নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপিত

বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এবার সবচেয়ে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। ব্রিসবেন ও এডিলেইড শহরে লাল-সবুজ রংয়ের আলোকসজ্জা, দেশের প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এবং কেন্দ্রীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্থনি অ্যালবানিজ কর্তৃক শুভেচ্ছা বানী প্রদান, ক্যানবেরার স্থানীয় পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসের ক্যানবেরা ও সিডনি অফিস কর্তৃক একাধিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে গত ২৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপিত হয়। ব্রান্ডিং বাংলাদেশের সহযোগিতায় সিডনির নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস এর সাবেক মূখ্যমন্ত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বব কার। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উস্তাদ সিরাজুস সালেকিন, কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত, সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী, সংগঠক এবং সিডনির বৈশাখী মেলার আয়োজক শেখ শামীমুল হক, হারিস ভেলজী, সোফি কোটসিস এমপি, জোডি ম্যাককেই এমপি, আনুলোক এমপি, ম্যাট টিস্টেহোয়াইট এমপি, মিশেল রোলান্ড এমপি, সিডনির কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের মান্যবর রাস্ট্রদুত সুফিউর রহমান।

আলোচনা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম। কবিতা আবৃতি করেন সালমিন সুলতানা তানহা, সরোদ পরিবেশন করেন উস্তাদ তানিম হায়াত খান। এ ছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর আগে সিডনির পাশের শহর গসফোর্ড এলাকা থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির এমপি লিসেল টেক অনুষ্ঠানস্থলে এসে বাংলাদেশের এই মহতী লগ্নে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে অভিনন্দন জানান। 

বব কার তার বক্তব্যে মজা করে বলেন, তাঁর ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জন্ম একই বছরের একই দিনে। অথচ রাজনীতি শেষে আজ তিনি যখন সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন, আরেকজন তখন দাপটের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইংরেজিতে অনূদিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান। বব কার বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি একাত্তরের স্মৃতিচারণ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটলামের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন্নের লক্ষ্যে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিশদ চিত্র তুলে ধরা হয়। পশ্চিমা দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানের জন্য বাংলাদেশী বক্তাদের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের উপরে প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে শ্রাবন্তী কাজী সম্পাদিত সিডনির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘প্রভাত ফেরী’। অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের সদস্য মেহেদী হাসান শাহীন, আলী আশরাফ হিমেল, মহীউদ্দীন কাদির, শাহ নেওয়াজ আলো, আকাশ দে, শাকিল মল্লিক এবং আয়শা আমজাদ সব ধরনের সহযোগিতা করেন। এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টও উদযাপনে সামিল হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরকে গৌরাবান্বিত করে। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সিডনিতে ‘কোভিড হিরো সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান

স্থানীয় সময় গত ২৯ মার্চ (সোমবার) সকাল ১১ টায় সিডনির পান্চবউল ব্রডওয়ে প্লাজায় টনি বার্ক অফিসের সামনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ‘কোভিড হিরো অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষত: চাকরিচ্যুত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি শরণার্থী ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জরুরি সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর সক্রিয় সহায়তার স্বীকৃতি স্বরূপ ফেডারেল এমপি টনি বার্ক, নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের এমপি জিহাদ দিব ও সোফি কটসিসের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা অ্যওয়ার্ড প্রদান করেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় এমপি টনি বার্ক। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল, বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেন অব অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মানবিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় কোভিড-১৯ সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হয়।

অনুষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ক্যান্টারবারি-ব্যাংকস টাউন সিটি কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর ও অস্ট্রেলিয়ান লিবারেল পার্টি ল্যাকাম্বা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু।

আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার বঙ্গবন্ধুর শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন

গত ২৮ মার্চ (রবিবার) সিডনির দ্যা ল্যাকাম্বা ক্লাবে আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়া জাকজমক পূর্নভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন করে।                   

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সূরা ফাতেহা ও পবিত্র তেলোয়াতের মাধ্যমে জাতীর জনক ও সকল শহীদের প্রতি এবং দেশ ও জনগনের সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন শামসুল হক বাচ্চু। অনুষ্ঠানে বাচ্চু ভাইয়ের নেতৃত্বে উপস্হিত সবার কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। আমন্ত্রিত বাংলাদেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তি যোদ্ধাদের ও অনান্য অতিথিদের ছোট্ট সোনামনিরা ফুল দিয়ে বরন করেন।                                   

সাবেক ছাএলীগ অস্ট্রেলিয়ার সফল সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মো: মুঈদুজ্জামানের (সুজন) শুভেচ্ছা বক্তব্যের ও প্রফেসর শামস রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হারুনুর রাশিদ ও মহিলা আওয়ামীলিগের সভাপতি কাশফি আসমা আলম যৌথ সঞ্চালনা করেন।        

এ সময় আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান ঋতু বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানটির প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্হিত প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড: মোহাম্মদ আলী কাজী, মো: নজরুল ইসলাম (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন), বীর মুক্তিযাদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেল্লাল, বীর মুক্তিযাদ্ধা হেলাল উদ্দীন, বীর মুক্তিযাদ্ধা জামাল উদ্দীন, কৃষক লীগের সভাপতি শাহা আলম, ড:একরাম চৌধুরী(সভাপতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি), হাসান শিমুন ফারুক রবীন (সভাপতি এনএস ডব্লিউ আওয়ামীলিগ)। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোকবুল মুন্না, মহিলা সম্পাদিকা রীতা শরীফ প্রমুখ। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলিগ ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম সমন্বায়ক মাকসুদুর রহমান চৌধুরীর সুমন। উপস্হিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট শাখাওয়াৎ নয়ন, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, আওয়ামীলিগ নেতা মামুন রশিদ, কামরুজ্জামান বাপ্পী (যুগ্ম সাধারন সম্পাদক), সৈয়দ সফিকুর রহমান, শহিদুর রহমান, আনিসুর রহমান, ওসমান গনি (সাংগঠনিক সম্পাদক), সাবেক ছাএ নেতা রাজন, ফরিদ, ফেহাদ, সুমন ছাড়া আরও অনেকে।      

পরিশেষে কবিতা, নৃত্য এবং গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি