সিডনিতে ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা ২০২১’ র জমজমাট শুরু

নিউ সাউথ ওয়েলস কোভিড সেইফটি রুলস্ অনুসরন করে ত্রিমাত্রা অস্ট্রেলিয়া ইন্ক্ আয়জিত  দুই দিন ব্যাপী (পরপর দুই শনিবার) ঈদ উল ফিতরের ” ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা”-র জমজমাট শুরু হয়েছে গত পহেলা মে (শনিবার)।  সিডনি প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র লাকেম্বার ‘ল্যাকেম্বা ইউনাইটিং চার্চ এ অনুষ্ঠিত  হয়ে গেল  দুই  দিনব্যাপী (পর পর দুই শনিবার ) ‘ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা ২০২১’- এর প্রথম দিন। আগামী ৮ মে শনিবার  আবারো লাকেম্বার ‘ল্যাকেম্বা ইউনাইটিং চার্চ এ, দ্বিতীয়  এবং এবারের ঈদ উল ফিতরের শেষ মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।  অন্যবারের মতো এবারও সকাল ১১ টা থেকে রাত ১০ টা পযন্ত সিডনির  বিখ্যাত ফ্যাশান হউসগুলোর অংশগ্রহনে “ত্রিমাত্রা লাকেম্বা ঈদ মেলা” অনুষ্ঠিত  হচ্ছে।

ঈদ মেলাকে ভিন্নরূপ দেয়াই ত্রিমাত্রার নতুনত্ব। মেলার প্রথম দিন ঈদ মেলায় যেমন ছিল প্রচুর লোকের সমাগম তেমনি ছিল নতুন বুটিক্স এবং দেশীও কাপড়ের সমাহার। প্রবাসে বসে সিডনির নারী উদ্যোক্তাদের তাদের প্রদর্শিত পণ্য প্রবাসী ক্রেতাদের পৌঁছে দিতে ,প্রবাসে বসে দেশের স্বাদ গ্রহন করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে  দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেই ঈদ মেলার আয়োজন। সকাল থেকে প্রচুর  ক্রেতার সমাগম ঘটে। দেশি ঈদ শপিং বলতে  আমরা যেমন  নিউমার্কেট-গাওসিয়া, মিরপুর, বসুন্ধারা কিংবা ধানমন্ডির জমজমাট শপিংমল ও লোকারণ্য বুঝি, তেমনি জমজমাট স্বাদ ত্রিমাত্রার এই ঈদ মেলায় দেখা গেছে। প্রত্যেকটি ফ্যাশন  হউস তাদের পোশাকে নতুনত্ব বজায় রেখেছে। সিডনির  বিখ্যাত ফ্যাশন হাউসগুলো ছিল এই মেলায়। তাদের রকমারি পোশাক আমাদের মেলার সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। সবগুলো স্টল সজ্জিত ছিল রকমারি দেশিও পোশাকে। দেশী শাড়ি ,সালওয়ার-কামিজ , গহনা, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ছোটোদের পোশাক, এবং রকমারি খেলনার পসরা সাজিয়ে নিয়ে এসেছিলেন বিক্রেতারা। এছাড়া জুয়েলারি এবং মেহেদী , ঈদের হেয়ার কেয়ার,ও রূপসজ্জার বিভিন্ন প্রোডাক্টের ষ্টল ছিল মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ক্রেতাদের কেনাকাটা দেখে মনে হয়েছে আমরা যেন বাংলাদেশেরই কোন বিপনিকেন্দ্রে আছি। আর ছিলো দেশীও খাবার, যা চিরচেনা বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত

গত রবিবার (২ মে) সন্ধ্যায় সিডনির রকডেলে এক রেস্টুরেন্টে ভাবগম্ভীর ও সোহার্দপূর্ণ পরিবেশে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের ইফতার ও দোআ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর নাজমুল হুদা সহ কমুনিটির অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ববর্গ, সেই সাথে বিভিন্ন জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের সম্মানিত সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দোআ মাহফিলে ইফতার এর পূর্বে কোরআন তেলোয়াত দোআ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের কোষাধাক্ষ জনাব আবুল কালাম আজাদ। মোনাজাতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াতে বসবাসরত সকল বাংলাদেশির সর্বাঙ্গীণ মঙ্গলের জন্য দোয়া করা হয়।

ইফতার পরবর্তী আলোচনা সভায় সহ-সভাপতি কাজী সুলতানা শিমি’র প্রাণবন্ত সঞ্চলনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডঃ শাখাওয়াত নয়ন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ টুটুল। ডঃ নয়ন বলেন, আমরা এমন একটি দিনে এক হয়েছি যখন বাংলাদেশ পুড়ছে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে, সময় হয়েছে প্রতিবাদ করার। জনাব ইকবাল টুটুল সংগঠনের গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের এই গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে এবং সাংবাদিক ও সম্মাদকদের স্বার্থ রক্ষা করবে এটাই প্রত্যাশা সকলের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলমকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন সংগঠনের সভাপতি জনাব রহমত উল্লাহ। পরবর্তীতে আন্তজার্তিক ভাষা দিবস উপলক্ষে লাকেম্বাতে স্মৃতি সৌধ তৈরিতে অনবদ্য অবদান রাখায় সংগঠনের সদস্য নোমান আল শামীম ও সদস্য কাউন্সিলর নাজমুল হুদা কে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করেন কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলম।

এসময় সভাপতি জনাব রহমতুল্লাহ জয়যাত্রা টিভির পক্ষ্য থেকে প্রভাতফেরী পত্রিকার সম্পাদক শ্রাবন্তী কাজী আশরাফীর সম্মানতা তু্লে দেন জনাব সুলাইমান দেওয়ানের হাতে।

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলম, তিনি বলেন, বিদেশে আপনাদের অনবদ্য কাজেই দেশ জানতে পারে আমাদের এই ভুবনের কথা, আপনারা আপনাদের ভাল কাজ কম্যুনিটির জন্য উৎসর্গ করুন। সংগঠনের উপদেষ্টা জনাব আবু রেজা আরেফিন বলেন, সিডনির একটি বিশেষ মুহুর্তে আমাদের সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের জন্য তৈরি হয়েছিলো এই সংগঠন, যা আমাদের জন্য গর্বের। ABBC অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে বলেন, বিভেদ নয় ঐক্যই আমাদের কাম্য।

কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বলেন, আমাদের সৌধ কোনো ব্যক্তির নয়, জনগনের। দিন শেষে এটাই আমাদের প্রাপ্তি। সংগঠনের সিনিয়র সদস্য নোমান আল শামীম ফুলেল শুভেচ্ছার জন্য সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, আমাদের কাজটাই থেকে যাবে, আমাদের কথা কেউই মনে রাখবে না। কমুনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব জনাব গামা কাদির তার বক্তব্যে স্মৃতি সৌধের বিরুদ্ধে দাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের ভর্তসনা করে বলেন, যাদের কোনো অবদান নেই তারাই এসব করে বেড়ায়, অথচ এই পরিশ্রম অন্য যায়গায় করলে এরকম আরো সৌধ গড়ে উঠতে পারতো। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সেক্রেটারি আব্দুল মতিন তাকে এই মহিমান্বিত ইফতারে দাওয়াতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংগঠনের মধ্যকার সম্পর্কটা খুব দরকার। সাবেক বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ নিউ সাউথ ওয়েলস এর সভাপতি আকম শফিক বলেন, এই ধরনের ইফতার মাহফিলে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে উঠে, যা আমাদের জন্য সুখকর।

পরিশেষে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য প্রদান করেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি জনাব রহমত উল্লাহ। অনুষ্ঠান শেষে সম্মানিত অতিথিবৃন্দের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিডনিতে অজবাংলা নিউজ পোর্টালের পথ চলা শুরু

গতকাল ২ মে (রবিবার) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চার টায় সিডনির বেলমোর ইয়ুথ এন্ড রিসোর্স সেন্টারে অজবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পথ চলা শুরু করে। কোভিড-১৯ এর সীমাবদ্ধতার জন্য পত্রিকাটি এতদিন পরীক্ষামূলক সম্প্রচার করে আসছিল।

ইফতারের পূর্বে অনুষ্ঠানে ইসলামের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন, অজবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টালের রহমান মোস্তাফিজ বাবু। ড: সৈয়দ আজিমের সঞ্চালনায় পত্রিকাটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, পত্রিকাটির ভিত্তি হলো দেশে এবং প্রবাসে উদিয়মান তরুণ-তরুণী ও অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণ যারা এই নিউজ পোর্টালটির জন্য সময় দিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষতে পত্রিকাটির প্রিন্টিং ভার্ষণে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অজবাংলার ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিনিয়র কলামিস্ট ড: ওয়ালী ইসলাম উপস্থিত অতিথিদের অবহিত করেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পত্রিকটির কারিগরি বিষয়ের দায়িত্বে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান লাবু।

উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড: আব্দুল ওয়াহাব, মনিরুল হক জর্জ। পরে উপস্থিত অতিথিদের সংঙ্গে নিয়ে অজবাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সবশেষে অতিথিদের ইফতার ও রাতের খাবারে আপ্যায়িত করা হয়।