স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবোজ্জল অবদানের জন্য নূরুল কাদিরকে স্বাধীনতা সম্মাননা দিয়েছে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নূরুল কাদিরকে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবোজ্জল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল ২৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে টাইমস টোয়েন্টফোর টিভির ঢাকা স্টুডিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ থ্রোবল এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্রিয়া সংগঠক মোহাম্মাদ শামিম আল মামুন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আলী চৌধুরী মামুন, টাইমস টোয়েন্টফোর টিভির প্রধান নির্বাহী ড. মশিউর রহমান। এছাড়াও সিডনি থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নাইম আবদুল্লাহ।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুহাম্মদ নূরুল কাদিরের অবদান অনস্বীকার্য। মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন সময়ে সমগ্র বিশ্ব ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সমর্থন যুগিয়েছিলেন মুহাম্মদ নূরুল কাদির। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ তাঁকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এই বছর বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ পালিত হচ্ছে কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রাষ্ট্রীয় কোনও সম্মাননা পায়নি ৮০ বছর বয়সী এই মহান ব্যক্তি। তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আগামী বছর মুহাম্মদ নূরুল কাদিরকে ‘স্বধীনতা পদক’ দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

সম্মাননা পাওয়ার পর এক অনুভূতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নূরুল কাদির বলেন, আপনারা আমাকে সম্মান জানিয়েছেন এই জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পদক পাওয়ার জন্য আমি কাজ করিনি। মহান আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে তৌফিক দিয়েছিলেন সেজন্য আমি দেশের জন্য কাজ করতে পেরেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাকে একটি ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দিয়েছিলেন, সেই পাসপোর্ট দিয়ে আমি সারা বিশ্ব ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশের জন্য সমর্থন যুগিয়েছি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ আমাকে সম্মান জানিয়ে যে মেডেল দিয়েছিলেন সেই মেডেলগুলো একটি ব্লেজারে লাগিয়ে রেখেছিলাম। সেটি পরিধান করেই আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

উল্লেখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামের পর অস্ট্রেলিয়া সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় নূরুল কাদিরকে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দেওয়ার সিদ্বান্ত গৃহীত হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s