সিডনিতে বাসভূমির ১৭ বছর উৎসব আগামি ৫ জুন

বাসভূমি অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক বাংলা মিডিয়া। গত ১৭ বছর ধরে এই ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বাসভূমি আমাদের ভাষা, শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্য বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট বাংলা পত্রিকা ও প্রথম অনলাইন টেলিভিশন বাসভূমির অন্যতম কৃতিত্ব। এ ছাড়া নাটক, টেলিফিল্ম, ট্রাভেল শো, তথ্যচিত্র নির্মাণ ইত্যাদি বাসভূমির নিয়মিত কাজের অংশ।

বিষয়ভিত্তিক বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান করে বাসভূমি সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আগামি ৫ জুন (শনিবার) বাসভূমির ১৭ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসুচি গ্রহন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বক্তৃতা ছাড়া শুধু মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি একেবারে আদি ও চিরন্তন বাঙালি ঐতিহ্যমন্ডিত বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রমী ফটো তোলার লোকেশন তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছেন শামীমা সুমী।

করোনায় আক্রান্ত ফয়সাল আজাদ ও তাঁর মায়ের সুস্থতার জন্য ইফতার দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ ও তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগমের সুস্থতা কামনা করে স্থানীয় সময় ২৬ এপ্রিল (সোমবার) সিডনির ল্যাকেম্বাস্থ ধানসিঁড়ি রেঁস্তোরার হলরুমে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু এম পি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের শাশুড়ীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস মোল্লার সদ্যপ্রয়াত বাবা , যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: আলি সিকদারের বাবা ও সিডনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বিপ্লবের মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব ও রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সহ সভাপতি মিল্টন আহমেদের বাবা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার কোষাধক্ষ্য এইচ এম লাবুর মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রুহের মাগফেরাত কামনাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল হাওলাদারের বাবার আশু রোগ মুক্তি কামনা এবং সর্বোপরি সকল অসুস্হ ব্যক্তিদের আশু সুস্হতা ও মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাবিব আহসান টুলু।

এসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আইনজীবি মো: সিরাজুল হক, সাধারন সম্পাদক পি এস চুন্নু, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনির সভাপতি ড. মাসুদুল হক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. রতন লাল কুন্ডু, সিডনি প্রেস এবং মিডিয়ার সাধারন সম্পাদক  মো: আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার নেতৃবৃন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবন্দ এবং সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জন্মভুমি টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন

গত ২৫ এপ্রিল (রবিবার) সিডনির ওআইলি পার্কে জন্মভুমি টেলিভিশনের ঈদ আনন্দমেলার রেকর্ডিং শুরু হয়। হরিজন থিয়েটারের খোলা মঞ্চে এই রেকর্ডিং এ সিডনি প্রবাসীরা ঈদের গান, ফ্যাশন শো, কবিতা, একক গান ও দলীয় নাচ সহ নানা আয়োজনে অংশ গ্রহন করে।

এছাড়াও সিডনির মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও তাদের সহধর্মিণীরা ঈদের আনন্দ মেলায় অংশ গ্রহন করেন। মঞ্চে সহযোগিতা করেন জন্মভুমি টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ আসাদ সামস ও সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মতিন।

ঈদ আনন্দ মেলার পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা করেছেন আবিদা আসওয়াদ। মঞ্চ সজ্জার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ডাইরেক্টর প্রোটকল আসওয়াদ বাবু ও ইভেন্ট ডাইরেক্টর কানিতা আহমেদ।

জন্মভুমি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন জানান, আমরা দর্শকদের জন্য প্রতি বছর নুতন আঙ্গিকে ঈদ আনন্দ মেলা উপহার দিয়ে থাকি। এই বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। এবারের ঈদ আনন্দ মেলায়ও অনেক চমক রয়েছে। তিন দিন ব্যাপী রয়েছে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার বেশিরভাগ রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জন্মভুমি টেলিভিশনের দর্শকদের ঈদের দিন ও পরবর্তী দুইদিন ব্যাপী প্রচারিত ঈদ অনুষ্ঠানমালা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঈদের আনন্দমেলাটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন তিনি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য আলোচনার মধ্য দিয়ে আইপিডিসি’র ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

ইসলামিক প্র্যাকটিস এন্ড দাওয়াহ সার্কেল, এনএসডব্লিউ শাখার উদ্যোগে গত ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) সিডনির মুসলিম কমিউনিটি সহ অন্যান্য কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রিজেস প্যারামাটা হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তারা পবিত্র রমজান মাসের শিক্ষা ও তাৎপর্য সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির বৃহত্তম সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ইসলামিক প্র্যাকটিস ও দাওয়াহ সার্কেল (আইপিডিসি) মূলত কমিউনিটির মুসলিম সদস্যদের মাঝে সারা বছর জুড়েই ইবাদত, ইসলামী শিক্ষা ও সামাজিক সেবা নির্ভর নানা কর্মসূচী পালন করে থাকে। পবিত্র রমজান মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্টেটের নানা এলাকায় স্থানীয়ভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে আইপিডিসির সক্রিয় সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা ইসলামী আলোচনা ও সম্মিলিত ইফতার পালন করে থাকেন। এর মাঝেই নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেট শাখার উদ্যোগে গত শুক্রবারের অনুষ্ঠানটি মূলতঃ আয়োজন করা হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ান বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে।

সিডনির সেন্ট মেরিস মসজিদের সম্মানিত ইমাম আবু হোরায়রার পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইফতার মাহফিল উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার সূচনা হয়। অতিথিদের সংক্ষিপ্ত ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের সমাহারে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিবলী আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইপিডিসি এনএসডব্লিউ শাখার সভাপতি কামাল মাহমুদ।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অতিথিদের সামনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান আলেম এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিলের সভাপতি শায়খ শাদী আল সুলায়মান, নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেটের বিরোধী দলীয় সংসদীয় নেতা জোডি মেককেই এমপি, স্টেটের সংসদ সদস্য ডেভিড শুব্রিজ এমএলসি, সিডনি এলায়েন্সের চেয়ারপার্সন মেরি ওয়াটারফোর্ড, অস্ট্রেলিয়ান সিনেটের প্রাক্তণ সদস্য লী রিয়ানন, অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির প্রতিনিধি শায়খ আদীদ আল রুবাই, কলাম্বান সেন্টার ফর খ্রিশ্চিয়ান-মুসলিম রিলেশনস এর ডাইরেক্টর রেভারেন্ড প্যাট্রিক ম্যাকার্নি, সিডনির সুপরিচিত তরুণ আলেম শায়খ জালাল শামি, বিশপ অফ প্যারামাটা ভিনসেন্ট লং, আইপিডিসি’র মাল্টিকালচারাল এফেয়ার্স সেক্রেটারী ড. মাজহারুল তালুকদার প্রমুখ। এছাড়াও আয়োজক সংগঠন আইপিডিসির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আইপিডিসির কেন্দ্রীয় সভাপতি এসোসিয়েট প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনির হোসাইন।

অতিথিদের বক্তব্যে পবিত্র রমজান মাসের অপরিসীম গুরুত্ব, ইসলামে সামাজিক সুবিচার ও মানবিক সাম্যের শিক্ষা, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হওয়া, রোযা পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিমের জ্য উন্নত চরিত্র গঠনের সুযোগ ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে।

আইপিডিসি’র এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্বের মাঝে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. জান আশিক আলী, অস্ট্রেলিয়ায় সউদি আরব দুতাবাসের দাওয়াহ ম্যানেজার আনওয়ার আলসুউলি, চ্যারিটি রাইট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ড. নাঈম ইসলাম, অস্ট্রেলেশিয়ান মুসলিম টাইমসের প্রধান সম্পাদক জিয়া আহমেদ, চ্যারিটি অস্ট্রেলিয়া ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ওয়াজাহাত আলী রানা, ইসলামিক ফোরাম ফর অস্ট্রেলিয়ান মুসলিমসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কাশিফ আজিজ, ট্রিবিউন ইন্টারন্যাশনাল সম্পাদক সাইয়েদ আতিকুল হাসান, সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম, সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সেক্রেটারী মুহাম্মদ আবদুল মতিন, হালাল অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট মারুফ খান, অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক মিশন ইয়ুথের প্রেসিডেন্ট ওমর আল জামাল, সিডনি এলায়েন্স বোর্ড মেম্বার সানদিপ কিরপালানি, সিডনি এলায়েন্সের মুসলিম কমিউনিটি ম্যানেজার শায়খ আবদুল নাসের প্রমুখ সহ সিডনি এলায়েন্স, ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, কমিউনিটি মাইগ্রেট রিসোর্স সেন্টার, এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ এনএসডব্লিউ ইউনাইটেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, হিউম্যান এপিল, অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক মিশন, পাঞ্চবোল মসজিদ, আল কাউসার, মার্সি মিশন, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল প্রভৃতি সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

এক ঝাঁক পায়রা

ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারের ইকোনমিক্স ডিপার্টমেন্টের প্রথম বর্ষের ক্লাস  চলছে।  কিছুক্ষনের মাঝেই বুঝে গেলাম আমি আসলে ভুল সাবজেক্ট পড়তে এসেছি। বাবা ব্যাংকে চাকরি করতেন, আমার আদর্শ। সেই সূত্রে  মনে হয়েছিল আমিও ইকোনোমিক্স পড়ে ব্যাংকে চাকরি করব। 

অথচ আমার অন্তরের আকর্ষণ  সঙ্গীত, চিত্র শিল্প, শিল্পের  অন্যান্য মাধ্যম। ক্লাসে যখন সবাই গভীর মনোযোগে মনোয়ারউদ্দিন আহমেদ স্যারের লেকচার শুনছে,  আমি ছটফট করছি কি মুশকিল চিন্তা করে!

হঠাৎ করে দেখলাম দোতালার ক্লাসরুমের ছাদ অনেক উঁচু। একটু দূরে কয়েকটা খোপের মত ভেন্টিলেশন আছে।  সেই ফাঁকায় কেমন করে যেন একটা সুন্দর সাদা পায়রা এসে বসে আছে। দারুন আগ্রহ নিয়ে দেখতে লাগলাম পায়রার খেলা। ভুলেই গেলাম ক্লাসের কথা। এই ছিল আমার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা।

সারাক্ষণ মনের মাঝে অস্থিরতা আর দুষ্টুমি কাজ করতো। সুযোগ খুজতাম কেমন করে ফাঁকি দেয়া যায়, কারণ পড়াশোনায় একদমই মন নেই ।  একদিন খুব সিরিয়াস ক্লাস চলছে।  আমি বুঝতে পারছি না কেমন করে একটু শিথিল হওয়া যায়। 

আমার পাশে বসেছিল রুমানা হক,  আমাদের ক্লাসের পড়ুয়াদের অন্যতম।  আমি সামনে রাখা জ্যামিতি বক্সটা একটু একটু করে ঠেলে হাত দিয়ে নিচে ফেলে দিলাম। সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল।  ক্লাসে গুঞ্জন শুরু হল কিছুক্ষনের জন্য।  আমার সে কি আনন্দ!  রুমানা অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইল আমার দিকে! 

ইউনিভার্সিটির বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আমার ভারি মজা লাগতো।  বন্ধুদের কাছে আমি আমার জীবনে অনেক সহায়তা পেয়েছি।  ওরাই আসলে পরবর্তীতে আমাকে উৎসাহিত করেছে পরীক্ষাগুলো উতরে যেতে।

মাস্টার্স পড়তে পড়তে আমি গ্রামীনফোনে চাকরি শুরু করেছিলাম কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট এর ডেপুটি ম্যানেজার হিসাবে।  ক্লাস করতে পারিনি ঠিকমত। আমি চির কৃতজ্ঞ আমার বন্ধুদের কাছে কঠিন সময় গুলোয় আমার পাশে থাকার জন্য। 

কোন এক অলস দুপুরে তিন তালার বারান্দার অপেক্ষা করছিলাম পরবর্তী ক্লাস শুরু হবার।  হঠাৎ করে দেখলাম পড়ুয়া ছাত্র রবি হেলেদুলে আসছে পিঠে এক বিশাল বড় ব্যাগে বই খাতা ভর্তি। কেন জানিনা বলে উঠলাম,  তুমি ক্লাস ওয়ানে সানফ্লাওয়ার প্রিপারেটরি স্কুলে আমার সাথে পড়তে।  রবি প্রায় উল্টে পড়ে যাচ্ছিলো বারান্দা থেকে চরম বিস্ময়ে। তুমি কি করে জানলে আমি ওই স্কুলে পড়তাম,  বিস্ময় তখনও কাটেনি ওর। স্বভাবসুলভ হাসি হেসে বললাম,  আমার একটা বন্ধু ছিল ক্লাশে প্রথম হত, ঠিক তোমার মত বিশাল বড় ব্যাগ ভর্তি বইখাতা নিয়ে আসতো আর শুধু পড়াশোনা করত, আমি খুব বিরক্ত হতাম আর রাগ লাগতো এত কেন পড়বে? সেই থেকে মনে হল তুমিই হবে হয়তো! 

চরম উৎসাহ, উত্তেজনা নিয়ে একবার আমরা স্টাডি ট্যুরে চিটাগাং, পতেঙ্গা বিচ , রাঙামাটি গিয়েছিলাম ডিপার্টমেন্ট থেকে। তখন মোবাইল কিংবা ল্যান্ডফোন এত সহজলভ্য ছিল না। রাঙামাটি যখন গিয়েছি যে বাংলোতে আমরা ছিলাম, হঠাৎ করেই ফোন করার সুযোগ পাওয়া গেল। 

রুমানা বললো ও বাসায় ওর মাকে ফোন করবে।  অনেক চেষ্টার পরে কোনোরকমে লাইন মিলল।  ও ফোন করার সাথে সাথে হোটেলের একটা ছেলে পাশে দাঁড়িয়েছিল ক্রমাগত মনে করাতে লাগল এক মিনিট ৬০ টাকা। খানিকটা হাস্যকর ছিল।  খেলার ধারাভাষ্য এর মত বলতে শুরু করল ৫৮ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ৪৭ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ৩৫ সেকেন্ড ৬০ টাকা… ১০ সেকেন্ড ৬০ টাকা… কথার মাঝখানে হঠাৎ করে রুমানা বলে ফেলল ওর মাকে মা এক মিনিট ৬০ টাকা! তারপর হতবিহ্বল হয়ে ফোনটা রেখে দিল।  রাখার পর খুবই বিরক্ত হয়ে ছেলেটাকে বলল এক মিনিট ৬০ টাকা তো কি?  ছেলেটা বলল আপা এমনি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলাম! এমনিতেই ফোনে লাইন পাওয়া দুষ্কর, এভাবে ফোন রাখা দেখে আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে ছিলাম। 

খুব ছোট ছোট ভালোলাগায় জীবন আনন্দপূর্ণ ছিল তখন। ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ার পড়ার সময় একদিন আমাদের ক্লাসের এক ছেলে ডেকে বলল, আমার সাথে একটু কাঁটাবনে যাবে?  ফুল কিনতে হবে, ঠিক বুঝেনা কোনটা ভালো হবে। নিঃসংকোচে সাথে গেলাম, সবচেয়ে সুন্দর ফুলের তোড়াটা কিনে নিয়ে এলো।  রিকশায় করে ফিরছিলাম দুইজন।  এমন দূরত্ব মাঝে রইল,  যেন ছোঁয়া লাগলে ভয়ানক অন্যায় হয়ে যাবে।

সারা পথে আর কোন কথা হল না। ইউনিভার্সিটি বাসে করে বাসায় চলে আসব, রেজিস্টার বিল্ডিং নেমে গেলাম। ছেলেটা আমাকে অবাক করে বলল ফুলটা তুমি নিয়ে যাও।  আমি অত্যাশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেন?  উত্তরে বলল ভালোবাসি তাই। আমি বললাম আমি এই ভালবাসার প্রতিকৃতি গ্রহণ করতে পারছি না, আন্তরিক  ভাবে দুঃখিত।  ছেলেটা খুব ধীর স্থির স্বরে বলল, এটা নিয়ে আমি কি করব?  তোমার জন্য কেনা।  তুমি এখনি ডিসিশন জানিও না।  ফুলটা নিয়ে বাসায় যাও; যদি তুমি নিজে রাখ তাহলে ধরে নেবো, কখনো কখনো স্বপ্ন সত্যি হয়।  আর যদি অন্য কাউকে দিয়ে দাও, পুরো ঘটনাটা ভুলে যাব আমরা। 

ঐদিন আসলে ছিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বার্থডে। আমার বান্ধবীকে বাসায় ফেরার পথে অদ্ভুত সুন্দর  ফুলটা দিয়ে এলাম। ফুলের সুন্দর রং আর গন্ধে অনামিকার চমকে যাওয়ায় আমার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল।

পরের দিন সকালে দেখা হওয়ার সাথে সাথে অনন্তকে বললাম, আমার বান্ধবী খুব খুশি হয়েছে ফুলটা পেয়ে।  কঠিন চেহারায়, গম্ভীর স্বরে বলল এই কাহিনী যদি দ্বিতীয় কেউ জানে খুন করে ফেলব। 

আমি শুধু মুচকি হেসে ছিলাম,  আসলেই আর কখনো বলা হয়নি এই অভিজ্ঞতা। জীবনের মাধুর্য হচ্ছে,  পরক্ষণেই আমরা সত্যি ভুলে গেলাম এমন কিছু কখনো ঘটেছিল।

জীবনের অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে উপলব্ধি করেছি , পায়রা আসলে আনাচে-কানাচেই রয়েছে সে যত বদ্ধ দুয়ারই থাকুক না কেন।  এখনো শুনতে পাই কিচিরমিচির পাখির মতো আনন্দে মুখরিত সেই দিনগুলোর প্রতিধ্বনি।

সাকিনা আক্তার, সিডনি

সিডনিতে ফয়সাল আজাদ ও তাঁর মায়ের সুস্থতার জন্য ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

করোনায় আক্রান্ত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি ফয়সাল আজাদ এবং তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগমের সুস্থতার কামনা করে ১৯ এপ্রিল (সোমবার) তারাবীর নামাজের পর সিডনিস্থ মাস্কট মুসাল্লায় দোয়া করা হয়। এই সময় মাস্কটে অবস্থিত অজ প্রিন্টিং এর পরিচালক মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দিন মিয়ার সদ্য প্রয়াত পিতার রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মাদ আহসান ফরায়জী। এসময় সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সহ সভাপতি মোহাম্মেদ আসলাম মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক মেহাম্মাদ আবদুল মতিন সহ স্থানীয় মুসল্লীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও ফয়সাল আজাদ ও তাঁর মা লুৎফেয়ারা বেগমের করোনা আক্রান্ত থেকে আরোগ্য কামনা করে একই সন্ধ্যায় সিডনির ল্যাকেম্বা মাসাল্লায় ইফতার ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র রমজানের ইফতারের পরে দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শাহীন ও তারাবীর পর দোয়া পরিচালনা করেন ল্যাকেম্বা মাসাল্লার ইমাম।

দোয়া মাফিলের আয়োজন করেন  হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ এনাম, ইমরান হোসেন, আবু সুফিয়ান মেন্থন, মাসুদুর রহমান, ফখরুল রিয়া, মাহফুজুর রহমান ও ফয়সাল চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ শামীম, মঞ্জুরুল আহসান ভুলু, নজরুল ইসলাম, শেখ ইসলাম, সোহেল, রুবেলসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য যে, ফয়সাল আজাদ ও তার মাতা লুৎফেয়ারা বেগম গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে সিডনি এসে দুই সপ্তাহের কোয়ারান্টাইনে ছিলেন। এরপর ১১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার পর উভয়ের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। বর্তমানে ফয়সাল আজাদ ও তার মা কনকর্ড হাসপাতালের  আইসোলেশনে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

ফয়সাল আজাদ অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রধান সম্পাদক, সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সদস্য, সিডনি আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। আমরা পরম করুনাময় মহান আল্লাহর কাছে ফয়সাল আজাদ এবং তার মমতাময়ী মায়ের সুস্থতা কামনা করছি। ফয়সাল আজাদের সহধর্মিণী সুমি আজাদ তাঁর স্বামী ও শাশুড়ীর জন্য সবার নিকট দোয়া কামনা করেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ দোয়া

বিএনপির চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে অস্ট্রেলিয়ার বিএনপির উদ্যোগে গত ১৮ এপ্রিল (রবিবার) সিডনির বেলমোর কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দের রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক ও অস্ট্রেলিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এম এ ইউসুফ শামীমের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন  বিএনপি নেতা মনিরুল হক জর্জ, মো.দেলোয়ার হোসেন, ড.হুমায়ের চৌধুরী রানা, লিয়াকত আলী স্বপন,কুদরত উল্লাহ লিটন, ড.আব্দুল ওয়াহাব,মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, রাশেদুল হক,আলহাজ্ব লুৎফুল কবির,হাবিব রহমান,মোবারক হোসেন, হায়দার আলী, নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, আবুল হাসান, ফজলুল হক শফিক, তারেক উল ইসলাম তারেক, সোহেল ইকবাল মাহমুদ, ইয়াসির আরাফাত সবুজ, ইলিয়াস কান্চন শাহীন, এএন এম মাসুম, শিবলু গাজী, খাইরুল কবির পিন্টু , আশরাফুল আলম রনি, আব্দুস সামাদ শিবলু, সেলিম লকিয়ত, এস এম খালেদ, নাফিস আহম্মেদ, সুলতান জয়, জাকির আলম লেলিন, শেখ সাইফ, এস এম রানা সুমন, আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল করিম, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ , মোহাম্মদ জুমান হোসেন, পবিত্র বড়ুয়া, মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ কারুজ্জামান, ফাহাদ সিদ্দক মিজান, আব্দুল হাকিম, জোসেফ ঘোষ, অসিত গোমেজ, জাহাঙ্গীর হোসেন, এমডি জাহিদুল ইসলাম,খাজা দাউদ হোসেইন,আব্দুল মতিন উজ্জ্বল,,কামরুল,মুনা মোস্তফা,ময়না,মিনটু,এম,এ সাত্তার প্রমুখ।

এছাড়া ,সিডনিতে পরলোকগত বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির,গাজী শাখাওয়াত আরিফ,এ কে এম শামসুজ্জামান ও শামসুজ্জামান বিজুর জন্য বিএনপির প্রতিটি অনুষ্ঠানে দোয়ার অনুরোধ জানান দোয়া ও ইফতার মাহফিলের  সমন্বয়ক এম এ ইউসুফ শামীম।

বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সমগ্র মুসলমান জাতির জন্য দো’য়া করেন ল্যাকেম্বা কোরানিক সোসাইটির অন্যতম নেতা হাজি রিদওয়ান একাউয়ী। মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানটি বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার নবীন প্রবীণ সকলের উপস্থিতি এক মিলন মেলায় রূপান্তরিত হয়।

বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে মাসব্যাপী কোরআন খতম ও বিভিন্ন এতিম খানায় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সকলের মাঝে ইফতার ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। (সুপ্রভাত সিডনি পত্রিকার সৌজন্যে)

ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রাঙ্গনে ইয়াকুব আলীর “নদীর জীবন” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আশফাক রহমানঃ সিডনির প্রখ্যাত লেখক এবং বাংলা স্কুল পরিবারের সদস্য ইয়াকুব আলির  সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম  গ্রন্থ “নদীর জীবন”  এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ১৮ এপ্রিল (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে ইয়াকুব আলির নদীর জীবনের মোড়ক উন্মোচন করেন সিডনীতে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল আহসান খান। নাজমুল আহসান খান তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন তিনি ইয়াকুব আলির লেখা নিয়মিত পড়েন এবং তিনি নদীর জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

লেখক ইয়াকুব আলি তার বক্তব্যে বলেন তিনি যা বিশ্বাস করেন, যা হৃদয়ে ধারণ করেন তা লেখায় তুলে আনেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে, বইটি সংগ্রহ করে পড়ার অনুরোধ করেন তিনি। স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ বলেন একটি বই একজন লেখকের কাছে নিজের সন্তানের মত। নদী ভাঙ্গনে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও ইয়াকুব আলির নদীর প্রতি ভালবাসা তার অসাধারণ লেখক সত্তাকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলা স্কুল সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন  তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন তিনি ইয়াকুব আলির একজন গুণমুগ্ধ পাঠক। যে কোন বিষয়ের উপর ইয়াকুবের সাবলিল লেখা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তিনি আরও বলেন ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল অতীতের মত সবসময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার ও উৎকর্ষ সাধনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে। তিনি সবাইকে বাংলা স্কুলের কর্মকাণ্ডের সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে আহবান জানান।

বাংলা স্কুলের সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমানের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে স্কুলের কার্যকরী কমিটির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা দানের পাশাপাশি এর চর্চা, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। আর তাই বাংলা বইয়ের পাঠাভ্যাস তৈরিতে বাংলা স্কুল সবসময় সচেষ্ট।

নদীর জীবন মূলত লেখকের শৈশব কৈশোরের স্মৃতিকথা হলেও এতে উঠে এসেছে আবহমান গ্রাম বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শহুরে সংস্কৃতির সাথে গ্রামীন সংস্কৃতির সংঘাত ও সামঞ্জস্য। এই বইয়ের মূল উপজীব্য মানুষ এবং সময়ের সাথে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নদীর জীবনের শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে বিশ ডলার। প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রাঙ্গন থেকে বইটি সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া সরাসরি লেখকের সাথে যোগাযোগ করেও ( ইয়াকুব আলি ০৪৫২১৭৭৫৯২ ) বই সংগ্রহ করা যাবে।

সিডনিতে ফাগুন হাওয়া’র বৈশাখী আড্ডা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন ফাগুন হাওয়ার আয়োজনে হয়ে গেল বৈশাখী আড্ডা। পহেলা বৈশাখে সিডনির বেক্সলি ম্যানর ফাংশন সেন্টারে এই আয়োজন করা হয়। ষোল আনা বাঙালি ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে এবারের অনুষ্ঠান সাজানো হয়। করোনার বিধিনিষেধ মেনে এতে প্রায় সাড়ে চারশ’ প্রবাসী বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন।

এবারের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ফাগুন হাওয়ার পক্ষ থেকে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি বৈশাখে টিম গঠন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও ক্যান্টারবুরি ব্যাঙ্কসটাউনের এক্স কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু সহ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এই অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাহে জামান টিটু বলেন, ফাগুন হাওয়ার যেকোনো গঠনমূলক কাজের সাথে তিনি সবসময় থাকবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর একে একে ছিল নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি। নাচে মৌসুমি সাহা ও তার দল, আনুভা আদ্রিতা রায়। কবিতা আবৃত্তি করেন শহিদুল আলম বাদল, আকিদুল ইসলাম, ফয়জুন্নেছা পলি, মোশতাক আহমেদ ও আরিফুর রহমান। রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন পলশ্রী রায়। দেহতাত্ত্বিক গানে মাতিয়ে রেখেছিলেন নামিদ ফরহান ও আয়শা কলি। সবশেষে সিডনির নামকরা ব্যান্ডদল কৃষ্টি বৈশাখী গান সহ জনপ্রিয় বাংলা গান পরিবেশন করে।

আপ্যায়ন পর্বে চমক রেখেছিল আয়োজক কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো প্রায় চারশ’ জনের জন্য গরম গরম ইলিশ মাছ ভেনুতেই ভেজে পরিবেশন করা হয়। রকডেলের ফুসকা হাউজের খাবারও ছিল। এছাড়াও হরেক রকম পিঠা, মিষ্টি, দই-চিড়া, খই, নাড়ু, মুড়ি মুড়কি সহ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার ছিল অনুষ্ঠানে। এতে বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পোলাও, রোস্ট, ডিম, চিপস ও সুসজ্জিত ফ্রুটস প্লাটার পরিবেশন করা হয়। ছিল বাংলার অন্যতম অনুষঙ্গ মজাদার পান। বৈশাখী আড্ডার পরিপূর্ণ আমেজ ফুটিয়ে তুলতে বৈশাখী মেলার আয়োজনও ছিল। সেখানে বাচ্চাদের খেলনা ও বড়দের বিভিন্ন বাঙালি পোশাক বিক্রি করা হয়।

 অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফাগুন হাওয়া’র সভাপতি তিশা তাসমিম তানিয়া বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্ডিয়ান, কলকাতার বাঙালি ও নেপালিরা অংশগ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন বাঙালি ঐতিহ্য ও কৃষ্টি কালচারের সাথে সব দেশ সব দেশীয় মানুষকে পরিচিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এ সময় ফাগুন হাওয়ার সাধারণ সম্পাদক সাজেদা আক্তার সানজিদা আগামী বছর আবারও বৈশাখী আড্ডা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।   

একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

সিডনিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেছে একুশেএকাডেমি অস্ট্রেলিয়া। ১১ এপ্রিল দুপুর ১২ টায় সিডনির বেলমোর কমিউনিটি সেন্টারে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম, ডঃ সুলতান মাহমুদ, ডঃ কাইউম পারভেজ, নেহাল নেয়ামুল বারী, ডঃ শাখাওয়াত নয়ন প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ শিক্ষা, যোগাযোগ, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। সাক্ষরতার হার বাড়লেও সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি নৈতিকতার চর্চা কমেছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

পরে মুনা মোস্তফার উপস্থাপনায় কবিতা আবৃত্তি, শিশু -কিশোরীদের নৃত্য এবং দেশের গান নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন অমিয়া মতিন, অভিজিৎ বড়ুয়া, পিয়াসা বড়ুয়া, সুমিতা দে প্রমুখ। তবলায় সংগীত পরিবেশন করেন জন্মেজয় রায়।