বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এসোসিয়েশন ক্যানবেরা আয়োজিত বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত

আইজিদ আরাফাত অরূপঃ স্থানীয় সময় আজ ১০ এপ্রিল (শনিবার) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এসোসিয়েশন ক্যানবেরা (ব্যাক) স্থানীয় ইসলামিক সেন্টার প্রাঙ্গনে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত আয়োজিত এই মেলায় প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক জনসমাগম হয়। মেলায় অসংখ্য দেশী খাবারের স্টলের সাথে ছিল বাহারি শাড়ি, জামা কাপড় এবং বিভিন্ন অলংকারের সমাহর। পাশাপাশি মেলায় ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখ বরনের আয়োজন সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলার আয়োজক কমিটির পক্ষে ব্যাকের সাধারন সম্পাদক সাকিব ইয়ামিন উপস্থিত সকলকে এই মেলা সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানান। সংগঠনের সভাপতি আমিনুর রশিদ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের নির্বাচন আগামী ২০শে জুন

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামি ২০ জুন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিডনির ব্যাংকস্ টাউনে অবস্থিত লেমনগ্রাস থাই রেঁস্তোরা কাউন্সিলের কার্যকরী পরিষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মোহাম্মাদ আসিফ ইকবালের ক্বোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। কাউন্সিলের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের উপস্থাপনায় এই সভায় কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যন্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন; মোহাম্মেদ আসলাম মোল্লা (সহ-সভাপতি), শিবলী আবদুল্লাহ (সহ-সভাপতি), আবদুল আউয়াল (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), মাকসুদা সুলতানা (কোষাধ্যক্ষ), নামিদ ফারহান (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মোহাম্মাদ আসিফ ইকবাল (মিডিয়া অ্যান্ড কমুনিকেশন সম্পাদক) এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য নাইম আবদুল্লাহ ও ড. ফজলে রাব্বি। এছাড়াও মিজানুর রহমান সুমন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক) এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মাদ রেজাউল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পেরে দু:খ প্রকাশ করেন এবং কার্যকরী পরিষদের সকল সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেন।

কার্যকরী পরিষদের সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলের বর্তমান কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীমকে সর্বসম্মতিক্রমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচন করে তিন সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। বাস্তবায়ন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ড. ফজলে রাব্বি ও নাইম আবদুল্লাহ। কাউন্সিলের সভাপতি ড. এনামুল হক মেলবোর্ন অবস্থান করায় এবং এপর্যন্ত কার্যকরী পরিষদের কোন সভায় তিনি উপস্থিত থাকতে না পারায় কাউন্সিলের বর্তমান কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কার্যকরী পরিষদের বিভিন্ন সিদ্বান্তের পর অনুষ্ঠানের সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম সবাইকে নৈশভোজের আহব্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রশান্ত পাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে আগাম বাংলা নববর্ষ উদযাপন

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ আজ স্থানীয় সময় ৩ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে সিডনির এক ঝাঁক প্রত্যয়ী ও প্রগতিশীল রমনীদের নতুন সংগঠন “আমাদের কথা” সিডনির ইঙ্গেলবার্ন রিসার্ভে আগেভাগেই নুতন বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করে। তারা বিশাল বনরাজি শোভিত ছায়া সুনিবিড় ইঙ্গেলবার্ন পার্কে রমনার বটমূলের আদলে মঞ্চ তৈরী করে ও মঙ্গল শোভাযাত্রার চিত্রকর্ম দিয়ে সাজিয়ে বাংলা বর্ষবরণ করে।

সংগঠনের পরিচালক পূরবী পারমিতা বোসের সঞ্চালনায় তিশা তানিয়া, চিনু দাস, মুনা মোস্তফা, নিলুফা ইয়াসমিন ও আরো একঝাঁক প্রত্যয়ী তরুণীদের অংশগ্রহণে  “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” আবাহন দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ উপস্থাপনায় ছিলো বর্তমান প্রজন্মের কিশোর কিশোরীদের অংশগ্রহণে বাংলা গান, সাথে নাচ ও কবিতা আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের দেশজ খাবার, হরেক রকমের ভাজি, ভর্তা, সবজি, মাছের ঝোল, মুরগি ভুনা সহ প্রায় বিশ পদের খাবারে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

মধ্যাহ্ন ভোজের পরে শুরু হয় বড়োদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । বিকেলের নাস্তায় দেশজ পিঠা, পুলি, রসগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আমাদের কথা সংগঠনের আয়োজক কমিটি জানান, সব ধরনের মুখরোচক খাবার আমাদের সদস্যবৃন্দ নিজেরা তৌরি করেছে। তারা সিডনির রেনেসাঁ সংগঠনকে একটি পরিশীলিত বর্ষবরণ উপহার দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সিডনিতে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘অটিজম দিবস’ পালিত

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি দিবস যা প্রতিবছর ২রা এপ্রিল পালিত হয়। অটিজম হচ্ছে স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যা। অটিজমের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়াতে সিডনির ল্যাকান্বায় একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘Autism Day’ বা অটিজম দিবস পালিত হয়। অটিজম সম্পর্কে গণজনসচেতনতা বাড়াতেই এই সেমিনারের আয়োজন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আবিদা আসওয়াদ। সাংবাদিক আব্দুল মতিন কোরআন তেলয়াত পাঠের পর আলোচনা শুরু হয়।

প্রধান বক্তা ডাক্তার রোজিনা বেগম অটিজম দিবসটির উপর ব্যাপক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং বড় হওয়া পর্যন্ত থাকে। অটিস্টিক ডিজঅর্ডার, পার্ভেসিভ ডেভোলাপমেন্টাল ডিজঅর্ডার, এসপারজার সিন্ড্রোম, উপসর্গ, কারণ, রোগ নির্ণয়, করনীয় নিয়ে ডা: রোজিনা আলোচনা করেন।

সহকারী নার্স ও মানসিক স্বাস্থ্য এডুকেটর আবুল কালাম আজাদ খোকন বলেন, এই রোগটি নিয়ে আগে অনেকেই সচেতন ছিলেন না কিন্তু এখন অটিজম সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়াতে ১৫০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন অটিজমে আক্রান্ত।

চাইল্ড কেয়ার এডুকেটর লিপি আক্তার বলেন, অটিজম একটি জটিল স্নায়বিক বিকাশ সংক্রান্ত রোগ যা সামাজিক বিকলতা, কথা বলার প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং একই ধরনের আচরণ  দ্বারা চিহ্নিত হয়। এটা একটি মস্তিষ্কের রোগ যা  সাধারণত: একজন ব্যক্তির অন্যদের সাথে কথা বলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। রুমানা সাফেইন ও ফারহানা আমিন বলেন, অটিজম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা।

অটিজম এমন একটা অবস্থা যেখানে শিশুর সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারে না। এরা একা একা থাকতে ভালবাসে।

ইজ্ঞিনিয়ার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এদের কথা বলা শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সাধারণত হাত দিয়ে কোনো জিনিস দেখা বা হাসি-কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের যে ভঙ্গি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অটিজম-এ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো দেখা যায় না।

সাংবাদিক আব্দুল মতিন বলেন, অটিজম রোগের কোনো নিরাময় নেই। এটা ঔষধ ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষার সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি থাকে এবং একই কাজ এরা বারবার করতে থাকে।

আয়োজক আজাদ খোকন সকলকে ধন্যবাদ জানান। ডিনারের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার উম্মুক্ত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া এর এক যুগ পূর্তি আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষে এসোসিয়েশন আয়োজন করে উম্মুক্ত ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। ৩২ টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ২১ মার্চ সিডনির লাকেম্বাস্থ পেরী পার্কে খেলা উদ্বোধন করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি কেসিম শামীম। তিনি সুন্দর একটি বক্তৃতার মাধ্যমে সবাইকে সহযোগীতা করার জন্য অনুরোধ করেন। এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক রাশেদ খান এর সক্রিয় উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ব্যাডমিন্টন পরিবারের একমাত্র মুক্তিযাদ্ধা জনাব হেলাল উদ্দিনকে ক্রেষ্ট দিয়ে সন্মান জানানো হয়। ক্রেষ্ট নিয়ে হেলাল উদ্দিন আবেগ প্রবন হয়ে পড়েন।

খেলা পরিচালনার সার্বিক দিয়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আসাদুজ্জামান শাহীন এবং আদিল শরীফ রবীন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ছিলেন আরমান শেখ, শহীদুজ্জামান বাবু ও সুমিত মাসুম। আসাদুজ্জামান শাহীনের সুন্দর এবং সাবলীল উপস্থাপনা সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক রশীদ ভুইয়া সঙ্গে থেকে সবাইকে অনুপ্রানিত করেন।

এসোসিয়েশনের একযুগ পূর্তি উপলক্ষে একটা স্মরনিকা বের করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং এসোসিয়েশনের একজন উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা এর সম্পাদনার দায়িত্ব নেন এবং সবার সাহায্য নিয়ে যথাসময়ে এটা সম্পন্ন করেন। সভাপতি ম্যাগাজিনের মোড়ক উম্মোচন করেন।

তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর টান টান উত্তেজনা নিয়ে খেলা চলে এক সপ্তাহ ধরে। অনেক উত্থান পতন আর অনিশ্চয়তা নিয়ে চারটি দল সেমি ফাইনালে এবং এর মধ্য হতে দুই দল ফাইনালে উঠে। ফাইনালে উত্তীর্ন দুইটি দলের একটা দল আরাফাত ও রাকেশ এর এবং অন্য দল ওয়াসেল ও নবীন।

২৮ মার্চ নির্ধারিত হয় ফাইনাল খেলা। অনেক উৎসাহী দর্শক, খেলোয়াড়, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্পন্সর এর উপস্হিতিতে খেলার জায়গাটা মুখরিত হয়ে উঠে। ক্যাম্বলটাউন কাউন্সিলের সন্মানিত কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী ফাইনাল খেলা উদ্ভোধন করে অনুষ্ঠানকে আরও প্রানবন্ত করে তুলেন। সঙ্গে থাকেন কেসিম শামীম এবং রাশেদ খান। বরাবরের মতো রশীদ ভুইয়া সবাইকে উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যতেও সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আসাদুজ্জামান শাহীন।

শুরু থেকেই তুমুল উত্তেজনা নিয়ে ফাইনাল খেলা শুরু হয়। চলতে থাকে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই। আন্দাজ করা কষ্ট হচ্ছিল কোন দল জিতবে। প্রথম খেলায় জয়ী হয় আরাফাত ও রাকেশ দল। দ্বিতীয় খেলায় জয়ী হয় ওয়াসেল ও নবীন। উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে যখন শুরু হয় তৃতীয় খেলা। এক শ্বাস রুদ্ধকর এবং দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো খেলে আরাফাত ও রাকেশ দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে শুরু হয় বহুল প্রতিক্ষিত পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। সেমি ফাইনালে উত্তীর্ন সব খেলোয়াড়কে ট্রফি দেয়া হয়। তারপর রানার আপ ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়নদ ট্রফি। খেলোয়ড়দের ট্রফি দেবার আগে সকল স্পন্সরদের ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। স্পন্সরদের সবাই আগামীতে সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন। স্বেচ্ছাসেবক এবং উপদেস্টাদের সন্মানিত করা হয় উপহার দিয়ে। সবশেষে সুস্বাদু খাবার এর সাথে গল্পে মেতে উঠে সবাই। আগামীতে আরও ভালোভাবে এই আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়ে রবিবার অনেক রাত পর্যন্ত খাটুনী খেটে আয়োজকরা বাড়ী যান।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক মোঃ ইয়াকুব আলীর প্রথম বই ‘নদীর জীবন’ প্রকাশিত

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক মোঃ ইয়াকুব আলীর প্রথম বই ‘নদীর জীবন’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি এখন ঢাকায় বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। বইটি মূলত লেখকের শৈশব কৈশোরের স্মৃতিকথা হলেও এতে উঠে এসেছে আবহমান গ্রাম বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শহুরে সংস্কৃতির সাথে গ্রামীণ সংস্কৃতির সংঘাত ও সামঞ্জস্য। এই বইয়ের মূল উপজীব্য মানুষ এবং সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। তাই এই বই হয়ে উঠেছে একটা সময়ের দলিল। বইটি প্রকাশ করেছে ‘প্র প্রকাশনী’ আর প্রচ্ছদ করেছেন ‘ব্রত রায়’। বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৯১ নং ‘আনন্দম’ এর স্টলে; পাঠকেরা অনলাইনে বইটি ক্রয় করতে তাইলে নিচের লিংকে অর্ডার করতে পারবেন। https://www.kablewala.com.bd

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষ্যে জাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন

অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্প্রচারিত একমাত্র ২৪ ঘন্টার বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল ‘জন্মভূমি টেলিভিশন’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষে ২৮ শে মার্চ সন্ধ্যায় সিডনির রকডেলের রেডরোজ ফাংশন সেন্টারে জাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জন্মভূমি টিভির চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন এবং সিইও রাহেলা আরেফিন সমাগত অতিথিদের স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আদিবাসীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের ভাষায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত এককভাবে পরিবেশন করে সামা, পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত সমবেতভাবে পরিবেশন করে আদ্রিতা, আনান, রোকসানা রহমান, নাবিলা স্রোতস্বীনি, হৃদসি, আবিদা ও সামা।

সাদিয়া ও সারিয়ার নাচের পর নুসরাত জাহান স্মৃতির  কবিতা আবৃতি করেন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন অনুষ্ঠান শুরুর। এর পর পরই আগামী প্রজন্মের শিল্পী আদ্রিতার “হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ”  নাচটি  মুগ্ধ করে দর্শকদের।

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠানের শুরুটা করেন নুরুন্নাহার ফাহমি। এসময়ে এই  প্রজন্মের আরেক শিল্পী গানের পাখি নাবিলা স্রোতস্বীনির সূর্যোদয়ে তুমি দেশাত্ববোধক গানটি পিন পতন নীরবতায় উপভোগ করেন দর্শকরা।

গানটি শেষ হওয়ার পর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও জন্মভূমি টেলিভিশনের, ডিরেক্টর ফাইন্যান্স ,সৈয়দ আকরাম উল্লাহ।

বক্তব্যের পর মাগরিবের নামাজের বিরতি দেয়া হয়। বিরতির পর হালকা নাস্তা  পরিবেশন করা হয়।

তৃতীয় পর্বে রোকসানা রহমান আবিদা ও সামা পরিবেশন করেন “আগুনের পরশমনি ” গানটি এই গানটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো সে সময় কোনো বাদ্য যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, নারী জাগরণের প্রতি সম্মান জানিয়ে গানটি গাওয়া হয়।

মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিডনি কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলমকে তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর , বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে “জন্মভূমি বিশেষ সম্মাননা পদক ২০২১” মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসাবে মরহুম রফিক উল্যাহ মাস্টারকে মরণোত্তর সম্মামনা প্রদান করা হয়। পদকটি গ্রহণ করেন তার পুত্র সিডনি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব আশরাফ হক।

এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরের যোদ্ধা সিডনি প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমানকে “জন্মভূমি বিশেষ সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

জন্মভূমি এই প্রবাসে আগামী প্রজন্মকে তুলে ধরতে চায় ,এই পর্যায়  ছোট্ট শিশু রোদোশীর নাচের মূর্ছনায় মুহুমুহু করতালিতে ভোরে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।

মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় Hon Tony Burke MP, কে তিনি Member for Watson NSW, Manager of Opposition Business, Member of Australia Labor Party তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জন্মভূমি টেলিভিশনের প্রশংসা করেন। তিনি এমন একটি ২৪ ঘন্টার টেলিভিশন চালানের ক্ষেত্রে যাদের অবদান তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

ফেডারেল এমপি টনি বার্ক প্রবাসে আলোকিত শিক্ষাবিদ হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন শিক্ষাবিদ ডঃ কাইউম পারভেজ এবং আলোকিত নারী শিক্ষাবিদ হিসাবে  “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”তুলে দেন শিক্ষাবিদ ডঃ মমতা চৌধুরীর হাতে।

এর পরপরই সিডনির জনপ্রিয় সংগীত দম্পতি রোকসানা রহমান ও আনিসুর রহমান একটি  দৈত্ব সংগীত পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠান মালা এমন ভাবে সাজানো হয়েছিল উপস্থিত সুধিমন্ডলী আসন ছেড়ে যেতে চাইলেও যেতে পারেননি।

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এর পর মঞ্চে আসেন Lindsay Wendy, Member of the Legislative Assembly, Member for East hills, Member of the liberal Party.

এমপি লিন্ডসে ওয়েন্ডির তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর প্রবাসে আলোকিত সমাজসেবক হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন সাবেক কাউন্সিলর রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ জামান টিটুর হাতে।প্রবাসে আলোকিত নারী সমাজসেবী হিসাবে জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”নেয়ার জন্য নাম ঘোষণা করা হয়  মিসেস লায়লা চৌধুরীর। তিনি  মেলবোর্ন থেকে সিডনি এসেও ব্যাক্তিগত কারণে জরুরিভাবে মেলবোর্ন ফেরত যান।এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত  থেকে পদক নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।তার পদকটি কুরিয়ারে মেলবোর্ন পাঠানো ব্যবস্থা করা হয়। 

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় মঞ্চে নুপুরের রিনিঝিনি আর নাচের ভঙ্গিমায় দর্শকদের বিমোহিত করেন এই প্রবাসের সবার প্রিয় নৃত্য শিল্পী অর্পিতা সোম।

মঞ্চে আসেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এক সময়ের ইমিগ্রেশন মিনিস্টার Hon Philip Ruddock AO, বর্তমানে Mayor Hornsby Shire তার  শুভেচ্ছা বক্তব্য তিনি  বাংলাদেশ ও বাঙালিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তব্যের পর তিনি  প্রবাসে আলোকিত ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন Teleaus এর সিইও জাহাঙ্গীর আলমের হাতে।

এবং তিনি প্রবাসে আলোকিত নারী ব্যবসায়ি উদ্যোক্তা হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা ২০২১” তুলে দেন স্ট্যাডি নেট এর ডিরেক্টর ,ইয়াসমিন আনোয়ারের হাতে।

তারপর মঞ্চে আসেন প্রভাত ফেরির প্রধান সম্পাদক শ্রাবন্তী কাজী। তিনি প্রবাসে আলোকিত সাংবাদিক হিসাবে  “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন  প্রশান্তিকার সম্পাদক আতিকুর রহমান শুভর হাতে, এছাড়াও তিনি প্রবাসে আলোকিত নারী সাংবাদিক হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”  তুলে দেন কাজী সুলতানা সিমির হাতে।

এর পরপরই সিডনির প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী অমিয়া মতিন তার সুরের ঝংকারে মাতিয়ে তুলেন দর্শকদের।

মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিসনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আসিফ কাউনাইনকে। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জন্মভূমি টেলিভিশনের প্রশংসা করেন। শত প্রতিকূলতায় টেলিভিশনটি তাদের সম্প্রচারের ধারাবাহিকতায় পাঁচ বছরে পা রাখছে উল্লেখ করে তিনি এই টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি প্রবাসে আলোকিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন এই প্রবাসের জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহীন শাহনেওয়াজ এর হাতে। প্রবাসে আলোকিত নারী সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব হিসাবে মরহুমা শারমিন পাপিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। তার পক্ষে পরবর্তীতে তার স্বামী হায়দার বাবু ” জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”(মরণত্তোর) গ্রহণ করেন।

গান নাচ বক্তিতা দর্শক একটু ভিন্ন কিছু চাইছিলো সে দিকে খেয়াল রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা কৌতুক পরিবেশন করতে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান ডাক্তার দম্পতি ডাঃ মীর জাহান মাজু ও ডাঃ ফাহিমা সাত্তারকে। তাদের পরিবেশিত কৌতুকটি পুরো অনুষ্ঠানে হাসির রোল তুলে।

অনুষ্ঠানে সময়ের দিকে খেয়াল রেখে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয় সকল বক্তাদের ,কোনো বক্তায় তাদের বক্তব্য দীর্ঘ করেননি ,শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় গণপ্রজনতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অনারারি কনসাল জেনারেল এন্থনি খৌরিকে। তিনি তার সেই সময়কার কিছু স্মৃতি রোমন্থন করেন। এবং জন্মভূমি টেলিভিশনের উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন।পরে তিনি প্রবাসে আলোকিত পেশাজীবী হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন ডাক্তার একরামুল হক চৌধুরীর হাতে।

এরপর মঞ্চে ডাকা হয় এই প্রবাসে ডাক্তারদের সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা , ডাক্তার শায়লা ইসলামকে তিনি  প্রবাসে আলোকিত নারী পেশাজীবী হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন ডাক্তার নাহিদ সায়মার হাতে।

সিডনিটি গত কয়েক দিনের  একটানা বৃষ্টির পর বৃষ্টির গান দিয়ে উপস্থিত দর্শকদের সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে তুলেন শিল্পী জিয়াউল ইসলাম তমাল । এই গানের পরে জন্মভূমি টেলিভিশনের এই আয়োজনের সম্মানিত স্পনসরদের হাতে স্পনসর অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন জন্মভূমি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন। এই পর্যায়ে  তিনি অতিথিদের সাথে জন্মভূমি টেলিভিশনের পুরো  টিমকে পরিচয় করিয়ে দেন।

সিডনির একই অনুষ্ঠানে এতজন মিডিয়া ব্যাক্তিত্বের উপস্থিতি সচারাচর চোখে পরে না। এই আয়োজনের তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জন্মভূমি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন প্রায় তিন যুগের বেশি সময়ে ধরে মিডিয়ার সাথে জড়িত , তিনি  অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দকে মঞ্চে আসতে অনুরোধ করেন এবং তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এই প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী আতিক হেলাল ও মিতা আতিক জুটি তাদের সুরেলা কণ্ঠে গান শুনিয়ে দর্শকদের বাড়ি যাওয়ার কথা ভুলিয়ে দেন।

শেষ হয়ে শেষ হচ্ছিলোনা অনুষ্ঠানমালা একের পর এক আবৃতি ,গান ,নাচ ,কৌতুক পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলো। দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্য বিরক্ত হতে দেখা যায়নি তারা আনন্দের সাথে  উপভোগ করছিলো অনুষ্ঠানগুলো।

সুরেলা গানের কণ্ঠে শিল্পী সাজ্জাদ হোসেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শকদের তার সুরেলা কণ্ঠে গান দিয়ে বিমোহিত করেন।

রাত  বাড়তে থাকে হঠাৎ করে যেন বাড়ি যাওয়ার তাগাদা অনুভব করতে থাকে উপস্থিত দর্শকরা। এই পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের নৈশ ভোজে আমন্ত্রণ জানান জন্মভূমি টেলিভিশনের সিইও রাহেলা আরেফিন।

নৈশ ভোজের পরে জন্মভূমি টেলিভিশনের পাঁচ বছর পদার্পন উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।এ সময়ে উপস্থিত দর্শকদের অনেক্ষন ধরে হলে উপস্থিত থেকে ফটো সেশন করেন।

জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সংবাদ সংগ্রহ ও নিউজ কনটেন্ট এর দায়িত্বে ছিলেন নাইম আবদুল্লাহ, ডিরেক্টর নিউজ এন্ড কনটেন্ট, সার্বিক সঞ্চালনের দায়িত্বে  ছিলেন আবিদা আসওয়াদ ডিরেক্টর প্রোগ্রাম জন্মভূমি টেলিভিশন।মঞ্চসজ্জা করেছেন জন্মভূমি টেলিভিশনের ডিরেক্টর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কানিতা আহমেদ।

শব্দ সঞ্চালনায় ছিলেন বেলায়েত রবিন  ডিরেক্টর টেকনিক্যাল,জন্মভূমি টেলিভিশন।অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠ ভাবে পরিচালিত করার দায়িত্বে ছিলেন ডঃ সৈয়দ আজিম ,ডিরেক্টর প্রোডাকশন,জন্মভূমি টেলিভিশন।ভিডিও ধারণ করেছেন সিডনি সংবাদ চিত্রের মোস্তফা কামাল। আরো ভিডিও ধারণ করেছেন আসওয়াদ বাবু  ডিরেক্টর প্রোটোকল জন্মভূমি টেলিভিশন।ফটোগ্রাফি করেছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এছাড়া  প্রকাশিত ম্যাগাজিনটি পরিকল্পনা ও ডিজাইন করেছেন শাখাওয়াত বাবু ডিরেক্টর প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন জন্মভূমি টেলিভিশন।ম্যাগাজিনটি ছাপা হয়েছে টাচ প্রিন্টিং থেকে। অতিথি আপ্যায়ন ও হল ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কাজী আলম রুবেল, ডিরেক্টর বিজনেস রিলেশন জন্মভূমি টেলিভিশন,এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জন্মভূমি টেলিভিশন শিরিন আক্তার মুন্নি। সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন রাহেলা আরেফিন সিইও জন্মভূমি টেলিভিশন।

নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপিত

বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এবার সবচেয়ে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। ব্রিসবেন ও এডিলেইড শহরে লাল-সবুজ রংয়ের আলোকসজ্জা, দেশের প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এবং কেন্দ্রীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্থনি অ্যালবানিজ কর্তৃক শুভেচ্ছা বানী প্রদান, ক্যানবেরার স্থানীয় পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসের ক্যানবেরা ও সিডনি অফিস কর্তৃক একাধিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে গত ২৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপিত হয়। ব্রান্ডিং বাংলাদেশের সহযোগিতায় সিডনির নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস এর সাবেক মূখ্যমন্ত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বব কার। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উস্তাদ সিরাজুস সালেকিন, কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত, সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী, সংগঠক এবং সিডনির বৈশাখী মেলার আয়োজক শেখ শামীমুল হক, হারিস ভেলজী, সোফি কোটসিস এমপি, জোডি ম্যাককেই এমপি, আনুলোক এমপি, ম্যাট টিস্টেহোয়াইট এমপি, মিশেল রোলান্ড এমপি, সিডনির কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের মান্যবর রাস্ট্রদুত সুফিউর রহমান।

আলোচনা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম। কবিতা আবৃতি করেন সালমিন সুলতানা তানহা, সরোদ পরিবেশন করেন উস্তাদ তানিম হায়াত খান। এ ছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর আগে সিডনির পাশের শহর গসফোর্ড এলাকা থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির এমপি লিসেল টেক অনুষ্ঠানস্থলে এসে বাংলাদেশের এই মহতী লগ্নে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে অভিনন্দন জানান। 

বব কার তার বক্তব্যে মজা করে বলেন, তাঁর ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জন্ম একই বছরের একই দিনে। অথচ রাজনীতি শেষে আজ তিনি যখন সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন, আরেকজন তখন দাপটের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইংরেজিতে অনূদিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান। বব কার বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি একাত্তরের স্মৃতিচারণ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটলামের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন্নের লক্ষ্যে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিশদ চিত্র তুলে ধরা হয়। পশ্চিমা দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানের জন্য বাংলাদেশী বক্তাদের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের উপরে প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে শ্রাবন্তী কাজী সম্পাদিত সিডনির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘প্রভাত ফেরী’। অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের সদস্য মেহেদী হাসান শাহীন, আলী আশরাফ হিমেল, মহীউদ্দীন কাদির, শাহ নেওয়াজ আলো, আকাশ দে, শাকিল মল্লিক এবং আয়শা আমজাদ সব ধরনের সহযোগিতা করেন। এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টও উদযাপনে সামিল হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরকে গৌরাবান্বিত করে। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সিডনিতে ‘কোভিড হিরো সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান

স্থানীয় সময় গত ২৯ মার্চ (সোমবার) সকাল ১১ টায় সিডনির পান্চবউল ব্রডওয়ে প্লাজায় টনি বার্ক অফিসের সামনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ‘কোভিড হিরো অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষত: চাকরিচ্যুত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি শরণার্থী ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জরুরি সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর সক্রিয় সহায়তার স্বীকৃতি স্বরূপ ফেডারেল এমপি টনি বার্ক, নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের এমপি জিহাদ দিব ও সোফি কটসিসের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা অ্যওয়ার্ড প্রদান করেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় এমপি টনি বার্ক। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল, বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেন অব অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মানবিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় কোভিড-১৯ সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হয়।

অনুষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ক্যান্টারবারি-ব্যাংকস টাউন সিটি কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর ও অস্ট্রেলিয়ান লিবারেল পার্টি ল্যাকাম্বা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু।

আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার বঙ্গবন্ধুর শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন

গত ২৮ মার্চ (রবিবার) সিডনির দ্যা ল্যাকাম্বা ক্লাবে আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়া জাকজমক পূর্নভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন করে।                   

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সূরা ফাতেহা ও পবিত্র তেলোয়াতের মাধ্যমে জাতীর জনক ও সকল শহীদের প্রতি এবং দেশ ও জনগনের সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন শামসুল হক বাচ্চু। অনুষ্ঠানে বাচ্চু ভাইয়ের নেতৃত্বে উপস্হিত সবার কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। আমন্ত্রিত বাংলাদেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তি যোদ্ধাদের ও অনান্য অতিথিদের ছোট্ট সোনামনিরা ফুল দিয়ে বরন করেন।                                   

সাবেক ছাএলীগ অস্ট্রেলিয়ার সফল সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মো: মুঈদুজ্জামানের (সুজন) শুভেচ্ছা বক্তব্যের ও প্রফেসর শামস রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হারুনুর রাশিদ ও মহিলা আওয়ামীলিগের সভাপতি কাশফি আসমা আলম যৌথ সঞ্চালনা করেন।        

এ সময় আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান ঋতু বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানটির প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্হিত প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড: মোহাম্মদ আলী কাজী, মো: নজরুল ইসলাম (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন), বীর মুক্তিযাদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেল্লাল, বীর মুক্তিযাদ্ধা হেলাল উদ্দীন, বীর মুক্তিযাদ্ধা জামাল উদ্দীন, কৃষক লীগের সভাপতি শাহা আলম, ড:একরাম চৌধুরী(সভাপতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি), হাসান শিমুন ফারুক রবীন (সভাপতি এনএস ডব্লিউ আওয়ামীলিগ)। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোকবুল মুন্না, মহিলা সম্পাদিকা রীতা শরীফ প্রমুখ। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলিগ ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম সমন্বায়ক মাকসুদুর রহমান চৌধুরীর সুমন। উপস্হিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট শাখাওয়াৎ নয়ন, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, আওয়ামীলিগ নেতা মামুন রশিদ, কামরুজ্জামান বাপ্পী (যুগ্ম সাধারন সম্পাদক), সৈয়দ সফিকুর রহমান, শহিদুর রহমান, আনিসুর রহমান, ওসমান গনি (সাংগঠনিক সম্পাদক), সাবেক ছাএ নেতা রাজন, ফরিদ, ফেহাদ, সুমন ছাড়া আরও অনেকে।      

পরিশেষে কবিতা, নৃত্য এবং গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি