আজ জ্ঞান তাপস অধ্যাপক মোল্লা মোঃ রিয়াছত উল্লাহর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী

অধ্যাপক মোল্লা মোঃ রিয়াছত উল্লাহ একজন জ্ঞান তাপস সজ্জনব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। চাঁদপুর জেলার মতলব (দঃ) থানার কদমতলী গ্রামে ১৯৪১ সালের ১০ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহন করেন। উনার পিতার নাম মৌলভী মুখলেছুর রহমান, মাতার নাম মোসাম্মৎ রাশিদা খাতুন। বাবার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব (দঃ) থানার কদমতলী গ্রামে আর মায়ের বাড়ি চাঁদপুর সদর থানার পুরানবাজার এলাকায়। চাঁদপুরের বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি জনাব নাসির উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে উনার আপন খালাতো ভাই হন।

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত ত্যাগের রাজনীতির এক উজ্জ্বল উদাহরন হচ্ছেন মোল্লা মোঃ রিয়াছত উল্লা, যার শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় মতলব জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। সেখান থেকে মেট্রিক পাস করেন। এরপর চাঁদপুর সরকারী কলেজ অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজনীতির প্রকৃত হাতেখড়ি ঘটে এবং তিনি চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে ইন্টার মিডিয়েট পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম দশের মধ্যে অবস্থান করে ভর্তি হন ইংরেজী বিভাগে। পড়াশুনার সাথে চলে তুখোড় রাজনীতি। উনার বন্ধু বাংলা একাডেমীর পরিচালক বিখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরীর মতে তখন রাজনীতি করতোই উনার মতো মেধাবীরা। অমেধাবীরা রাজনীতিতে স্থানই পেত না। তাই উনার মতো মেধাবীরা এগিয়ে এসেছিলেন দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতিতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাষ্টার্স পাশ করেন।

ষাটের দশকের শুরুতে যখন পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশ উত্তপ্ত তখন উনি ৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও হলের ভিপি নির্বাচিত হন।  এরপর তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৬৩-৬৪ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের পক্ষে ভিপি পদে নির্বাচন করেন। ওই সময় বাংলার প্রাক্তন মূখ্যমন্ত্রী (১৯৪৬-৪৭) ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৬-৫৭) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী লেবাননে মৃত্যুবরন করায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামীলীগ শোক বিহবল থাকার কারনে বঙ্গবন্ধু ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি উনাকে কোন সহযোগীতা করতে পারেন নি। ফলশ্রুতিতে মাত্র এক ভোটের ব্যাবধানে জিতে যায় ছাত্র ইউনিয়নের ভিপি পদপ্রার্থী জনাব রাশেদ খান মেনন (জিএস পদে বিজয়ী হন ছাত্র ইউনিয়নের মতিয়া চৌধুরী)। এরপর বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফজলুল হক মনির স্নেহধন্য হয়ে তাদের পরামর্শে রাজনীতি চালিয়ে যান ও ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থানের সময় আন্দোলনে শরীক হন।  এলাকার মানুষের জন্যে উনার এত প্রবল ভালোবাসা ছিল যে উনি ঢাকার তেজগাঁও কলেজ ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া কলেজের শিক্ষকতা বাদ দিয়ে নিজের এলাকায় চলে আসেন ও উনার শিক্ষক পাটোয়ারী স্যারের অনুরোধে মতলব ডিগ্রী কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। শুধু তাই না, বিয়ের পর উনার স্ত্রীকে রংপুর সরকারী মহিলা কলেজ থেকে নিয়ে এসে সদ্য প্রতিষ্ঠিত মতলবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেওয়ান। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে পুরো পাকিস্তানে ১০৯ তম হয়েও শুধুমাত্র ছাত্রলীগ করার অপরাধে উনাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়নি এবং উনি সরকারী আমলা হতে পারেন নি।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে চাঁদপুরের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ জনাব মিজানুর রহমান চৌধুরীর আত্মীয় ও আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির স্নেহধন্য হয়ে মনোনয়ন লাভ করেও ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারনে নির্বাচন করতে পারেন নাই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার ইচ্ছে থাকলেও হানাদার বাহিনীর কারনে যেতে পারেন নি। তরুন যুবনেতা হবার কারনে হানাদার বাহিনীর শর্তই ছিল উনাকে প্রতিদিন থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে, নইলে উনার পুরো গ্রাম তারা জালিয়ে ছাড়খার করে দেবে। তাই উনি সংগঠকের ভুমিকা পালন করেন। নিজের আত্মীয় স্বজনসহ অনেককেই উনি মুক্তিযুদ্ধে পাঠান। এটা টের পেয়ে উনার বাস ভবনে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী প্রথমে লুটপাট করে ও পরে অগ্নি সংযোগ করে ভস্মিভুত করে দেয়। এসময় উনি ও উনার স্ত্রী (মিসেস রহিমা খাতুন – প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা, মতলবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়) সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হন। এ সময় স্বামী-স্ত্রী দুই জন চাকুরীচ্যুত হন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু উনাকে বাংলার বানী পত্রিকার সম্পাদক অথবা বাংলাদেশ বেতারের ডাইরেক্টার হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চান বলে ঢাকায় যেতে চাননি। তখনকার চাঁদপুর মহকুমায় রাজনীতি চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৭১ সালের পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অদর্শের রাজনীতিতে অবিচল থেকে মতলবের রাজনীতিতে আজীবন অসামান্য অবদান রাখেন।


১৯৭৫ সালের পরবর্তী দুঃসময়ে যখন আওয়ামী লীগ করার জন্যে লোক খুজে পাওয়া যেতো না তখনও তিনি অসীম সাহসে তার রাজনৈতিক কাজ চালিয়ে যান।  তখন আওয়ামী লীগ বিভেদ দেখা দিলে তিনি মিজানুর রহমান সাহেবের আত্মীয় হয়েও তার সাথে যোগ না দিয়ে মুল ধারার আওয়ামী লীগে (আব্দুল মালেক উকিলের সভাপতিত্বে থাকা গ্রুপ – যাদের কাছ থেকে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা সভাপতির দায়িত্ব বুঝে নেন) কাজ করে যান ও পরে অবিভক্ত মতলব থানা শাখার সভপতি হন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে তিনি এ অঞ্চলে অওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের কে সংগঠিত করে রেখেছিলেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসার পর তিনি পর পর দুই বার পুনরায় অবিভক্ত মতলব থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। জেনারেল এরশাদের শাসনামলে যখন অনেকেই জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন ও যখন বাংলাদেশে ফ্রীডম পার্টির মহোৎসব চলছিল তখন মতলবে আওয়ামী লীগের একজন প্রাক্তন সংসদ সদস্যসহ অনেকেই দল ছাড়েন, তখনও উনি দলচ্যুত না হয়ে দৃঢ়তার সাথে আওয়ামী লীগের জন্যে কাজ করে যান। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে উনি আওয়ামী লীগ মনোনীত লোকের জন্যে কাজ করেন।

জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাক্কা থাকায় উনি উনার কর্মীদের নিয়ে রাতের আঁধারে বৃষ্টির মধ্যে “চিকা” মারতেন যাতে লেখা থাকতো “বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাই”। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে উনি শোক দিবসের অনুষ্ঠান করতেন কিন্তু তৎকালীন সরকার ও পুলিশের ভয়ে দু একজন ছাড়া কেউ অনুষ্ঠানে আসতো না। মাইক লাগিয়ে রাখতেন বাজারের দিকে। লোকে জিজ্ঞেস করতো প্রফেসর সাহেব, লোক নাই, মাইক লাগিয়েছেন কেন? উনি বলতেন মাইক লাগিয়েছি যাতে যারা এখানে আসতে সাহস পাচ্ছে না, তারাও যেন দোকানে বসে বসে বঙ্গবন্ধুর কথা শোনে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর নাম ও প্রকৃত ইতিহাস শুনে বড় হয়। সারা জীবন অধ্যাপনা করে যা বেতন পেতেন তার সবটুকুই ব্যয় করতেন কর্মীদের জন্যে। সারা জীবন দিয়ে যাওয়া ছাড়া রাজনীতি থেকে কামাইয়ের কথা উনি চিন্তাও করতে পারতেন না।  

জননেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনপুস্ট হয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর – ৩ (বর্তমানে চাঁদপুর-২ ও ৩ এর কিছু অংশ) নির্বাচনী আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের ভারত বিরোধী ও আওয়ামী বিরোধী প্রপাগান্ডা ও বিএনপির টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার কৌশলে উনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। অনেককেই বলতে শোনা যায়, স্যার অধিকতর যোগ্য হওয়া সত্তেও স্রেফ আওয়ামী লীগ প্রার্থী হবার কারনে হেরে গেলেন। সেই প্রপাগান্ডা কারীরা অনেকেই আজও বেঁচে আছেন। তাদের প্রপাগান্ডা বুঝে হোক, না বুঝে হোক দিয়ে যাচ্ছেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে !!

১৯৯৬ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই আওয়ামী লীগ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। উনি এরপর চাঁদপুর জেলার রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট হন। উনি দীর্ঘদিন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ছিলেন ও পরবর্তীতে ২০০৫-০৬ সালে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হন। 

রাজনীতি ছাড়াও উনি অনেক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ৭০ এর দশকে তিনি বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি হন এবং পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি দুই বার মতলব থানা সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি আমরা ধুমপান নিবারন করি (আধুনিক) এর মতলব থানার আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। তিনি মতলব কল্যান পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ দিন।

অধ্যাপক মোল্লা মোঃ রিয়াছ উল্লা জীবনের অধীকাংশ সময় মতলব ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে এই জ্ঞান তাপস একাদিক বার শ্রেষ্ট শিক্ষক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি কিছু দিন ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকায় সাংবাদিকতাও করেছেন। ৯০ এর দশকে সংবাদ পত্রিকায় তার লেখা “কবিতায় উত্তর আধুনিকতা” প্রবন্ধটি পাঠক মহলে বেশ সারা পড়ে ছিল। কবিতা লেখায় তিনি সিদ্ধ হস্ত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাদামাঠা জীবন যাপনে অভ্যস্থ ছিলেন। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের সাথে সব সময় নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন। মতলবের প্রিয়মুখ সদা হাসোজ্জল নিরহংকারী জ্ঞান তাপস এই অধ্যাপক জাতীয় ইতিহাস পরিষদের সদস্য ছিলেন।


অধ্যাপক মোল্লা মোঃ রিয়াছত উল্লা জীবনব্যপী জ্ঞান অর্জন এবং জ্ঞান দান করে গেছেন। উনার হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী দেশ বিদেশে ছড়িয়ে আছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রেখে ছিলেন। মতলবের শ্রেষ্ঠ বিদ্যা পিঠ মতলব ডিগ্রি কলেজের তিনি ছিলেন জ্ঞানের বাতি ঘড়। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ও তিনি কাজ করেছেন। ধর্মীয় মূল্যবোধে তিনি জীবন পরিচালিত করতেন। তিনি মতলব হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। এছাড়া তিনি মতলব হাজীর ঢোন মসজিদ নির্মাতাদের একজন (উনার স্ত্রী মিসেস রহিমা খাতুন ছিলেন এর উদ্যোক্তা)।


জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মানের এই আদর্শের সৈনিক অজীবন সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে গেছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অধ্যাপক মোল্লা মোঃ রিয়াছত উল্লার ছিল অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস। ১/১১ এর জননেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেফতারের ঘটনার উনি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন ও নেত্রী মুক্তির দাবীতে আন্দোলনে শরীক হন।  


২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর একজন মানুষের উপকারার্থে গিয়ে উনি কুমিল্লার চান্দিনায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জীবনের শেষ মুহূর্তেও উনি মানুষের উপকার করার রাজনীতি করে গেছেন। মৃত্যুকালে উনি দুই ছেলে রেখে যান। উনার বড় ছেলে মোল্লা মোঃ রেজাউল হক একজন ব্যাবসায়ী আর ছোট ছেলে আলহাজ্জ মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ও মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি, মেলবোর্ন বাংলাদেশী কম্যুনিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ও মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। উনার মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার পরিবার সবার কাছে উনার জন্যে দোয়া চেয়েছেন। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন। আমিন। ( প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

আজ স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা নূরুল আজাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা নূরুল আজাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী।

কীর্তিমান নূরুল আজাদ ২০১৬ সালের এই দিনে পরলোক গমন করেন। তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঙালি কমিউনিটির প্রিয় মুখ ও প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজের অন্যতম অভিভাবক।

তিনি ব্যক্তি জীবনে সৎ, নির্লোভ বহুমাত্রিক কৃতিত্বের অধিকারী একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন। যিনি সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সমাজের জন্য নিরবে-নিভৃতে কাজ করে গেছেন। সমাজকে আলোকিত করার এক মহাকর্মযজ্ঞে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন সারাটি জীবন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী আলোকিত মানুষটির ছিল সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ গুণ । খোলা মনে তিনি সকলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।

এই মহান মানুষের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মরহুমের জন্মস্থানের মানুষের আয়োজনে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমেরই প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নূরুল আজাদ কলেজ’, মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৩৭ নং বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হবে।

মরহুম ‘নূরুল আজাদ ছিলেন চাঁদপুরের ক্ষণজন্মা পুরুষ, যার মধ্যে দেশপ্রেম ও শিক্ষাপ্রীতি ছিলো অসামান্য। তিনি তাঁর জীবনকে ব্যয় করেছেন মানবতার সেবায়, তাকে ‘স্বদেশ বার্তা’ পরিবার গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে।

নূরুল আজাদের জ্যেষ্ঠপুত্র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বাবার স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজীবন বুকের মাঝে ধারণ করেছেন এবং মাতৃভূমির জন্য সারাজীবন সাধ্যমত কাজ করে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাংলাদেশে ও অস্ট্রেলিয়ায় স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া তিনি তাঁর পিতার জন্য সবার নিকট দোয়া চেয়ে অনুরোধ করেছেন।

নূরুল আজাদের জীবন ও কর্ম: চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্ম নেয়া মরহুম নূরুল আজাদ অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমিয়ে শুরু করেছিলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। যাত্রা শুরু করার পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে। সোনার হরিণের খোঁজে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানো স্বদেশীদের কর্মসংস্থানেও সবার প্রিয় এ ‘নূরুল আজাদ ভাই’ ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পরে তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’-কে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি  আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ মেলা যাত্রা শুরু করে। প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীদের নিয়ে তিনি এ মেলা উদযাপন করতেন। খেলাধুলার প্রতি ছিল তার অন্য রকম ভালোবাসা। নিজে অংশগ্রহণ করে পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে প্রতি বছর কৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, যা বর্তমানে ‘নূরুল আজাদ গোল্ডকাপ’ নামে পরিচিত।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’ প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া সফর কালে তাঁর হাতেও ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকা তুলে দেন । ‘কচুয়া ফাউন্ডেশন ঢাকা’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান পৃষ্টপোষকও তিনি। নিজ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একাধারে গরীব-দুঃখী মানুষের আপনজন ও সমাজসেবক হিসেবে সবার কাছে খুবই প্রিয়জন ও পরিচিত ছিলেন। নূরুল আজাদ ছিলেন কচুয়া উপজেলার একটি নাম, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সংগঠন, একজন সমাজ সেবক সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র হিসেবে নিজেকে শীর্ষে পৌছে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি তথা নিজ জন্মভূমির মানুষের মধ্যে যে শূণ্যতা তৈরি করে গেছেন তা আজও অপূরণীয়।

সিডনিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় শোক দিবস পালন

গত ১৫ অগাস্ট (রোববার) বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া ভার্চুয়াল মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালন করে। সংগঠনের সভাপতিঃ ড. রতন কুন্ডুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় মালিক সাফি জাকি ও ফারিয়া আহমেদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর  রাষ্ট্রদূত জনাব সুফিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল ফর বাংলাদেশ খন্দকার মাসুদুল আলম ও ঢাকা থেকে যুক্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন ম্যাকুউরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রাক্তন ডিন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কোরান, গীতা ও ত্রিপিটক থেকে যথাক্রমে পাঠ করে শোনান ড. নজরুল ইসলাম, পূরবী পারমিতা বোস ও জিনাশীষ বড়ুয়া। দোয়া পাঠ পরিচালনা করেন ড. নজরুল ইসলাম। এরপর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট সকল শহীদানদের আত্মার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য সবাই মৌনমুখে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে বর্তমান প্রজন্মের ইনান ও জয়া তালুকদার বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের উপর একটি কথিকা পাঠ করে। আরেক ছোট্ট সোনামনি মুনতাহার হক মুন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার ভাবনা প্রকাশ করে। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান।

 সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান, জ্যেষ্ঠ সহ  সভাপতি এমদাদ হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুস্তাফিজ তালুকদার মঞ্জু।

এমিরেটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু কতৃক দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের বিশদ পরিমার্জন ও পরিবর্তন করে আমাদের জন্য একটি সঠিক আইন প্রণয়ন করেন। তিনি প্রতিটি আইনের চুল চেরা বিশ্লেষণ করে প্রমান করে দেন যে বঙ্গবন্ধু কতটা প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী ছিলেন। এরপর একে বক্তব্য রাখেন ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেন গভর্নেস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. দাউদ হাসান, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ড. কাইয়ুম পারভেজ,  গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবু তাহের মল্লিক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক, বাসভূমির কর্ণধার আকিদুল ইসলাম মাতৃভাষা সংরক্ষণ আন্দোলনের পুরোধা শ্রী নির্মল পাল, বিডি হাবের সভাপতি কৃষিবিদ আবুল সরকার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন স্বপন, মেলবোর্ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ রাশেদুল হক ও সারা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে যোগদানকৃত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি ঢাকা থেকে সংযুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তিনি বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের বর্ণনা করে তার উপর আরো গবেষণা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়াকে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

ড. দাউদ হাসান নদী প্রশাসন, অধিকার ও আন্তর্জাতিক হিস্যা বুঝে নেবার জন্য বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার ও অবদানের বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, সে কারণেই ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই মহৎ কাজে জড়িত সবাইকে সাধুবাদ জানান। বলা বাহুল্য এই স্থাপনাটি বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর প্রথম প্রতিমূর্তি। এটি আমাদের আমাদের অনেক গর্বের বিষয়।

 প্রধান অতিথির ভাষণে মান্যবর হাই কমিশনার সুফিউর রহমান প্রতিবছর শোকদিবস পালনের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধুর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড আপাতদৃষ্টে একটি নাশকতামূলক কাজ মনে হলেও এর পেছনে ছিলো এক গভীর ষড়যন্ত্র। হত্যাকারীরা এই হত্যার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা ও আপামর বাঙালির সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলো। কিন্তু তারা তা করতে সমর্থ হয়নি। তার মূল কারণ হলো তাঁরই সুযোগ্য কন্যা আজ দেশের হাল ধরেছে। তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তাই আসুন দেশে বিদেশে আমরা যাঁরা আছি সবাই মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম বিশেষ অতিথির ভাষণে জাতির পিতা ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডটি ইতিহাসের ঘৃণ্যতম হত্যাকান্ড বলে বিবেচিত। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে কখনোই বাঙালি জাতির হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবেনা। তিনি শোককে শক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান।

আমাদের কথার কর্ণধার পূরবী  পারমিতা বোস বঙ্গবন্ধুর উপর একটি কবিতা আবৃত্তি করে  সবাইকে মুগ্ধ করেন। শতাধিক লোকের এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে উপস্থিত সবাই কোনো ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই অত্যন্ত তথ্যবহুল আলোচনার জন্য সন্তোষ ব্যক্ত করেন। সংগঠনের সভাপতি ড. রতন কুণ্ডু যোগদানকৃত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস ও করোনামুক্ত বিশ্ব কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন স্থানীয় সময় আজ ১৪ আগষ্ট (শনিবার) সন্ধ্যা ৭ টায় সিডনিতে জাতীয় শোক দিবস ও করোনামুক্ত বিশ্ব কামনায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

এছাড়াও সিডনিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণকারী মোঃ আসাদুস জামান সহ দেশ ও প্রবাসে করোনায় আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য লাভ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে এই দোয়া করা হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মেদ আসলাম মোল্লার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মোফাসসিরে কুরআন ডঃ মুফতী মাওলানা মুহাম্মাদ কফীলুদ্দীন সরকার সালেহী (গভর্নর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যক্ষ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা, খতিব- আমিনবাগ জামে মসজিদ-ঢাকা)।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সদস্য ছাড়াও সিডনি প্রবাসি কমিউনিটির সিনিয়র ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

সিডনিতে কোভিড কেড়ে নিলো একজন বাংলাদেশীর প্রান

স্থানীয় সময় গত ১ অগাস্ট (রবিবার) বিকাল সোয়া চার টায় সিডনির হোলসওরদ্ধি নিবাসী প্রবাসী বাংলাদেশী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (৯৬) লিভারপুল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্নাহ ইলেইহে রাজেউন)। গত ৩ অগাস্ট নারেলেন কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মরহুমের ছেলে মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, তার বাবা গত ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) তার হোলসওরদ্ধি বাসায় হঠাৎ চেয়ার থেকে পরে গিয়ে বমি করলে তাকে দ্রুত লিভারপুল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার বাবার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পরলেও কোভিড পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। হাসপাতালে ভর্তির পর তার ফুসফুসের সংক্রমণ কমে গেলে গত শুক্রবার দুপুরে তার বাবাকে এজ কেয়ার সেন্টারে স্থানন্তরিত করা হয়। দুর্বলতা কমে গেলে সোমবার তাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবে বলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানান।

মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান আরও জানান, গত ২৬ জুলাই (সোমবার) সকাল ১০ টায় ডাক্তাররা ফোনে তার বাবার কোভিড ধরা পরায় হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে পরবর্তীতে সিঙ্গেল রুমে রেখে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। মরহুমের মৃত্যুর পর গত ৩ অগাস্ট (মঙ্গলবার) সকাল ১০ টায় হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ পুলিশের মাধ্যমে ল্যাকাম্বায় ফিউনারেল সেন্টারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরহুমের বাড়ি বাংলাদেশের পাবনায়। তিনি গত ৯৬ সাল থেকে সস্ত্রীক সিডনিতে বসবাস করছিলেন। ৫ বছর আগে মরহুমের স্ত্রী মৃত্যুবরন করলে তাকেও নারেলেন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। সিডনিতে মরহুম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তারা বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সংতপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার আগামী শুক্রবার জুম্মায় নামাজের সময় ভার্চুয়াল দোয়ার আবেদন করবে বলে জানিয়েছেন সেন্টারটির সাধারণ সম্পাদক ডঃ আনিসুল আফসার। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনও দোয়ার আবেদন করবে বলে সংগঠনটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।  

করোনা মুক্তি কামনায় সিডনিতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সময় আজ ৬ আগষ্ট (শুক্রবার) রাত ৯ টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে সিডনি প্রবাসি মাহমুদ তিতাস ও অন্যান্য করোনা আক্রান্তদের রোগ মুক্তি কামনায় এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সিডনির গ্রীনএকর নিবাসী মাহমুদ তিতাস করোনা আক্রান্ত হয়ে ক্যাম্পবেলটাউন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য্যরাও একই হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তিতাসের বাবা করোনা আক্রান্ত হয়ে আজ দুপুরে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেন (ইনালিল্লাহি ও’য়া ইন্না ইলাহি রা’জিউ)। এছাড়াও সিডনির বেশকিছু সংখ্যক বাংলাদেশী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং আরেক প্রবাসি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তিতাসের বাবার রূহের মাগফেরাত কামনা, দেশ ও প্রবাসে করোনায় আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য লাভ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দোয়া পরিচালনা করেন সিডনি সেন্টমেরি মসজিদের পেশ ইমাম হযরত মাওলানা শেখ আবু হুরায়া আল আজহারী।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সদস্য ছাড়াও সিডনি প্রবাসি কমিউনিটির সিনিয়র  ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদ গঠিত

স্থানীয় সময় ২৮ জুন (বুধবার) এক জুম সভায় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। মোহাম্মাদ আবদুল মতিনকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী পরিষদের নাম ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- মোহাম্মেদ আসলাম মোল্লা (সিনিয়র সহ-সভাপতি), মোহাম্মাদ রেজাউল হক (সহ-সভাপতি), ড. তারিকুল ইসলাম (সহ-সভাপতি) আতিকুর রহমান (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), দিলারা জাহান (কোষাধ্যক্ষ), হাজী মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), তাম্মি পারভেজ (সাংস্কৃতিক সম্পাদক) ও মোহাম্মাদ জিয়াউল কবির (মিডিয়া অ্যান্ড কমুনিকেশন সম্পাদক)। কার্যকরী পরিষদের সম্মানিত সদস্যরা হলেন- ড. রতন কুন্ডু, আকিদুল ইসলাম ও নাইম আবদুল্লাহ।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, মিডিয়া এখন গোটা পৃথিবীতেই প্রচলিত প্রথা ভেঙে নতুন নতুন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় আমরা মিডিয়ার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগকেও ধারণ করেছি। ফলশ্রুতিতে প্রবাসে ও দেশের নানা পেশার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা পালন করছি মানবিক দায়িত্ব। অনুভব করেছি আমাদের সংগঠনকে কাঠামোগতভাবে আরো বৃহত্তর পরিসরে নির্মাণ করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে আমাদের এই নতুন সংগঠনের স্বপ্ন যাত্রা শুরু।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও বাংলাদেশী সাংবাদিকরাও আমাদের নতুন সংগঠনের গর্বিত সদস্য হয়ে দেশে ও প্রবাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহন সহ নানা কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালনের দ্বার উম্মুক্ত হল।

বিগত দিনগুলোর মতই উন্নত দেশ গঠনে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা, মুক্ত আলোচনা, কমিউনিটি ডায়ালাগ, মতবিনিময় সভা, সেমিনার, গণসংযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন, বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিক সহযোগিতায় অনবদ্য ভূমিকা ও মানবতার পাশে দাঁড়াবে ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’।

সিডনিতে অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের উদ্যোগে ঈদের দিন বুধবার সকালে ভার্চুয়াল আলোচনা

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এবার অষ্ট্রেলিয়া সহ সারা বিশ্বে ঈদুল আযহা উদযাপনে ভিন্ন রকম আবহ তৈরি হয়েছে। এবারে কোরবানির আয়োজন সীমিত, তেমনি সবাই মিলে নামাজ পড়া বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার মতো প্রচলিত রীতিতে দেখা গেছে বড় ধরণের পরিবর্তন। নিউ সাউথ ওয়েলসে ক্রমবর্ধমান করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। ফলে এবার সিডনীতে কোন নামাজের জামাতের আয়োজন করা হয়নি। এমনকি একে অপরের সাথে সৌহার্দ্য বা বাসায় গিয়ে সাক্ষাতের কোন সুযোগ নেই। সরকার কঠোর জরিমানা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যনীতি নিয়ম প্রয়োগের ঘোষনা করেছেন। ফলে অনেকটা চার দেয়ালের মধ্যেই কাটবে কমিউনিটির ঈদ।

বৃহত্তর ক্যাম্বেলটাউন এলাকার অন্যতম বৃহত্তর জামাতের আয়োজক অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার (এএমডব্লিওসি) আগামীকাল ২১ জুলাই (বুধবার) ঈদুল আযহা উদযাপিত করার ঘোষনা দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারের মত ঈদের জামাত এবং কোরবানীর ব্যবস্থা  স্থগিত করা হয়েছে। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ড. আনিছুল আফছার জানান, ঈদের দিন অর্থাৎ ২১ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় জুম  এ্যাপসের মাধ্যমে ঈদের লেকচার বা বয়ান (Substitute of Kutba) এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার  কমিউনিটি সদস্য-সদস্যারা এ আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহন করতে পারবেন। পাশাপাশি একে অন্যের সাথে ভার্চুয়াল ঈদের আনন্দ শেয়ার করতে পারবেন।

Meeting date & time: Wednesday, 21 July 2021; 8.30 am to 9.30 am

Meeting ink: https://us02web.zoom.us/j/82003277231?pwd=eWlTd2EwZ05DeDlmenpIU04zdjcvQT09

Meeting ID: 820 0327 7231, Passcode: 944983

Please get ready with Eid dress and join this meeting with your family and friends.

অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার কর্তৃক আয়োজিত ভার্চুয়াল লেকচার অনুষ্ঠানে বয়ান করবেন হাফেজ ও মাওলানা আবদুল হাদী তানভির। সকলকে পরিবার সহ অংশগ্রহন করার বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে। দিন দিন করোনার প্রভাব বাড়ছেই। আল্লাহ তায়ালা সকলকে করোনার প্রভাব থেকে রক্ষা করুন। সকল মুসলিম ভাইদের ঈদ উদযাপন ও মসজিদে নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। ঈদ মোবারক।

পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ অস্ট্রেলিয়া- বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

এক বার্তায় তারা বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা মহান আল্লাহর প্রতি অপরিসীম আনুগত্যের অনুপম নিদর্শন।এই ঈদ মুসলিম জাতির ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরো সুসংহত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

তারা আরো বলেন, এইবারও এমন একটি সময়ে ঈদ-উল আযহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে যখন সমগ্র বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে তটস্থ। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ধৈর্য্য ও সহনশীলতা অপরিহার্য। ঈদ সবার জন্য আনন্দপূর্ণ ও কল্যাণকর হোক। মহান আল্লাহ্ আমাদের সকলকে ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে হেফাজত করুক।

সিডনিতে ঈদুল আযহা আগামী ২০ ও ২১ জুলাই

মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব নিস্তব্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় করোনা পরিস্থিতি রাজ্যভেদে ভিন্ন। সিডনি সহ বেশ কিছু রাজ্যে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

সিডনিতে এবারও দুই দিনব্যাপী ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে গত ১১ জুলাই জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ‘মুন সাইটিং অস্ট্রেলিয়া’র পক্ষ থেকে আগামী ২১ জুলাই (বুধবার) ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল’ আগামীকাল  ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

কঠোর লক ডাউনে সিডনিতে বসবাসরত মুসলিম উম্মাহ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজ নিজ বাড়িতে থেকে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করবে। সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারে স্থানীয় গ্রোসারি শপ ও মসজিদ কমিটির তত্বাবধানে অত্যন্ত সীমিত ভাবে তাদের কুরবানী সম্পন্ন করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বানী দিয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের চীফ হেল্‌থ অফিসার ডাঃ চ্যাণ্ট সিডনির মুসলমানদের নিজ নিজ বাড়িতে থেকেই ঈদুল আযহা পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।