সিডনিতে বিকৃত স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রতিবাদে “কমিউনিটি ডায়ালগ” শিরোনামে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিতর্কিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ প্রেক্ষপট নিয়ে প্রবাসি বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিল “কমিউনিটি ডায়ালগ” শিরোনামে একটি মত বিনিময় সভার আয়োজন করে। স্থানীয় সময় গত ১৭ মার্চ (বুধবার) সন্ধ্যায় সিডনির বেলমোর কমিউনিটি হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের উপস্থাপনায় শুরু হয় আলোচনা পর্ব। মতবিনিময় সভার মুল আলোচনার বিষয়বস্তু “মাতৃভাষা দিবস ও স্মৃতিসৌধের প্রেক্ষপট’ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন সহ-সভাপতি শিবলী আবদুল্লাহ।

মত বিনিময় সভায় “শহীদ মিনারের আদলে- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্তম্ভ বাস্তবায়ন” কমিটি, প্রবাসী রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন মিডিয়া সহ ৩০ টিরও অধিক সংগঠনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা একাত্মতা ঘোষণা করে তাদের সু চিন্তিত মতামত প্রদান করেন।  

তাদের উল্লেখযোগ্য মতামত ও প্রানের দাবী গুলির মধ্যে ছিল, দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বাংলার’ প্রতিফলন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে স্মৃতিসৌধের পুনঃ নির্মাণ করা, এই হীন কাজের জন্য সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা সহ তাদের নিজস্ব অর্থায়নে পুনঃ নির্মাণ কাজ যথাশীঘ্র সম্পন্ন করা, ব্যক্তিগত আক্রোশে সংযমহীন ভাষায় এবং অসংযত আচরণে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করাকে প্রতিরোধ ও কমিউনিটিতে মিথ্যে তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টিকে প্রতিহত করা। পাশাপাশি দাবী পুরন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন ও কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা।

আলোচিত মতামতের বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। রাতের খাবারের পর মত বিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য গত ২১ ফেব্রুয়ারি সিডনির সদ্য নির্মিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পর এর নকশা নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার, প্রতিবাদ-পাল্টা প্রতিবাদ, মানববন্ধন সহ বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

সিডনীস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট এ জাতির জনকের ১০১তম জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

স্থানীয় সময় গত ১৭ মার্চ (বুধবার) প্রত্যুষে সিডনিতে বাংলাদেশ হাউসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের সূচনা হয়। এ সময় কনস্যুলেটের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

​সন্ধ্যায় কনস্যুলেট ভবনে স্থানীয় অভিবাসী বাংলাদেশী, কম্যুউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সমূহ থেকে বাণী পাঠ করা হয়। এরপর জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে অংশগ্রহণকারী ও শাহাদাত বরণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধার বিদেহী আত্মার মাগফেয়ারত কামনা করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মহান আল্লাহ’র রহমত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তাৎপর্যপূর্ণ এ দিবসে জাতীয় নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ উপস্থিত সুধীবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দকে পাঠ করে শোনানো হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির জনকের একচ্ছত্র নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।  জাতির জনকের বর্নাঢ্য জীবনের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে কনসাল জেনারেল বলেন বঙ্গবন্ধুর অবদান কেবলমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না বরং তাঁর পুরো জীবনেই তিনি দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে অপরিসীম কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন, যা পুরো জাতির জন্য আজীবন অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ উন্নয়নের পেছনেও রয়েছে জাতির জনকের দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন ও দেশ পরিচালনায় তাঁর সঠিক দিক নির্দেশনা ও প্রণীত রূপরেখা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যক্তি জীবনে ধারণ করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু কিশোরদের হৃদয়ে দেশ, জাতি, সংস্কৃতি সম্পর্কে মৌলিক ধারণা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়্যোজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিশু কিশোর শিল্পীবৃন্দ বাংলা ছড়া, গান, কবিতা, অভিনয়, নাচ ও সম্মিলিত বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করে। তাদের দৃষ্টি নন্দন পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও এতে অংশগ্রহণ করেন।

সবশেষে কনসাল জেনারেল উপস্থিত শিশু কিশোরদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিশু কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।