বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষ্যে জাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন

অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্প্রচারিত একমাত্র ২৪ ঘন্টার বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল ‘জন্মভূমি টেলিভিশন’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষে ২৮ শে মার্চ সন্ধ্যায় সিডনির রকডেলের রেডরোজ ফাংশন সেন্টারে জাঁকজমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জন্মভূমি টিভির চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন এবং সিইও রাহেলা আরেফিন সমাগত অতিথিদের স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আদিবাসীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের ভাষায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত এককভাবে পরিবেশন করে সামা, পরে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত সমবেতভাবে পরিবেশন করে আদ্রিতা, আনান, রোকসানা রহমান, নাবিলা স্রোতস্বীনি, হৃদসি, আবিদা ও সামা।

সাদিয়া ও সারিয়ার নাচের পর নুসরাত জাহান স্মৃতির  কবিতা আবৃতি করেন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন অনুষ্ঠান শুরুর। এর পর পরই আগামী প্রজন্মের শিল্পী আদ্রিতার “হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ”  নাচটি  মুগ্ধ করে দর্শকদের।

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠানের শুরুটা করেন নুরুন্নাহার ফাহমি। এসময়ে এই  প্রজন্মের আরেক শিল্পী গানের পাখি নাবিলা স্রোতস্বীনির সূর্যোদয়ে তুমি দেশাত্ববোধক গানটি পিন পতন নীরবতায় উপভোগ করেন দর্শকরা।

গানটি শেষ হওয়ার পর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও জন্মভূমি টেলিভিশনের, ডিরেক্টর ফাইন্যান্স ,সৈয়দ আকরাম উল্লাহ।

বক্তব্যের পর মাগরিবের নামাজের বিরতি দেয়া হয়। বিরতির পর হালকা নাস্তা  পরিবেশন করা হয়।

তৃতীয় পর্বে রোকসানা রহমান আবিদা ও সামা পরিবেশন করেন “আগুনের পরশমনি ” গানটি এই গানটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো সে সময় কোনো বাদ্য যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, নারী জাগরণের প্রতি সম্মান জানিয়ে গানটি গাওয়া হয়।

মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিডনি কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলমকে তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর , বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে “জন্মভূমি বিশেষ সম্মাননা পদক ২০২১” মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসাবে মরহুম রফিক উল্যাহ মাস্টারকে মরণোত্তর সম্মামনা প্রদান করা হয়। পদকটি গ্রহণ করেন তার পুত্র সিডনি প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব আশরাফ হক।

এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরের যোদ্ধা সিডনি প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমানকে “জন্মভূমি বিশেষ সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম।

জন্মভূমি এই প্রবাসে আগামী প্রজন্মকে তুলে ধরতে চায় ,এই পর্যায়  ছোট্ট শিশু রোদোশীর নাচের মূর্ছনায় মুহুমুহু করতালিতে ভোরে উঠে অনুষ্ঠানস্থল।

মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় Hon Tony Burke MP, কে তিনি Member for Watson NSW, Manager of Opposition Business, Member of Australia Labor Party তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জন্মভূমি টেলিভিশনের প্রশংসা করেন। তিনি এমন একটি ২৪ ঘন্টার টেলিভিশন চালানের ক্ষেত্রে যাদের অবদান তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

ফেডারেল এমপি টনি বার্ক প্রবাসে আলোকিত শিক্ষাবিদ হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন শিক্ষাবিদ ডঃ কাইউম পারভেজ এবং আলোকিত নারী শিক্ষাবিদ হিসাবে  “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”তুলে দেন শিক্ষাবিদ ডঃ মমতা চৌধুরীর হাতে।

এর পরপরই সিডনির জনপ্রিয় সংগীত দম্পতি রোকসানা রহমান ও আনিসুর রহমান একটি  দৈত্ব সংগীত পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠান মালা এমন ভাবে সাজানো হয়েছিল উপস্থিত সুধিমন্ডলী আসন ছেড়ে যেতে চাইলেও যেতে পারেননি।

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এর পর মঞ্চে আসেন Lindsay Wendy, Member of the Legislative Assembly, Member for East hills, Member of the liberal Party.

এমপি লিন্ডসে ওয়েন্ডির তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর প্রবাসে আলোকিত সমাজসেবক হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন সাবেক কাউন্সিলর রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ জামান টিটুর হাতে।প্রবাসে আলোকিত নারী সমাজসেবী হিসাবে জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”নেয়ার জন্য নাম ঘোষণা করা হয়  মিসেস লায়লা চৌধুরীর। তিনি  মেলবোর্ন থেকে সিডনি এসেও ব্যাক্তিগত কারণে জরুরিভাবে মেলবোর্ন ফেরত যান।এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত  থেকে পদক নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।তার পদকটি কুরিয়ারে মেলবোর্ন পাঠানো ব্যবস্থা করা হয়। 

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় মঞ্চে নুপুরের রিনিঝিনি আর নাচের ভঙ্গিমায় দর্শকদের বিমোহিত করেন এই প্রবাসের সবার প্রিয় নৃত্য শিল্পী অর্পিতা সোম।

মঞ্চে আসেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও এক সময়ের ইমিগ্রেশন মিনিস্টার Hon Philip Ruddock AO, বর্তমানে Mayor Hornsby Shire তার  শুভেচ্ছা বক্তব্য তিনি  বাংলাদেশ ও বাঙালিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তব্যের পর তিনি  প্রবাসে আলোকিত ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন Teleaus এর সিইও জাহাঙ্গীর আলমের হাতে।

এবং তিনি প্রবাসে আলোকিত নারী ব্যবসায়ি উদ্যোক্তা হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা ২০২১” তুলে দেন স্ট্যাডি নেট এর ডিরেক্টর ,ইয়াসমিন আনোয়ারের হাতে।

তারপর মঞ্চে আসেন প্রভাত ফেরির প্রধান সম্পাদক শ্রাবন্তী কাজী। তিনি প্রবাসে আলোকিত সাংবাদিক হিসাবে  “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন  প্রশান্তিকার সম্পাদক আতিকুর রহমান শুভর হাতে, এছাড়াও তিনি প্রবাসে আলোকিত নারী সাংবাদিক হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”  তুলে দেন কাজী সুলতানা সিমির হাতে।

এর পরপরই সিডনির প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী অমিয়া মতিন তার সুরের ঝংকারে মাতিয়ে তুলেন দর্শকদের।

মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিসনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আসিফ কাউনাইনকে। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জন্মভূমি টেলিভিশনের প্রশংসা করেন। শত প্রতিকূলতায় টেলিভিশনটি তাদের সম্প্রচারের ধারাবাহিকতায় পাঁচ বছরে পা রাখছে উল্লেখ করে তিনি এই টেলিভিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি প্রবাসে আলোকিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন এই প্রবাসের জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহীন শাহনেওয়াজ এর হাতে। প্রবাসে আলোকিত নারী সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব হিসাবে মরহুমা শারমিন পাপিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়। তার পক্ষে পরবর্তীতে তার স্বামী হায়দার বাবু ” জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১”(মরণত্তোর) গ্রহণ করেন।

গান নাচ বক্তিতা দর্শক একটু ভিন্ন কিছু চাইছিলো সে দিকে খেয়াল রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা কৌতুক পরিবেশন করতে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান ডাক্তার দম্পতি ডাঃ মীর জাহান মাজু ও ডাঃ ফাহিমা সাত্তারকে। তাদের পরিবেশিত কৌতুকটি পুরো অনুষ্ঠানে হাসির রোল তুলে।

অনুষ্ঠানে সময়ের দিকে খেয়াল রেখে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখার অনুরোধ জানানো হয় সকল বক্তাদের ,কোনো বক্তায় তাদের বক্তব্য দীর্ঘ করেননি ,শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় গণপ্রজনতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অনারারি কনসাল জেনারেল এন্থনি খৌরিকে। তিনি তার সেই সময়কার কিছু স্মৃতি রোমন্থন করেন। এবং জন্মভূমি টেলিভিশনের উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন।পরে তিনি প্রবাসে আলোকিত পেশাজীবী হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন ডাক্তার একরামুল হক চৌধুরীর হাতে।

এরপর মঞ্চে ডাকা হয় এই প্রবাসে ডাক্তারদের সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা , ডাক্তার শায়লা ইসলামকে তিনি  প্রবাসে আলোকিত নারী পেশাজীবী হিসাবে “জন্মভূমি সম্মামনা পদক ২০২১” তুলে দেন ডাক্তার নাহিদ সায়মার হাতে।

সিডনিটি গত কয়েক দিনের  একটানা বৃষ্টির পর বৃষ্টির গান দিয়ে উপস্থিত দর্শকদের সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে তুলেন শিল্পী জিয়াউল ইসলাম তমাল । এই গানের পরে জন্মভূমি টেলিভিশনের এই আয়োজনের সম্মানিত স্পনসরদের হাতে স্পনসর অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন জন্মভূমি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন। এই পর্যায়ে  তিনি অতিথিদের সাথে জন্মভূমি টেলিভিশনের পুরো  টিমকে পরিচয় করিয়ে দেন।

সিডনির একই অনুষ্ঠানে এতজন মিডিয়া ব্যাক্তিত্বের উপস্থিতি সচারাচর চোখে পরে না। এই আয়োজনের তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জন্মভূমি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবু রেজা আরেফিন প্রায় তিন যুগের বেশি সময়ে ধরে মিডিয়ার সাথে জড়িত , তিনি  অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দকে মঞ্চে আসতে অনুরোধ করেন এবং তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এই প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী আতিক হেলাল ও মিতা আতিক জুটি তাদের সুরেলা কণ্ঠে গান শুনিয়ে দর্শকদের বাড়ি যাওয়ার কথা ভুলিয়ে দেন।

শেষ হয়ে শেষ হচ্ছিলোনা অনুষ্ঠানমালা একের পর এক আবৃতি ,গান ,নাচ ,কৌতুক পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলো। দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্য বিরক্ত হতে দেখা যায়নি তারা আনন্দের সাথে  উপভোগ করছিলো অনুষ্ঠানগুলো।

সুরেলা গানের কণ্ঠে শিল্পী সাজ্জাদ হোসেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শকদের তার সুরেলা কণ্ঠে গান দিয়ে বিমোহিত করেন।

রাত  বাড়তে থাকে হঠাৎ করে যেন বাড়ি যাওয়ার তাগাদা অনুভব করতে থাকে উপস্থিত দর্শকরা। এই পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের নৈশ ভোজে আমন্ত্রণ জানান জন্মভূমি টেলিভিশনের সিইও রাহেলা আরেফিন।

নৈশ ভোজের পরে জন্মভূমি টেলিভিশনের পাঁচ বছর পদার্পন উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।এ সময়ে উপস্থিত দর্শকদের অনেক্ষন ধরে হলে উপস্থিত থেকে ফটো সেশন করেন।

জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সংবাদ সংগ্রহ ও নিউজ কনটেন্ট এর দায়িত্বে ছিলেন নাইম আবদুল্লাহ, ডিরেক্টর নিউজ এন্ড কনটেন্ট, সার্বিক সঞ্চালনের দায়িত্বে  ছিলেন আবিদা আসওয়াদ ডিরেক্টর প্রোগ্রাম জন্মভূমি টেলিভিশন।মঞ্চসজ্জা করেছেন জন্মভূমি টেলিভিশনের ডিরেক্টর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কানিতা আহমেদ।

শব্দ সঞ্চালনায় ছিলেন বেলায়েত রবিন  ডিরেক্টর টেকনিক্যাল,জন্মভূমি টেলিভিশন।অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠ ভাবে পরিচালিত করার দায়িত্বে ছিলেন ডঃ সৈয়দ আজিম ,ডিরেক্টর প্রোডাকশন,জন্মভূমি টেলিভিশন।ভিডিও ধারণ করেছেন সিডনি সংবাদ চিত্রের মোস্তফা কামাল। আরো ভিডিও ধারণ করেছেন আসওয়াদ বাবু  ডিরেক্টর প্রোটোকল জন্মভূমি টেলিভিশন।ফটোগ্রাফি করেছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এছাড়া  প্রকাশিত ম্যাগাজিনটি পরিকল্পনা ও ডিজাইন করেছেন শাখাওয়াত বাবু ডিরেক্টর প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন জন্মভূমি টেলিভিশন।ম্যাগাজিনটি ছাপা হয়েছে টাচ প্রিন্টিং থেকে। অতিথি আপ্যায়ন ও হল ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কাজী আলম রুবেল, ডিরেক্টর বিজনেস রিলেশন জন্মভূমি টেলিভিশন,এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর জন্মভূমি টেলিভিশন শিরিন আক্তার মুন্নি। সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন রাহেলা আরেফিন সিইও জন্মভূমি টেলিভিশন।

নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপিত

বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এবার সবচেয়ে ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। ব্রিসবেন ও এডিলেইড শহরে লাল-সবুজ রংয়ের আলোকসজ্জা, দেশের প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এবং কেন্দ্রীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্থনি অ্যালবানিজ কর্তৃক শুভেচ্ছা বানী প্রদান, ক্যানবেরার স্থানীয় পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ দুতাবাসের ক্যানবেরা ও সিডনি অফিস কর্তৃক একাধিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে গত ২৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপিত হয়। ব্রান্ডিং বাংলাদেশের সহযোগিতায় সিডনির নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস এর সাবেক মূখ্যমন্ত্রী এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বব কার। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উস্তাদ সিরাজুস সালেকিন, কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত, সংগঠক নেহাল নেয়ামুল বারী, সংগঠক এবং সিডনির বৈশাখী মেলার আয়োজক শেখ শামীমুল হক, হারিস ভেলজী, সোফি কোটসিস এমপি, জোডি ম্যাককেই এমপি, আনুলোক এমপি, ম্যাট টিস্টেহোয়াইট এমপি, মিশেল রোলান্ড এমপি, সিডনির কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের মান্যবর রাস্ট্রদুত সুফিউর রহমান।

আলোচনা শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম। কবিতা আবৃতি করেন সালমিন সুলতানা তানহা, সরোদ পরিবেশন করেন উস্তাদ তানিম হায়াত খান। এ ছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর আগে সিডনির পাশের শহর গসফোর্ড এলাকা থেকে নির্বাচিত লেবার পার্টির এমপি লিসেল টেক অনুষ্ঠানস্থলে এসে বাংলাদেশের এই মহতী লগ্নে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটিকে অভিনন্দন জানান। 

বব কার তার বক্তব্যে মজা করে বলেন, তাঁর ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জন্ম একই বছরের একই দিনে। অথচ রাজনীতি শেষে আজ তিনি যখন সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন, আরেকজন তখন দাপটের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইংরেজিতে অনূদিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে পাঠ করে শোনান। বব কার বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি একাত্তরের স্মৃতিচারণ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটলামের বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন্নের লক্ষ্যে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিশদ চিত্র তুলে ধরা হয়। পশ্চিমা দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দানের জন্য বাংলাদেশী বক্তাদের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের উপরে প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করে শ্রাবন্তী কাজী সম্পাদিত সিডনির জনপ্রিয় পত্রিকা ‘প্রভাত ফেরী’। অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের সদস্য মেহেদী হাসান শাহীন, আলী আশরাফ হিমেল, মহীউদ্দীন কাদির, শাহ নেওয়াজ আলো, আকাশ দে, শাকিল মল্লিক এবং আয়শা আমজাদ সব ধরনের সহযোগিতা করেন। এছাড়া নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টও উদযাপনে সামিল হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরকে গৌরাবান্বিত করে। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সিডনিতে ‘কোভিড হিরো সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান

স্থানীয় সময় গত ২৯ মার্চ (সোমবার) সকাল ১১ টায় সিডনির পান্চবউল ব্রডওয়ে প্লাজায় টনি বার্ক অফিসের সামনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ‘কোভিড হিরো অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষত: চাকরিচ্যুত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি শরণার্থী ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জরুরি সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর সক্রিয় সহায়তার স্বীকৃতি স্বরূপ ফেডারেল এমপি টনি বার্ক, নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের এমপি জিহাদ দিব ও সোফি কটসিসের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা অ্যওয়ার্ড প্রদান করেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের বিরোধী দলীয় এমপি টনি বার্ক। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল, বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেন অব অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মানবিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় কোভিড-১৯ সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত হয়।

অনুষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ক্যান্টারবারি-ব্যাংকস টাউন সিটি কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর ও অস্ট্রেলিয়ান লিবারেল পার্টি ল্যাকাম্বা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু।

আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার বঙ্গবন্ধুর শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন

গত ২৮ মার্চ (রবিবার) সিডনির দ্যা ল্যাকাম্বা ক্লাবে আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়া জাকজমক পূর্নভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বৎসর সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন করে।                   

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সূরা ফাতেহা ও পবিত্র তেলোয়াতের মাধ্যমে জাতীর জনক ও সকল শহীদের প্রতি এবং দেশ ও জনগনের সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন শামসুল হক বাচ্চু। অনুষ্ঠানে বাচ্চু ভাইয়ের নেতৃত্বে উপস্হিত সবার কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। আমন্ত্রিত বাংলাদেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তি যোদ্ধাদের ও অনান্য অতিথিদের ছোট্ট সোনামনিরা ফুল দিয়ে বরন করেন।                                   

সাবেক ছাএলীগ অস্ট্রেলিয়ার সফল সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মো: মুঈদুজ্জামানের (সুজন) শুভেচ্ছা বক্তব্যের ও প্রফেসর শামস রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হারুনুর রাশিদ ও মহিলা আওয়ামীলিগের সভাপতি কাশফি আসমা আলম যৌথ সঞ্চালনা করেন।        

এ সময় আওয়ামীলিগ অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান ঋতু বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানটির প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্হিত প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড: মোহাম্মদ আলী কাজী, মো: নজরুল ইসলাম (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন), বীর মুক্তিযাদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেল্লাল, বীর মুক্তিযাদ্ধা হেলাল উদ্দীন, বীর মুক্তিযাদ্ধা জামাল উদ্দীন, কৃষক লীগের সভাপতি শাহা আলম, ড:একরাম চৌধুরী(সভাপতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি), হাসান শিমুন ফারুক রবীন (সভাপতি এনএস ডব্লিউ আওয়ামীলিগ)। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোকবুল মুন্না, মহিলা সম্পাদিকা রীতা শরীফ প্রমুখ। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলিগ ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম সমন্বায়ক মাকসুদুর রহমান চৌধুরীর সুমন। উপস্হিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট শাখাওয়াৎ নয়ন, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, আওয়ামীলিগ নেতা মামুন রশিদ, কামরুজ্জামান বাপ্পী (যুগ্ম সাধারন সম্পাদক), সৈয়দ সফিকুর রহমান, শহিদুর রহমান, আনিসুর রহমান, ওসমান গনি (সাংগঠনিক সম্পাদক), সাবেক ছাএ নেতা রাজন, ফরিদ, ফেহাদ, সুমন ছাড়া আরও অনেকে।      

পরিশেষে কবিতা, নৃত্য এবং গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিডনিতে স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীতে বিডি হাব আয়োজিত শোভা যাত্রা

নাইম আবদুল্লাহঃ সিডনিতে সামাজিক সংগঠন বিডি হাব তাদের মাস ব্যাপী স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপনের শেষ দিন আজ ২৭ মার্চ শনিবার বিকাল ৪ টায় দেশের পতাকা স্বাধীনতার ব্যানার, ফেস্টুন, হেড ব্যান্ড, মিউজিক, ব্যান্ডপার্টি সহ এক বর্নাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এই শোভা যাত্রায় সিডনি প্রবাসী সামাজিক, রাজনৈতিক, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, মহিলা ও নুতন প্রজন্মের শিশু কিশোর সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা অংশ গ্রহন করেন। শোভা যাত্রাটি মিন্টুর এরিকা লেন থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় মলে গিয়ে শেষ হয়। সংগঠনটির সভাপতি আবুল সরকার ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল খান রতন সুবর্ণ জয়ন্তীর এই শোভা যাত্রায় অংশ গ্রহন করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আগে মাস ব্যাপী স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে বিডি হাব স্বাধীনতার বিলবোর্ড প্রদর্শন, বাড়ীতে বাড়ীতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা, বাচ্চাদের ফেস কালার, জাতীয় স্মৃতি সৌধের রেপ্লিকা স্থাপন সহ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

আজ সন্ধ্যায় বিডি হাব লিভারপুলের একটি ফাংশন সেন্টারে আলোচনসভা সহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতের খাবারেরও আয়োজন করে।

সিডনিতে জাহেরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত

গতকাল ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সম্পাদক ও অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কোষাধ্যক্ষ জাহেরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী তাহমিনা ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া’র স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য সিডনির কোগরার কাছাকাছি এক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি গাড়ি তাদের গাড়িকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে তাদের গাড়ি ছিটকে রাস্তার বাইরে একটি গাছের উপর আছড়ে পরে। এই দুর্ঘটনায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই মারাত্মক আহত হয়ে স্থানীয় সেন্ট জর্জ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাহমিনা ইসলামের শরীরে আভ্যন্তরীণ অরক্তক্ষরণের কারণে তাকে তাৎক্ষণিক অপারেশন করা হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডঃ রতন কুণ্ডু এই তথ্য নিশ্চিত করে কমিউনিটির সবার কাছে তাদের আশু সুস্থতার জন্য দোআ চেয়েছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও জন্মভূমি টেলিভিশনের ৫ বছরে পদার্পন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন

অস্ট্রেলিয়া থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত প্রথম ও একমাত্র ২৪ ঘণ্টার বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল জন্মভুমি টিভি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও তাদের সম্প্রচারের ৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে আগামীকাল ২৮ মার্চ (রবিবার) সন্ধ্যা ৬ টায় সিডনির রকডেল রেডরোজ ফাংশন সেন্টারে সুধী সমাবেশ, সম্মামনা প্রদান ও গালা ডিনারের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

সুধী সমাবেশের আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম উল্লাহ জানান, কোভিড পরিস্থিতি ও অতিথি নিয়ন্ত্রণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি সীমিত রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যারা আমন্ত্রণ পেয়েছেন তাদের প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত থাকবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাদের আমরা নিমন্ত্রণ জানতে পারছিনা তাদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।

আগামীকালের সুধী সমাবেশে এই প্রবাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জন্মভুমি স্বাধীনতা সম্মামনা এবং এই প্রবাসে আলোকিত নারী ও পুরুষদের প্রতিটি বিভাগ থেকে ৬ টি ক্যাটাগরিতে মোট ১২ টি “জন্মভুমি সম্মামনা পদক ” প্রদান করা হবে। ক্যাটাগরি গুলি হল, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, পেশাজীবী, ব্যবসায়িক উদ্যোগতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এর আগে কার্যকরী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিডনিতে নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস পালন

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গোটা জাতি আজ উদ্‌যাপন করবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনটিতে বিভিন্ন সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশে ও প্রবাসেও।

১৯৭১ সালের মৃক্তিযুদ্ধের সময়কার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিডনির ল্যাকান্বায় নবধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালিত হয়। স্বাধীনতা দিবসে সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের লাল-সবুজ পতাকাকে শ্রদ্ধাসহ শুভেচ্ছা জানান। নৈশ ভোজের পর কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন আবুল কালাম আজাদ খোকন।

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান পালিত হয় ঢাকার কাছে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবোজ্জল অবদানের জন্য নূরুল কাদিরকে স্বাধীনতা সম্মাননা দিয়েছে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নূরুল কাদিরকে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবোজ্জল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল ২৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে টাইমস টোয়েন্টফোর টিভির ঢাকা স্টুডিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ থ্রোবল এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্রিয়া সংগঠক মোহাম্মাদ শামিম আল মামুন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আলী চৌধুরী মামুন, টাইমস টোয়েন্টফোর টিভির প্রধান নির্বাহী ড. মশিউর রহমান। এছাড়াও সিডনি থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নাইম আবদুল্লাহ।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুহাম্মদ নূরুল কাদিরের অবদান অনস্বীকার্য। মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন সময়ে সমগ্র বিশ্ব ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সমর্থন যুগিয়েছিলেন মুহাম্মদ নূরুল কাদির। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ তাঁকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এই বছর বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ পালিত হচ্ছে কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রাষ্ট্রীয় কোনও সম্মাননা পায়নি ৮০ বছর বয়সী এই মহান ব্যক্তি। তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আগামী বছর মুহাম্মদ নূরুল কাদিরকে ‘স্বধীনতা পদক’ দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

সম্মাননা পাওয়ার পর এক অনুভূতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নূরুল কাদির বলেন, আপনারা আমাকে সম্মান জানিয়েছেন এই জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পদক পাওয়ার জন্য আমি কাজ করিনি। মহান আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে তৌফিক দিয়েছিলেন সেজন্য আমি দেশের জন্য কাজ করতে পেরেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাকে একটি ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট দিয়েছিলেন, সেই পাসপোর্ট দিয়ে আমি সারা বিশ্ব ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশের জন্য সমর্থন যুগিয়েছি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ আমাকে সম্মান জানিয়ে যে মেডেল দিয়েছিলেন সেই মেডেলগুলো একটি ব্লেজারে লাগিয়ে রেখেছিলাম। সেটি পরিধান করেই আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

উল্লেখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামের পর অস্ট্রেলিয়া সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি বাংলাদেশী লেখক ও সাংবাদিকদের সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় নূরুল কাদিরকে ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ দেওয়ার সিদ্বান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎযাপন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অফ অস্ট্রেলিয়া গত ২১ মার্চ (রবিবার) সন্ধ্যায় সিডনির গ্লেনফিল্ড কমিউনিটি হলে কেক কেটে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করে। সিডনিতে প্রচন্ড ঝড়, বৃষ্টি, বন‍্যার মত চরম বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন।

সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেনের সূচনা বক্তব্যের পর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডঃ মলয় বিশ্বাসের সঞ্চালনায় দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর কবিতা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির উপর আলোচনা, নাটিকা ও দেশের গান পরিবেশিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শক ও স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাসকে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোচকদের  মূল‍্যবান বক্তব্য এবং  শিশু কিশোর ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা ছিল উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ডঃ কাইয়ুম পারভেজ, ডঃ লুতফর রহমান, ডঃ হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও ডঃ আব্দুল কাদিরকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সবশেষে সংগঠনটির সভাপতি আজমল হোসেন প্রচন্ড ঝড়, বৃষ্টি, বন‍্যার মত চরম বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করার জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।