প্রশান্ত পাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়াতে আগাম বাংলা নববর্ষ উদযাপন

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ আজ স্থানীয় সময় ৩ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে সিডনির এক ঝাঁক প্রত্যয়ী ও প্রগতিশীল রমনীদের নতুন সংগঠন “আমাদের কথা” সিডনির ইঙ্গেলবার্ন রিসার্ভে আগেভাগেই নুতন বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করে। তারা বিশাল বনরাজি শোভিত ছায়া সুনিবিড় ইঙ্গেলবার্ন পার্কে রমনার বটমূলের আদলে মঞ্চ তৈরী করে ও মঙ্গল শোভাযাত্রার চিত্রকর্ম দিয়ে সাজিয়ে বাংলা বর্ষবরণ করে।

সংগঠনের পরিচালক পূরবী পারমিতা বোসের সঞ্চালনায় তিশা তানিয়া, চিনু দাস, মুনা মোস্তফা, নিলুফা ইয়াসমিন ও আরো একঝাঁক প্রত্যয়ী তরুণীদের অংশগ্রহণে  “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” আবাহন দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ উপস্থাপনায় ছিলো বর্তমান প্রজন্মের কিশোর কিশোরীদের অংশগ্রহণে বাংলা গান, সাথে নাচ ও কবিতা আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের দেশজ খাবার, হরেক রকমের ভাজি, ভর্তা, সবজি, মাছের ঝোল, মুরগি ভুনা সহ প্রায় বিশ পদের খাবারে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

মধ্যাহ্ন ভোজের পরে শুরু হয় বড়োদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । বিকেলের নাস্তায় দেশজ পিঠা, পুলি, রসগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আমাদের কথা সংগঠনের আয়োজক কমিটি জানান, সব ধরনের মুখরোচক খাবার আমাদের সদস্যবৃন্দ নিজেরা তৌরি করেছে। তারা সিডনির রেনেসাঁ সংগঠনকে একটি পরিশীলিত বর্ষবরণ উপহার দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সিডনিতে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘অটিজম দিবস’ পালিত

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি দিবস যা প্রতিবছর ২রা এপ্রিল পালিত হয়। অটিজম হচ্ছে স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যা। অটিজমের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়াতে সিডনির ল্যাকান্বায় একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘Autism Day’ বা অটিজম দিবস পালিত হয়। অটিজম সম্পর্কে গণজনসচেতনতা বাড়াতেই এই সেমিনারের আয়োজন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আবিদা আসওয়াদ। সাংবাদিক আব্দুল মতিন কোরআন তেলয়াত পাঠের পর আলোচনা শুরু হয়।

প্রধান বক্তা ডাক্তার রোজিনা বেগম অটিজম দিবসটির উপর ব্যাপক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং বড় হওয়া পর্যন্ত থাকে। অটিস্টিক ডিজঅর্ডার, পার্ভেসিভ ডেভোলাপমেন্টাল ডিজঅর্ডার, এসপারজার সিন্ড্রোম, উপসর্গ, কারণ, রোগ নির্ণয়, করনীয় নিয়ে ডা: রোজিনা আলোচনা করেন।

সহকারী নার্স ও মানসিক স্বাস্থ্য এডুকেটর আবুল কালাম আজাদ খোকন বলেন, এই রোগটি নিয়ে আগে অনেকেই সচেতন ছিলেন না কিন্তু এখন অটিজম সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়াতে ১৫০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন অটিজমে আক্রান্ত।

চাইল্ড কেয়ার এডুকেটর লিপি আক্তার বলেন, অটিজম একটি জটিল স্নায়বিক বিকাশ সংক্রান্ত রোগ যা সামাজিক বিকলতা, কথা বলার প্রতিবন্ধকতা, সীমাবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং একই ধরনের আচরণ  দ্বারা চিহ্নিত হয়। এটা একটি মস্তিষ্কের রোগ যা  সাধারণত: একজন ব্যক্তির অন্যদের সাথে কথা বলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। রুমানা সাফেইন ও ফারহানা আমিন বলেন, অটিজম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা।

অটিজম এমন একটা অবস্থা যেখানে শিশুর সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারে না। এরা একা একা থাকতে ভালবাসে।

ইজ্ঞিনিয়ার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এদের কথা বলা শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সাধারণত হাত দিয়ে কোনো জিনিস দেখা বা হাসি-কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের যে ভঙ্গি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অটিজম-এ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো দেখা যায় না।

সাংবাদিক আব্দুল মতিন বলেন, অটিজম রোগের কোনো নিরাময় নেই। এটা ঔষধ ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষার সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি থাকে এবং একই কাজ এরা বারবার করতে থাকে।

আয়োজক আজাদ খোকন সকলকে ধন্যবাদ জানান। ডিনারের পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।