সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল’র নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠিত

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন ‘সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল’র নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়েছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দেীপনার মধ্য দিয়ে গত ২০ জুন (রবিবার) দুপুরে সিডনির ইঙ্গেলবার্নস্থ দাওয়াত রেস্টুরেন্ট ও ফাংশন সেন্টারে নির্বাচনের মাধ্যমে এ কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। আগামি ২২ জুন পুরনো কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুইদিন আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াতের পর তার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেদ আব্দুল মতিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।

কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট ও অন্তর্বর্তীকালান কোষাধ্যক্ষ বেলাল হোসেন ঢালী বিগত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনপেশ করেন। এরপর কাউন্সিলের সদস্য এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষক অতিথিগণ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা ও মতামত পেশ করেন। সর্বসম্মতিক্রমে বার্ষিক প্রতিবেদন ও নতুন পাবলিক অফিসার অনুমোদনের পর বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কার্যকরী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনার অনুরোধ জানান।

দুপুরের খাবারের বিরতির পর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচন কমিশন ও পর্যবেক্ষক অতিথিগণ মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। জরুরী কাজে নির্বাচন কমিশনার বীর মুক্তিযাদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণ দ্বিতীয় পর্ব শুরুর আগে চলে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন ড. তারিকুল ইসলাম ও বীরমুক্তিযাদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলালের কাছে রিটার্নিং অফিসার নাইম আবদুল্লাহ নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনের জন্য জমাকৃত মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেন। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করেন ড. রতন লাল কুন্ডু।

উল্লেখ্য যে, সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের চলমান সঙ্কটের সুষ্ঠ সমাধানে একটি টিম কাজ করছে। এই সম্মানিত টিমের প্রতি আস্থা রেখে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে চারটি পদের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়। ভবিষ্যতে যদি ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব হয় তাহলে সমঝোতার ভিত্তিতে এই চারটি পদে মনোয়ন দেয়া হবে। অন্যথায় অপেক্ষমান তালিকা থেকে পদগুলি পূরণ করা হবে।

নির্বাচন কমিটি যাচাই বাছাই শেষে আগামী দুই বছরের জন্য মোহাম্মাদ আব্দুল মতিনকে সভাপতি করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কার্যকরী পরিষদের নাম ঘোষণা করেন। কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, মোহাম্মেদ আসলাম মোল্লা (সিনিয়র সহ-সভাপতি), মোহাম্মাদ রেজাউল হক (সহ-সভাপতি), ফয়সাল আহমেদ (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক), দিলারা জাহান (কোষাধ্যক্ষ), হাজী মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক)। কার্যকরী পরিষদের সম্মানিত সদস্যরা হলেন, ড. রতন লালকুন্ডু, আকিদুল ইসলাম ও নাইম আবদুল্লাহ। এই সময় কাউন্সিলের সদস্য ও অতিথিগণ করতালির মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাগত জানান।

নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামিলীগের সভাপতি বিশিস্ট আইনজীবি সিরাজুল হক, সাবেক কাউন্সিলর শাহে জামান টিটো, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রহমত উল্লাহ, অস্ট্রেলিয়ার সর্বদলীয় সামাজিক সংগঠন বিডি হাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খান রতন, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক সভাপতি ওকেএম ফজলুল হক শফিক ও একই সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন।

নব নির্বাচিত সভাপতি, সহ-সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কাউন্সিলের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনগুলোতে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সিডনিতে মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ

প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে সিডনিতে তৈরি হচ্ছে মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ। সিডনির কেমবেলটাউন কাউন্সিল এলাকায় একটি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মনুমেন্ট’ নির্মাণের লক্ষ্যে সম্প্রতি স্থানীয় বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষকে নিয়ে এক সেমিনার হয়।

প্রস্তাবিত স্মৃতিসৌধের মূল ডিজাইন ও অ্যানিমেশন সেমিনারে দেখানো হয়। এতে উপস্থিতরা ডিজাইনটির স্থপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও উদ্যোক্তাদের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ, ভারত, টোঙ্গা, সামোয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন ভাষাভাষী লোক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের উদ্যোক্তা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মনুমেন্ট প্রজেক্ট কমিটির পক্ষ থেকে কো-অর্ডিনেটর কায়সার আহমেদ উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিলের উদ্যোগে গত পাঁচ বছর ধরে ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবে কাউন্সিল চত্বরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। মাসুদ চৌধুরী এই মনুমেন্ট স্থাপনায় তার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব মাতৃভাষাকে সংরক্ষিত করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এতে আরও বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার ওসমান চৌধুরী, আর্কিটেক্ট আশেক চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ হাসান, ক্রিস্টিয়ান হোয়াইট (অস্ট্রেলিয়া), করামজিৎ সিং (ভারত), মুস্তাফিজুর রহমান, হেরিশ গয়াল (ভারত), পারভেজ খান (পাকিস্তান), গনেন্দ্র রাজ ফিয়াক (নেপাল), মোফাজ্জল ভূঁইয়া, মেল ফুয়েন (নিউজিল্যান্ড-মাওরি), এ কে এম এমদাদুল হকসহ আরও অনেকে।