সিডনিতে প্রয়াত সালাহুজ্জামান খান স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ স্থানীয় সময় আজ ২১ নভেম্বর (রোববার) বাদ আছর সিডনির মসজিদ সেন্ট মেরিসে প্রায়াত সালাহুজ্জামান খান স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদ সেন্ট মেরিসের ইমাম শেখ আবু হুরায়রা আল আজহারী। এছাড়াও দোয়া অনুষ্ঠানে মরহুমের দাফন ও তার পরিবারকে সহযোগিতার জন্য কমিউনিটি থেকে সংগ্রহকৃত অর্থের হিসাব প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সিডনির সেন্টমেরিসের কাছে গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক করে সিডনি প্রবাসি বাংলাদেশী সালাহুজ্জামান খান মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ও’য়া ইন্না ইলাহি রা’জিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ৯ বছর বয়সী ছেলে রেখে গেছেন। সালাহুজ্জামান স্থানীয় কমিউনিটির কাছে পরিচিত মুখ ছিলেন না এবং আশেপাশে তার নিকটাত্মীয় নেই বিধায় সিডনিস্থ আইপিডিসি সমাজকল্যাণ সংস্থা, মসজিদ সেন্ট মেরিস ও কোয়েকারস হিল মসজিদের পক্ষ থেকে মরহুমের দাফন এবং পরিবারকে এক বছরের খরচ সহায়তা করার জন বাংলাদেশী কমিউনিটির কাছে সহযোগিতার আবেদন করা হয়। কিন্তু স্থানীয় কমিউনিটি থেকে অভুতপূর্ব সহযোগিতার সাড়া আসে এবং মরহুমের দাফন সম্পন্ন করার পরও তার পরিবারের জন্য কমপক্ষে ৫-৭ বছর খরচের অর্থ সংগৃহীত হয়।

 দোয়া মাহফিলে মরহুমের পরিবার, মসজিদ কমিটি, আইপিডিসি’র নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। মসজিদ সেন্ট মেরিসের ইমাম শেখ আবু হুরায়রা আল আজহারী বাংলাদেশী কমিউনিটির উদারতা ও দানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লহ যেন এই দান কবুল করেন সেই প্রার্থনা করেন।

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার নির্বাচনে জলিল- খাইরুল পরিষদ পরিচিতি

সিডনিতে বাংলাভাষী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার সিডনির মিন্টুতে ৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। এটি প্রায় ১৫০ জন ধারন ক্ষমতার কমিউনিটি হল, ৩০০ জনেরও বেশী নামাজের জায়গা, সাপ্তাহিক মাদ্রাসা সহ একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সেন্টারের ২০২১-২৩ সালের নতুন নির্বাহী কমিটির জন্য নির্বাচন আগামী ২৭ নভেম্বর শনিবার।

এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নির্বাচন কমিশন জানান, এ নির্বাচনে দু’টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটিতে চারটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকী ১৩ টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনে জলিল- খাইরুল পরিষদ প্যানেল ৪ টি পদে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার নির্বাচনে আনিসুল- সাদিকুর পরিষদ পরিচিতি

সিডনিতে বাংলাভাষী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার সিডনির মিন্টুতে ৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। এটি প্রায় ১৫০ জন ধারন ক্ষমতার কমিউনিটি হল, ৩০০ জনেরও বেশী নামাজের জায়গা, সাপ্তাহিক মাদ্রাসা সহ একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সেন্টারের ২০২১-২৩ সালের নতুন নির্বাহী কমিটির জন্য নির্বাচন আগামী ২৭ নভেম্বর শনিবার। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নির্বাচন কমিশন জানান, এ নির্বাচনে দু’টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটিতে চারটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকী ১৩ টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনে আনিসুল- সাদিকুর পরিষদ প্যানেল ১৭ টি পদে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার পথচলা শুরু 

সিডনিতে নারীদের নিয়ে একটি নতুন সংগঠন “বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়া” তাদের পথচলা শুরু করেছে । ১৩ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সিডনির মিন্টুস্থ বিডি হাব কমিউনিটি হলে এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কোভিড সীমাবদ্ধতা বহাল থাকায়  শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় অনুষ্ঠানটি। হল ভর্তি অতিথি ও সংগঠনটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সংগঠনের মিডিয়া এন্ড কালচার সেক্রেটারি আবিদা আসওয়াদ ও অর্গানাইজিং  সেক্রেটারি শাহানা চৌধুরীর সাবলীল উপাস্থপনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি শিরিন আক্তার মুন্নি, তিনি তার বক্তব্যে নতুন এই সংগঠনটির সাথে  থাকার জন্য সকল নারীদের আহবান জানিয়ে এমন একটি প্লাটফর্মের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রবাসের এই কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা নারীরা আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তায় আমাদের এই সংগঠনটি পরিচালনা করবো। আমরা পুরুষ বিদ্বেষী নই পুরুষরা অবশ্যই আমাদের পাশে থাকবে সহযোগী হিসাবে। তিনি আরো বলেন, কোভিড সীমাবদ্ধতা বহাল থাকায় আমরা বড় ধরনের আয়োজন করতে পারি নাই এবং আরো অনেককে বলতে পারি নাই বলে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। অদূর ভবিষ্যতে কোভিড  সীমাবদ্ধতা উঠে গেলে বড় পরিসরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করার কথা জানান।

বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শায়লা ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতে কবি নজরুল ইসলামের কবিতার একটি পংক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর। এটা ঠিক কিন্তু জীবনে অন্য ক্ষেত্রে আমার মনে হয় ৮০ শতাংশ কাজ করে নারীরা। এ সংসারের আমরা বাড়ির সব কাজে আমাদেরই করতে হয়। নারীরা অবলা এ কথা আর বলা যাবেনা পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও এগিয়ে চলছে। এ পথ যাত্রায় এগিয়ে এসেছে আমাদের সংগঠন। আমরা বিশ্বাস করি নারীরা যে কাজ করে সেটি খুব ভালোভাবে করে। তিনি বলেন বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়া শুধু সিডনি ভিত্তিক নারীদের সংগঠন নয়, অস্ট্রেলিয়ার যে কোনো প্রান্ত থেকে এর সদস্য হওয়া যাবে, তিনি উল্লেখ করেন প্রতিটি স্টেট এবং টেরিটোরিতে আমাদের প্রতিনিধি থাকবে।

সংগঠনের উইমেন্স অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি নুসরাত জাহান স্মৃতি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা যারা মূল কমিটিতে আছি শুধু তাদেরই নয় সকল সদস্যদের সম অধিকার রয়েছে আমাদের সংগঠনে, আমরা একত্রে মিলেই সব কাজ করবো। সেই সাথে নারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। তিনি আরো বলেন এই প্রবাসে অনেক সংগঠন আছে তবে আমরা লেডিস ক্লাব থেকে নারীদের জন্য ব্যতিক্রমী কিছু করতে চাই, আমরা অসহায় নারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি, আমরা কর্মহীন নারীদের কাজ খুঁজে পেতে সহায়তা করবো, নারীদের যে কোনো সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি, আমরা বিশ্বাস করি যার ধর্ম তার কাছে আমরা সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাব এর প্রেসিডেন্ট রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন এটা একটি সুন্দর উদ্যোগ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমরা যখন কোনো সংগঠন করতে উদ্যোগী হই তখন নারীদের অংশগ্রহণ ছিল নামমাত্র, এখন নারীরা এগিয়ে এসেছে এটা একটা ভালো দিক, নারীরা আরো এগিয়ে আসবে আরো এগিয়ে যাবে এটা আমরা আশা করি। তিনি আরো বলেন অনেক ক্ষেত্রে আমরা নারীদের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি নাই, বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়া নারীদের সংগঠিত করে নারীদের কল্যানে কাজ করবে এটা সত্যিকারভাবে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং আগামীতেও থাকবো।

জন্মভূমি বেতারের সিইও ও জন্মভূমি টেলিভিশনের ডিরেক্টর সৈয়দ আকরাম উল্লাহ তার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আমরা আপনাদের সংগঠনের সাথে সবসময়ে থাকবো এবং একসাথে কাজ করবো, আমাদের প্রতিষ্ঠানের অনেকেই আপনাদের সংগঠনের সদস্য, আমরা চাই বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়া এই প্রবাসে একটি শক্তিশালী নারী সংগঠন হিসাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি সংসারে নারীদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন Happy Wife Happy Life সেই সাথে তিনি আরো যোগ করেন Happy Spouse Happy House পরিশেষে তিনি লেডিস ক্লাবের সাফল্য কামনা করেন।

বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার এক্সিকিউটিভ মেম্বার ইলোরা খান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পর দুটি গান পরিবেশন করেন। সে সময় উপস্থিত সুধীমন্ডলীর অনেকেই গানের সাথে সুর মেলান।

জন্মভূমি টেলিভিশনের ডিরেক্টর (নিউজ) নাইম আব্দুল্লাহ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, বৈচিত্রতা, মর্যাদা ও সম্মান  লেডিস ক্লাবের এই তিন স্লোগানের মধ্যেই নিহিত রয়েছে এই ক্লাবটির ভবিষ্যত কর্মপন্থা। যদি এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা এগিয়ে যান তাহলে তারা নারীদের জন্য একটি আদর্শ ও সুন্দর সংগঠন উপহার দিতে পারবেন। আমি জন্মভূমি টেলিভিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সকল সদস্যেদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এই প্রবাসের একজন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অর্পিতা সোম। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন লেডিস ক্লাব নামের একটি সংগঠন এখানে হচ্ছে জেনে আমার মনে পরে গেল বাংলাদেশে লেডিস ক্লাবের কথা তিনি সেখানে তার অতীতের কিছু স্মৃতি তুলে ধরে বলেন ওই ক্লাবটিতে ছিল আমার মা খালারা আর আজ এই প্রবাসে আমি লেডিস ক্লাবের কথা জেনে খুবই আনন্দিত এবং এর সাথে জড়িত হতে পেরে ভীষণ খুশি। তিনি আরো বলেন এটা ভাবলে ভুল হবে নারীরা দুর্বল, মা দুর্গার মতো আমাদের দশটি হাত, আমরা নারীরা অসহায় নই, আমাদের অসহায় ভাবা হয়। আমরা নারীরা শক্তির প্রতীক।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলা পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিলি ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সংগঠকদের ধন্যবাদ জানান এ ধরণের একটি উদ্যোগের জন্য। যেখানে শুধু নারীদের কথা বলা হবে, নারীরাই কথা বলবেন তাদের নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরবে। তিনি এই সংগঠনটির সাফল্য কামনা করেন।

বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার কার্যক্রম তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত ও গঠনমূলক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেডিস ক্লাবের এক্সিকিউটিভ মেম্বার ডাঃ ফাহিমা সাত্তার তিনি বলেন, ছোটবেলায় মা-খালাদের দেখেছি লেডিস ক্লাবের সদস্য হতে আর এখানে আমি নিজে এমন একটা ক্লাবের সাথে জড়িত হতে পেরে গর্বিত। শুধু ক্লাব হিসাবে না আমরা আমাদের এই বাংলাদেশ লেডিস  ক্লাবকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই নারীদের কল্যানে একটি আদর্শ সংগঠন হিসাবে।

তিনি আরো বলেন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোন নারীর কি সমস্যা আছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, আমরা নারী হিসাবে নারীদের জন্য কাজ করবো এটাই আমাদের লক্ষ্য এ ছাড়াও আমরা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার নারীদের পাশে সহায়তা হাত বাড়িয়ে দিবো তাদের পাশে থাকবো। আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনায় থাকবে, যে সব নারীদের চাকুরীর প্রয়োজন আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাদের কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করবো, এছাড়াও আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে যে সকল নারীরা আর্থিক সংকটে আছেন তাদের জন্য একটি তহবিল গঠন করে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবো। শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার মধ্যেই আমাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে না আমরা নারীদের কল্যানে যা কিছু করা দরকার সব কিছুই করবো। তিনি আহ্বান জানান, যে সকল নারীদের সাহায্য সহযোগিতা দরকার তারা  কোনো সংকোচ না করে বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে আমরা আমাদের সাধ্যমতো সাহায্য করবো।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ লেডিস ক্লাবের সদস্য সামিয়া আক্তার। তিনি তার বক্তব্যে এ ধরণের উদ্যোগের সাথে থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করে নারীদের কল্যানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশ লেডিস ক্লাবের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি শাহানা চৌধুরী স্বরচিত কবিতা আবৃতি করে দর্শকদের বিমোহিত করেন।

বাংলাদেশ লেডিস ক্লাবের আরেক এক্সিকিউটিভ মেম্বার এই প্রবাসের জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পী অমিয়া মতিন তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, নারীরা পিছিয়ে আছে এই ধারণা করা ঠিক না। আমরা নারীদের কল্যানে অনেক কিছু করবো, আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন এটা আমাদের প্রত্যাশা। উপস্থিত সুধীমন্ডলী অনুরোধে তিনি দুটি জনপ্রিয় গান গেয়ে শোনান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে দেন ভারতের কলকাতার বাঙ্গালী শ্রেয়সী দাস। তিনি একজন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নাচের পাশাপাশি তিনি অনেক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তিনি লেডিস ক্লাবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন শুধু আর্থিক সহায়তা নিয়ে নারীদের পাশে দাঁড়ালে চলবে না তাদেরকে মানসিক ভাবে শক্তিশালী করে সমস্যা মোকাবেলার জন্য সাহস জোগাতে হবে। তাদের মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে হবে, একজন নারী যদি মানসিকভাবে সাবলম্বী হয় তাহলে সে অনেক কঠিন পথ পাড়ি  দিতে আরো সাহসী হবে।

এক পর্যায়ে সকল সদস্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন অর্গানাইজিং সেক্রেটারি শাহানা চৌধুরী। কমিটিতে যারা আছেন তার হলেন : রাহেলা আরেফিন – প্রেসিডেন্ট, শায়লা ইসলাম – সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, শামীমা আলমগীর – ভাইস প্রেসিডেন্ট, শিরিন আক্তার মুন্নি – জেনারেল সেক্রেটারি, তাবাসুম জলিল চৌধুরী – ট্রেজারার, আবিদা আসওয়াদ – মিডিয়া এন্ড কালচারাল সেক্রেটারি, শাহানা চৌধুরী – অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, নুসরাত জাহান স্মৃতি – উইমেন্স অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি, কানিতা আহমেদ – ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি, নায়লা রহমান – পাবলিকেশন সেক্রেটারি। এক্সিকিউটিভ মেম্বার ডাঃ ফাহিমা সাত্তার , ফারজানা আহমেদ , সাবরিনা হোসাইন, মাহিরা পারভীন, সঞ্চিতা মতিন, ইলোরা খান, নাজনীন খন্দকার, অমিয়া মতিন, সারিনা শারমিন, তাহসিন আক্তার, কামরুন নাহার  প্রমুখ।

বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার তাবাসুম জলিল চৌধুরী। তিনি বলেন আমরা আমাদের এই ক্লাবের মাধ্যমে আমাদের সমাজের নারীদের কল্যাণের জন্য কাজ করবো। আমরা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর শিকার নারীদের সহায়তা দিবো। তাদের আইনগত অধিকার তুলে ধরতে প্রয়োজনে আইনে ব্যবস্থা পেতে সহায়তা করবো। আমরা নারীদের প্রয়োজেনের মুহূর্তে তারা চাইলে পাশে দাঁড়াবো। কেউ যদি আমাদের কাছে সাহায্য চায় আমরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবো। আমরা আমাদের এই ক্লাবের সদস্য বাড়াতে পরিচিত জনদের সদস্য করতে সচেষ্ট থাকবো। এ ছাড়াও যে সকল নারীদের কাজের প্রয়োজন আমরা তাদের কাজ খুঁজে পেতে সহায়তা করবো।

আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টেলিঅজ এর সিইও ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নারীদের এই সংগঠনটি গঠনের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন নারীরা এখন অনেক চ্যালেঞ্জিং কাজ করে, তারা পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে চলে, তারা এখন আর পিছিয়ে নাই, নারীরা আরো সংগঠিত হলে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সবশেষে বাংলাদেশ লেডিস ক্লাবে অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট রাহেলা আরেফিন বলেন, সম্মানিত সুধী মন্ডলী, আজকের এই সুন্দর সন্ধ্যায় আপনাদের উপস্থিতি আমাদের বিশেষ ভাবে অনুপ্রানিত ও আনন্দিত করেছে। আপনাদের সকলকে এখানে আসার জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে ও বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে আরেক বার ধন্যবাদ জানাই।

কোভিড পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে আপনারা সকলে নিশ্চয় ভালো আছেন। আজকে আমাদের এই অনুষ্ঠানটি ক্ষুদ্র পরিসরে করার  কারণে আমাদের ইচ্ছা  থাকা সাথেও অনেককে বলতে পারি নাই। মূলত আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আত্মপ্রকাশ করার ঘোষণা দিচ্ছি।

আমরা সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ  করবো আমাদের কথা গুলো আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরবেন এবং আমাদের এই পথচলায় আমাদের সমর্থন করবেন।

আমাদের এই সংগঠনটি সম্পূর্ণভাবে নারীদের জন্য। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত থাকবো না। মূলতঃ আমরা নারীর ক্ষমতায়ন নারীর মর্যাদা নিয়ে কাজ করবো। নারীর ক্ষমতায়নের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত – মৌলিক মানবাধিকার যা আরও শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ বিশ্ব অর্জনের চাবিকাঠি। বিভিন্ন সামাজিক এবং জাতিগত পটভূমির নারীদের  অন্তর্ভুক্ত বা জড়িত করার অনুশীলন থাকবে আমাদের।

আমরা সকলকে নিয়ে শুরু করতে চাই আমাদের এই পথচলা আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন এই প্রত্যাশা করি। আমরা আমাদের বিস্তারিত কার্যক্রম পরবর্তীতে আপনাদের সামনে  তুলে ধরবো। আপনাদের সকলকে আরো একবার এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ।

তিনি ধন্যবাদ জানান তাদেরকে যারা এই অনুষ্ঠানটি স্বার্থক ভাবে করার জন্য সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন যারা আজকের এই অনুষ্ঠানটি স্পনসর করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই এবং আগামীতে আপনার আমাদের সাথে থাকবেন এই প্রত্যাশা করি। তিনি বিডি হাবের প্রেসিডেন্ট আবুল সরকার ও জেনারেল সেক্রেটারী আব্দুল খান রতন কে ধন্যবাদ জানান তাদের হলটি ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার জন্য। তিনি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন, রেজা আরেফিন, সাখাওয়াত হোসেন বাবু, কাজী আলম রুবেল, আসওয়াদুল হক বাবুর নাম। যারা এই অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সাহায্য করেছেন।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর উপস্থিত প্রায় সহস্রাধিক নারীদের নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করে  সকলকে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়। যারা এই সুন্দর আয়োজনটির স্পনসর করেছেন তারা হলেন:

Syed Partners, Teleaus, Parish Patience, Esy Global Service, Casula Central Medical Center, Wise Accounting and Financial service, HBD Services, Bingo finance, Jonmobhumi Television, Bangla Hair, Touch Printing, Fast Remit Money Transfer, Sarebee, Jonmobhumi Betar, Campbelltown Pharmacy, Pacific Home Real Estate, Alpha Garage, Australia Bangladesh Journalists Association, Shadhin Kantha, Khadem’s Dine , Thaiburn Ingleburn, Nawab’s, Dhanshiri Restora, Swadesh Barta, BD Hub.

সিডনিতে নির্বাচন প্রার্থী মাসুদ চৌধুরী’র সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিডনির স্থানীয় ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে নির্বাচন প্রার্থী মাসুদ চৌধুরী আজ ১৪ নভেম্বর (রবিবার) দুপুর সাড়ে বারোটায় মিন্টুর খাদেম’স ডাইন এ এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এই সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশী কমিউনিটির সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ ও স্থানীয় লেবার পার্টির সদস্যরা অংশ গ্রহন করেন। নির্বাচনে প্রার্থী মাসুদ চৌধুরী সমগ্র বাংলাদেশী ভোটারদের ব্যালট পেপারের প্রথম লাইনে তার দল লেবার এর বক্সে ১ নম্বর বসিয়ে ভোট দিতে সনির্বদ্ধ অনুরোধ জানান।

কায়সার আহমেদের সভাপতিত্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী মাসুদ চৌধুরী বলেন, আমি গত পাঁচ বছর কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন বাংলাদেশী মেলার আয়োজন, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার, ইসলামিক এডুকেশন সেন্টার ম্যাকুরিফিল্ড ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয় প্রতিষ্ঠায় সহায়তা, চারটি শিশু পার্ক, তিনটি পুরাতন পার্কে পাবলিক টয়লেট স্থাপন, ২০১৭ সাল থেকে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন ও বাংলাদেশী পতাকা উত্তোলন, এরিকা লেনে মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভেল, বাংলা আর্ট প্রদর্শনী, মিন্টু ফিস্ট (বিভিন্ন দেশের গান), রমজানে কাউন্সিলের অর্থায়নে ইফতারের আয়োজন, ম্যাকুরি ফিল্ড স্টেশনে অতিরিক্ত ৩৮ টি কার পার্ক, ওপেন এয়ার সিনেমায় তিনটি বাংলা চলচিত্র প্রদর্শনসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজের সাথে আমি এবং আমার লেবার টীম কাজ করেছি।

আগামীবার আবার নির্বাচিত হলে কি কি কাজ করবেন, সাংবাদিকরা এই প্রশ্নের জবাবে মাসুদ চৌধুরী বলেন, আপনারা যদি আমাকে এবং আমার দল লেবারকে আগামী তিন বছর কাউন্সিলে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন তাহলে আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্থাপন ও মুসলমানদের জন্য গোছলখানা (ফিউনারেল পার্লার), নির্মাণের আপ্রান চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশের আদলে একটি শহীদ মিনার অথবা জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোনটা স্থাপনের পরিকল্পনা আপনার আছে, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা মাল্টিকালচারাল ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরিকল্পনা করা হবে।

কায়সার আহমেদের দেয়া মোধ্যাহ্ন ভোজে সবাইকে আপ্যায়নের পর সাংবাদিক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সিডনিতে নির্বাচন প্রার্থী আবুল সরকারের উদ্যোগে প্রাতঃরাশের আয়োজন

সিডনির স্থানীয় ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে কমিউনিটি ফাস্ট দল থেকে নির্বাচন প্রার্থী আবুল সরকার গত ৭ নভেম্বর (রবিবার) সকাল সাড়ে নয়টায় মিন্টুর নওয়াব রেস্টুরেন্টে কমিউনিটির সম্মানে প্রাতঃরাশের আয়োজন করেন।

এই প্রাতঃরাশে স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন। তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী আবুল সরকার বলেন আমি ২০০১ সাল থেকে মিন্টু এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। আমি এই এলাকার বসবাসের প্রথম দিন থেকেই অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার প্রতিষ্ঠা, শিশুদের জন্য নিরাপদ স্কুল, শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতির জন্য কাজ, আন্তর্জাতিক সোশ্যাল সিকিউরিটি চুক্তির বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত।

কেন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিল এলাকায় কমিউনিটির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে যেমন-কবরস্থান, ফিউনারেল পার্লার, বৃদ্ধা আশ্রম সহ অনেক চাহিদার কথা বিবেচনা করে এবং এই সব কাজকে সহায়তা প্রদানের জন্য এইবার আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ইচ্ছা পোষণ করছি।

কমিউনিটি ফার্ষ্ট পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার কথা জানিয়ে আবুল সরকার বলেন, এই পার্টি দীর্ঘদিন থেকে কমিউনিটির জন্য কাজ করার পাশাপাশি পার্টির  প্রধান মি: পল লেইক বিগত ২০০৪ সাল থেকে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলে কাউন্সিলর ও মেয়র ছিলেন। ২০১৪ সালে মেয়র থাকা কালীন সময়ে বেরোভিলে কবরস্থান প্রকল্প অনুমোদন দেয়। যেখানে মুসলমানদেরও কবরের ব্যবস্থা থাকবে। এবছর পল লেইক রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। পলের ইচ্ছে তার দীর্ঘ ও রাজনৈতিক কর্মময় জীবনের লিগেসি অব্যাহত থাকুক। এই জন্য আমাকে আহ্বান করে তার পার্টি থেকে নির্বাচন করার। এভাবেই আমার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার গুলির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবুল সরকার জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিধির সাধারন দায়িত্ব তার নির্বাচন এলাকার জনগনের ভালো মন্দ দেখার। ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিল এলাকায় বাংলাদেশী সহ অনেক এথনিক কমিউনিটি বসবাস করে। আমি যেহেতু বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ান, সংগত কারনেই বাংলাদেশীদের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো আমার জানা। আপনারা দেখেছেন আমি দীর্ধদিন থেকেই এইসব নিয়ে কাজ করছি। আমি বিডি হাবের সভাপতি। নির্বাচিত হলে সবার সম্বিলিত সহযোগীতায় এটি বড় ও স্থায়ী রুপ দেয়ার চেষ্টা করবো। এছারাও এখানে সার্বজনীন উদ্দোগে বাংলাদেশের আদলে একটি শহীদ মিনার অথবা জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্থাপন করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালাবো। কমিউনিটির আরো যেসব চাহিদা বিষেশ করে কবরস্থানে মুসলমানদের অংশীদারিত্ব, গোছলখানা (ফিউনারেল পার্লার), বৃদ্ধা আশ্রম প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব সংগঠন এগিয়ে আসবে তাদের সার্বিক সহযোগীতা প্রদানই আমার নির্বাচনী অংগীকার।

সিডনিতে “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সেমিনার অনুষ্ঠিত

সিডনিতে আজ ৭ নভেম্বর (রবিবার) সাংবাদিকদের সংগঠন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাব-এর আয়োজনে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ: Bangladesh: A Country of Social and Religious Liberalism’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ স্থানীয় সময় দুপুর ১ টায় শুরু হয়ে আলোচনা সভা চলে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।  সিডনির রকডেলের রেড রোজ ফাংশন সেন্টারে আয়োজিত আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির এমপি স্টিভ ক্যাম্পার ও এমপি আনুলাক চান্ডিভং৷ শ্যাডো মাল্টিকালচারাল মন্ত্রী ও এমপি স্টীভ ক্যম্পার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের প্রশংসা করে বলেন, তিনি অবশ্যই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কম্যুনিটির বিকাশের সাথে কাজ করবেন এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ও তার সরকারকে যাবতীয় সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া পাশে থাকবে।

এছাড়া বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তার বক্তব্য প্রদান করেন৷ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পূর্ণ সদিচ্ছা আছে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে৷ প্রতিটি ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতারা সেখানে গেছেন৷ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ৷ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা গামা আবদুল কাদির বলেন, অবৈধ সরকার এরশাদের সময়কার অবৈধ সংসদে করা ধর্মীয় সংশোধনী সংবিধান থেকে অবৈধ ঘোষনা করতে হবে এবং সুপ্রীম কোর্টের রায় মোতেবেকই এটি করা যায়। সেমিনারে প্রতিন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করেন জিয়াউর রহমান ও এরশাদের করা সকল সংশোধনী বাতিল করতে হবে৷

সেমিনারটি উপস্থাপনা করেন সংগঠনের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আল নোমান শামীম। আয়োজক সংগঠনকে সহযোগিতা করেছে ব্রান্ডিং বাংলাদেশ, অষ্ট্রেলিয়া।

সেমিনারে কথা বলেন অস্ট্রেলিয়া প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রহমতুল্লাহ, আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিলটন৷ তিনি বলেন, কোনো এজেন্ডা নিয়ে নয়, এই সংকট সমাধানে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে৷ শেখ হাসিনাকে তিনি ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান একটি সমৃদ্ধ দেশ উপহার দেয়ার জন্য৷ অনুষ্ঠানে শুরুর দিকে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল আলম ও ড. তুষার দাশ।

সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ শফিউর রহমান৷ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসান, পিআরও আনোয়ারুল হোসেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি সেলিমা বেগম৷ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ টুটুল, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক এড নির্মল্য তাকুলদার। আরো বক্তব্য রাখেন মিঃ পল মধু।

সেমিনারের মূল প্রস্তাবনা হিসেবে তিনটি বিষয় উঠে আসে, যা বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়ঃ

১। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারনে ঘটা অপরাধের শাস্তি,

২। অবৈধ এরশাদ সরকারের অবৈধ সংসদে পাশ করা রাস্ট্রধর্ম অধ্যাদেশ বাতিল,

৩। শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক করা।

সর্বধর্মীয় এই সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবু রেজা আরেফিন, কম্যুনিটির সিনিয়র নেতা আব্দুল জলিল, এমদাদ হক, আসলাম মোল্লা, সাংবাদিক আকাশ দে, মিজানুর রহমান সুমন, মোঃ জাহাঙ্গীর, অন্নপূর্না দে, ডঃ বিপ্লব সাহা, দিবাকর সমাদ্দার, সাদ্দাম হোসেনসহ মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও কমিউনিটির আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বিডি কমিউনিটি হাব সিডনি’র উদ্যোগে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশী প্রার্থীদের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিডি কমিউনিটি হাব সিডনি গত ৬ নভেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যে সাড়ে ৭ টায় ২ ইরিকা লেন মিন্টুস্থ তাদের নিজস্ব ভবনে আসন্ন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে সিডনির বিভিন্ন সিটি কাউন্সিলে অংশগ্রহনকারী সকল বাংলাদেশী প্রার্থীদের সন্মানে এক সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

বিডি কমিউনিটি হাব সিডনির সাধারন সম্পাদক আব্দুল খান রতনের সঞ্চালনায় ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মত বিনিময় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াত করেন হাবিবুর রহমান। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও প্রার্থী পরিচিতির পর রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়।

এরপর উপস্থিত সিডনির সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থীরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক গঠন, ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রার্থীদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ চৌধুরী, আবুল সরকার, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, আফজাল হোসেন, আব্দুস সালাম, সুফিউজ্জামান ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিল। মাহবুবুর রহমান, আবু সুফিয়ান, ক্যানটারবুরি ব্যাঙ্কসটাউন সিটি কাউন্সিল। হাসিন জামান ও সৈয়দ সামনান, ক্যামডেন সিটি কাউন্সিল। সাইফুল ইসলাম। সৈয়দ হাসানউদ্দিন মাহাদী, এএসএম মাহবুব মোরশেদ, লিভারপুল সিটি কাউন্সিল।   

সুধী সমাবেশে নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক দল বিবেচনায় না রেখে সকল বাংলাদেশী প্রার্থীদের ভোট দিয়ে স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জোর পরামর্শ দেন।

তারা সমগ্র বাংলাদেশী ভোটারদের ব্যালট পেপারের প্রথম লাইনে ভোট না দিয়ে নীচের লাইনে বাংলাদেশী প্রার্থীদের নামের পাশে ১,২, ৩ ………করে পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে ৮ জনের নামের সামনে ক্রমিক নম্বর বসিয়ে ভোট দিতে সনির্বদ্ধ অনুরোধ জানান। তাঁরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই পদ্ধতিতে ভোট দিলে যে সমস্ত কাউন্সিলে বেশী সংখ্যায় বাংলাদেশী ভোটার রয়েছে সেখানে একাধিক প্রার্থীকে বিজয়ী করে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব হবে। তারা বাংলাদেশীদের মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহনের জন্য প্রার্থীদের অভিনন্দন জানান।

এছাড়াও তারা সিটি কাউন্সিল গুলিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলি পালনের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। মতবিনিময় সভাটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নির্ধারিত ছিল।