মুজিবনগর সরকারের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ নূরুল কাদিরকে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দিবে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীন্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযাদ্ধা এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নূরুল কাদিরকে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দিবে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠান সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় এই সিদ্বান্ত গৃহীত হয়। সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন জানান, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে এবং সম্মাননা দেয়ার তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে।

মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন সময়ে সমগ্র বিশ্ব ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সমর্থন যুগিয়েছিলেন মুহাম্মদ নূরুল কাদির। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সম্মান জানিয়ে অনেক মেডেল দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে।

সত্তরের বন্যায় রেডক্রসের মাধ্যমে ভোলার বিভিন্ন জায়গায় ৪ মাস যাবত খাবার ও ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছিয়ে দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নূরুল কাদির। বন্যায় বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়া শত শত মানুষ গাছের মাথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই গাছের মাথাও খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ত্রাণ দেওয়ার পর ৪০০ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট তৈরী করেছিলেন নূরুল কাদির। সেই রিপোর্ট ইংরেজীতে অনুবাদ করে রেডক্রস আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিল।

নিজের সম্পদের অর্ধেক বিক্রি করে ‘‘দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা’ তথ্যবহুল একটি বই বের করেছিলেন তিনি। দেশের জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে মুহাম্মদ নূরুল কাদিরের বয়স আশি বছর। বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ পালিত হচ্ছে কিন্তু আজো তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়নি এবং ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়া হয়নি। দেশের প্রতি এই মহান ব্যক্তির অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দেওয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল।

সিডনিতে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘হারমনি ডে’ পালিত

একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো সমাজের একটা অংশ। সেটা যে কোনো সংস্কৃতির হোক না কেন! অন্যের সংস্কৃতিকে সম্মান দেখাতে পৃথিবীতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বহুজাতিক অভিবাসীদের দেশ অস্ট্রেলিয়া। হারমনি ডে তারই একটা অংশ। অস্ট্রেলিয়াতে হারমনি ডে ২১ মার্চে পালিত হয়।

১৯৯৯ সাল থেকে বহুজাতিক অভিবাসীদের সম্মানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপস্থাপন করে। হারমনি ডে উদযাপনে পারস্পরিক বিভিন্ন অভিবাসীদের ঐক্য, ঐতিহ্যগত কর্মক্ষমতা, পোশাক, সঙ্গীত, শিল্প, খাদ্য দিয়ে সম্মান জানানো হয়।

অভিবাসীদের সম্মানে সিডনির ল্যাকান্বায় নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ২০ মার্চ (শনিবার) সন্ধ্যায় ‘হারমনি ডে’ পালিত হয়। দিবসটির উপর আলোচনা করেন সকলে। রকমারী খাবারের পর কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

হারমনি ডে অ্যাম্বাসেডর আবুল কালাম আজাদ খোকন বলেন, অস্ট্রেলিয়া একটি মাল্টিকালচারাল অভিবাসীদের দেশ। আর এই সকল অভিবাসীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ধর্ম, খাবার ও পোশাককে সন্মান জানানোর জন্যই ‘হারমনি ডে’র সৃষ্টি।

সিডনিতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

আশফাক রহমানঃ একাত্তরের মহা কাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের সব গৌরব আর অর্জন হৃদয়ে ধারণ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্মকেও একই মন্ত্রে দীক্ষিত করার প্রয়াসে নিরলস ভাবে  কাজ করে যাচ্ছে  ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এই জনযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত সব মুক্তিসেনার অবদানকে বাংলা স্কুল স্মরণ করে গভীর ভালবাসায় ও কৃতজ্ঞতায়।

স্থানীয় সময় ২১ মার্চ (রবিবার) বাংলা স্কুলের শ্রেনী কক্ষে ছাত্রছাত্রীরা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব গাথা শুনে, গান গেয়ে, কবিতা পড়ে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করে। শুরুতেই মুক্তি সংগ্রামের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র পরিবেশন করা হয় এবং স্বাধীনতার বীরত্ব গাঁথা গল্পের আকারে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ছাত্রছাত্রীরা মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে একটি চিত্রাংকন পর্বে অংশ নেয়। জ্যেষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা স্বাধীনতা দিবসে তাদের ভাবনার কথা তুলে ধরে। বাংলাদেশের মানচিত্রের বর্ণনাও এই পরিবেশনায় স্থান পায়।

সবশেষে একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। চারটি সমবেত সংগীত, একটি একক সংগীত, পাঁচটি একক আবৃত্তির বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাদের স্বভাবসুলভ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়।একক আবৃত্তিতে অংশ নেয় সামীর, রুশনান, তাহিয়া, দৃপ্ত ও রাকিন। একক সংগীত পরিবেশন করে সুবা।  জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্য চিত্র পরিকল্পনা, নির্মাণে ছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষ রোকেয়া আহমেদ এবং উপস্থাপনায় ছিলেন নাফিসা আজাদ। সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন শ্রেনী শিক্ষক শারমিন সুলতানা, শায়লা ইয়াসমিন এবং রাফায়েল রোজারিও। সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা স্কুলের শিক্ষক আনজুমান আরা আইরিন। অধ্যক্ষ রোকেয়া আহমেদ এবং সংগীত শিক্ষিক রুমানা ফেরদৌস লনির পরিচালনায় স্বাধীনতা দিবসের পরিবেশনাটি দুপুর একটায় শেষ হয়। উল্লেখ্য ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন

স্থানীয় সময় গত ২০ মার্চ (শনিবার) সিডনির ইঙ্গেলবার্নস্থ গ্রেগ পার্সিভাল হলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উজ্জাপন করে। কোভিড নির্দেশনা মেনে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু প্রেমিরা সেদিন একত্রিত হয়েছিলো।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নিউ সাউথ ওয়েলস প্রিমিয়ার, মান্যবর হাই কমিশনার, কনসাল জেনারেল ও ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল এর মেয়র শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেন।

সংগঠনের সভাপতি ড. রতন কুন্ডুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার জনাব সুফিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

সংগঠনের বয়স্ক ও শিশু শিল্পীরা অংশগ্রহণে শতকণ্ঠে বাংলাদেশের ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। তারপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনানো হয়। মূল নিবন্ধ পাঠ করেন ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কাইয়ুম পারভেজ। নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উল্লঙ্গং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল চৌধুরী, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাসুদুল হক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সিরাজুল হক।

প্রধান অতিথির ভাষণে সুফিউর রহমান বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান বাংলাদেশের উপর আলোচনা করে বলেন, জাতির জনক তাঁর পুরো জীবনেই দেশকে তথা দেশের মানুষকে ভালোবেসে অপরিসীম কষ্ট ও ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা পুরো জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তিনি আরো বলেন সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ উন্নয়নের পেছনে রয়েছে তাঁর দূরদর্শিতা, সঠিক দিক নির্দেশনা ও রাষ্ট্র প্রণীত উন্নয়নের নীতিমালা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যক্তি জবনে  ধারণ করার উপরও তিনি গুরুত্ত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি খন্দকার মাসুদ উদ্দিন অনুষ্ঠানে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান তরুণ, হেলাল উদ্দিন, শাহাদাৎ  হোসেন ও ওসমান গনিকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধিত করেন। এর পর কিশোর কিশোরীরা বিশেষ অতিথি হিসেবে আগত অন্যান্য অতিথি ও ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের সম্মানিত মেয়র এর প্রতিনিধি বাংলাদেশী বনহশোদ্ভূত কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী কে পুষ্পস্তবক প্রদান করে। কনসাল জেনারেল বক্তব্যের শুরুতেই এরকম একটি বিশাল ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও তার অগ্রযাত্রায় তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন। কিশোর কিশোরীদের মধ্যে ইনাম তালুকদার, লামিস সাইয়েদ ও রাইসা হালিম স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের উপর বক্তব্য রাখে।

মালিক সাফি জাকির মূল পরিকল্পনায় ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ায় সাংস্কৃতিক সম্পাদকঃ ফারিয়া নাজিমের সঞ্চালনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের গান পরিবেশিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন, ফারিয়া নাজিম, রুনু রফিক, নিলুফা ইয়াসমিন, লামিয়া আহমেদ লুনিয়া, সীমা আহমেদ, রোমানা হক, ফাইজা কালাম রুবা ও অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। পূরবী পারমিতা বোসের দেশের গানের সাথে অপূর্ব কোরিওগ্রাফি, শিশু শিল্পী রুপন্তি ও প্রতিশ্রুতির ধ্রুপদী নৃত্য দর্শক শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করেছে।

সবশেষে সভাপতি, সংগঠনের সকল সদস্য, আগত অতিথি ও উপস্থিত শিশু কিশোরদের সাথে নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। আগত সব অতিথিদের এর পর নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।