সিডনিতে আমাদের কথা সংগঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ গত ১ অক্টোবর (শুক্রবার) সিডনিতে আমাদের কথা নামের বাংলা সংস্কৃতি ভিত্তিক সংগঠনের ভার্চুয়ালি প্রথম বর্ষপূর্তির ধারাবাহিক অনুষ্ঠানসূচীর প্রথম অনুষ্ঠান পালন করে।  কোভিড বিধিনিষেধের কারণে এই বর্ষপূর্তির ভার্চুয়ালি উদযাপন করা হয়েছে। পঞ্চকন্যার এই সংগঠনের পুরোধা হলেন পূরবী পারমিতা বোস ও মঞ্জুশ্রী মিতা । মডারেটরবৃন্দ হলেন নিলুফা ইয়াসমীন, কিশোয়ারে সুলতানা ও দ্বিপান্বিতা লোপা।  এ ছাড়াও আছেন অনেক সক্রিয় সদস্য।

এই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল ২০২০ সালের ১৫ ই অক্টোবর। এর বৃষপূর্তির অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমাদের কথার সম্মানিত সদস্য সুচিত্রা কুন্ডু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী, সিডনির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক ও কলামিস্ট ড. রতন কুন্ডু ও আমাদের কথার মডারেটর ও সিডনির সুকণ্ঠী গায়িকা নিলুফা ইয়াসমিন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন আমাদের কথার সব মডারেটর, সদস্যবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী শুভাকাঙ্খীরা। কারিগরি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সন্ধ্যে ৮ টায় পূরবী পারমিতা বোসের ভূমিকা ও স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সুচিত্রা কুন্ডু পারিবারিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির উপর আলোচনা করেন। এরপর রতন কুন্ডু তাঁর কাব্য কথা মেঘদূত নিয়ে আলোচনার সূচনা করেন। নিলুফা ইয়াসমিন জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন। রতন কুন্ডুর পুঁথি পাঠ ও নিলুফা ইয়াসমিনের মধুর কন্ঠী সংগীত সবাইকে আপ্লুত করে। পূরবী ও নিলুফা আমাদের কথা সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করেন। একটি মননশীল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেয়ার জন্য ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা সবাই আমাদের কথাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতি শুক্রবারে এ জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তাঁদের অনুরোধের  কথা জানান।

প্রশান্তপারের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে বাঙালি অভিভাষণের বয়স কাল মাত্র তিন দশকের। এর বহু আগে একজন দুজন করে এলেও এই পরিমণ্ডলে তাঁরা সামাজিক ভাবে বাংলা সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে পারেনি। ইদানিং বাংলা অভিবাসীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে বৈধ বাঙালির সংখ্যা ছিলো ৪১২৩৩ জন। পরবর্তীতে হাজার হাজার ছাত্র পড়াশুনা করতে অস্ট্রেলিয়া এসে স্বপরিবারে এখানেই বসতি গড়েছে। আজ অব্দি বাংলাদেশির সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়েছে বলে অনুমিত হচ্ছে। বিগত তিন দশকে বাঙালি সংগঠনগুলো সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বিগত দশকে আগত নুতন প্রজন্ম প্রচলিত বৃত্ত ভেঙে বাঙালি সংস্কৃতিকে আলাদা মাত্রা দিতে সক্ষম হয়েছে।

অনেক নারীরা এগিয়ে এসে নতুন নতুন নারী সংগঠনের জন্ম দিয়েছে। সব গুলো সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন নারীরা। সিডনিতে পূরবী পারমিতা বোসের নেতৃত্বে আমাদের কথা, ফারিয়া নাজিমের নেতৃত্বে ভবের হাট, তিশা তানিয়ার নেতৃত্বে ফাগুন হাওয়া, তাম্মি পারভেজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ফ্যাশন এসোসিয়েশন, মৌসুমী সাহার নেতৃত্বে নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমী, অর্পিতা সোম চৌধুরীর নাচের স্কুল ও ওয়েব ভিত্তিক সংগঠন হার্মোনিক মিরর, মাহমুদা রুনুর নেতৃত্বে কবিতার বিকেল, প্রয়াত শারমিন পাপিয়ার নেতৃত্বে আনন্দ ধারা, এলিজা আজাদ টুম্পার নেতৃত্বে গল্পকথা সংগঠন ও অস্ট্রেলিয়ায় নারী পরিচালিত প্রথম বাংলা পত্রিকা আরঙ্গ  সহ রয়েছে আরো অনেক সংগঠন। এ ছাড়াও মেলবোর্ন, পার্থ, ক্যানবেরা, ব্রিসবেন সহ আরো শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে আরো অনেক নারী শুধুমাত্র নেতৃত্বই নয়, তাঁরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারেও বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।