অস্ট্রেলিয়ায় বাসভূমি আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ বাংলাদেশে সম্প্রতি সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি সর্বদলীয় ও নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রতিরোধ ৱ্যালির আয়োজন করা হয়।

২৪ অক্টোবর বাসভূমি আয়োজিত এই সমাবেশের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ৪৬টি বাংলাদেশি সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. রতন কুণ্ডু। অনুষ্ঠাটি সার্বিকভাবে পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন বাসভূমি কর্ণধার আকিদুল ইসলাম।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়ার পর ঘটনায় আক্রান্ত ও নিহতদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর সংগীত পরিবেশন করেন মিসেস নিলুফা ইয়াসমিন ও ফারিয়া আহমেদ। বিপ্লবী ছড়া পাঠ করেন সুহৃদ সোহান হক।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- এনায়েতুর রহিম, ড. সিরাজুল হক, রফিক উদ্দিন, ড. রফিক ইসলাম, ড. খায়রুল চৌধুরী, ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, মিলি ইসলাম, মোঃ আব্দুল মতিন, নাঈম আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলাম, ফজলুল হক শফিক, আসলাম মোল্লা, আবুল হোসেন আব্দুল খান রতন, মেহেদী হাসান কচি, নির্মল পাল, আকাশ দে, দেলোয়ার হোসেন, শুভা শেঠি, মাসুদ চৌধুরী, মোবারক হোসেন, বিনয় সাহা, মিতা দে, একে এম এমদাদুল হক, ওসমান গনি, বিলকিস জাহান, মুস্তাফিজ তালুকদার মঞ্জু,  গোলাম ফারুক, উদয় শঙ্কর বড়ুয়া, পূরবী পারমিতা বোস, আব্দুস সালাম, মিতা দে, জাকারিয়া মামুন স্বপন, দিদার হোসেন, রণজিৎ দাশ, স্বপ্নিল দে প্রমুখ।

বাংলাদেশ সরকারকে হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য বাসভূমি সমাবেশে সর্বসম্মতি ক্রমে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়।

১.হামলার একটি সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্ত শুরু এবং এই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ।

২.হিন্দুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও সহিংসতাকারী অপরাধীদের বিচারের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

৩.সমাজে অবস্থান বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে হামলার সকল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা।

৪.সমস্ত ক্ষতিগ্রস্থদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় স্থান, বাড়ি এবং ব্যবসার পুনর্নির্মাণ।

৫.হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন।

৬। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।

যেসব সংগঠন এই সম্প্রীতি সমাবেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ  জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, অস্ট্রেলিয়া, মহিলা আওয়ামীলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সিডনি, স্বদেশ বার্তা, বাংলা বার্তা, স্বাধীন কণ্ঠ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সিডনি, ফাগুন হাওয়া, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ফ্যাশন এসোসিয়েশন, বিডি হাব, সিডনি, আমাদের কথা, টেলিঅজ ফাউন্ডেশন, ইয়েস টিভি, নৃত্যাঞ্জলী ড্যান্স একাডেমী, অস্ট্রেলিয়া টাইমস, সিডনি প্রতিদিন, ভবের হাট, নটরাজ ড্যান্স একাডেমী, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি এলামনাই, উইম্যান কাউন্সিল, কেয়ার ফর হিউমিনিটি, বাংলাদেশ খ্রিস্টিয়ান ফেলোশীপ, বুদ্ধিস্ট সোসাইটি, বি এস পি সি, রেডিও কেনবেরা, বিজয়কণ্ঠ, মেলবোর্ন আওয়ামীলীগ, দিনলিপি, বাংলা স্কুল, বারডিয়া, প্রভাত, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কমিটি, মাল্টিকালচারাল ইউথ এসোসিয়েশন, দেলোয়ার টিভি, ট্রুথ টিভি, বগুড়া সমিতি, অস্ট্রেলিয়া, জাতীয় সংবাদ সংগ্রহ সংস্থা, সিডনি শাখা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন অব, আগমনী, শঙ্খনাদ, ক্যাম্পবেলটাউন আই এম এল ডি মন্যুমেন্ট কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই।

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে উত্তাল সিডনি।। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৯-দফা দাবি।

গত সপ্তাহে দুর্গা পূজা চলাকালীন বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ইসলামী মৌলবাদীদের বর্বরতম হামলার প্রতিবাদে আজ ২৪ অক্টোবর (রবিবার) বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহর সিডনি। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষুব্ধ সদস্যসহ সকল সম্প্রদায়ের জনগণ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ২৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি, অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিবিদ, অস্ট্রেলিয়ান সরকারের মিডিয়া এসবিএস এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মিডিয়াসহ বিপুল সংখ্যক জনতা এই প্রতিবাদ সভা ও মিছিলে অংশ নেন। তীব্র প্রতিবাদ, ঘৃণা ও ক্ষোভে উচ্চকিত হয় শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হাইড পার্ক। সমাবেশটি আয়োজিত হয় “স্ট্যান্ড ফর রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ”-এর উদ্যোগে।

কোভিড নিষেধাজ্ঞা ও সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন-কানুন মেনে আজ দুপুর ১২টায় প্রতিবাদকারীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, লিফলেট নিয়ে হাইড পার্কে সমবেত হন । সমাবেশ সমন্বয়কারী অমিত সাহা, অপু সাহা, সুরজিত রায়, ডঃ স্বপন পাল প্রমুখের নেতৃত্বে তারা সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন । সভার শুরুতে এই নৃশংস হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে উভয় দেশের প্রতি সম্মান জানান জ্যোতি বিশ্বাস ও বর্ণালী রায়।

ডঃ স্বপন পাল ও অনন্যা ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায়, সভার শুরুতে বক্তৃতায় অস্ট্রেলিয়ান বেঙ্গলি হিন্দু এসোসিয়েশন (আভা)-র প্রতিনিধি, ডঃ সমীর সরকার এই ঘৃণ্যতম হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংখ্যালঘুদের প্রতিটি সরকারের বিদ্বেষ ও বৈষম্যের পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুদের জমিকে “শত্রু সম্পত্তি” আইন করে তাদেরকে বঞ্চিত করেছে। এ কারণে হিন্দুরা প্রায় ২.৬ মিলিয়ন জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি হারিয়েছে, যার আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১৪০ বিলিয়ন ডলার, এবং ২০২১ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ ভাগ। এই আইনটি নতুন করে “অর্পিত সম্পত্তি” শিরোনাম দিলেও এর আসলেই কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বৈরী আচরণ ও অত্যাচারের কারণে বাংলাদেশ প্রায় আড়াই কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠীও হারিয়েছে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে ধর্মীয়ভাবে সহিষ্ণু একটি দেশে পরিণত করার আহ্বান জানান। নইলে বাংলাদেশেকে দ্বিতীয় আফগানিস্তান হওয়া থেকে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাবে না।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত বলেন, “একাত্তরে আমরা সম্মিলিতভাবে দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশটা কোনও একক গোষ্ঠীর নয়। গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ এই জঙ্গী তৈরি করেছে। ভোটের দরকার নেই, তাই সংখ্যলঘুও নিগৃহীত”। তিনি আরও বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, আমরা আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে বিচার চাই কেন? এর কারণ, নাৎসিদের বিচার হয়েছিল আন্তর্জাতিক আদালতেই। আর বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই অপরাধ নাৎসিদের কৃতকর্মের সাথে তুলনীয়। আমরা বাংলাদেশেকে ভালোবেসে এতদিন বলেছি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’, কিন্তু এখন থেকে ‘আমি নয়নজলে ভাসি’ বলতে হবে”।

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ফেডারেল ইমিগ্রেশন মন্ত্রী লরি ফারগুসন এই সমাবেশের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি এই সহিংসতা ও বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এর অবসানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিবিদ ও সরকারকে এই প্রতিবাদ ও সংগ্রামের সাথে যুক্ত করা প্রয়োজন”। 

সিডনির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরতলী প্যারামাটা-র লেবার দলীয় প্রতিনিধি দুর্গা ওয়েন বলেন “এটা বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য চরম দুঃখের ও অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন। কিন্তু পিছিয়ে যাওয়া চলবে না। আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে লিখিতভাবে জানান, সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করুন। আমরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে ও অন্যান্য সমাজে বিদ্যমান এই বৈষম্য ও অত্যাচার বন্ধ করব”।

প্যারামটা-র প্রাক্তন কাউন্সিলর জেমস শঅ বলেন, “যে কোনও নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, একে রুখে দিতে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছে আবেদন জানান”।

মুহুর্মুহু স্লোগানের মধ্যে সভায় নিন্দা, ক্ষোভ এবং প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে আরও বক্তব্য রাখেন, হিন্দু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি সাই পরভাস্তু, ফিয়ান এর প্রতিনিধি যাদু সিং, মহাসঙ্ঘের প্রতিনিধি অরুণেশ শেঠ, কাম্বারল্যান্ড কাউন্সিলের কাউন্সিলর সুমন সাহা, সিডনি বেঙ্গলি বুদ্ধিস্ট এসোসিয়েশনের নীতিশ বড়ুয়া, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস হিন্দু স্টুডেন্ট সোসাইটির মৌমিতা পাল, আগমনী অস্ট্রেলিয়া-র কমলেশ চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ান ফোরাম ফর মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি এবং প্যারামটার প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রবীর মৈত্র, বাংলাদেশ পূজা এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (বিপিএ)-এর দিলীপ দত্ত, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা এন্ড কালচার (বিএসপিসি)-এর অশোক রায়, জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আশিস বরণ রায়, লোকনাথ ব্রহ্মচারী মিশন সিডনি-র পরমেশ ভট্টাচার্য, রাধাকৃষ্ণ গৌরীয় মন্দির-এর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস এবং শঙ্খনাদ ইন্‌ক্‌-এর প্রতিনিধি অনুপম দেবরায়।

সমাবেশের অন্যতম প্রধান সংগঠক সুরজিত রায় এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন বেগবান রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভার শেষে অন্যতম সমন্বয়কারী অমল দত্ত, ইসলামী মৌলবাদীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেন, এবং এই আন্দোলনের তীব্রতা সম্পর্কে সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি নিম্নলিখিত ৯-দফা দাবি উত্থাপন করেন।

১.  হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের আশু সহায়তা, এবং এজাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে

২. এই ঘটনার পূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করে এই তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে উন্মোচিত করতে হবে 

৩. এই হামলাকারীদের সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে

৪. হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলের বাড়িঘর, উপাসনালয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ করতে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৫. বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য একটি ভিন্ন মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে, যারা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ আইন প্রণয়ন করবে

৬. এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে একটা বিশেষ আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে, যেখানে কমপক্ষে ৪০% সদস্য হিন্দু সম্প্রদায় থেকে নিতে হবে এবং বাকি সদস্যদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি উদার হতে হবে

৭. পুলিশ, গোয়েন্দা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার যেসব সদস্য হিন্দুদের সুরক্ষা দেবার কাজে নিয়োজিত ছিল, কিন্তু সে কাজে অবহেলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে

৮. পাঠ্যক্রম সংস্কার করে, মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে এমন বিষয়বস্তু বাদ দিতে হবে, এবং এর বদলে সেইসব বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা আমাদের সমাজের সত্যিকার মূল্যবোধ তৈরিতে সাহায্য করে; এবং আমাদের প্রকৃত সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরে

৯. ধর্মীয় সমাবেশে সকল প্রকার হিংসাত্মক বক্তব্য দেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে, এবং এর পরিবর্তে সহিষ্ণুতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতিবোধ জাগিয়ে তুলতে উৎসাহ দিতে হবে। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের আহবান সিডনির ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের

কাজী আশফাক রহমানঃ আজ ২৩ অক্টোবর (শনিবার) সিডনিস্থ ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী ও সদস্যরা নিকটবর্তী পাসফিল্ড পার্কে সম্প্রতি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয়া দুর্গাৎসব চলাকালে সংখ্যালঘু ভাগ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উপর ঘৃণ্য হামলার প্রতিবাদে এক নীরব মানব বন্ধনের আয়োজন করে।

বিকাল ৫ টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ও সম্প্রীতির পক্ষে বিভিন্ন প্লেকার্ড প্রদর্শিত হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট স্থায়ী এই প্রতীকী প্রতিবাদে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে দৃঢ শপথ উচ্চারিত হয়। আয়োজকরা জানান, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল সব মানুষের সমান মর্যাদা ও সম অধিকারে বিশ্বাসী। আর তাই সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয়া দুর্গাৎসব চলাকালে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর ঘৃণ্য হামলার প্রতিবাদে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

বাংলাদেশে সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠী একে অপরের সাথে মিলে মিশে শান্তিতে সহাবস্থান করবে এই প্রত্যাশা জানিয়ে বিকাল ৫ টা ৪০মিনিটে এই শান্তিপূর্ণ মানব বন্ধন শেষ হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাসী ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল গত দুই দশক ধরে যে কোন দুর্যোগে, সংকটে, অসহায় মানুষের পাশে থেকে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর পক্ষে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য প্রতি রবিবার উন্মুক্ত থাকে।

সিডনিস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন  

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ গত ১৮ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় সিডনিস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটে শেখ রাসেল দিবস উদযাপিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভায় সিডনির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ কনসুলেটের কর্মকতা কর্মচারী বৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

কনসাল আশফাক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। কনসাল আশফাক হোসেন শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে প্রেরিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করে শোনান। দুটো দুর্লভ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের পর আলোচনা সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় ড. রতন কুণ্ডু অতি সম্প্রতি দুর্গাপূজায় বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন ও দোষীদের অতিদ্রুত স্পেশাল ট্রাইবুনালের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য কনসাল জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী বরাবর অনুরোধ জানান।

কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে সভায় জানান। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ থেকে কিছু স্পর্শকাতর অধ্যায় পাঠ করলে অনুষ্ঠানে এক বিষাদময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি কনসাল জেনারেল কারাগার জীবনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে এই দিবসে শিশু অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। আগত শিশু কিশোর ও তাদের মায়েদের নিয়ে শেখ রাসেলের জন্মদিনের কেক কাটার পর অতিথিদের সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা ও কোরআন অবমানকারীদের গ্রেফতার এবং শাস্তি দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টএসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষত্মাকভাবে কোনো ধর্মকে অবমাননা ইসলাম সমর্থনকরেনা। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ওসহযোগিতার মনোভাব পোষণ করাই একান্ত কাম্য। সকল ধরণের মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে এরূপ নৃশংসতা পুরোপুরিভাবেঅগ্রহণযোগ্য।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ আবাসভূমি হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। সুদূরপ্রবাসে আমরা মুসলমানরাও সংখ্যালঘু, তাই বলে সংখ্যাগরিষ্ঠরা আমাদের উপর হামলা করবে? কিন্তু দু:খের বিষয় হলো শুধুবাংলাদেশ নয়, অনেক দেশই আজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি নয় যা অত্যন্ত দু:খজনক। ধর্মকেঅপব্যবহারের যে কোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়বিদ্বেষী সকল অপশক্তিকে প্রশ্রয় না দেয়া, জঙ্গিধর্মভিত্তিক শক্তির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠভাবে সংগ্রাম পরিচালনা করাআমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্র ও জনসমাজকে সম্মিলিতভাবে আজ এ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ধর্মীয় গ্রন্থেরঅবমাননা ও নাশকতামূলক কাজের জন্য অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে।

সিডনিতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের পরিবেশনা রুদ্ধ সময়েও মুক্ত প্রান অনুষ্ঠিত

কাজী আশফাক রহমানঃ বিযুক্ত সময়ে সংযুক্তির আহবানে আয়োজিত হয়েছে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের পরিবেশনা রুদ্ধ সময়েও মুক্ত প্রান। গত ১৬ অক্টোবর (শনিবার) স্কুলের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং সিডনির প্রখ্যাত শিল্পীবৃন্দ অংশ নেন। সিডনি সময় সন্ধা ৭টা এবং বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে যুক্ত হন দুই বাংলা অন্যতম শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, একুশে পদক প্রাপ্ত কিংবদন্তী নজরুল গীতি শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের প্রবাদ প্রতিম শিল্পী সেলিনা আজাদ।

বাংলাদেশে ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পর বাংলা স্কুল সাধারণ সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান। এরপর স্কুলের উপর নির্মিত একটি চমৎকার তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। স্কুলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে একক সংগীত পরিবেশন করে রাসমিয়া, জেইনা, রেহনুমা, আরিক, রুশনান, এলভিরা, অর্ণা, দৈত সংগীতে অংশ নেয় নাদিন ও নারমিন, একক আবৃত্তি নিয়ে আসে মারজান, নাজিহা, সাফা,স্বপ্নীল,স্বাধীন, এষাণ ও মেহুলী, দৃপ্ত, আলিশা,আরিক, ইয়াশফিন। একক নৃত পরিবেশন করে অলিভিয়া। স্বাধীনতার গল্প বলে সবাইকে অভিভূত করে তোলে অপলা ও অরূপা। স্কুলে বাংলা শেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সব শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানায় অস্কার। ছাত্রছাত্রীদের প্রতিটি পরিবেশনা অনলাইন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

সিডনির প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী লুৎফা খালেদ, তামিমা শাহরিন এবং ফায়সাল খালিদ শুভ, রুমানা ফেরদৌস লনি সংগীত পরিবেশন করে সবাইকে বিমোহিত করে তোলেন। বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব দোতারায় প্রানের সুর তুলে আনেন আহমেদ তারিক। কবিতা পাঠ করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মৌমিতা চৌধুরী। স্বনামধন্য নৃত্য শিল্পী অমৃতা পাল চৌধুরীর ধ্রুপদী নৃত্য অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

বাংলা সংগীতের তিন দিকপাল শিল্পী এই সুদূর প্রবাসে দীর্ঘ দুই দশকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের গৌরবজ্জল ভূমিকার ভূয়সি প্রশংসা করেন। তাঁরা স্কুলের উত্তরোত্তর আরো উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তারা এক প্রাণবন্ত আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে তাদের জীবনের স্মরণীয় ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য আবদুল জলিল ও শাহ আলম সৈয়দ। তারা স্কুলের আজকের অবস্থানের জন্য সবার অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং আগামীতেও প্রত্যেকের সহযোগিতা কামনা করেন । প্রধান সমন্বয়কারী মেহেদী হাসান ও রুমানা ফেরদৌস লনির পরিকল্পনায় এই অনলাইন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কারিগরি নিয়ন্ত্রণ, অঙ্গসজ্জা ও পরিচালনায় ছিলেন রাফায়েল রোজারিও। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ ও স্কুলের সংগীত শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি। সহায়তায় ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক আনজুমান আরা আইরিন, শায়লা ইয়াসমিন নুসরাত, অনিতা মন্ডল, মাহবুব শাহরিয়ার, শারমিন সুলতানা ও সাজ্জাদ সিদ্দিক। প্রচারে ছিলেন ইয়াকুব আলী ও রুমানা খান মোনা। সিডনি সময় রাত বারোটায়  বাংলা স্কুল সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলে কোভিড মহামারির প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে মুখোমুখি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অনলাইনে শিক্ষাক্রম নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চলছে। বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন করবে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের এক সভায় বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় মানবিক সহযোগিতা, কমিউনিটি ডায়ালগ, মিডিয়া কর্মশালা, অভিষেক সন্ধ্যা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসহ নানা কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনে স্থানীয় সময় ১১ অক্টোবর (সোমবার) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেবাস্থ এক রেস্তরাঁয় কার্যকরী পরিষদের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের উপস্থাপনায় কার্যকরী পরিষদের এই সভায় প্রথমে পবিত্র ক্বোরআন থেকে তেলোয়াত করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্যা। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ বিরতি পর স্বশরীরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে সভার প্রথম পর্বে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন কার্যকরী পরিষদের সদস্য আকিদুল ইসলাম, নাইম আবদুল্লাহ ও ডক্টর রতন কুন্ডু।

নৈশভোজের বিরতির পর কাউন্সিলের বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে মতামত পেশ করেন, ডক্টর তারিকুল ইসলাম (সহ-সভাপতি) আতিকুর রহমান (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), দিলারা জাহান (কোষাধ্যক্ষ), হাজী মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), তাম্মি পারভেজ (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মোহাম্মাদ জিয়াউল কবির (মিডিয়া অ্যান্ড কমুনিকেশন সম্পাদক) ও কাউন্সিলের সদস্য এস এম দিদার হোসেন।

কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আগামি ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মহান ‘বিজয় দিবস’ পালন, ২৬ জানুয়ারী ‘অস্ট্রেলিয়া দিবস’ ২০শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এবং ২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিডনির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কমিউনিটি ডায়ালগ, মিডিয়া কর্মশালা, মতবিনিময় সভা, সেমিনার, বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিক সহযোগিতায় অনবদ্য ভূমিকা পালন ও মানবতার পাশে দাঁড়াবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।

এছাড়াও, কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সম্প্রতি স্বপ্রনোদিত হয়ে মিডিয়ার বিরুদ্ধে নির্লজ্জ ও ঘৃণ্য অপপ্রচার চালানোর দায়ে সিডনির তথাকথিত পাঁচ ব্যক্তিকে বয়কট এবং ঘৃণ্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এই পাঁচ ব্যক্তি মিডিয়ার কাছে নি:শর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সংগঠনের সদস্যরা তাদের কোনপ্রকার সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র কার্যকরী পরিষদের সভা আগামী ১১ অক্টোবর

আগামী সোমবার ১১ অক্টোবর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র কার্যকরী পরিষদের প্রথম সভা ও নৈশভোজ সিডনির ল্যাকেম্বাস্থ ধানসিঁড়ি রেঁস্তোরায় অনুষ্ঠিত হবে। এসোসিয়েশন’র সভাপতি মোহাম্মাদ আবদুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞতিতে কার্যকরী পরিষদের সকল সম্মানিত সদস্যদের পরিষদের প্রথম সভায় উপস্থিত থাকার পাশাপাশি করোনার দুইটি ভ্যাক্সিনের সনদপত্র সাথে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সিডনিতে আমাদের কথা সংগঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ গত ১ অক্টোবর (শুক্রবার) সিডনিতে আমাদের কথা নামের বাংলা সংস্কৃতি ভিত্তিক সংগঠনের ভার্চুয়ালি প্রথম বর্ষপূর্তির ধারাবাহিক অনুষ্ঠানসূচীর প্রথম অনুষ্ঠান পালন করে।  কোভিড বিধিনিষেধের কারণে এই বর্ষপূর্তির ভার্চুয়ালি উদযাপন করা হয়েছে। পঞ্চকন্যার এই সংগঠনের পুরোধা হলেন পূরবী পারমিতা বোস ও মঞ্জুশ্রী মিতা । মডারেটরবৃন্দ হলেন নিলুফা ইয়াসমীন, কিশোয়ারে সুলতানা ও দ্বিপান্বিতা লোপা।  এ ছাড়াও আছেন অনেক সক্রিয় সদস্য।

এই সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল ২০২০ সালের ১৫ ই অক্টোবর। এর বৃষপূর্তির অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমাদের কথার সম্মানিত সদস্য সুচিত্রা কুন্ডু, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী, সিডনির সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক ও কলামিস্ট ড. রতন কুন্ডু ও আমাদের কথার মডারেটর ও সিডনির সুকণ্ঠী গায়িকা নিলুফা ইয়াসমিন। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন আমাদের কথার সব মডারেটর, সদস্যবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী শুভাকাঙ্খীরা। কারিগরি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সন্ধ্যে ৮ টায় পূরবী পারমিতা বোসের ভূমিকা ও স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সুচিত্রা কুন্ডু পারিবারিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির উপর আলোচনা করেন। এরপর রতন কুন্ডু তাঁর কাব্য কথা মেঘদূত নিয়ে আলোচনার সূচনা করেন। নিলুফা ইয়াসমিন জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন। রতন কুন্ডুর পুঁথি পাঠ ও নিলুফা ইয়াসমিনের মধুর কন্ঠী সংগীত সবাইকে আপ্লুত করে। পূরবী ও নিলুফা আমাদের কথা সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করেন। একটি মননশীল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেয়ার জন্য ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা সবাই আমাদের কথাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতি শুক্রবারে এ জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তাঁদের অনুরোধের  কথা জানান।

প্রশান্তপারের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে বাঙালি অভিভাষণের বয়স কাল মাত্র তিন দশকের। এর বহু আগে একজন দুজন করে এলেও এই পরিমণ্ডলে তাঁরা সামাজিক ভাবে বাংলা সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে পারেনি। ইদানিং বাংলা অভিবাসীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে বৈধ বাঙালির সংখ্যা ছিলো ৪১২৩৩ জন। পরবর্তীতে হাজার হাজার ছাত্র পড়াশুনা করতে অস্ট্রেলিয়া এসে স্বপরিবারে এখানেই বসতি গড়েছে। আজ অব্দি বাংলাদেশির সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়েছে বলে অনুমিত হচ্ছে। বিগত তিন দশকে বাঙালি সংগঠনগুলো সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বিগত দশকে আগত নুতন প্রজন্ম প্রচলিত বৃত্ত ভেঙে বাঙালি সংস্কৃতিকে আলাদা মাত্রা দিতে সক্ষম হয়েছে।

অনেক নারীরা এগিয়ে এসে নতুন নতুন নারী সংগঠনের জন্ম দিয়েছে। সব গুলো সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন নারীরা। সিডনিতে পূরবী পারমিতা বোসের নেতৃত্বে আমাদের কথা, ফারিয়া নাজিমের নেতৃত্বে ভবের হাট, তিশা তানিয়ার নেতৃত্বে ফাগুন হাওয়া, তাম্মি পারভেজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ফ্যাশন এসোসিয়েশন, মৌসুমী সাহার নেতৃত্বে নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমী, অর্পিতা সোম চৌধুরীর নাচের স্কুল ও ওয়েব ভিত্তিক সংগঠন হার্মোনিক মিরর, মাহমুদা রুনুর নেতৃত্বে কবিতার বিকেল, প্রয়াত শারমিন পাপিয়ার নেতৃত্বে আনন্দ ধারা, এলিজা আজাদ টুম্পার নেতৃত্বে গল্পকথা সংগঠন ও অস্ট্রেলিয়ায় নারী পরিচালিত প্রথম বাংলা পত্রিকা আরঙ্গ  সহ রয়েছে আরো অনেক সংগঠন। এ ছাড়াও মেলবোর্ন, পার্থ, ক্যানবেরা, ব্রিসবেন সহ আরো শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে আরো অনেক নারী শুধুমাত্র নেতৃত্বই নয়, তাঁরা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারেও বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সিডনি আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভাটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দেশ-বিদেশের সহযোগী-অঙ্গসংগঠন ও আওয়ামী মতাদর্শের বিভিন্ন সংগঠনের প্রাজ্ঞ নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদার সভাপতিত্বে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ সঞ্চালনা করেন। সঞ্চালনায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবোর্নের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. রাশিদুল হক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম।

আলোচনা সভার শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ, তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আমাদের একটাই চাওয়া, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্বাস্থ্যময় দীর্ঘায়ু দান করেন। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপদ আশ্রয়স্থল একমাত্র শেখ হাসিনা। তিনি যতদিন দেশ পরিচালনায় থাকবেন ইনশাল্লাহ তত দিন কেউ আমাদের দাবায় রাখতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন আমাদের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, একবার চোখ বুজে চিন্তা করেন তাঁর যদি জন্ম না হতো এই যে ক্ষুধা-দারিদ্রের বাংলাদেশ, হত্যা-সন্ত্রাসের বাংলাদেশ, জঙ্গীবাদের বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঘুরে দাঁড়াতে পারতো? এক কথায় উত্তর পারতো না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন আমাদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষকে বুকে ধারন করতেন, ঠিক সেইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের মানুষকে ভালোবাসেন। আমরা গর্ব করতে পারি যে, এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। জন্মদিনে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর বারবার হামলা হয়েছে, বিশেষ করে ২০০৪ সালে যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে, তিনি আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে আছেন। তিনি আজকে আমাদের মাঝে আছেন বিধায় দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দৃঢ় সাহসিকতার সঙ্গে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে সমঝোতাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ সবই প্রধানমন্ত্রী বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি ড. রতন কুণ্ডু বলেন, সারাজীবন জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আদর্শ যেন বুকে পালন করতে পারি সেই প্রত্যাশাই করি। আলোচনা সভায় প্রত্যেক বক্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্যময় দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবোর্নের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোল্লা মো. রাশিদুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেলবোর্নের সভাপতি ড. আলম মাহবুব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্যানবেরার সভাপতি ড. শামীম আলম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম সরকার ও ড. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন ও হাজী দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সদস্য মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আমিনুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. সিরাজুল হক।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী  নাদেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আইনজীবী সানজিদা খানম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক মিতা চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা উত্তর শাখার আইন সম্পাদক এ্যাডভোকেট যুগলুল কবির, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি ড. রতন কুণ্ডু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বেলজিয়ামের সভাপতি বজলুর রশীদ বুলু ও ক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সৌদি আরবের সভাপতি রেজাউল করিম মিলন।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কচি ও মোহাম্মদ আলী শিকদার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন,  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন লাল্টু ও শাজাহান মিল্টন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন বেপারী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সাংগঠনিক সম্পাদক আইজিদ আরাফাত অরূপ  ও মো. মজনু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সদস্য নাজমুল হক, দেওয়ান মুন্না প্রমুখ।