বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

স্থানীয় সময় গত ২০ মার্চ (শনিবার) সিডনির ইঙ্গেলবার্নস্থ গ্রেগ পার্সিভাল হলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উজ্জাপন করে। কোভিড নির্দেশনা মেনে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু প্রেমিরা সেদিন একত্রিত হয়েছিলো।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নিউ সাউথ ওয়েলস প্রিমিয়ার, মান্যবর হাই কমিশনার, কনসাল জেনারেল ও ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল এর মেয়র শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন।

সংগঠনের সভাপতি ড. রতন কুন্ডুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার জনাব সুফিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

সংগঠনের বয়স্ক ও শিশু শিল্পীরা অংশগ্রহণে শতকণ্ঠে বাংলাদেশের ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। তারপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনানো হয়। মূল নিবন্ধ পাঠ করেন ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কাইয়ুম পারভেজ। নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উল্লঙ্গং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল চৌধুরী, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাসুদুল হক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সিরাজুল হক।

প্রধান অতিথির ভাষণে সুফিউর রহমান বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান বাংলাদেশের উপর আলোচনা করে বলেন, জাতির জনক তাঁর পুরো জীবনেই দেশকে তথা দেশের মানুষকে ভালোবেসে অপরিসীম কষ্ট ও ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা পুরো জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তিনি আরো বলেন সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ উন্নয়নের পেছনে রয়েছে তাঁর দূরদর্শিতা, সঠিক দিক নির্দেশনা ও রাষ্ট্র প্রণীত উন্নয়নের নীতিমালা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যক্তি জবনে  ধারণ করার উপরও তিনি গুরুত্ত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি খন্দকার মাসুদ উদ্দিন অনুষ্ঠানে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণ, হেলাল উদ্দিন, শাহাদাৎ  হোসেন ও ওসমান গনিকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধিত করেন। এর পর কিশোর কিশোরীরা বিশেষ অতিথি হিসেবে আগত অন্যান্য অতিথি ও ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের সম্মানিত মেয়র এর প্রতিনিধি বাংলাদেশী বনহশোদ্ভূত কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী কে পুষ্পস্তবক প্রদান করে। কনসাল জেনারেল বক্তব্যের শুরুতেই এরকম একটি বিশাল ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও তার অগ্রযাত্রায় তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন। কিশোর কিশোরীদের মধ্যে ইনাম তালুকদার, লামিস সাইয়েদ ও রাইসা হালিম স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের উপর বক্তব্য রাখে।

মালিক সাফি জাকির মূল পরিকল্পনায় ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ায় সাংস্কৃতিক সম্পাদকঃ ফারিয়া নাজিমের সঞ্চালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের গান পরিবেশিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন, ফারিয়া নাজিম, রুনু রফিক, নিলুফা ইয়াসমিন, লামিয়া আহমেদ লুনিয়া, সীমা আহমেদ, রোমানা হক, ফাইজা কালাম রুবা ও অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। পূরবী পারমিতা বোসের দেশের গানের সাথে অপূর্ব কোরিওগ্রাফি, শিশু শিল্পী রুপন্তি ও প্রতিশ্রুতির ধ্রুপদী নৃত্য দর্শক শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করেছে।

সবশেষে সভাপতি, সংগঠনের সকল সদস্য, আগত অতিথি ও উপস্থিত শিশু কিশোরদের সাথে নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। আগত সব অতিথিদের এর পর নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s