সিডনির গ্লেনফিল্ডে নতুন গ্রোসারি শপ ‘ডেইলি নিডস্’

সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল গ্লেনফিল্ড স্টেশনের পাদদেশে চালু হয়েছে আরও একটি নতুন গ্রোসারি শপ ‘ডেইলি নিডস্’। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ৭০এ রেলওয়ে প্যারেড ঠিকানায় (গুরু ড্রাইভিং স্কুলের পাশে) দোকানটি উদ্বোধন হয়। দোকানটির কর্ণধার আশীষ ও শম্পা দম্পতি জানান, চালু হওয়ার পর থেকেই কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ কেনাকাটা করছেন বা শুভকামনা জানাতে আসছেন। তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ক্রেতাদের অব্যাহত আগমন এবং চাহিদার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।

হালাল মাংস, মাছ, স্পাইসেস এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সহ রয়েছে দেশীয় পোষাক এবং জুয়েলারী কর্নার।

ডেইলি নিডস্ শপে হালাল বুচারি বা মাংস, বাংলাদেশের নানারকমের মাছ, শব্জি, হরেক রকমের স্পাইস, চাল, ডাল, মিস্টি ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। শপের ভেতরেই কাচঘেরা ঘরে আলাদা করে রাখা হয়েছে দেশীয় পোশাক ও জুয়েলারী। ক্রেতারা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনার সঙ্গে সঙ্গে পছন্দের পোশাকও একদামে ক্রয় করতে পারবেন। শপের মালিক আশীষ বলেন, দোকানের সামনে রাস্তার দুই পাশে পার্কিং এমনকি পেছনেও আনলিমিটেড পার্কিং সুবিধা রয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে মাছ, মাংস এবং অন্যান্য পণ্যে বিশেষ ডিসকাউন্ট বা ছাড় চলছে বলে তিনি জানান।

ক্যাম্বেলটাউন কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী সহ কমিউনিটির ব্যক্তিরা এসেছেন ডেইলি নিডস্ শপে। সঙ্গে রয়েছেন কর্ণধার আশীষ।

আশেপাশের ম্যাকুয়ারীফিল্ডস, ইঙ্গেলবার্ন, গ্লেনফিল্ড, ক্যাসুলা, বার্ডিয়া, এডমুন্ডসেনপার্ক ও ক্যাসুলা সাবার্বে অসংখ্য বাংলাদেশী বসবাস করেন। গ্লেনফিল্ড স্টেশনটি জাংশন হওয়ায় বৃহৎ এলাকা জুড়ে থাকা বাংলাদেশীরা এই স্টেশন ব্যবহার করেন। কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় তারা ট্রেন থেকে নেমেই সুলভ মূল্যে ডেইলি নিডস্ থেকে বাজার করে যেতে পারবেন। দোকানটি সপ্তাহের ৭দিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। হালাল বুচারি সেকশানে রয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পোষাক ও জুয়েলারী সেকশনে শম্পা এবং কাউন্টারে রয়েছেন সদা হাসিমুখে আশীষ।

প্রশান্ত পাড়ের দেশ অস্টেলিয়াতে এক অখ্যাত প্রবাসী বাঙালীর সফলতার ইতিহাস

বাংলাদেশের বাইরে অর্থাৎ বহির্বিশ্বে প্রবাসী বাঙালীদের অবদান একেবারে কম নয়। উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ইওরোপীয়ান দেশে বাঙালীরা অনেক মেধার পরিচয় দিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখকে উজ্জ্বল করেছে। সৃষ্টি ও উন্নয়নের সবকিছু বিষয় যেমন স্থপতি, চিকিৎসা, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি, শিল্প সংস্কৃতিসহ অনেক বিষয়ে তাঁদের অনবদ্য অবদানের জন্য ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।

 এই নিবন্ধে আমি এমন একজনের কথা বলব যিনি কোন বিখ্যাত ব্যক্তি নন। বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত জনপদে জন্মগ্রহণ করেও নিজের মেধা বলে ও স্বকীয় সাধনায় প্রশান্ত পাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে বাঙালীদের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তিনি একজন মলেকিউলার জীবাণু বিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অস্ট্রেলিয়া কমনওয়েলথ্ (ফেডারেল গভর্নমেন্ট) সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগে হাসপাতল বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত আছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ১২টি দেশ ও পশ্চিম প্রশান্ত অঞ্চলের ১৮টি দেশের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়া। তিনি উক্ত সংস্থার সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি মূলতঃ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও স্বাস্থ্যবিভাগ সমন্বয়ে যৌনরোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু বিশেষ করে গনোরিয়া ও জীবন সংহারী জীবাণু মেনিনজাইটিডিস নিয়ে গবেষণা করছেন। উল্লেখ্য প্রথমোক্ত জীবাণু ১৯২০ সালে আবিষ্কারের পর থেকে একে একে সব এন্টিবায়েটিক এর বিরুদ্ধে সফলভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

 তিনি জীবাণুর জেনেটিক লেভেলে গবেষণা করে তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল কারণগুলো উদ্ঘাটনে সক্ষম হয়েছেন। জীবাণুর এই প্রতিরোধ ক্ষমতা বিভিন্নভাবে তৈরি হয়। প্রথমত: তৃতীয়বিশ্বে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই কড়া এন্টিবায়োটিক গ্রহণ। দ্বিতীয়ত: ঐ এন্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ না হতেই চিকিৎসা বিরতি। তৃতীয়ত: প্রাকৃতিক নিয়েমে টিকে থাকার জন্য ঐ এন্টিবায়োটিক ধ্বংস করার জন্য নিজের কোষে এনজাইম বা পাঁচক রস তৈরি করে। চতুর্থত: যাতে এন্টিবায়োটিক তার শরীরে না ঢুকতে পারে তার জন্য প্রতিরক্ষাব্যুহ বা শিল্ড তৈরি করে নিজেকে রক্ষা করা অন্যতম। কিন্তু এই প্রতিরোধের মুল যে প্রক্রিয়া তা আরও ভয়াবহ। বিজ্ঞানীরা জেনেটিক লেভেলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জেনেছে যে, এই প্রচলিত এন্টিবায়োটিক থেকে সুরক্ষার জন্য জীবাণুরা তাদের মুলপ্রাণশক্তি ক্রোমোজোমের বিন্যাস পরিবর্তন করে বিশেষ বিশেষ জিন সংস্থাপন, সংযোজন, প্রতিস্থাপন, বিযোজন করে সে একটি অপ্রতিরোধ্য দানব বা মিউট্যান্ট এ পরিণত হয়। অর্থাৎ সেই দানব জীবাণু থেকে যে লক্ষ-কোটি জীবাণু তৈরি হয়ে তারও সেই দানব, যা এন্টিবায়োটিকের চক্র ভেঙে অকার্যকর করে দিতে পারে। আরও ভয়াবহ যে কারণটি বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন তার নাম হল প্লাজমিড। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এক ধরনের জীবাণু থেকে তার সহ অবস্থানে থাকা নিরীহ জীবাণুর মধ্যে এই প্লাজমিড অনুপ্রবেশ করে সেই নিরীহ জীবাণুকে অতি দানবে পরিণত করে যা সম্পূর্ণরূপে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।

 এই বিজ্ঞানী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জার্নাল যেমন : জার্নাল অব এন্টিমাইক্রোবিয়াল কেমোথেরাপি। মাইক্রোবায়েলজি, প্যাথলজি, ডায়াগনোস্টিক মাইক্রোবায়েলজি এন্ড ইনফেকশন, ট্রপিক্যাল এশিম্যাল হেলথ এন্ড প্রোডাকসন সহ অনেক নামকরা বিজ্ঞান গবেষণাপত্রে তার গবেষণার আর্টিকেল প্রকাশ করেছে | অতি সম্প্রতি তার একটি নিবন্ধ বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা মেডিকেল জার্নাল “ল্যনচেটে” প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা ছাড়াও এই বিজ্ঞানী দক্ষিণ এশীয় ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় তিরিশ বা তদুর্ধ্ব দেশের বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোপূর্বে ২০১২ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ২০১৪ সালে ভারতের দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইনসটিটিউটে ও সফদরজং হাসপাতালে দক্ষিণ এশীয় ১২টি দেশের বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি লক্ষ্য করলেন সেখানে বাংলাদেশের কোন বিজ্ঞানী নেই। তিনি ব্যাপারটি নিয়ে ডব্লিউ এইচ ও, জেনেভার সাথে কথা বলে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি প্রকল্প পাশ করেন। ডব্লিউ এইচ ও প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা যান। সেখানে তিনি আই ই ডি সি আর এর পরিচালক ড. বে-নজীর আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তৎপরবর্তী ঢাকা মেডিকেল কলেজের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় ও মিটফোর্ড হাসপাতালের জীবানুবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের নিয়ে আলোচনা করেন ও বাংলাদেশকে এই গ্লোবাল প্রোগ্রামের অংশ করার জন্য ডব্লিউ এইচ ও জেনেভাকে অবহিত করেন। যা এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে। অতিসম্প্রতি তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি প্রকল্প EGASP কর্মসূচি নিয়ে করোনা মহামারীর কারণে তার নির্ধারিত সফর স্থগিত করে বিগত ১১ই আগস্ট একটি অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে পাপুয়া নিউগিনিসহ অন্যান্য নির্ধারিত দেশসমূহে অনলাইন ট্রেনিং সমাপ্ত করে কার্যক্রম শুরু করবেন।

 এই প্রথিতোযশা বিজ্ঞানী হলেন ড. রতন কুন্ডু। বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি প্রশান্তপাড়ের বাঙালীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণেও তিনি সমান অবদান রেখে যাচ্ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি, সিডনী প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সহ সহাপতি ও সংবিধান প্রণেতা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সিডনী অস্ট্রেলিয়ার উপদেষ্টা, মাতৃভাষা সংরক্ষণ আন্দোলনের প্রাক্তণ পরিচালক, সিডনি ভিত্তিক সেন্টার ফর পূজা এন্ড কালচার (CPCL) এর প্রাক্তণ চেয়ারপারসন। এ ছাড়াও তিনি একজন বিদগ্ধ লেখক ও কলামিস্ট। বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমিতে লিখিত তার একটি উপন্যাস “মীরামংগল” প্রকাশিত হয়েছে ২০১৪ সালে। বাংলা একাডেমীর বইমেলায় এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট জনাব শাহরিয়ার কবীর।

 প্রশান্তপাড়ে বাঙালীর প্রাণের মেলা, টেম্পিপার্ক বৈশাখী মেলার” রূপকারদের মধ্যে তিনি একজন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনি, অস্টেলিয়া আয়োজিত ২০১০ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রতিবছর এই মেলায় বাঙালী কৃষ্টি সংস্কৃতির লালন ও প্রচার করা হয়। তিনি সৃষ্টি লগ্ন থেকেই এই মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করে আসছেন। মেলার সুভেনিরটিও তারই তত্ত্বাবধানে ও সম্পাদনায় এ যাবৎ প্রকাশিত হচ্ছে। এভাবেই তিনি বাঙালী সংস্কৃতি চর্চার যুগ যুগ ধরে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন। একজন লেখক ও কলামিস্ট হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রচারিত প্রথম পত্রিকা স্বদেশ বার্তা, বাংলা বার্তা, বাংলা কথা, স্বাধীন কণ্ঠসহ অনেক অনলাইন পত্রিকা যেমন বাংলা-সিডনি.কম, বিদেশবাংলা24.কম, সিডনিপ্রতিদিন.কম এ নিয়মিত নিবন্ধ প্রকাশ করছেন। এ ছাড়াও ডিবিসি, সময়টিভি, এসএ টিভি, জয়যাত্রা টিভিতেও অনেক ভিডিও সংবাদ প্রচার করেছেন। একজন বিজ্ঞানী, লেখক ও সমাজকর্মী হিসেবে অনেক টিভি চ্যানেলে অসংখ্যবার সাক্ষাৎকার ও লাইভে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিস্তারে অন্যান্য সহযোগী ও সমমনা সংগঠন নিয়ে অনেকবার সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। বাংলাদেশ হাই কমিশন ক্যানবেরা, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করে দেশমাতৃকার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকেছেন।

 ড. রতন কুন্ডুর পৈত্রিক নিবাস বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার এক প্রত্যন্ত জনপদ ধামুরা গ্রামে। গ্রামের স্কুলের পড়াশুনা করেছেন। শিক্ষার প্রতি অদম্য ইচ্ছা ও মেধা তাকে বারবার পুরস্কৃত করেছে। পঞ্চম শ্রেণিতে জুনিয়র বৃত্তি লাভ তার বৃত্তি জীবনের হাতে খরি। অস্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আত্মগোপনে থাকার কারণে যে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তাকে অটো প্রোমেশন দিয়ে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। যাই হোক, এস. এস. সি. পরীক্ষায় তিনি স্কুলের ইতিহাসে ৪টি বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে ও সমগ্র সেন্টারে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এস. এস. সি.তে বৃত্তি, এইচ. এস. সি.তে বৃত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি নিয়ে তিনি পড়াশুনা করেন। প্রসংগত উল্লেখ্য তার বাবা প্রয়াত: রমেশ চন্দ্র কুন্ডু ছিলেন চিররুগ্ন এবং একটি নিম্ন বিত্ত পরিবারের সদস্য। ছয়টি মেয়ের ভরণ পোষণ, বিবাহ দিতে তাকে সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এর উপর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বসতবাড়ি দুবার লুটতরাজ হয়। বন্দরের দুটো ঘরই পাক সেনা ও তার দোসর রাজাকারেরা পুড়িয়ে দিলে তিনি সর্বশান্ত হয়ে যান। বৃত্তি না পেলে পরিবারের অন্যান্য সন্তানদের মত তাকেও হয়ত পড়াশুনা বাদ দিয়ে সংসারের ঘানি টানাতে হতো |

 বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ও মাস্টার্স প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েও সম্প্রদায়গত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর পর পঞ্চম বিসিএস এ নির্বাচিত হয়ে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। এখানেও তিনি বৈষম্যের শিকার হন। এতো ভালো রেজাল্ট করা সত্ত্বেও তার ছাত্র রাজনীতির কারণে তাকে প্রথমেই পানিশমেন্ট পোস্টিং এর শিকার হতে হয়। বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপ- মনপুরাতে তাকে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। ছাত্র জীবনে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। অনুষদের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে তিনি ছাত্রলীগের প্যানেলে নির্বাচন করে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। এ কারণে তাকে অনেকবার এ্যারেস্ট করা হয়েছিল। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে তিনি ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের এডিনবরাতে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের সুযোগ পান। সেখানেও তিনি তার প্রতিভার স্বাক্ষর রখেতে সক্ষম হন। তিনি হাই ডিসটিংসন সহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বাঙালীদের মধ্যে প্রথম রেকর্ড সৃষ্টি করেন। যার ফলশ্রুতিতে ব্রিটেনের সবচেয়ে নাম করা টেলিভিশন বিবিসি তার একটি তিন মিনিটের সাক্ষাৎকার প্রচার করলে যুক্তরাজ্যের বাঙালী কমিউনটির মধ্যে তা ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়। এখানেই শেষ নয় তার অভূতপূর্ব ফলাফলের কারণে তাকে ডিউক অব এডিনবরা, কিং ফিলিপ তার হিলসাইড টেরাসের বাগানবাড়ি গার্ডেন পাটিতে তাকে আমন্ত্রণ জানান। এভাবেই তিনি দেশের জন্য বিশাল সম্মান বযে এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন। এই সুবাদে তিনি বিট্রেনের রানী এলিজাবেথ এর বরাবরে বাংলাদেশে কমনওয়েলথ বৃত্তি চালু রাখার আবেদন জানালে তা গৃহীত হয় ও সরকারি সিদ্ধান্ত একটি রাজকীয় এম্ব্রোস করা খামে রানী এলিজাবেথ এর স্বাক্ষরসহ তাকে প্রদান করা হয় এবং ব্যক্তিগত ভাবে তাকেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর পরে ডক্টরেট করার জন্য কমনওয়েলথ কমিশন এ বৃত্তি মজুর করেন। তিনি বৃত্তি প্রাপ্ত হয়ে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোরডান রিসার্স ইনসটিটিউটে ভাইরোলজির উপর গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ সময় তার মা দেশে খুব অসুস্থ হয়ে পরেন। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার তার ডেপুটেশন বাতিল করে জানান যে সরকারি বিধি অনুযায়ী ডেপুটেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাই তাকে গবেষণা স্থগিত রেখে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থায়ই একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা “ওয়াল্ড ইউনির্ভাসিটি সার্ভিসেস” এর জাতীয় কর্মচারী পরিষদের অ্যাসোসিয়েট সেক্রেটারি পদে পর পর দুবার নির্বাচিত হন। এরপর তিনি কাউন্সিলর হিসেবে দক্ষিণ শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এসিও কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 যাই হোক, ১৯৯০ সালে তিনি আবার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেসন্স এর বৃত্তি নিয়ে তিনি ভারতের হরিযানা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভ্রুন বায়োটেকনোলজীতে হাই ডিস্টিংকশন সহ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে সরকারি চাকুরীতে যোগ দিলে আবার তিনি নিবর্তনের শিকার হন। তার নামে এয়ার মার্ক করা কোয়াটার তাকে না দিয়ে অন্য একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর প্রতিকার চাইলে তাঁকে সিলেট এল টি আই এ বদলী করা হয়। সামাজিক এবং চাকুরীতে এই নির্যাতনের কারণে যে মেধার পূর্ণ বিকাশের জন্য কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার স্কিল মাইগ্রেসনের জন্য দরখাস্ত করেন। দুই দেশই তাঁর আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি অস্ট্রেলিয়া আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ও ২০০০ সালে তিনি সপরিবারে এখানে চলে আসেন। এখানে আসার পরেই মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করার সুযোগ লাভ করেন। তার ক্যারিয়ারের আরেকটি দিক হল শিল্প ও সংস্কৃতি। ঢাকাতে চাকুরীর সুবাদে তিনি সেখানকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সাথে জড়িয়ে পরেন। ছেলেবেলা থেকেই মঞ্চনাটকে অংশ গ্রহণ করতেন তিনি। ১৯৯২-৯৩ সালে থিয়েটার স্কুলের ৫ম ব্যাচে প্রশিক্ষণ লাভ করে ঢাকার নামকরা নাট্যগোষ্ঠী- নাগরিক নাট্যাঙ্গনে যোগ দেন ও অনেক মঞ্চ নাটকে কুশীলব হিসেবে কাজ করেন |

 ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী পরিবার নিয়ে, সিডনীর অদূরে গ্রানভিল শহরে বসবাস করেন। এক মেয়ে ও এক ছেলে তাদের সংসারে। ছেলে মেয়েরাও স্ব মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। ব্যক্তি হিসেবে তিনি অনেক সদালাপী ও অমিত ধী শক্তির অধিকারী। দেশের মানুষের দুঃখে তিনি কষ্ট পান, ব্যথিত হন। আর সে কারণেই তিনি অদ্যাবধি নিজের একক প্রচেষ্টায় আটটি চ্যারিটি কার্যক্রম পরিচালন করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইন্দোনেশীয়ায় সুনামি ভিকটিমদের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বাংলাদেশে সিডর এ ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য প্রদান, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সহায়তা, নিগ্রহের শিকার পূর্ণিমা ও নিহত বিশ্বজিৎ-এর পরিবারকে সাহায্য প্রদান, বন্ধু ও সহপাঠী ৪ জনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও বিয়োগজনিত কারণে অর্থ সংগ্রহ করে অনুদান প্রদান। অতি সম্প্রতি তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, অস্ট্রেলিয়ার ব্যানারে বাংলাদেশে বন্যা ও করোনা ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সাহায্যের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদানের টার্গেট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সংগৃহীত সমুদয় অর্থ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে। এই মহান মানুষটি একটি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

 (এই নিবন্ধটি ড. রতন কুন্ডু, তার পরিবার ও বন্ধু বান্ধবদের সাক্ষাতকার এর মাধ্যমে সংকলিত)

আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্মদিন পালন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন পালন করেছে আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া (একাংশ)। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভাতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম (বেলাল) ভিডিও কলের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা এবং সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ডঃ শামস রহমান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু, শাহ্ আলম, শিমুল ফারুক রবিন, মইদুজ্জামান সুজন, অপু সরোয়ার, আনিছুর রহমান, মকসুদুর রহমান চৌধুরী সুমন ,মামুনুর রশিদ, কামরুজ্জামান বাপ্পি, ওসমান গনি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী  শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ সেই প্রত্যাশা করে এবং  কেক কাটার মধ্য দিয়ে  অনুষ্ঠান শেষ করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্মদিন উপলক্ষে সিডনিতে আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার আলোচনা সভা

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সিডনিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। সভাপতি সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক পিএস চুন্নুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে  টেলিফোনে বক্তব্য রাখেন মৎস্য এবং প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ।

মন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশে অন্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসায় শিক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য এসেছে,  বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল এবং এই রোল মডেল এর ম্যাজিশিয়ান হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, বিচারপতি এসকে সিনার নেতৃতে জুডিশিয়াল ক্যু করার চেষ্টা করা হয়েছিলো কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা বার্থ করে দিয়েছেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড: রতন লাল কুণ্ডু।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মোসলেউর রহমান খুশবু, এস এম দিদার হোসেন, সফিকুল আলম, সেলিমা বেগম, এমদাদুল হক বকুল, আব্দুল খান রতন, আবুল বাসার রিপন, আকিদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম রুবেল, জাকারিয়া আল মামুন, আলতাফ হোসেন লাল্টু প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন সিডনী আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুস সালাম।

বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা, দেশের প্রতি তাঁর অবদান ও সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় তাঁর পথচলার কথা তুলে ধরেন এবং সুস্বাস্হ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। অনুষ্ঠান দোয়া মোনাজাত এবং কেক কাটার মাধ্যমে সমাপ্তি করা হয়।

ভিক্টোরিয়ায় কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশী এনামুল হক

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশী ড. এনামুল হক। তিনি গ্রেটার জিলং সিটি কাউন্সিলের উইনডামিয়ার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন।

ড. এনামুল হক সিডনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল এন্ড বয়োমলিক্যুলার ইঞ্জিনিয়ারিং এ পিএইচডি শেষ করে  উলংগন বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় ও  ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক পদে কর্মরত ছিলেন।  তিনি বর্তমানে মেলবোর্নের  আর এম আইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

ড. এনামুল হক অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন কমিউনিটি ও সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট, অরকা অস্ট্রেলিয়ার এক্সিকিউটিভ সদস্য, জিলং চেম্বার অফ কমার্স এর  সদস্য। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নালের বোর্ডের সদস্য।

ড. এনামুল হক জানান, সিটি কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে শুরু করলাম এবং ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি। তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার মূল ধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা অনেক পিছিয়ে আছে  তাই যোগ্যতা সম্পর্ণ ব্যাক্তিরা এগিয়ে আসলে এতদিনে হয়তো  বাংলাদেশী এমপি, মন্ত্রী থাকতো অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে।  সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার মূল ধারার রাজনীতিতে যোগ দিবেন বলেও জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার কাঠামো তৈরির নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে আনন্দিত অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা। উল্লেখ্য করোনার জন্য ডাকযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন অক্টোবরের ৬ তারিখ  থেকে স্থানীয় সকল ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পেপার সরবরাহ করবে।

অস্ট্রেলিয়ায় বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়া বিএনপির (একাংশ) আয়োজনে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সাবেক আমলা, সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান  আব্দুল মান্নানের রুহের মাগফিরাতে দোয়া করা হয়। সিডনি লাকাম্বায়  ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে কেক কেটে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করা হয়।

বিএনপি নেতা নাসির উল্লার সভাপতিত্বে এবং অস্ট্রেলিয়া বিএনপির নেতা ও মূলধারার রাজনীতিক রাশেদুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে  নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রনেতা  রুহুল আমিন ও নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের  সাবেক সাধারন সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চন শাহিনকে অস্ট্রেলিয়া বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রদান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিবলী সোহাইল।  

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে রাখেন যুগ্ম আহবায়ক তাওহিদুল ইসলাম ,ইলিয়াস কাঞ্চন শাহিন,আসরাফুল ইসলাম, সিনিয়র  যুগ্ম সদস্য সচিব ও  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এর জয়েন্ট সেক্রেটারি এডভোকেট শিবলু গাজী,যুগ্ম সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম মিটু,  জাসাস অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি আব্দুস সামাদ সিবলু, জাসাস অস্ট্রেলিয়া শাখার সিনিয়র  সহ সভাপতি ডাঃ শাহজাহান,জাসাস অস্ট্রেলিয়া শাখার  সহ সভাপতি মিজানুর রহমান,নজরুল ইসলাম নাফিস, সেক্রেটারি মোঃ জুমান হোসান(অনলাইন), সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবিদা সুলতানা, যুগ্ম সম্পাদক আহবাব হোসেন সুন্না, সিডনি বিএনপির সেক্রেটারি খালিদ হোসেন , ছাত্রদল সভাপতি মসিয়োর রহমান তুহিন, মহরীপুর জেলার সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ  নূর, যুবদল নেতা  পলাশ ফারুক, যুবদল  সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলিম,  বিএনপি  নেতা আঃ সালাম, মাহমুদুল হাসান সুমন, মুশতাক আহমেদ, নওশাদ প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

বঙ্গবন্ধু তনয়া বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা- বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া

রতন কুণ্ডুঃ বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া এই ক্ষণজন্মা মহিয়সী নারীর জন্মদিনে জানায় প্রানঢালা অভিনন্দন ও অফুরান শুভেচ্ছা।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্টের কালো রাত্রিতে এক বোন ছাড়া বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছিল ঘাতকরা- সেই শোক বুকে নিয়ে দেশের মাটিতে পা রেখে হন্তারকদের বিচারের প্রত্যয় জানিয়েছিলেন; যে বাঙালির মুক্তির জন্য বাবা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাদেরকে ‘হারানো স্বজনদের’ জায়গায় বসিয়ে এই জাতির উন্নয়নে নিজেকে সঁপেছিলেন।

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করে দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তনের সূচনা করেন এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজ সমাধা করে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলেন | জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা খবর পান, ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

১৭ মে শেখ হাসিনা যেদিন দেশে ফেরেন, সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার জনতা জড় হয়েছিল তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে। সেদিন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সভাপতি – ড. রতন কুণ্ডু ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদকঃ জনাব রফিক উদ্দিন ও সে কাফেলায় সামিল হয়েছিলেন।

পঁচাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশকে যেভাবে দেখেছি, গণতন্ত্র বেয়নেট বুলেটে যেভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল, রক্তাক্ত হয়েছিল; সে দেশে বাস্তব অর্থে জীবন-মৃত্যুকে তুচ্ছ মনে করে এ দেশের নিপীড়ত মানুষকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি পা রেখেছিলেন। চট্টগ্রামের লালদিঘীর ময়দান, নাটোরের সমাবেশে, বঙ্গবন্ধু এভেন্যুতে একুশে অগাস্টের গ্রেনেড  হামলা  করে তাঁকে বারবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো | শেখ হাসিনার উপর হামলাসহ তার জেল-জুলুম, কারা-নির্যাতন, এসব শুধু তার পথ চলার পাথেয় নয়, বলতে গেলে প্রতিক্ষণের সঙ্গী। কিন্তু নিজের উপর আক্রমণের বিচার কিন্তু হয়নি। তার প্রতিজ্ঞা এত সুকঠিন ছিল যে তিনি তা থেকে এক চুলও নড়েননি।

শেখ হাসিনার সে প্রতিজ্ঞা ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্যে তিনি যে শুধু পিতৃহত্যার বিচার করেছেন, তা নয়। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। যে আইনের শাসন বাংলার মানুষ ভুলেই গিয়েছিল। সে বিচার করেছেন কোন আদালতে? সাধারণ মানুষ যে আদালতে গিয়ে পিতা হারানোর বিচার চায়, সেই আদালতেই। আজকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র এসেছে, এটা কার লড়াইয়ের বিনিময়ে বাংলার মানুষ জানে।

একজন কন্যা তার অন্তহীন যাত্রা… ঝড়-জল-আঘাত-বুলেট-গুলি…রক্তাক্ত ও কণ্টকাকীর্ণ পথ যাকে কোনো অবস্থাতে দমাতে পারেনি। নবম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে জিতে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা সুফল যখন জনগণ এখন পেতে শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে অভূতপূর্ব বিজ্ঞানমনস্কতা, আজকে উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে আমরা সারা পৃথিবীর সঙ্গে সহজে নিজেদের যুক্ত করতে পারছি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ নেতা যোগ দিয়েছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায়। যারা যোগ দেননি, তাদের কেউ জেলে, কেউ পালিয়ে বেড়িয়েছেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত যেসব কাজ সম্পূর্ণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, দলের ভেতরে-বাইরে সব বৈরিতা মোকাবেলা করে তিনি যে পুরো পথটা হেঁটেছেন, সেদিন তিনি যে অঙ্গীকার করে করেছিলেন, তার অধিকাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন বলে আমরা মনে করি। ১৭ মের সংগ্রামের আরেকটা রূপ আমরা দেখি ২০০৭-০৮ সালে বন্দি হওয়ার আগে তিনি যেমন বলেছেন, বাংলার মানুষ আন্দোলন করে, সংগ্রাম করে আমাকে অবশ্যই মুক্ত করবে, এ সরকার অবশ্যই নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে এবং সে নির্বাচনে বাংলার জনগণ নৌকাকে জয়ী করবে।

“এই যে প্রত্যয়, আমার মনে হয় না এটি তার আশা ছিল, এটি ছিল তার স্বপ্ন, এটি তিনি বিশ্বাসও করতেন। আমার কাছে মনে হয়, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার গভীরতা থাকলে, সে ধরনের ইতিহাসবোধ থাকলে, মানুষের সাথে সম্পৃক্ততা থাকলে ভবিষ্যৎ দেখবার দৃষ্টি মানুষের তৈরি হয়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া এই মহান নেত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করছে।

সিডনীতে সিস্টার হুডের বসন্ত বরণ

সিডনীতে বসন্ত এসে গেছে। করোনা আক্রান্ত বিশ্বে বসন্ত যেনো দোরগোড়ায় কড়া নেড়ে যাচ্ছে। বসন্তের হাওয়া দোলা দেয় সবার মনে। এই বসন্ত উদযাপনের লক্ষ্যে সিডনীর বাংলা শহর খ্যাত  ল্যাকেম্বা তে বসেছিলো প্রানের মেলা। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুরে সিস্টার হুডের মহিলারা করোনা কালে সীমিত পরিসরে ল্যাকেম্বার জুবিলী রিসার্ভে বসন্ত বরণের আয়োজন করে। সবাই হলুদে সবুজের রঙে নিজেদের সুসজ্জিত করে এসেছিল আর বাংলার ঐতিহ্যগত  বিভিন্ন রকমের ভর্তা ও সাথে মিষ্টান্নর আয়োজন করেছিল।

মেয়েরা আনন্দে মেতে উঠেছিল বালিশ খেলা সহ বিভিন্ন খেলা এবং অংশ গ্রহণ করেছিল গান, নাচ, ছড়া এবং কৌতুকে যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রার  বিনোদন দিয়েছে। এই বসন্ত বরণের প্রাণের মেলায় অংশ নিয়েছিলেন তুলি, রুবনা, পলি, লিজা, আবিদা, শারমিন , সুইটি, শ্রাবণী, শিখা, রোজিনা, রুমানা, সিনথিয়া প্রমুখ।

জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি

শতদল তালুকদার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দাদের সংগঠন “জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া” ২০২০-২০২১ জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ( শনিবার) অনুষ্ঠিত ভার্চুয়্যাল প্লাটফর্ম জুম অ্যাপের মাধ্যমে সংগঠনের অধিকাংশ সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন বছরের জন্য কমিটি দেওয়া হয়েছে। আর এ কমিটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে ।

সংগঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী এ বছরের কমিটি নবায়ন করা হয়েছে। সকলের সম্মতিতে সজল পালিত নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। আর তিনি সংগঠনের সদস্যদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধক্ষ ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ প্রদান করেন।

নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আশীষ রায়, সহ-সভাপতি নির্মল চৌধুরী। আর দিবাকর মজুমদারকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। কোষাধক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুদীপ্ত বোস কে। অন্যান্য নির্বাহী সদস্যবৃন্দ হলেন সুদর্শন দাস, পলাশ বিশ্বাস, শিব চক্রবর্তী, প্রদীপ রায়, পংকজ বাড়ৈ, রিপন পাল ও জ্যোতি বিশ্বাস। (ফাইল ছবি)

প্রাক্তন

চেনা এই নগরীতে আবার তোমার সাথে দেখা

শুধু আমার জায়গায় অন্য কেউ তোমার পাশে,

জানিনা কেন এখনও অশ্রুসিক্ত হয়ে আঁখি

স্মৃতিগুলো বারবার হৃদয়ে ভাসে।

ভালোবেসে তুমি আমায় ‘পাগলী ‘বলে ডাকতে

আমার পাগলামি ও ছিল অদ্ভুত

মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলতাম-

ভালোবাসো আমায়?

তুমি ঘুম ঘুম চোখে উত্তর দিতে

হুম! পাগলী আমার!

আমি একটু একটু করে করে নিজেকে

হারিয়ে ফেলেছিলাম তোমার ভিতর,

আমার সমস্ত অস্তিত্বে

মিলেমিশে তুমি একাকার।

আমি একটা সময় সত্যিই

তোমার জন্য পাগল,

আর তুমি! একটু একটু করে

ভাঙতে শুরু করলে

আমার ভালোবাসার আগোল।

তোমার সেই অবহেলায় অনেক কেঁদেছি

এখন চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে

কাঁদতেও আজ ভুলে গিয়েছি

নিজেকে খুঁজি নিঃসঙ্গতার মাঝে।

তুমি নতুন সাথীকে নিয়ে

বেঁধেছ সুখের ঘর

এখন তুমি অন্য কারো বর।

আর আমি!

সেই প্রাক্তনেই আটকে আছি।

তোমার জায়গাটা যে আমি

অন্য কাউকে দিতে পারিনি।

জানো! আজও তোমার নামেই সিঁদুর পড়ি

সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালিয়ে

তোমার জন্যই অপেক্ষা করি।

কি বোকা আমি তাই না!

তুমি তো কবেই আমাকে ছুড়েঁ ফেলেছ

কবেই দিয়েছ বিসর্জন।

তোমার কাছে তো আমি শুধুই ” তোমার প্রাক্তন”।

লাভলী রায়