সিডনিতে শাহাদের অকাল মৃত্যু

আজ স্থানীয় সময় ১৩ ডিসেম্বর (রবিবার) বিকেলে সিডনির ওয়ালি পার্ক নিবাসী শাহাদ নোমানির (২৫) মৃতদেহ উলঙ্গন সেঞ্চুরি পয়েন্ট এর পানি থেকে স্থানীয় পুলিশ উদ্ধার করে (ইন্না লিল্লাহে ও ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। বাবা কৃষিবিদ মোহাম্মদ নোমানি ও মা মিসেস জান্নাতুল নাইম তাদের প্রথম সন্তানের লাশ সনাক্ত করার পর ময়না তদন্তের জন্য শাহাদের মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার শাহাদ তার বন্ধুদের সাথে ছুটি কাটাতে সেঞ্চুরি পয়েন্টে যায়। গত শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টায় হাঁটতে বেরুনোর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবার ও বন্ধুরা তার নিখোঁজের খবর স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করে।

শাহাদের বাবা তার ফেজবুক পেজে এই খবর নিশ্চিত করে কমিউনিটির সবার কাছে সন্তানের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তার নামাজে জানাজা ও দাফনের তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

সিডনিতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের মহান বিজয় দিবস উদযাপন

কাজী আশফাক রহমানঃ একাত্তরের গৌরব উজ্জল মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্জন। মহাকাব্যিক এই জনযুদ্ধকে হৃদয় ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেও তা সঞ্চারিত করার প্রয়াসে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতিবছর আয়োজন করে মহান বিজয় দিবস। ১৩ ডিসেম্বর (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত হয়েছিল বিজয়ের এই উৎসব। এই অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয় বর্ষ সমাপনী সনদ ও ফলাফল বিবরণী। কোভিড উনিশ মহামারি বিধিনিষেধের কারণে অভিভাবক ও বাইরের দর্শকদের এবারের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।

সকাল দশটায় শ্রেণীকক্ষে বর্ষ সমাপনী সনদ ও ফলাফল বিবরণী প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক  নাসরিন মোফাজ্জলের পরিচালনায় অধ্যক্ষ রোকেয়া আহমেদ, সংশ্লিষ্ট শ্রেণী শিক্ষক রুমানা সিদ্দিকী, আঞ্জুমান আরা আইরিন, শারমিন সুলতানা, নুসরাত জাহান এবং মাহসিনা জেলিনের উপস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের হাতে সনদ তুলে দেন স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য আব্দুল জলিল।

এই পর্ব শেষে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের পক্ষ থেকে আয়োজিত মধ্যেন ভোজনে যোগদান করে। দুপুরের খাবারের শেষে বেলা বারোটায় স্কুলের মিলনায়তনে শুরু হয় বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে বাংলা স্কুল সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলেন একাত্তরে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের সাবেক সভাপতি গোলাম মওলা। তিনি বাংলাদেশ সৃষ্টিতে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদানের কথাও ছেলেমেয়েদের অবহিত করেন।  প্রথমে স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান একটি অসাধারণ শিশুতোষ গান গেয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্র দান করেন। ছাত্রছাত্রীদের অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে, ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে বিজয় দিবসের কেক কেটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মদিনকে স্মরণ করেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল আহসান খান।

এরপর প্রায় এক ঘন্টা বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা সবাইকে মোহগ্রস্ত করে রাখে। পাঁচটি একক আবৃত্তি,চারটি, বৃন্দ আবৃত্তি, তিনটি দলগত সংগীত এবং চারটি একক সংগীতে ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়।বীরশ্রেষ্ঠ মুস্তাফা কামাল এর জীবন গাঁথা পড়ে শোনায় নুরিন। নিজের বই থেকে একটি গল্প বাংলায় পড়ে শোনায় মারজান। একক গান পরিবেশন করে জেইনা, নুরিন, রাসমিয়াহ ও এলভিরা। দ্বৈত সংগীতে অংশ নেয় রুশনান ও নাদিন। একক আবৃত্তি নিয়ে আসে ওয়াফি, রেইনর, স্বপ্নীল, এলভিরা, দৃপ্ত, আরিজ, সারিনা। বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশ নেয় মারজান, সোহারদিতী, য়ারা, আরিয়ান, ইমরান, নারমিন, তাহমিন, সারিনা, রাসমিয়া, আরিজ, রুশনান, তায়শা, অলিভিয়া, মাহদিয়া, রিডা, তাসনিফ, রাকিন, নুরিন, এলভিরা, সম্প্রীতি, নাদিন, রেইনর, ওয়াফি, দৃপ্ত, স্বপ্নীল, রোদ্দুর, জায়ান ও সুহা।

এবারের বিজয় উৎসব আহবায়ক রুমানা সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের সংগীত শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি এবং বিজয় সাহা। তবলায় ছিলেন স্কুলের নিজস্ব শিল্পী বিজয় সাহা। শব্দ নিয়ন্ত্রণ করেন স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ। মঞ্চ নির্মাণ ও পরিকল্পনায় ছিলেন নির্বাহী সদস্য সাজ্জাদ সিদ্দিক, মেহেদী হাসান, নুরুল ইসলাম শাহিন ও তারিক আহমেদ।

প্রধান সমন্বয়কারী রুমানা খান মোনার তত্ত্বাবধানে বিজয় দিবস ও বর্ষ সমাপনী অনুষ্ঠানটি দুপুর আড়াইটায় শেষ হয়। সবশেষে স্কুলের সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী বছর অমর একুশের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রসংগত উল্লেখ ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে একবারের জন্যও বন্ধ না হয়ে অনলাইন ও মুখোমুখি মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। বাংলা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে।

মেলবোর্নে ওয়েস্টার্ন রিজিওন বাংলা স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সময় গত ১২ ডিসেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় “পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে” শ্লোগান নিয়ে বিজয় মাসের আনন্দ এবং মেলবোর্নবাসীর করোনামুক্তির পর স্বস্তি ও নতন আশায় উদ্দীপ্ত হয়ে ওয়েস্টার্ন রিজিওন বাংলা স্কুল (ডব্লিউআরবিএস) অনলাইনে তাদের বার্ষিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে।

কালচারাল সেক্রেটারি ফারিহা সালাহউদ্দিন এবং কমিউনিকেশন সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রিন্সিপাল মোর্শেদ কামাল ও ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ইউসুফ আলী।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এই অনলাইন আয়োজনে বাংলা স্কুলের প্রায় চল্লিশ জন শিক্ষার্থী নাচ-গান-আবৃত্তি -ফ্যাশন শো, ম্যাজিক শো, কুকিং শো, বাদ্যের সাথে ছবি আঁকা ও অনলাইন-নাটিকা পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমন্ডিত করতে নিরলস পরিশ্রম করেন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল মোর্শেদ কামাল, ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের কালচারাল সেক্রেটারি ফারিহা সালাহুদ্দিন, কমিউনিকেশন সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা, ভাইস প্রেসিডেন্ট (২) মিজানুর রহমান ইভেন্ট সেক্রেটারি পিনাকী ঘোষ প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যম অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটি জেনারেল সেক্রেটারি জাহিদ মজুমদার। উল্লেখ্য করোনার কারনে ওয়েস্টার্ন রিজিওন বাংলা স্কুলের বাচ্চারা ঈদ-পুজা উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাবতীয় বাংলা ক্লাস অনলাইনে করছে।