বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে ওখানেই স্যাটেল হতে চাই প্রেক্ষিত: অস্ট্রেলিয়া

আমাদের দেশে এইচ এস সি/অনার্স শেষ পরীক্ষা শেষ করে ৭০ শতাংশ ছেলে-মেয়েদের চিন্তা ভাবনা থাকে ঠিক এমনটাই, যদিও পরিবারের আর্থিক অবস্থা কিংবা সাপোর্ট এর কারনে অনেকেরই এই স্বপ্নটি পূরন হয় না। কিছু শতাংশ সাপোর্ট পাবার পরও সফল হতে পারে না, কিছু কমন ভুলের কারনে। অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,ইউরোপ, আমেরিকার মত দেশে গিয়েও বিভিন্ন জটিলতার স্বীকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অবৈধ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে নতুবা অনেকে এসাইলেম ( রাজনৈতিক আশ্রয়) নিয়ে বছর কে বছর পরে আছে নিজের পরিবার বিহীন, অনেকের আবার বিয়ের বয়স পেরিয়ে ৪০ এর কৌঠায় ঠেকছে, এমন দৃষ্টান্তের ও অভাব নেই। প্রতিনয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আমাকে বেশ কিছু প্রশ্নের স্বীকার হতে হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি”ভাইয়া কোন দেশের সুযোগ সুবিধা কেমন” বা “কোথায় গেলে আমি পারমেনেন্ট রেসিডেন্সী/ স্যাটেল হতে পারবো”সেই বিষয় গুলো নিয়েই আজকের আলোচনা:

এইচ এস সি কিংবা অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা  দিয়েছো? বেশ! এখন নিজে কে প্রশ্ন করো তুমি কি চাও?তুমি কি বাহিরে গিয়ে পড়াশোনা করবে নাকি টাকা আয় করবে? ৫০% স্টুডেন্ট এর ইচ্ছে থাকে পড়াশোনা করবে পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করবে। তা বেশ!সেক্ষেত্রে যতদিন পড়াশোনা করবে ততদিন ফ্যামিলির জন্য দেশে টাকা পাঠানোর কথা একেবারেই ভুলে যেতে হবে। কারন অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, কানাডা তে পড়াশোনার খরচ, লিভিং কস্ট অনেক এক্সপেন্সিভ। এবার তোমাকে দেখতে হবে কোথায় তুমি পার্ট টাইম জব করে টিউশন ফিস দিতে পারবে এমন একটি দেশ তোমাকে বাছাই করতে হবে। কারন সব দেশে পার্ট টাইম জবের সুযোগ থাকে না। যদি তুমি জব না করে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চাও তাহলে চায়না যেতে পারো। বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের চায়না সব চেয়ে বেশি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। সব দেশে পড়াশোনা শেষ করে স্যাটেল হবার সুযোগ থাকে না এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। অতএব এক্ষেত্রে তোমাকে চিন্তা করতে হবে কোন দেশগুলোতে তুমি পার্ট টাইম জব করে পড়াশোনা শেষ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে আমি যে দেশগুলোকে সাপোর্ট করি সেগুলো হচ্ছে: অস্ট্রেলিয়া,কানাডা, জার্মানী, ইউকে। আর যে দেশগুলোকে সাপোর্ট করিনা সেগুলো হচ্ছে: আমেরিকা, পোলেন্ড, সুইজারল্যান্ড,  ইতালী,হাংগেরি, ফিনলেন্ড, রাশিয়া, চায়না, মালেশিয়া, লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, মালটা, লুক্সিনবার্গ। এখন তুমি প্রশ্ন করতে পারো, আপনার সাপোর্ট করা কিংবা না করার যুক্তিকতা কি? আজকের লিখা অনেক বড় হয়ে যাবে বিধায়, আমি সে দিকে যাচ্ছি না। তবে এর পিছনে কারন রয়েছে, ঐ সব দেশে সহজে স্যাটেলমেন্টের প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক নিরাপওা, আবহাওয়া, ভাষা, জব ফ্যাসিলিটি, নাগরিকদের প্রতি সরকারের সুবিধা সমূহ ইত্যাদি।  

এবার আসা যাক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের নিয়ে, এই ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের চিন্তা ভাবনা থাকে ঠিক এমন পড়াশোনা করে আর কি হবে ভালো একটা দেশে স্যাটেল হয়ে যাবো। বেশ!খারাপ না কিন্তু যতোটা সহজ ভাবছো ব্যাপারটা ততোটা সহজ না। ওয়ার্ক পারমিট বা ভালো একটা দেশের ভিসা অনেক শিক্ষার্থী এর স্বপ্ন বুনেছে আবার অনেকের ভেঙেছে। ভিসা তো পেয়েছি, রেসিডেন্স তো পেলাম না,কারন ইউরোপের দেশগুলোতে রেসিডেন্স ছাড়া নৌকা ছাড়া মাঝির মত। তাই দেশ থেকে যে যেই দেশেই যাও না কেন যদি ইউরোপের কোন দেশে আসো তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে সব সময় ফোকাস রাখবে রেসিডেন্স কার্ড বা ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট এর ওপর। নাহলে, বছরের পর বছর ইউরোপ এ লাইফ লীড করে একসময় দেশে ব্যাক করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কোন দেশ রেসিডেন্স দিচ্ছে কোন সিনিয়র ভাই কার্ড পেয়েছে,কোন ভাই পাসপোর্ট পেয়েছে এই বিষয় গুলো খোজ খবর রাখতে হবে বেশি। আমি কাউকে ভয় দেখাচ্ছি না কেবল মাএ সতর্ক করছি।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ

আমাদের বাংলাদেশ হতে যেমন প্রতি বছর অনেক ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে যাচ্ছে লেখাপড়া করার জন্য, তেমনি শুধু বাংলাদেশ নয় আরো অনেক দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ যাচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করার জন্য। প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী বাইরে থেকে আসে । সরকারী হিসেব মতে ২০১৮ সালে এ সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি । আমাদের দেশ থেকেও প্রতিবছর কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে । তবে যোগ্যতা থাকলেও উপযুক্ত তথ্যের অভাবে আমাদের দেশের অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আসতে পারে না । অনেক সময় দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্থা বা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আর্থিকভাবে প্রতারিত হয় । এক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে । এজন্য দরকার উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট গুলোতে। কারন, সরকারী ওয়েবসাইট গুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন সংযোজন ও বিযোজন গুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা \’ (The Australian Education International) সংস্হার \’ স্টাডি ইন অস্ট্রেলিয়া \’ (Study in Australia) হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গূলোর নাম, পড়াশোনার বিষয়, পড়ালেখা ও থাকার-খাওয়ার খরচ, বৃত্তি, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ও অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

স্কলারশিপের খোঁজ-খবর কিভাবে পাবো?

এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্স গুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোন বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তিছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনরূপ পক্ষপাতিত্ব না করে সকল আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভাল ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় ও এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় আবেদনকারীদেরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বৃত্তি দেয়।

অস্ট্রেলিয়াতে কি পার্টটাইম কাজের সুযোগ আছে?

বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং, টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী) পার্টটাইম চাকুরী করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ যোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে এক জন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তি প্রাপ্তদের জন্য কোথাও (যেমন , মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে) সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে।

সর্বোপরি অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতির মূল ধাপগুলি কি কি?

অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার জন্য ছয়টি মূল ধাপ আছে । এগুলো হল – পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশ ত্যাগের পূর্বে করণীয়, ও অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়। নিচে আমরা প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

 ১. পড়ার পরিকল্পনাঃ সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। মানে সে কোন বিষয়ে পড়া লেখা করতে চায় , তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু , সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে , এবং সর্বোপরি সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন । উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতে চার ধরনের পড়ালেখার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রী আসতে পারে – বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী , কারিগরি ডিগ্রী , স্কুল-কলেজ , এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা । এরপর প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াকালীন সময়ে খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয় । টিউশন ফি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয় । থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে বিভিন্ন হয় । মনে রাখা প্রয়োজন , ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থ্য দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রাহ্য হয় না । এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বেশিরভাগ পুর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে , কারন স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত ও তাদের জন্য কোন রকম ধার বা লোনের ( loan) ব্যবস্থাও নেই । অনুরূপভাবে, ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে । তবে , স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে , যেমন, IPRS, AusAid, গ্রেজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি

২. বিষয় নির্বাচনঃ অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের যেসব বিষয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ দেয, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে, সেগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এর পর দেখতে হবে, এসব বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। অনেক বিষয়ে (যেমন, এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন, IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নূন্যতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি বা ভিসা কোনোটির আবেদনই বিবেচনা করা হয় না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে পাঠাতে হয়।

 ৩. ভর্তির আবেদনঃ একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় আমাদের দেশের ছাএছাএীদেরকে আবশ্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন অথোরাইজড এজেন্টদের মাধ্যমে আবদেন করতে হয়।

৪. ভিসার আবেদনঃ একজন আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফিসহ জমা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের আগে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে ১ বছরের মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (ECOE-Electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে, যা ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কি না, এর ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের জোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে (টিউশন ফি, মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স, থাকা, খাওয়া) এবং বছরে কত দেবে তা স্পষ্টভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে। এর পর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। উল্লেখ্য, প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এজন্য আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।

ফান্ডের ধরণঃ ফান্ড হিসেবে একজন আবেদনকারী স্কলারশীপ, ফিক্সড ডিপোজিট, ব্যাঙ্ক থেকে কেনা সঞ্চয়পত্র (জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো বা পোস্ট অফিস থেকে নয়) অথবা লোন দেখাতে পারবেন। এগুলো আবেদনকারীর নিজের অথবা তার স্পন্সরের নামে ইস্যু করা থাকতে হবে। ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্র কে ফান্ড দেখালে সেটা কমপক্ষে ছয় মাস ব্যাঙ্কে থাকতে হবে, এর বিপক্ষে কোন লোন বা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি থাকতে পারবে না এবং এই ফিক্সড ডিপোজিট/সঞ্চয়পত্র থেকে উক্ত ছয় মাসের মধ্যে টাকা উঠানো বা যোগ করাও যাবে না। যদি কোন কারণে এরূপ ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্র না করা থাকে, তাহলে একটাই উপায় আছে, সেটা হল লোন। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক থেকে ১০ লক্ষ টাকার বেশি শিক্ষা লোন সাধারণত নেওয়া যায় না। কাজেই কেউ যদি পুরো ফান্ড হিসেবে লোন দেখাতে চান, তাহলে ফান্ড থেকে কিছুটা বেশি টাকার একটা নুতন ফিক্সড ডিপোজিট করে সেটাকে সিকিউরিটি দেখিয়ে ওভারড্রাফট লোন নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিট এর ৯০%-৯৫% পর্যন্ত লোন নেওয়া যায়, ব্যাঙ্ক অনুযায়ী। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ফিক্সড ডিপোজিট এর অর্থের উৎস যেন গ্রহণযোগ্য হয়। যেমন-বাড়ি/জমি বিক্রির টাকা, সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো’র পরে প্রাপ্ত টাকা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে কোন ব্যক্তিগত লোন বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ কখনোই ফিক্সড ডিপোজিট এর অর্থের উৎস হতে পারবে না। মোটকথা, ফান্ডের সাথে সম্পর্কিত সকল লেনদেন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে করা হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র অবশ্যই থাকতে হবে।

সবরকম ঝামেলা এড়ানোর জন্য ক্লাস শুরু হওয়ার অন্তত ৪ মাস আগে ভিসা আবেদন করা উচিৎ। তাহলে দেখা যায় যে ভিসা পেয়ে যাওয়ার পরেই টিকেট বুকিং দেওয়া যায়, আন্দাজে আগে আগে বুকিং দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

 ৫. দেশত্যাগের আগে করণীয়ঃ ভিসা পাওয়ার পর তারিখ ঠিক করে বিমানের টিকিট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। যেমন¬ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক জোগাড় এবং প্রাথমিকভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্য কারো সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন¬ মোনাশ, মেলবোর্ন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোনো সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানাতে হয়।

৬. পৌঁছার পর করণীয়ঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে কাগজে-কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি সম্পন্ন করতে হয়। অনেক সময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে, যেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্রছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো না হলে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

এবার আমি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা আর ইউকে’র মাইগ্রেশান নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। পোস্ট স্ট্রাডি’র পর এইসব দেশে শিক্ষার্থীদের ২/৪ বছরের টেম্পরারী রেসিডেন্স দিয়ে থাকে, এটা ডিপেন্ট করে কোন প্রদেশে এবং কোন প্রোগ্রামে ( কোর্স ওয়ার্ক/ রিসার্চ) শিক্ষার্থী তার পড়াশুনা শেষ করেছে। পয়েন্ট ভিত্তিক মাইগ্রেশান পলিসির কারনে শিক্ষার্থীরা টেম্পরারী রেসিডেন্স থাকাকালীন সময়ে আরো অনেক পয়েন্ট সংগ্রহ করে, যেমন প্রপেশনাল স্টাডি, NAATI, রিজোনাল লিভিং, ইংলিশ প্রোপিয়েন্সীর মাধ্যমে পয়েন্ট সংগ্রহ করে স্কিল মাইগ্রেশান এর জন্য আবেদন করতে পারে।

প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন

প্রধান নির্বাহী, আজি ইমি এন্ড এডুকেশানাল কনসালটেন্সী

For More Info:

https://www.studyinaustralia.gov.au

https://cricos.education.gov.au

https://immi.homeaffairs.gov.au

aussieconsultancy.com.au

Email: info@aussieconsultancy.com.au

Mobile: +61 430 594 661 ( WhatsApp)

সিডনিতে দুই বাংলাদেশী যুবকের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া

স্থানীয় সময় গত ১২ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সিডনির পোর্ট ক্যাম্বেলার হিল সিক্সটি লুক আউটে মাছ ধরতে গিয়ে ঘটনাস্থলে বাংলাদেশী মাহাদী খান (৩৩) এবং হাসপাতালে মোজাফ্ফর আহমেদ (৪২) মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ….রাজেউন)।

পুলিশ জানায়, মাহাদী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে উলংগং হাসপাতালে নেয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

মাহাদী খান লাকেম্বায় তাঁর বাবা মায়ের সাথে বাস করতেন। বছর খানেক আগে বাংলাদেশে বিয়ে করা তাঁর স্ত্রী এখনো দেশে আছেন। মাহাদী পারিবারিক ব্যবসা ‘মাহী হালাল বুচারি’ এবং ‘ঘরোয়া কিচেন’ দেখাশোনা করতেন। তাঁর দেশের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে।

সিডনির ওয়ালি পার্কে বসবাসকারী মোজাফ্ফর আহমেদ লাকেম্বায় বাংলাদেশী গ্রোসারি শপে কাজ করতেন। তাঁর দেশের বাড়ি ফেনিতে।

স্থানীয় নিউজ জানায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে উদ্ধারকারীরা হেলিকপ্টার ও এম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থল পোর্ট ক্যাম্বেলায় উদ্ধার কাজ চালায়। এর আগে লাইফগার্ড এবং হাইওয়ে পেট্রল পুলিশ তাদের ডুবে যেতে দেখলে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। সিডনির ওয়ালীপার্কের বাসিন্দা ৪২ বছরের অন্য যুবক নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

পুলিশ জানায়, লাশ দুইটির ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারপরই তাদের জানাজা ও দাফনের তারিখ জানানো হবে। বাংলাদেশী দুই যুবকের মৃত্যুতে সিডনির বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত দুই যুবকের শোকে অসংখ্য প্রবাসী লাকেম্বায় একত্রিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বীর উত্তম সহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীরত্বের প্রতীক বীরউত্তম খেতাব বাতিলের তিব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি ও অংগ সংগঠন

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের ঘৃন্য অপচেষ্ঠাকে তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে অষ্ট্রেলিয়া বিএনপি তার অংগ সংগঠন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সুত্রে গাথা। জিয়ার অবদানকে অস্বীকার করলে পুরো স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হবে। আমাদের মহান স্বাধীনতার মূল স্তম্ভে আঘাত করার ধারাবাহিক অংশ এটি। জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নিলেই জিয়ার নাম বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয় থেকে মোছা যাবে না। তারা বিবৃতিতে আরও বলেন, সরকারকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সবে আসার শুভ বুদ্ধির উদয় হবে বলে আমরা আশা করি। অন্যথায় এ সরকারকে কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমেই তার জবাব দেয়া হবে।

বিবৃতিত স্বাক্ষর করেন: বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা মনিরুল হক জর্জ, সভাপতি আলহাজ্জ লুৎফুল কবির, সহ সভাপতি- ডা: আব্দুল ওয়াহাব, ফজলুল হক শফিক, নুর আলম লিটন, রেজাউল হক, সাধারন সম্পাদক মো: আবুল হাছান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব রহমান, প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা – মুনা মুস্তাফা, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম লকিয়াত, সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন উজ্জল প্রমুখ। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার অবনামায় বিএনপি অস্টেলিয়ার প্রতিবাদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অস্ট্রেলিয়া মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের প্রথম রাস্ট্রপতি এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের যুদ্ধকালীন সময়ের সাহসীকতার  স্বীকৃতির জন্য প্রাপ্ত খেতাব কেড়ে নেওয়ার পায়তারার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এর প্রতিবাদে অস্স্ট্রেলিয়া বিএনপি  সংগঠনের আহ্বায়ক ড: হুমায়ের চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক জরুরী সভায় মিলিত হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত  ছিলেন সদস্য সচিব হায়দার আলী, সোহেল মাহমুদ ইকবাল, জাকির আলম লেনিন, আশরাফুল আলম রনী, মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া ও কে এম মনজুরুল হক আলমগীর।

সভায় নিম্নসিখিত কর্মসুচী গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়ঃ

১।আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী থেকে সপ্তাহ ব্যাপী গনস্বাক্ষর সংগ্রহ

২।আগামী ১৪ ই ফেব্রুয়ারী সাংবাদিক সম্মেলন

৩। ১৯ শে ফেব্রুয়ারী সিডনিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস ঘেরাও এবং স্বারকলিপি পেশ।

সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এই সব কর্মসুচীতে অংশগ্রহনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে । (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

জিয়া ফোরামের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে মিলন মেলা

গত ৭ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন উপলক্ষে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করে। সিডনির এই মিলন মেলায় সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিল্পী সাহিত্যিক সহ কমিউনিটির বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ গ্রহন করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টেলিঅস এর সিইও জাহাংগীর আলম, সাংবাদিক আকিদুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, নাঈম আব্দুল্লাহ ও আব্দুল আওয়াল, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, বিএনপি একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার নাসির উল্লাহ, আবৃত্তিকার হাবিবুর রহমান, ফাগুন হাওয়ার সভাপতি তিশা তানিয়া, গ্র্যান্ড ল্যাকেম্বার তাম্মি পারভেজ, ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন, নাট্যকার বেলাল ঢালী, প্রবীন রাজনীতিবিদ রুহুল আহমেদ সওদাগর, বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সদস্য সচিব হায়দার আলী প্রমুখ।

এছাড়াও  বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার আহ্বায়ক ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার উপদেষ্টা  ড: হুমায়ের চৌধুরী .আশরাফুল আলম রনী ,মাহমুদা বেগম, সৈয়দা মাসুদা কাদরী মিতা , তাফতুন নাঈম নিতু, মোহাম্মদ ফরিদ মিয়া,কেএম মনজুরুল হক আলমগীর, ফয়জুর চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত অপু .রাকিবুল আলম মিয়া অপু,  মিজানুর রহমান, সা’দ সামাদ ইউসুফ আলী সহ জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সকল সদস্য ও তাদের পরিবারবৃন্দ এতে অংশ গ্রহন করেন।

অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের জন্যে আঁকার সামগ্রী ও উপস্থিত সবাইকে স্বাধীনতার ৫০ বৎসর পুর্তি উপলক্ষে জিয়া ফোরামের মনোগ্রাম খচিত একটি সুভেনিওর প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের জন্য সোহেল মাহমুদ ইকবালকে আহ্বায়ক ও জাকির আলম লেনিনকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি সুবর্ণ জয়ন্তীতে বৎসর ব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের অংশ হিসাবে এই সংগঠনটি গত ১৯শে জানুয়ারী বাংলাদেশ সহ সমগ্র প্রবাসীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ শীর্ষক এক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতারও  আয়োজন করে।

অজি ইমি এ্যান্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি’র ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেছেন সাংবাদিক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন

নাইম আবদুল্লাহ: সিডনি প্রবাসি সাংবাদিক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন ‘অজি ইমি এ্যান্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি’র ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য এডুকেশনাল কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘অজি ইমি এ্যান্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি’র প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আলতাফ হোসেন তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবত স্টুডেন্ড ভিসা, স্কীল মাইগ্রেশন, ওয়ার্কিং এন্ড ট্রেনিং ভিসা, ফ্যামিলি ভিসা, ভিজিট ভিসা, রিজিওনাল স্পন্সরশীপ ভিসাসহ শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন সিডনি অফিস থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাংলাদেশের অফিস পরিচালনাসহ অন্যান্য দেশের সাথে আন্তর্জাতিক সমন্বয় করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মতিন বলেন, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ হলো অপার সম্ভাবনার দেশ। এই দেশে লোক সংখ্যা মাত্র আড়াই কোটি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মাইগ্রেশন নিয়ে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর কয়েক লক্ষ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় আসে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে। তবে যোগ্যতা থাকা সত্বেও উপযুক্ত তথ্য এবং গাইডলাইনের অভাবে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে পারেনা। অনেক সময় তারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হয়। এক্ষেত্রে শুধু অর্থই নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে। এজন্য দরকার নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গাইডলাইন। আমি চাচ্ছি, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখুক। এছাড়াও আমাদের দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শীরা মাইগ্রেশন নিয়ে এবং ওয়ার্কিং ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসুক। আমি তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেস্টা করবো।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অজি ইমি এ্যান্ড এডুকেশন কনসালটেন্সি শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, মালয়েশিয়া, কানাডা, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে ভর্তি ও স্টুডেন্ট ভিসার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

তিনি আরো বলেন, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ ২০২১ চালু হয়েছে এবং এর অধীনে অনেকগুলো ইউনিভার্সিটি রয়েছে। এই স্কলারশিপের আওতায় সম্পূর্ণ বিনাবেতনে পড়াশুনার সুযোগ, ফ্রি আবাসন সুবিধা, লিভিং এক্সপেন্স এর জন্য মাসিক ভাতা, হেলথ ইনস্যুরেন্স, ফ্রি এয়ার টিকেট এর সুবিধা, টেক্সটবুকসহ নানা প্রকার শিক্ষা সামগ্রী ক্রয় করার জন্য অতিরিক্ত এলাউন্স প্রদান করা হবে। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ গ্রহন করতে পারেন।

মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন বর্তমানে বিদেশবাংলা টোয়েন্টিফোর ডট কমের সম্পাদক ও টাইমস্ টোয়েন্টিফোর টিভি’র অস্ট্রেলিয়া ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের (বিজেআরএফ) শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবেঃ matin@aussieconsultancy.com.au

সিডনিতে ফাগুন কনটেস্ট আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত

আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি বসন্তের প্রথম দিন” ফাগুন”। কিন্তু কোভিড নির্দেশনার জন্য “ফাগুন হাওয়া”এই বছর সিডনিতে তাদের মেলা করতে পারছে না। “ফাগুন হাওয়া” কমিটির সভাপতি তিশা তানিয়া জানান, মেলা করতে না পারলেও আমরা ফাগুনের থিম নিয়ে “ফাগুন কনটেস্ট”এর আয়োজন করছি। তিনি আরও জানান, আমরা এই কনটেস্টকে কেন্দ্র করে আগামী মার্চের শেষে ফাগুন হাওয়া গালা ডিনার আয়োজনেরও পরিকল্পনা করেছি। তিশা তানিয়া আশা প্রকাশ করে বলেন, ততদিনে কোভিডের নিয়মাবলী হয়ত কিছুটা শিথীল হয়ে আসবে।

“ফাগুন হাওয়া” আয়োজিত এই কনটেস্টে অংশগ্রহণ করতে কিছু নিয়মাবলীর কথাও তিনি জানিয়েছেন। নিয়মাবলীগুলি হলোঃ

(১) শুধুমাত্র ফাগুন সম্পৃক্ত সাজগোজ, ডেকোরেশনের সাথে আবেদনকারীর নিজের, পরিবারের ছবি অথবা ছোট্ট ভিডিও গ্রুপে‌ পোস্ট করা যাবে। নিজের ২টা ছবি, জনপ্রিয় সেলফি সহ সর্বোচ্চ ৪ টা ছবি পোস্ট করা যাবে।

২) অবশ্যই ছবিগুলোর সাজগোজ ফাগুনের রং এর সাথে মিলিয়ে থাকতে হবে এবং বাহারি রঙের ফুলের উপস্থিতি থাকা বাঞ্ছনীয়।

৩) যে কোনো ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি অথবা ভিডিও গৃহীত হবে।

৪) ছবি কিংবা ভিডিওর ক্যাপশনে ছোট্ট করে দুই লাইন নিজের মনের অনুভূতি প্রকাশ করা যেতে পারে।

ছবি এবং ভিডিও জমা দেবার শেষ সময় আগামী ৫ মার্চ রাত ১২ টা পর্যন্ত। বিজয়ীদের বিশেষ সম্মাননা এবং পুরষ্কার প্রদানের জন্য সম্মানীত জুরি বোর্ডে দেশের চারুকলা, শিশু একাডেমী সহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ যুক্ত থাকবেন বলেও ফাগুন হাওয়া কমিটি জানিয়েছেন।

সিডনিতে কৃষিবিদ ড. আয়ুবুর রহমানের ইন্তেকাল

স্থানীয় সময় আজ (বুধবার) ভোর ২ টায় কৃষিবিদ ড.আয়ুবুর রহমান সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। ফুসফুসের সমস্যাজনিত কারণে তিনি বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। হোলসওরথিতে বসবাসকারী আয়ুবুর রহমান মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই সন্তান এবং অনেক শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।

আয়ুবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার মান্দারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের একজন বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নম্র ভদ্র বিনয়ী এই ভাল মানুষটির অকালে চলে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিকে শোকাভিভুত করেছে।

মরহুমের নামাযে জানাযা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় Rookwood necropolis gate, (East street Lidcombe) Islamic section 8, Rookwood cemetery তে অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের রুহের মাগফেরাতের জন্য তার পরিবার ও শুভাকাঙ্খীরা সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।

আজ বিকেলে মোমিন স্বপনের রচনায় টেলিফিল্ম ‘রোদেলার নীল খাম’

মোমিন স্বপনের রচনায় ও তরুণ পরিচালক আইমান আহানের গল্প ও পরিচালনায় মাঝ দুপুরের টেলিফিল্ম ‘রোদেলার নীল খাম’। এতে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম, মিম মান্তাসা,নাদের চৌধুরী,রোজী সিদ্দিকী, মনি চৌধুরী ও আরো অনেকে।

সাংবাদিক ও নাট্যকার মোমিন স্বপন বলেন,  এই গল্পটি নিয়ে পরিচালক আইমান আহানের সাথে অনেকবার আলোচনা করেছি। বারবার সংশোধনের মাধ্যমে চিত্রনাট্য ঠিক করা হয়েছে।  বর্তমান গল্পের সঙ্গে অতীত আবহের মিলবন্ধনের গড়ে উঠেছে এই ‘রোদেলার নীল খাম’ টেলিফিল্মের গল্পটি। সত্যিকার ভালোবাসা অনুভবের বিষয়, দেখানোর নয়। তাইতো চিঠিতেই অদেখা প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসার বিশ্বাস গড়ে উঠে। গল্পটিতে নষ্টালজিয়ার সাথে বাস্তবতার একটা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। ত্রিমুখী প্রেমের গল্প নিয়ে মূলত নাটকের কাহিনী গড়ে উঠেছে।

টেলিফিল্মটি নির্মাতা আইমান আহান বলেন, এই নাটকের গল্প নিয়ে অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে গল্পটি নিয়ে নাট্যকার মোমিন স্বপন ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। অবশেষে গল্পটি ফ্রেমে ধারণ করতে পেরিছি। অনেক নাটকের ভিড়ে কিছুটা হলেও ভিন্নতার স্বাদ দর্শকরা পাবে বলে আশা করছি। দর্শকরাই তো আমার প্রেরণা। তারা ভালোভাবে নিলে আমার পরিশ্রমি সার্থক হবে।  আশা রাখি দর্শকদের ভালো লাগবে।  টেলিফিল্মটির চিত্রগ্রহণে ছিলেন কমল চন্দ্র দাস ।

চ্যানেল আইয়ে আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩:০৫ মিনিটে প্রচারিত হবে।

পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

২০২১ সাল আমাদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক বছর। এ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছর। তাই বাঙ্গালী হিসাবে, বাংলাদেশের মানুষ হিসাবে এ আমাদের গর্বের বছর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্টিশীল শুদ্ধ চর্চার এক দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সাল জুড়ে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আপনাদের নতুন সব সৃষ্টিশীল নান্দনিক কাজের মাধ্যমে। এই ধারাবাহিকতায় শুরুতেই জানুয়ারী মাসব্যাপী ছিলো অনলাইন আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, অনলাইন এই প্রদর্শনীতে সর্বমোট ১৯০ টা ছবি জমা পড়েছে। অসংখ্য পেন্সিলর এই আয়োজনে সাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

Tumon Ahsan, M Mizanur Rahman Mukul, Kazi Golam Sarwar Shameem, Sharmin Akter, Chondro Bindu, Zerin Afreen, Rasel Mahmud, Hasib Mohammad, Luna Niger Ahmed, Shaila Zabeen, Kumkum Afroja, Chhonya Srishti, Sayeeda Chowdhury, Anamika Dhar, Anindita Ahmed, Subir Guha, Chowdhury Giasuddin Mahmud, Masud Parvez, Shahin Sultana Shimu, Asgar Aziz, Moumita Chowdhury, Rayn Shuvo, Sharmin Sultana, Kashfi Asma Alam, Nowshin Thakur, Farida Akther, Md Yaqub Ali, Bipul Roy, Golam Mostafa, Israt Zahan, Kabiruddin Sarker, Sharmin Sultana.।

পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া’র এডমিন সাকিনা আক্তার জানিয়েছেন, ২০২১ হোক আমাদের আত্মানুসন্ধানের বছর, উদযাপনের বছর, সৃষ্টিশীলতায় মোড়া আনন্দের বছর। এই কার্যক্রমের পরবর্তী আয়োজন  ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে থাকবে স্বরচিত কবিতা এবং মার্চে অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের চিত্রাংকন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি