সিডনিতে বিহঙ্গ মন নাটকের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রযোজনা উপদেষ্টা ও সিডনি প্রবাসী নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহীন শাহনেওয়াজের তত্ত্বাবধানে গতকাল ৩০ ডিসেম্বর (বুধবার) সিডনির একটি ফাংশন সেন্টারে “বিহঙ্গ মন” নাটকটির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। স্বাধীনতার পটভূমিকায় রচিত নাটকটির দুইটি প্রধান চরিত্র বাঁধন ও বিপ্লবের নাম ভুমিকায় অভিনয় করছেন আফসানা রুচি ও রানা শরীফ। নাটকটির কাহিনী চিত্রনাট্য ও পরিচালক নাইম আবদুল্লাহ জানান, প্রবাসে থেকেও নুতন প্রজন্ম কিভাবে দেশের গৌরবময় স্বাধীনতা ও পতাকাকে অন্তরে লালন করছে তারই বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে এই চরিত্র দুটিতে। আগামী সপ্তাহ থেকে সিডনির বিভিন্ন দর্শনীও স্থানে নাটকটির দ্বিতীয় পর্যায়ের শুটিং শুরু হবে।

জন্মভুমি মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশনের প্রযোজনায় মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে জন্মভুমি টেলিভিশনে আগামী ২৬ মার্চ “বিহঙ্গ মন” নাটকটি প্রচারিত হবে। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে।

জন্মভুমি টেলিভিশনের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক বিহঙ্গ মন এর সুটিং শুরু

২৭ ডিসেম্বর (রবিবার) সিডনির বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা ল্যাকাম্বার বেশ কয়েকটি লোকেশনে “বিহঙ্গ মন” নাটকটির সুটিং শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ জন্মভুমি মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশনের প্রযোজনায় মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে জন্মভুমি টেলিভিশনে এই বিশেষ নাটকটি প্রচারিত হবে। জন্মভুমি টেলিভিশনের সিইও রাহেলা আরেফিন জানান, বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলিকে নিয়ে নাটক নির্মানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ২৬ মার্চ বিশেষ নাটক “বিহঙ্গ মন” প্রচারিত হবে। প্রবাসে নুতন প্রজন্মের মাঝে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও এর গৌরবময় ইতিহাস ছড়িয়ে দিতেই আমরা এই উদ্যোগ গ্রহন করেছি।

“বিহঙ্গ মন” নাটকটির কাহিনী চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করছেন নাইম আবদুল্লাহ। নাটকটিতে প্রযোজনা উপদেষ্টা হিসেবে আছেন সিডনি প্রবাসী নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহীন শাহনেওয়াজ। সম্পূর্ণ সিডনিতে চিত্রায়িত স্বাধীনতার এই বিশেষ নাটকটির প্রাথমিক সুটিং এ অংশ নেন রানা শরীফ ও ডঃ ফাইজুল ইসলাম চঞ্চল। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির বাকি সুটিং সম্পন্ন করা হবে।  

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে বিজয় দিবস পালিত

লাখো শহীদের রক্তে ভেজা যে স্বাধীনতা, যে স্বাধীনতা হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে, বাংলা ভাষার ঐতিহ্যকে সমুন্নত করে, সেই বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষার জন্য অকাতরে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁরা চির অম্লান। দেশ কাল ছাড়িয়ে এই স্বাধীনতার আলোয় আলোকিত হয় সমগ্র বাঙালি জাতি। তাই তো স্বাধীনতার ৪৯তম বছরে দাঁড়িয়েও বাঙালি জাতি অম্লান ভাবে স্মরণ করে তাদের আনন্দ-বেদনা আর অর্জনের ইতিহাস।

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টের প্রবাসী বাংলাদেশীরা গত ১৯ শে ডিসেম্বর ৪৯তম স্বাধীনতা দিবসকে অত্যন্ত আবেগ এবং ভালবাসার মধ্য দিয়ে পালন করেছে। কোভিড-১৯ এর সীমাবদ্ধতার কারণে গোল্ডকোস্ট এবং ব্রিসবেন এর সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া আয়োজনে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। সকল সাধারণ দর্শকদের জন্য অনুষ্ঠানটি অনলাইন এ সরাসরি প্রচারিত হয়। গোল্ডকোস্টের বিশিষ্ট আয়োজক ইঞ্জিনিয়ার মামুন চৌধুরী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন।  সকলের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সূচনা করা হয়।

এরপর দেশাত্মবোধক গানের সাথে শিশুদের দু’টি একক নাচে অংশ নেয় সামান্থা এবং আরিয়া।অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আশরাফি, ডাঃ আলমগীর এবং বুদ্ধিজীবী কন্যা ইঞ্জিনিয়ার শারমিন চৌধুরী।

মুক্তিযুদ্ধের নানা পটভূমির উপর গান পরিবেশন করেন ব্রিসবেন থেকে আগত বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সুচরিতা কর্মকার ও অবনী মাহবুব। সর্বশেষ গোল্ডকোস্টের স্থানীয় একটি ব্যান্ড গান পরিবেশন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রানবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন সঞ্জীব ভৌমিক। সকল সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি ভিন্ন মাত্রা পায়। এছাড়া দেশীয় নানা সুস্বাদু খাবার পরিবেশনার মাধ্যমে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা হয়।

রূপকথার নটে গাছের মতই সব গল্প ফুরায়, ফুরিয়ে যায় সব আয়োজন। রয়ে যায় ভালোলাগার রেশ; আরেকটি নতুন প্রভাতকে বরণ করে নেবার প্রতীক্ষা। এভাবেই যুগে যুগে বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পায়; পায় স্বপ্ন দেখার প্রেরণা।এই আত্মত্যাগ কেবল একটি ভৌগলিক সীমারেখাই দেয় না, জাগ্রত করে মুক্ত মন আর মুক্ত চেতনাকেও – যার হাত ধরে জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস, পরবর্তী প্রজন্ম গায় স্বাধীনতার গান।কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়ঃ

           “ নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান

                                 ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।”  –

প্রেস বিজ্ঞপ্তি  

সিডনির বিজয় উৎসবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান

স্থানীয় সময় ২০ ডিসেম্বর (রবিবার) দুপুরে সিডনির ব্যাংকসটাউন হিমালয় রেস্টুরেন্ট ও ফাংশন সেন্টারে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ অস্ট্রেলিয়া তাদের বিংগো বাংলাদেশ বিজয় উৎসবের আয়োজন করে। বিজয়ের এই উৎসবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সন্মাননা প্রদান করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পর লিটন বাউলের সঞ্চালনায় প্রথম পর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ডঃ আয়াজ চৌধুরী, গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিডনির কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং নিউ সাউথ ওয়েলস লিবারেল পার্টির সভাপতি ফিলিপ রাডক, স্টেট এমপি মিস ওয়েন্ডি লিন্ডসি, ক্যান্টাবুরি কাউন্সিলের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র কার্ল সালেহ, টেলেঅজ এর প্রধান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। এই সময় ওমেন কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সাজেদা আখতার সানজিদা ফুলের তোড়া দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করেন কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম। মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, মোঃ মিজানুর রহমান তরুন, আবুল হেলাল উদ্দিন, শাহ মোঃ এনায়েতুর রহিম, আপেল মাহমুদ, ড. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, হুমায়ুন কবির খান, ড. মোঃ আব্দুর রাশিদ, ড. আমিনুল হক ফারাইজি, এম রেজাউর রহমান, মোঃ আব্দুল লতিফ, কামরুল আহসান খান, মোঃ মখদুমই আজান মাশরাফি ও ড. মো শাহাদাত খান। তবে বয়স ও কভিড পরিস্থিতির কারনে কিছু মুক্তিযোদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সম্মাননা গ্রহনের পর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের গান পরিবেশন করেন তামিম শাহরীন ও জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি। কবিতা আবৃত্তি করেন ফায়জুন নাহার পলি, হাবিবুর রহমান  ও মাসুদ পারভেজ।অনুষ্ঠানে এমেরিটাস প্রফেসর ডক্টর রফিকুল ইসলাম সহ সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষে আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি ও প্রাক্তন কাউন্সিলর মোহাম্মদ শাহ জামান টিটু উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং স্বাধীনতা দিবস উৎযাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিজয়ের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

সিডনির ক্যাম্বেলটাউনে কিশোর ও তরুনদের ক্রিকেট ক্লাব

সিডনির ক্যাম্বেলটাউনে স্থানীয় ও প্রবাসী কিশোর ও তরুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে আগ্রহ ও দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে ক্যামডেন ডিসট্রিক ক্রিকেট এসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে ইঙ্গেলবার্ন আরএসএল ক্রিকেট ক্লাব তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য কমিউনিটির পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নুতন প্রজন্মের কিশোর ও তরুনরা এই ক্রিকেট ক্লাবে প্রশিক্ষন সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করছে।

স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির বিজ্ঞজনেরা এই ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বাড়িতে কিশোর ও তরুনদের ছোট স্ক্রিনের খেলা থেকে সরিয়ে সামাজিকভাবে এই ধরনের ক্রিকেট দল গঠন পরস্পরের মধ্যে সামাজিক ভাবের আদান প্রদান ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য ইঙ্গেলবার্ন আরএসএল ক্রিকেট ক্লাবের বিভিন্ন দলে স্থানীয় ও অন্যান্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশী বিভিন্ন বয়সী কিশোর ও তরুনরা অংশগ্রহণ করে বিপুল প্রশংসা ও গৌরব অর্জন করছে। এদের মধ্যে আইদিন, আর রাফি, রাফান, আরহাম, জায়ান, হাসনাইন, তারিফ প্রমুখ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করে বিপুল প্রশংসা অর্জন করেছে।  

ইঙ্গেলবার্ন আরএসএল ক্রিকেট ক্লাবের কমিউনিটি কোচদের একজন মোঃ পারভেজ খান জানান, ব্যায়াম ও খেলাধুলার পাশাপাশি তরুনদের সাথে থাকতে পেরে আমিও আনন্দিত। পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি আমার আগ্রহ ও শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সিডনিতে বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন

স্থানীয় সময় আজ ১৬ ডিসেম্বর (বুধবার) বিকেলে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ (শামস-রিতু) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পুস্প অর্পন কালে উক্ত সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে  রাখেন সহ -সভাপতি শাহ আলম, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হারুনুর রসিদ, অস্টেলিয়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: মুঈদুজ্জামান (সুজন),অস্টেলিয়া আওয়মীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সফিকুর রহমান (রোমেল), সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ছাএলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম (রাজন), ছাএলীগ নেতা সুমন মৃধা এবং ফোহাদুজ্জামান (ফোহাদ)।

সিডনিতে সাহাদ নোমানীর নামাজে জানাজা আগামীকাল

আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর (বুধবার) সিডনীর ওয়ালী পার্কের বসবাস রত কৃষিবিদ মোহাম্মদ নোমানী ও মিসেস জান্নাতুল নাইমের বড় ছেলে মো. সাহাদ নোমানীর নামাজে জানাজ অনুষ্ঠিত হবে। ল্যাকেম্বাস্থ বড় মসজিদে (75 Wangee Road, Lakemba) দুপুর সাড়ে ১২ টায় জোহর নামাজের পর সাহাদের নামাজের জানাজায় সবাইকে শরীক হাওয়ায় জন্য তার বাবা মা বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার স্বাস্থ্যনীতি শীতল করায় জানাজায় সকলে অংশগ্রহন করতে পারবেন। মসজিদে মহিলার পৃথক নামাজেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

অত্যন্ত মেধাবী সাহাদ আইন বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করেছিলেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষ করে গত শুক্রবার বন্ধুদের সাথে সাহাদ সিডনীর সেঞ্চুরি পয়েন্ট এ বেড়াতে যায়। গত শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টায় হাঁটতে বেরুনোর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবার ও বন্ধুরা তার নিখোঁজের খবর স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করে। পরে গত রবিবার বিকেলে সিডনির সেঞ্চুরি পয়েন্ট এর পানি থেকে তার লাশ স্থানীয় পুলিশ উদ্ধার করে।

সিডনিতে কোভিড পরবর্তী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

গত ১২ ডিসেম্বর (শনিবার) বিকেলে “টুগেদার উই আর ওয়ান” শ্লোগান নিয়ে ক্যান্টারবুরী ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিল এর সহযোগীতায় ল্যাকাম্বার ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সোলার ওয়ার্ল্ড পাওয়ার কোম্পানির সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলো টেলিঅজ নেটওয়ার্ক কোম্পানি।

সিডনিতে কোভিড নীতিমালা কিছুটা শিথিল হওয়ায় বিপুল সংখ্যক দর্শকদের উপস্হিতিতে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নেপাল ও ইন্ডিয়ানদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল গান, ঐতিহ্যবাহী নাচ ও ফ্যাশন শো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মেয়র খাল আসফাউর, নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টের এমপি জিহাদ দিব, প্রাক্তন কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু, লায়নস ক্লাব অব সিডনি সাউথ এর প্রেসিডেন্ট ডা: মাইনুল ইসলাম, ফাগুন হাওয়ার চেয়ারপার্সন তিশা তানিয়া, ওমেন কাউন্সিলের সানজিদা আক্তার, ওয়ালী পার্ক ওমেন্স ক্লাবের মাহমুদা বেগম, জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার উপদেষ্টা ড. হুমায়ের চৌধুরী রানা, হায়দার আলী প্রমুখ।

আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোহেল ইকবাল, জাকির আলম লেনিন, আশরাফুল আলম, মিতা কাদরী, মাহমুদা বেগম, তাফতুন নাঈম নিতু, মন্জুরুল হক আলমগীর, ফরিদ মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। সর্বশেষে কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বাবুর সৌজন্য র্যাফেল ড্র’তে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন সানজিদা আক্তার ও শাহে জামান টিটু।

সিডনিতে শাহাদের অকাল মৃত্যু

আজ স্থানীয় সময় ১৩ ডিসেম্বর (রবিবার) বিকেলে সিডনির ওয়ালি পার্ক নিবাসী শাহাদ নোমানির (২৫) মৃতদেহ উলঙ্গন সেঞ্চুরি পয়েন্ট এর পানি থেকে স্থানীয় পুলিশ উদ্ধার করে (ইন্না লিল্লাহে ও ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। বাবা কৃষিবিদ মোহাম্মদ নোমানি ও মা মিসেস জান্নাতুল নাইম তাদের প্রথম সন্তানের লাশ সনাক্ত করার পর ময়না তদন্তের জন্য শাহাদের মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গত শুক্রবার শাহাদ তার বন্ধুদের সাথে ছুটি কাটাতে সেঞ্চুরি পয়েন্টে যায়। গত শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টায় হাঁটতে বেরুনোর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবার ও বন্ধুরা তার নিখোঁজের খবর স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করে।

শাহাদের বাবা তার ফেজবুক পেজে এই খবর নিশ্চিত করে কমিউনিটির সবার কাছে সন্তানের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তার নামাজে জানাজা ও দাফনের তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

সিডনিতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের মহান বিজয় দিবস উদযাপন

কাজী আশফাক রহমানঃ একাত্তরের গৌরব উজ্জল মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অর্জন। মহাকাব্যিক এই জনযুদ্ধকে হৃদয় ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেও তা সঞ্চারিত করার প্রয়াসে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতিবছর আয়োজন করে মহান বিজয় দিবস। ১৩ ডিসেম্বর (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত হয়েছিল বিজয়ের এই উৎসব। এই অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয় বর্ষ সমাপনী সনদ ও ফলাফল বিবরণী। কোভিড উনিশ মহামারি বিধিনিষেধের কারণে অভিভাবক ও বাইরের দর্শকদের এবারের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি।

সকাল দশটায় শ্রেণীকক্ষে বর্ষ সমাপনী সনদ ও ফলাফল বিবরণী প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক  নাসরিন মোফাজ্জলের পরিচালনায় অধ্যক্ষ রোকেয়া আহমেদ, সংশ্লিষ্ট শ্রেণী শিক্ষক রুমানা সিদ্দিকী, আঞ্জুমান আরা আইরিন, শারমিন সুলতানা, নুসরাত জাহান এবং মাহসিনা জেলিনের উপস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের হাতে সনদ তুলে দেন স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য আব্দুল জলিল।

এই পর্ব শেষে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের পক্ষ থেকে আয়োজিত মধ্যেন ভোজনে যোগদান করে। দুপুরের খাবারের শেষে বেলা বারোটায় স্কুলের মিলনায়তনে শুরু হয় বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে বাংলা স্কুল সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলেন একাত্তরে রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের সাবেক সভাপতি গোলাম মওলা। তিনি বাংলাদেশ সৃষ্টিতে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদানের কথাও ছেলেমেয়েদের অবহিত করেন।  প্রথমে স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান একটি অসাধারণ শিশুতোষ গান গেয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্র দান করেন। ছাত্রছাত্রীদের অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে, ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে বিজয় দিবসের কেক কেটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মদিনকে স্মরণ করেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল আহসান খান।

এরপর প্রায় এক ঘন্টা বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা সবাইকে মোহগ্রস্ত করে রাখে। পাঁচটি একক আবৃত্তি,চারটি, বৃন্দ আবৃত্তি, তিনটি দলগত সংগীত এবং চারটি একক সংগীতে ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়।বীরশ্রেষ্ঠ মুস্তাফা কামাল এর জীবন গাঁথা পড়ে শোনায় নুরিন। নিজের বই থেকে একটি গল্প বাংলায় পড়ে শোনায় মারজান। একক গান পরিবেশন করে জেইনা, নুরিন, রাসমিয়াহ ও এলভিরা। দ্বৈত সংগীতে অংশ নেয় রুশনান ও নাদিন। একক আবৃত্তি নিয়ে আসে ওয়াফি, রেইনর, স্বপ্নীল, এলভিরা, দৃপ্ত, আরিজ, সারিনা। বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশ নেয় মারজান, সোহারদিতী, য়ারা, আরিয়ান, ইমরান, নারমিন, তাহমিন, সারিনা, রাসমিয়া, আরিজ, রুশনান, তায়শা, অলিভিয়া, মাহদিয়া, রিডা, তাসনিফ, রাকিন, নুরিন, এলভিরা, সম্প্রীতি, নাদিন, রেইনর, ওয়াফি, দৃপ্ত, স্বপ্নীল, রোদ্দুর, জায়ান ও সুহা।

এবারের বিজয় উৎসব আহবায়ক রুমানা সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের সংগীত শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি এবং বিজয় সাহা। তবলায় ছিলেন স্কুলের নিজস্ব শিল্পী বিজয় সাহা। শব্দ নিয়ন্ত্রণ করেন স্কুলের কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি ফয়সাল খালিদ শুভ। মঞ্চ নির্মাণ ও পরিকল্পনায় ছিলেন নির্বাহী সদস্য সাজ্জাদ সিদ্দিক, মেহেদী হাসান, নুরুল ইসলাম শাহিন ও তারিক আহমেদ।

প্রধান সমন্বয়কারী রুমানা খান মোনার তত্ত্বাবধানে বিজয় দিবস ও বর্ষ সমাপনী অনুষ্ঠানটি দুপুর আড়াইটায় শেষ হয়। সবশেষে স্কুলের সভাপতি মসিউল আজম খান স্বপন সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী বছর অমর একুশের আয়োজনে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রসংগত উল্লেখ ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে একবারের জন্যও বন্ধ না হয়ে অনলাইন ও মুখোমুখি মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। বাংলা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে।