

কয়েক বছর আগে আমন্ত্রিত সাংবাদিক হয়ে একটি মেলায় গেছি। আয়োজকদের একজন গেটে জানালেন, আমার টিকেট অন্য একজনকে দিয়ে দিয়েছেন। আমি ধৈর্যের পরীক্ষা দিলাম। অনেকক্ষন অপেক্ষার পর একটি দলিত মতিথ টিকেট আমাকে করুনা ভরে ধরিয়ে দিলেন।আমি সেই রাতেই অনলাইন ও টিভি নিউজ করলাম। পরদিন দুপুরে ঐ আয়োজকের ফোন পেলাম। তিনি জানালেন, আপনি তো ভাই চিচিং ফাক করে দিয়েছেন। টিভিতে আমাদের মেলার নিউজ দেখে দেশ থেকে আমার ছোট বোন ফোন করেছে, হাহাহা।

তবে মন্দের ভালো এখন কোথায় গেলে পরিচয়পত্র দেখতে চায়না। আগে তো পরিচয়পত্র দেখাতে না পারলে এই মারে তো সেই মারে অবস্থা। গত মাসে একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। সামনের একজন বয়স্কা ভাবী বলল, দেখেন তো ভাই ভুল করে খাবারের টিকেট বাসায় ফেলে এসেছি। এখন গাড়ীও তো সাথে নেই যে বাসায় গিয়ে টিকেট নিয়ে আসবো। আমি আমার খাবারের টিকেট ভাবীকে ধরিয়ে দিলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনার কি হবে? আমি তাকে অভয় দিলাম। ভাবী খাবারের প্যাকেট নিয়ে আমার জন্য দাঁড়িয়ে রইলো।

আপনার খাবারের টিকেট কৈ? খাবার দাতা প্রশ্ন করলেন। আপনাকে তো এইমাত্র টিকেট দিলাম। ঐ তো আপনি নিয়ে ওখানটায় রাখলেন। তিনি চমকে আমার আপাদমস্তক দেখলেন। মনের সাথে যুদ্ধ করে তাছিল্যের ভঙ্গিতে আমাকে খাবারের প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন। কিছুক্ষন পর আরেকটা খাবারের টিকেট পেলাম। খাবার দাতা সেই ভদ্রলোকের কাছে গিয়ে টিকেটটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম, ভাইজান টিকেট তোঁ পেয়েছেন আবার দয়া করে একটু মিষ্টি করে হাসেন।

গত বছর প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান কভার করতে কনভেনশন সেন্টারে গেছি। প্রথমদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জুলি বিশপ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আছেন। আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রশ্ন করলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এওয়ার্ড নিতে আগামীকাল এই অনুষ্ঠানে আসছেন, তোমার অনুভুতি কি? প্রশ্ন করার পর মনে হোল, আমি ক্যামেরা ও বুম দুইটা একসাথে কিভাবে ধরবো? আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাহায্য চাইলাম। তিনি নিজ হাতে বুম তুলে নিলেন এবং আমাকে ক্যামেরা স্ট্যান্ডে বসাতে সময় দিলেন। বিদেশী সাংবাদিকরা সবাই তাকিয়ে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী তার উত্তর শেষ করে বুম আমার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ম্যানি থাঙ্কস ইয়াং ম্যান।

(চলবে)

নাইম আবদুল্লাহ