সিডনিতে ঈদুল আযহা আগামী ২০ ও ২১ জুলাই

মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব নিস্তব্ধ। অস্ট্রেলিয়ায় করোনা পরিস্থিতি রাজ্যভেদে ভিন্ন। সিডনি সহ বেশ কিছু রাজ্যে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

সিডনিতে এবারও দুই দিনব্যাপী ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে গত ১১ জুলাই জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় ‘মুন সাইটিং অস্ট্রেলিয়া’র পক্ষ থেকে আগামী ২১ জুলাই (বুধবার) ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল’ আগামীকাল  ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) ঈদুল আজহা উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

কঠোর লক ডাউনে সিডনিতে বসবাসরত মুসলিম উম্মাহ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজ নিজ বাড়িতে থেকে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করবে। সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারে স্থানীয় গ্রোসারি শপ ও মসজিদ কমিটির তত্বাবধানে অত্যন্ত সীমিত ভাবে তাদের কুরবানী সম্পন্ন করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বানী দিয়েছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের চীফ হেল্‌থ অফিসার ডাঃ চ্যাণ্ট সিডনির মুসলমানদের নিজ নিজ বাড়িতে থেকেই ঈদুল আযহা পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে ফেরত আনতে নির্বিকার প্রশাসন

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার কারনে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি নাগরিক ও স্থায়ী অভিবাসী। আটকে পড়া নাগরিকরা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত আসতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন তাদের কার্যক্রম সীমিত করে কোন প্রকার সহযোগিতা না করায় এবং নন কমার্শিয়াল ফ্লাইটের ব্যবস্থা না করার ফলে আটকেপড়ারা নাগরিকরা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় দিনযাপন করছেন।

আজ এই প্রতিবেদকের সাথে টেলিফোনে কথা হয় বাংলাদেশে আটকে পড়া সিডনি প্রবাসি জাকির হোসেন ও মেলবোর্ন প্রবাসি খন্দকার বদরুদোজ্জা বাঁধনের সাথে। তারা বলেন, আমরা ছয় মাসেরও অধিক সময় ধরে বাংলাদেশে আটকে আছি। এদিকেএয়ার লাইনস্ আমাদের ফিরতি ফ্লাইটের ব্যবস্থা না করে টিকেট ক্যানসেল করে দিয়ে শুধু বিজনেস ক্লাসের নতুন টিকেট কেনার অনুরোধ করছে যার মূল্য ৭ থেকে ১০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ইকোনোমি ক্লাসের ওয়ান ওয়ে টিকেটের মূল্য আড়াই লক্ষ টাকারও অধিক। তারপরও কোন ফ্লাইট সিডিউল দিচ্ছে না।

তারা আবেগ ঘন কণ্ঠে আরো জানান, আমরা আটকেপড়া অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশি ১৯৭ জনের একটি লিস্ট তৈরী করে হোয়াটস আপ গ্রুপ করে জুম মিটিং করেছি। অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন একটি নন কমার্শিয়াল ফ্লাইটের ব্যবস্থা করলেই আমরা আসতে পারি। তারা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ান সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সবাই একত্রে যেতে পারবে না। কিন্তু ভারত থেকে অতি সম্প্রতি পর পর ৪টি ফ্লাইট অস্ট্রেলিয়া গিয়েছে যেখানে প্রতি ফ্লাইটে শতাধিক যাত্রী ছিল। আর এটা সম্ভব হয়েছে তাদের একতা, কমিউনিটি ও উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের কারণেই।