বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে ওখানেই স্যাটেল হতে চাই প্রেক্ষিত: অস্ট্রেলিয়া

আমাদের দেশে এইচ এস সি/অনার্স শেষ পরীক্ষা শেষ করে ৭০ শতাংশ ছেলে-মেয়েদের চিন্তা ভাবনা থাকে ঠিক এমনটাই, যদিও পরিবারের আর্থিক অবস্থা কিংবা সাপোর্ট এর কারনে অনেকেরই এই স্বপ্নটি পূরন হয় না। কিছু শতাংশ সাপোর্ট পাবার পরও সফল হতে পারে না, কিছু কমন ভুলের কারনে। অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,ইউরোপ, আমেরিকার মত দেশে গিয়েও বিভিন্ন জটিলতার স্বীকার হয়ে শেষ পর্যন্ত অবৈধ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে নতুবা অনেকে এসাইলেম ( রাজনৈতিক আশ্রয়) নিয়ে বছর কে বছর পরে আছে নিজের পরিবার বিহীন, অনেকের আবার বিয়ের বয়স পেরিয়ে ৪০ এর কৌঠায় ঠেকছে, এমন দৃষ্টান্তের ও অভাব নেই। প্রতিনয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আমাকে বেশ কিছু প্রশ্নের স্বীকার হতে হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি”ভাইয়া কোন দেশের সুযোগ সুবিধা কেমন” বা “কোথায় গেলে আমি পারমেনেন্ট রেসিডেন্সী/ স্যাটেল হতে পারবো”সেই বিষয় গুলো নিয়েই আজকের আলোচনা:

এইচ এস সি কিংবা অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা  দিয়েছো? বেশ! এখন নিজে কে প্রশ্ন করো তুমি কি চাও?তুমি কি বাহিরে গিয়ে পড়াশোনা করবে নাকি টাকা আয় করবে? ৫০% স্টুডেন্ট এর ইচ্ছে থাকে পড়াশোনা করবে পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করবে। তা বেশ!সেক্ষেত্রে যতদিন পড়াশোনা করবে ততদিন ফ্যামিলির জন্য দেশে টাকা পাঠানোর কথা একেবারেই ভুলে যেতে হবে। কারন অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, কানাডা তে পড়াশোনার খরচ, লিভিং কস্ট অনেক এক্সপেন্সিভ। এবার তোমাকে দেখতে হবে কোথায় তুমি পার্ট টাইম জব করে টিউশন ফিস দিতে পারবে এমন একটি দেশ তোমাকে বাছাই করতে হবে। কারন সব দেশে পার্ট টাইম জবের সুযোগ থাকে না। যদি তুমি জব না করে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চাও তাহলে চায়না যেতে পারো। বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের চায়না সব চেয়ে বেশি স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। সব দেশে পড়াশোনা শেষ করে স্যাটেল হবার সুযোগ থাকে না এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। অতএব এক্ষেত্রে তোমাকে চিন্তা করতে হবে কোন দেশগুলোতে তুমি পার্ট টাইম জব করে পড়াশোনা শেষ করে রেসিডেন্স পারমিট নিতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে আমি যে দেশগুলোকে সাপোর্ট করি সেগুলো হচ্ছে: অস্ট্রেলিয়া,কানাডা, জার্মানী, ইউকে। আর যে দেশগুলোকে সাপোর্ট করিনা সেগুলো হচ্ছে: আমেরিকা, পোলেন্ড, সুইজারল্যান্ড,  ইতালী,হাংগেরি, ফিনলেন্ড, রাশিয়া, চায়না, মালেশিয়া, লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, মালটা, লুক্সিনবার্গ। এখন তুমি প্রশ্ন করতে পারো, আপনার সাপোর্ট করা কিংবা না করার যুক্তিকতা কি? আজকের লিখা অনেক বড় হয়ে যাবে বিধায়, আমি সে দিকে যাচ্ছি না। তবে এর পিছনে কারন রয়েছে, ঐ সব দেশে সহজে স্যাটেলমেন্টের প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক নিরাপওা, আবহাওয়া, ভাষা, জব ফ্যাসিলিটি, নাগরিকদের প্রতি সরকারের সুবিধা সমূহ ইত্যাদি।  

এবার আসা যাক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের নিয়ে, এই ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের চিন্তা ভাবনা থাকে ঠিক এমন পড়াশোনা করে আর কি হবে ভালো একটা দেশে স্যাটেল হয়ে যাবো। বেশ!খারাপ না কিন্তু যতোটা সহজ ভাবছো ব্যাপারটা ততোটা সহজ না। ওয়ার্ক পারমিট বা ভালো একটা দেশের ভিসা অনেক শিক্ষার্থী এর স্বপ্ন বুনেছে আবার অনেকের ভেঙেছে। ভিসা তো পেয়েছি, রেসিডেন্স তো পেলাম না,কারন ইউরোপের দেশগুলোতে রেসিডেন্স ছাড়া নৌকা ছাড়া মাঝির মত। তাই দেশ থেকে যে যেই দেশেই যাও না কেন যদি ইউরোপের কোন দেশে আসো তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে সব সময় ফোকাস রাখবে রেসিডেন্স কার্ড বা ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট এর ওপর। নাহলে, বছরের পর বছর ইউরোপ এ লাইফ লীড করে একসময় দেশে ব্যাক করা ছাড়া উপায় থাকবে না। কোন দেশ রেসিডেন্স দিচ্ছে কোন সিনিয়র ভাই কার্ড পেয়েছে,কোন ভাই পাসপোর্ট পেয়েছে এই বিষয় গুলো খোজ খবর রাখতে হবে বেশি। আমি কাউকে ভয় দেখাচ্ছি না কেবল মাএ সতর্ক করছি।

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যঃ

আমাদের বাংলাদেশ হতে যেমন প্রতি বছর অনেক ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে যাচ্ছে লেখাপড়া করার জন্য, তেমনি শুধু বাংলাদেশ নয় আরো অনেক দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ যাচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করার জন্য। প্রতি বছর অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী বাইরে থেকে আসে । সরকারী হিসেব মতে ২০১৮ সালে এ সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি । আমাদের দেশ থেকেও প্রতিবছর কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে । তবে যোগ্যতা থাকলেও উপযুক্ত তথ্যের অভাবে আমাদের দেশের অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আসতে পারে না । অনেক সময় দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংস্থা বা মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক ছাত্র-ছাত্রী আর্থিকভাবে প্রতারিত হয় । এক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময়ও হারিয়ে ফেলে । এজন্য দরকার উপযুক্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য। অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট গুলোতে। কারন, সরকারী ওয়েবসাইট গুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন সংযোজন ও বিযোজন গুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা \’ (The Australian Education International) সংস্হার \’ স্টাডি ইন অস্ট্রেলিয়া \’ (Study in Australia) হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েব সাইট। এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গূলোর নাম, পড়াশোনার বিষয়, পড়ালেখা ও থাকার-খাওয়ার খরচ, বৃত্তি, ভিসা, আবেদন প্রক্রিয়া, থাকা-খাওয়ার সুবিধা, ও অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

স্কলারশিপের খোঁজ-খবর কিভাবে পাবো?

এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্স গুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোন বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তিছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনরূপ পক্ষপাতিত্ব না করে সকল আবেদনকারীদের মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভাল ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় ও এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় আবেদনকারীদেরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বৃত্তি দেয়।

অস্ট্রেলিয়াতে কি পার্টটাইম কাজের সুযোগ আছে?

বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং, টিউটরিং, মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী) পার্টটাইম চাকুরী করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ যোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে এক জন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তি প্রাপ্তদের জন্য কোথাও (যেমন , মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে) সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে।

সর্বোপরি অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতির মূল ধাপগুলি কি কি?

অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার জন্য ছয়টি মূল ধাপ আছে । এগুলো হল – পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশ ত্যাগের পূর্বে করণীয়, ও অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়। নিচে আমরা প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

 ১. পড়ার পরিকল্পনাঃ সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। মানে সে কোন বিষয়ে পড়া লেখা করতে চায় , তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু , সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে , এবং সর্বোপরি সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন । উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতে চার ধরনের পড়ালেখার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রী আসতে পারে – বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী , কারিগরি ডিগ্রী , স্কুল-কলেজ , এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা । এরপর প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীকে পড়াকালীন সময়ে খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয় । টিউশন ফি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয় । থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে বিভিন্ন হয় । মনে রাখা প্রয়োজন , ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থ্য দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রাহ্য হয় না । এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বেশিরভাগ পুর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে , কারন স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত ও তাদের জন্য কোন রকম ধার বা লোনের ( loan) ব্যবস্থাও নেই । অনুরূপভাবে, ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে । তবে , স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে , যেমন, IPRS, AusAid, গ্রেজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি

২. বিষয় নির্বাচনঃ অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের যেসব বিষয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ দেয, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে, সেগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এর পর দেখতে হবে, এসব বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। অনেক বিষয়ে (যেমন, এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন, IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নূন্যতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি বা ভিসা কোনোটির আবেদনই বিবেচনা করা হয় না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে পাঠাতে হয়।

 ৩. ভর্তির আবেদনঃ একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় আমাদের দেশের ছাএছাএীদেরকে আবশ্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন অথোরাইজড এজেন্টদের মাধ্যমে আবদেন করতে হয়।

৪. ভিসার আবেদনঃ একজন আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফিসহ জমা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের আগে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে ১ বছরের মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (ECOE-Electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে, যা ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কি না, এর ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের জোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে (টিউশন ফি, মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স, থাকা, খাওয়া) এবং বছরে কত দেবে তা স্পষ্টভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে। এর পর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। উল্লেখ্য, প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এজন্য আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।

ফান্ডের ধরণঃ ফান্ড হিসেবে একজন আবেদনকারী স্কলারশীপ, ফিক্সড ডিপোজিট, ব্যাঙ্ক থেকে কেনা সঞ্চয়পত্র (জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো বা পোস্ট অফিস থেকে নয়) অথবা লোন দেখাতে পারবেন। এগুলো আবেদনকারীর নিজের অথবা তার স্পন্সরের নামে ইস্যু করা থাকতে হবে। ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্র কে ফান্ড দেখালে সেটা কমপক্ষে ছয় মাস ব্যাঙ্কে থাকতে হবে, এর বিপক্ষে কোন লোন বা ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি থাকতে পারবে না এবং এই ফিক্সড ডিপোজিট/সঞ্চয়পত্র থেকে উক্ত ছয় মাসের মধ্যে টাকা উঠানো বা যোগ করাও যাবে না। যদি কোন কারণে এরূপ ফিক্সড ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্র না করা থাকে, তাহলে একটাই উপায় আছে, সেটা হল লোন। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক থেকে ১০ লক্ষ টাকার বেশি শিক্ষা লোন সাধারণত নেওয়া যায় না। কাজেই কেউ যদি পুরো ফান্ড হিসেবে লোন দেখাতে চান, তাহলে ফান্ড থেকে কিছুটা বেশি টাকার একটা নুতন ফিক্সড ডিপোজিট করে সেটাকে সিকিউরিটি দেখিয়ে ওভারড্রাফট লোন নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিট এর ৯০%-৯৫% পর্যন্ত লোন নেওয়া যায়, ব্যাঙ্ক অনুযায়ী। তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ফিক্সড ডিপোজিট এর অর্থের উৎস যেন গ্রহণযোগ্য হয়। যেমন-বাড়ি/জমি বিক্রির টাকা, সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো’র পরে প্রাপ্ত টাকা ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে যে কোন ব্যক্তিগত লোন বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ কখনোই ফিক্সড ডিপোজিট এর অর্থের উৎস হতে পারবে না। মোটকথা, ফান্ডের সাথে সম্পর্কিত সকল লেনদেন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে করা হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র অবশ্যই থাকতে হবে।

সবরকম ঝামেলা এড়ানোর জন্য ক্লাস শুরু হওয়ার অন্তত ৪ মাস আগে ভিসা আবেদন করা উচিৎ। তাহলে দেখা যায় যে ভিসা পেয়ে যাওয়ার পরেই টিকেট বুকিং দেওয়া যায়, আন্দাজে আগে আগে বুকিং দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

 ৫. দেশত্যাগের আগে করণীয়ঃ ভিসা পাওয়ার পর তারিখ ঠিক করে বিমানের টিকিট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়। যেমন¬ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক জোগাড় এবং প্রাথমিকভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্য কারো সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন¬ মোনাশ, মেলবোর্ন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোনো সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানাতে হয়।

৬. পৌঁছার পর করণীয়ঃ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে কাগজে-কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি সম্পন্ন করতে হয়। অনেক সময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে, যেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্রছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো না হলে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

এবার আমি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা আর ইউকে’র মাইগ্রেশান নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। পোস্ট স্ট্রাডি’র পর এইসব দেশে শিক্ষার্থীদের ২/৪ বছরের টেম্পরারী রেসিডেন্স দিয়ে থাকে, এটা ডিপেন্ট করে কোন প্রদেশে এবং কোন প্রোগ্রামে ( কোর্স ওয়ার্ক/ রিসার্চ) শিক্ষার্থী তার পড়াশুনা শেষ করেছে। পয়েন্ট ভিত্তিক মাইগ্রেশান পলিসির কারনে শিক্ষার্থীরা টেম্পরারী রেসিডেন্স থাকাকালীন সময়ে আরো অনেক পয়েন্ট সংগ্রহ করে, যেমন প্রপেশনাল স্টাডি, NAATI, রিজোনাল লিভিং, ইংলিশ প্রোপিয়েন্সীর মাধ্যমে পয়েন্ট সংগ্রহ করে স্কিল মাইগ্রেশান এর জন্য আবেদন করতে পারে।

প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন

প্রধান নির্বাহী, আজি ইমি এন্ড এডুকেশানাল কনসালটেন্সী

For More Info:

https://www.studyinaustralia.gov.au

https://cricos.education.gov.au

https://immi.homeaffairs.gov.au

aussieconsultancy.com.au

Email: info@aussieconsultancy.com.au

Mobile: +61 430 594 661 ( WhatsApp)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s