চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নে গার্লস স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় কমিটি গঠিত

গত ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের সর্বপ্রথম রওশন ফেরদৌস গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাফায়েত হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় উক্ত সভায় ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গের নিয়ে একটি এডহক কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির সদস্যগণ হলেন, মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, মুজিবুল হক রতন, শাহাদত হোসাইন ছিদ্দিকী, বাবু রগুনাথ পাল, সায়েম ফেরদৌস ও মেহেদী হাসান নুর খান। অচিরেই স্কুলের জমিদান সহ যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে উদ্দোক্তাগন জোর আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

সেঞ্চুরি ২১ প্রোপার্টি কেয়ার লোকাল বিজনেস এওয়ার্ডে ভূষিত

সেঞ্চুরি ২১ প্রোপার্টি কেয়ার মিন্টু, ক্যাম্বেলটাউন লোকাল বিজনেস এওয়ার্ড ২০২০ এ ভূষিত হয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিজনেস ক্যাটাগরিতে এই সম্মামনা দেয়া হয়।

স্থানীয় সময় গত ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় সিডনির ওয়েস্ট লীগ ক্লাবে এক জমকালো অনুষ্ঠানে Precedent Production এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এওয়ার্ড ফাউন্ডার মি Steve Ioe সেঞ্চুরি ২১ প্রোপার্টি কেয়ারের প্রিন্সিপাল এইচ এম তানভীরকে আউট স্ট্যান্ডিং রিয়েল এস্টেট এজেন্সি ২০২০ এওয়ার্ড প্রদান করেন। প্রতি বছর আঞ্চলিকভাবে গ্রাহক সেবার মান ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সম্মামনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষক আজিজ হক ও আলম তপন উপস্থিত ছিলেন।

এইচ এম তানভীর তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই সম্মামনা বিগত বছরে আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও উন্নত গ্রাহক সেবার স্বীকৃতি ও সম্মান বয়ে এনেছে। অতীতে ১২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পত্তি বিক্রি করে আমরা গ্রাহকদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। এই গর্ব অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সব ব্যবসায়ী ও সর্বোপরি প্রবাসী বাংলাদেশীদের।

মি Steve Ioe বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তাদের প্রশিক্ষিত টীম কঠোর পরিশ্রম করে তাদের গ্রাহক সেবার মান সমুন্নত রাখায় আজ তারা এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আর সেজন্যই ক্যাম্বেলটাউন লোকাল বিজনেস এওয়ার্ড নাইট খুবই জনপ্রিয়।

পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বর্ষপূর্তি উৎসব পালিত

নিরুপমা রহমানঃ এ বছর টা ভারী অন্যরকম। পৃথিবী অসুখে পড়েছে!! কোথাও কারো মনে নেই আনন্দ, নেই স্বস্তিl কিন্তু যারা নান্দনিক সৃষ্টিশীল মানুষ, তাঁরা থেমে থাকেন না, তাঁদের সৃষ্টিশীলতাও  থেমে থাকেনা। বরং অস্থির সময়ে এই সকল নান্দনিক সৃষ্টিশীল কাজ সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখায়, মনোবল যোগায়, সুদিনের আশ্বাস জাগায়। এই করোনা কালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই যখন একমাত্র উপায় ভালো থাকবার, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের ‘মিলিবে আর মিলাবে’র সুযোগ করে দিচ্ছে, খুলে দিচ্ছে সংযোগের নতুন মাত্রা। আমাদের মনের আগল গলে নান্দনিক, সৃষ্টিশীলতার শুদ্ধ চর্চাকে পৌঁছে দিচ্ছে এই বদ্ধ বন্দী জীবনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নান্দনিক সৃষ্টিশীল শুদ্ধ চর্চার এক দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম পেন্সিল। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙ্গালীদের বাংলাভাষা, বাংলা সংস্কৃতি তথা বাঙ্গালীয়ানা চর্চার এক অবিসংবাদিত প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া। এই করোনা কালেও তার ব্যাত্যয় ঘটেনি। সেই পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া আজ সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ চার বছর পূর্ণ করলো। অতিমারীর এই দুঃসময়ে বরাবরের মত মিলন মেলার আয়োজন হয়তো সম্ভবপর হয়নি, কিন্তু নান্দনিক সৃষ্টিশীল শুদ্ধ চর্চার উদযাপন  তো বন্ধ থাকতে পারেনা। পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সংগঠকেরাও তাই থেমে থাকেননি। ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুত্রে অস্ট্রেলিয়ার গণ্ডী ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের বাংলা সংস্কৃতিপ্রেমীদের ঘরে আজ পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার জন্মদিনের দিনব্যাপী উৎসব আয়োজন পৌঁছে গেছে। সৃজনশীল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে প্রাণবন্ত এই আয়োজনগুলির সার্বিক পরিকল্পনা আর তত্ত্বাবধানে ছিলেন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সাকিনা আক্তার ও জয় কবির।

এবারের জন্মদিনের উদযাপন শুরু হয়েছিলো একেবারে অন্যরকম বিশেষ এক আয়োজনের মাধ্যমে। চতুর্থ জন্মদিনকে কেন্দ্র করে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত সদস্যদের কাছে ৪ সংখ্যাটিকে বিষয় করে স্থির চিত্র আহবান করা হয়েছিল। এই আহবানে অভূতপূর্ব সাড়া দিয়ে  সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত সাতদিনে ২৪২ টি স্থির আলোকচিত্র জমা পড়ে। এই সমস্ত স্থির আলোকচিত্র নিয়ে ১২ তারিখ জন্মদিনের দিন অনলাইন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। নিঃসন্দেহে এ এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

১২ তারিখ সারাদিনব্যাপী প্রানবন্ত জন্মদিনের উদযাপনে ছিল আরও নানান আয়োজন। অর্পিতা সোমের নির্দেশনা আর পরিচালনায় নানান ধরনের মনোমুগ্ধকর নাচের আয়োজনে অংশ নিয়েছেন পারশী, নীড়, সামারা, মেঘা, হেনা, তিশা। নির্দেশনা আর পরিচালনার পাশাপাশি অর্পিতা সোম নিজেও তাঁর নৃত্য পরিবেশনায় মুগ্ধ করেছেন সকলকে। লুতফা খালেদ আর অনামিকা ধর নানান আমেজের গান দিয়ে জয় করেছেন শ্রোতাদের হৃদয় । তবলা সঙ্গতে ছিলেন সুবীর গুহ। নাচগানের পাশাপাশি জমে উঠেছিলো কবিতা পাঠের আসর। আবৃত্তি শিল্পী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তাম্মী পারভেজ, মাসুদ পারভেজ, অনামিকা ধর ও জেরীন আফরিন। এছাড়া শ্রোতা প্রিয় নানান গান দিয়ে একক গানের ডালি সাজিয়ে এসেছিলেন জিয়াউল ইসলাম তমাল।

জন্মদিনের এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রথিতযশা শিল্পী সিরাজুস সালেকীনের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। নাফিসা আসিফ স্বাগতার সুদক্ষ সঞ্চালনায় গান আর গানের গল্প নিয়ে গুণী শিল্পীর এই পরিবেশনা শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা গান তথা শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রচার আর প্রসারে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গীকার আবারও প্রমাণিত হল।

আজ পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার জন্মদিনের দিনব্যাপী উৎসব আয়োজনের আনন্দময় সব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে তুমন আহসান, নাইম আবদুল্লাহ, বিপুল রায়, সরকার কবিরুদ্দিন। এই সমস্ত কিছুর পরেও আজকের আয়োজনের সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরা। যারা আজ সারাদিন পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার ফেসবুক পেজে তাদের শুভেচ্ছা  পৌঁছে দিয়েছেন তাদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে। পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার পরিবারের সদস্যদের অফুরান ভালোবাসা আর গভীর সম্পৃক্ততাই গত চারবছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।  পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার আগামীর চলার পথ আরও সৃষ্টিশীল কর্মময়তায়  ভরে উঠুক।

টরন্টো বাংলা স্কুলের ২য় পারিবারিক উদ্যান দিবস উদযাপিত

মোঃ নিয়াজ রহমান, টরন্টো করেসপনডেণ্ট, সিডনি প্রতিদিনঃ স্থানীয় সময় গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) টরন্টো বাংলা স্কুল ও হলিস্টিক সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনাল (এইচএসডিএনআই) এর উদ্দ্যোগে এবং কানাডিয়ান রেডক্রস এর অর্থায়নে দুপুর ২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত টরন্টোর ডেন্টোনিয়া পার্কে স্কুলটির ২য় পারিবারিক উদ্যান দিবস উদযাপিত হয়।

করোনা মহামারী কালীন দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার প্রভাব কাটাতে সিটি অফ টরন্টো’র সামাজিক দূরত্ব বিষয়ক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন পারিবারিক ও শিশু-কিশোরদের ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। টরেন্টো বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীবৃন্দ, তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকবৃন্দ এবং স্কুল কমিটির সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজিত উন্মুক্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে স্মিহা, নওরীন, শোহা, আরিয়ান, সাফওয়ানা, আফিয়া, আফ্রিদা এবং অন্যান্যরা। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজন করা হয় “ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা” যাতে জুনিয়র গ্রুপে (কেজি – গ্রেড ৩) আরমি ১ম, সাফওয়ানা ২য়, তাজরিন ৩য় এবং আরমান ৪র্থ স্থান অর্জন করে। সিনিয়র গ্রুপে (গ্রেড ৪ – গ্রেড ৫) ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে আফরিন আলিহা, নওরীন এবং আফিয়া ইসলাম। স্কুলের শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের জন্য আয়োজন করা হয় মেধা-স্মৃতি প্রতিযোগিতা। এতে ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে শায়লা পারভিন, মিসেস পনি এবং রুনা সিদ্দিকী।

উন্মুক্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগী শিশু-কিশোরদের ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের টরেন্টো বাংলা স্কুলের পক্ষ থেকে পুরষ্কৃত করা হয়। পরিশেষে খাবার ও পানীয় পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

টরন্টো বাংলা স্কুল পরিচালনা পর্ষদের একজন মুখপাত্র জানান, কমিউনিটি ভিত্তিক সমাবেশের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করে একে-অন্যের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি অনন্য উপায় যা সমাজিক বন্ধন ও সম্পর্ক তৈরি করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে অংশ গ্রহণের সদিচ্ছা, দক্ষতার বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, এটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে, সামাজিক সুরক্ষার অনুভূতি জাগ্রত করতে, পারিবারিক মূল্যবোধকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। পারিবারিক উদ্যান দিবস উদযাপনের মাধ্যমে “টরেন্টো বাংলা স্কুল” কমিউনিটির সদস্যদের সামাজিক শিক্ষা গ্রহণ, কার্য-কলাপ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষতঃ মহামারী-কালীন সময়ে মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন পরিবার, বিশেষতঃ শিশু-কিশোরদের একত্রিত করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, টরেন্টো বাংলা স্কুল ভবিষ্যতে এই ধরণের কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটির সেবা ও উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা নূরুল আজাদের আজ ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী

অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’র প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নূরুল আজাদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী।

কীর্তিমান নূরুল আজাদ ছিলেন বাঙালি কমিউনিটির প্রিয় মুখ ও প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজের অন্যতম অভিভাবক।

তিনি ব্যক্তি জীবনে সৎ, নির্লোভ বহুমাত্রিক কৃতিত্বের অধিকারী একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন। যিনি সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সমাজের জন্য নিরবে-নিভৃতে কাজ করে গেছেন। সমাজকে আলোকিত করার এক মহাকর্মযজ্ঞে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন সারাটি জীবন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী আলোকিত মানুষটির ছিল সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ গুণ । খোলা মনে তিনি সকলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।

এই মহান মানুষের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে মরহুমের জন্মস্থানের মানুষের আয়োজনে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মরহুমেরই প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নূরুল আজাদ কলেজ’, মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৩৭ নং বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হবে।

মরহুম ‘নূরুল আজাদ ছিলেন এলাকার ক্ষণজন্মা পুরুষ, যার মধ্যে দেশপ্রেম ও শিক্ষাপ্রীতি ছিলো অসামান্য। তিনি তাঁর জীবনকে ব্যয় করেছেন মানবতার সেবায়, তাকে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি’।

নূরুল আজাদের জ্যেষ্ঠপুত্র ও বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগ সিডনির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বাবার স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজীবন বুকের মাঝে ধারণ করেছেন এবং মাতৃভূমির জন্য সারা জীবন সাধ্যমত করে গেছেন।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বল্প পরিসরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া তিনি তাঁর পিতার জন্য সবার নিকট দোয়া চেয়ে অনুরোধ করেছেন। মরহুম নূরুল আজাদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘সিডনি প্রতিদিন’ ও “বিদেশবাংলা২৪” পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে।

কীর্তিমান নূরুল আজাদের জীবন ও কর্ম :

চাঁদপুরের কচুয়ায় জন্ম নেয়া মরহুম নূরুল আজাদ অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমিয়ে শুরু করেছিলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। যাত্রা শুরু করার পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে। সোনার হরিণের খোঁজে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানো স্বদেশীদের কর্মসংস্থানেও সবার প্রিয় এ ‘নূরুল আজাদ ভাই’ ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পরে তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’-কে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি  আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ মেলা যাত্রা শুরু করে। প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীদের নিয়ে তিনি এ মেলা উদযাপন করতেন। খেলাধুলার প্রতি ছিল তার অন্য রকম ভালোবাসা। নিজে অংশগ্রহণ করে পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে প্রতি বছর কৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, যা বর্তমানে ‘নূরুল আজাদ গোল্ডকাপ’ নামে পরিচিত।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’ প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৯ সালে আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া সফর কালে তাঁর হাতেও ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকা তুলে দেন । ‘কচুয়া ফাউন্ডেশন ঢাকা’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান পৃষ্টপোষকতাও তিনি। নিজ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একাধারে গরীব-দুঃখী মানুষের আপনজন ও সমাজসেবক হিসেবে সবার কাছে খুবই প্রিয়জন ও পরিচিত ছিলেন। নূরুল আজাদ  ছিলেন কচুয়া উপজেলার একটি নাম, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সংগঠন, একজন সমাজ সেবক সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র হিসেবে নিজেকে শীর্ষে পৌছে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি পরলোক গমন করে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি তথা নিজ জন্মভূমির মানুষের মধ্যে যে শূণ্যতা তৈরি করে গেছেন তা আজও অপূরণীয়।

ন্যাশনাল স্পোর্টস ক্লাব অব অস্ট্রেলিয়া’র পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা খুবই প্রয়োজন। খেলাধুলা মস্তিষ্ক ও মনকে সতেজ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে।

অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রবাসি বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস ক্লাব অব অস্ট্রেলিয়া’। এই ক্লাবের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ক্রিকেট ও ছকার সহ বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ন্যাশনাল স্পোর্টস ক্লাব অব অস্ট্রেলিয়া তাদের পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করেছে। মামুনুর রশিদ প্রেসিডেন্ট, মোহাম্মদ আলী শিকদার ভাইস প্রেসিডেন্ট, জামাল হোসেন ভাইস প্রেসিডেন্ট, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সেক্রেটারি, শাহ জাহান জয়েন সেক্রেটারি, মোহাম্মদ আশরাফুল আলম লাবু, ট্রেজারার, ওমর বিন হাওয়েল স্পোর্টস সেক্রেটারি, আলী আশরাফ হিমেল জয়েন্ট স্পোর্টস সেক্রেটারি, আমিত ভাসা অরগানাইজেশনাল সেক্রেটারি, মোহাম্মেদ কামরুজ্জামান বাপ্পি কমিউনিটি এনগেজমেণ্ট কো-অরডিনেটর, আসমা আলম কাশফি কমিউনিকেশন ও মিডিয়া সেক্রেটারি।

অস্ট্রেলিয়ায় বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বেগম খালেদা জিয়ার চিরস্থায়ী মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবী

গৌরব, ঐতিহ্য, স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও গনতন্ত্রের প্রতিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অস্ট্রেলিয়া শাখা (একাংশ) এক র‍্যালী আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। পায়রা (কবুতর) ,বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বর্নাঢ্য উদ্বোধন করেন অস্ট্রেলিয়া শাখা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন।

সিডনির ল্যাকেম্বায় ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন  মো: কুদরত উল্যাহ লিটন। নাসিম হোসাইন ও ইয়াসির আরাফাত সবুজের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে  ঊপস্হিত ছিলেন বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন মোবারক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুবদল অস্ট্রেলিয়া শাখার নেতা ইয়াসির আরাফাত সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক দল অস্ট্রেলিয়ার নেতা এ.এন.এম মাসুম, জিয়া শিশু কিশোর মেলার অস্ট্রেলিয়া শাখার নেতা  জাকির হোসেন রাজু।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন যুবদল অস্ট্রেলিয়া শাখার নেতা খায়রুল কবির পিন্টু, নিউ সাউথ ওয়েলস্ বিএনপির নেতা  কামরুল ইসলাম শামীম ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। জাতীয়তাবাদী দল অস্ট্রেলিয়া শাখার নেতৃবৃন্দ শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াঊর রহমানের গৌরবময় রাজনৈতিক কর্মকান্ড  ও দেশ গঠনে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন। 

বক্তারা দলের ৪২তম জন্মদিনে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরন করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। বহু দলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা, শোষনমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানে এই রাখাল রাজা ক্ষনজন্মা নেতার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেন।

আলোচনা সভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু,সুস্থতা সহ চিরস্থায়ী মুক্তি কামনা করে সুখী সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য পরম করূনাময় আল্লাহর দরবারে সকলে দোয়া করেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বিএনপি’র সকল স্তরের নেতৃবৃন্দ কেক কেটে ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অনুপ গোমেজ, আমজাদ খান, মোহাম্মদ নাসির হোসাইন, শাহজাহান, মো: গিয়াসউদ্দিন খান, শেখ উদ্দিন ফরিদ আহমেদ, সুধন জোসেফ গোমেজ, অসিত ফ্রান্সিস গোমেজ, মামুন, গোলাম রাব্বী,গোলাম রাব্বানী, মো: মতিউর রহমান, নূর মোহাম্মদ মাসুম, রাজু, আব্দুল করিম, জাবেল হক, মোমিন, মো: কামরূজ্জামান প্রমুখ।

ক্যানবেরায় বঙ্গবন্ধুর “জীবনী ও উত্তরাধিকার” শীর্ষক একক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ স্থানীয় সময় আজ ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরা মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বাঙালির জাতির পিতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “জীবনী ও উত্তরাধিকার” শীর্ষক চার দিন ব্যাপী একক চিত্র ও ছায়া চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে। 

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার মানুকা আর্টস সেন্টারের হুও ডেভিস গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী চার দিন ব্যাপী চলবে। পাশাপাশি আজ থেকে আগামী ১৩ তারিখ পর্যন্ত সর্ব সাধারণের জন্য গ্যালারী উম্মুক্ত থাকবে। এ প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর জীবন চিত্র, ভিডিও ও ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হবে।  অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত মান্যবর হাই কমিশনার সুফিউর রহমান। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রবাসে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, এর অঙ্গসংঘঠন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার নেতৃবৃন্দ, অন্যান্য দূতাবাস প্রধান গণ, অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ছায়া সরকারের মন্ত্রী, এম পি, একাডেমিক,  সাংবাদিক ও বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে হাই কমিশনার সুফিউর রহমান অস্ট্রেলিয়ার ভূমি মালিকদের কৃতজ্ঞতা জানানোর পর অনুষ্ঠানে আগত সব অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য আদর্শ ও বিস্তারিত কর্মসূচির বর্ণনা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে তাঁর সুযোগ্য তনয়া বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথাও কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করে দেশের উন্নয়নে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও ভূমিকার ভূয়শী প্রশংসা করেন। দেশ আজ নিন্মবিত্ত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তীর্ণ হয়েছে শুধুমাত্র তাঁরই প্রজ্ঞা ও ভূমিকার কারণে উল্লেখ করে হাই কমিশনার সবাইকে কাঁধে কাঁধ রেখে প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ভিশন ২০২১ ও স্বপ্নকল্প ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে দেশে বিদেশে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে প্রবাসে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গসংগঠন সমূহের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

তারপর তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনী, তাঁর আদর্শ ও প্রবাসে আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। কোভিড – ১৯ এর সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কনসুলেট অফিস নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ মিশনে জাতির পিতার জীবনাদর্শের উপর চিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী এর একটা অংশ বলে উল্লেখ করেন। এর আসল উদ্দেশ্য হলো তাঁর আদর্শকে বিশ্ব দরবারে সম্প্রচার করা। সহযোগিতার জন্য তিনি প্রবাসের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান।

চাঞ্চেরি প্রধান প্রথম সচিব মিসেস তাহলীল দিলওয়ার মুন অস্ট্রেলিয়ায় মুজিববর্ষে বাংলাদেশ মিশনের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। তারপর বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক এক ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের উপর আলোচনা অংশ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রধানদের সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্প স্তবক অর্পণ ও সম্নান প্রদর্শন  করেন। হাইকমিশনার সুফিউর রহমান কুনীতিটিক ও আগত অতিথিদের গ্যালারি ঘুড়িয়ে দেখান ও ঐতিহাসিক পটভূমি ব্যাখ্যা করেন। তারপর সবাইকে ডিনারে আপ্যায়ন করা হয়।

অভাগী মেয়ে

চিনতে পারছো আমায়?

আজ খবরের কাগজের প্রথম পাতায়

যার ছবিটা খুব বড় করে ছাপা হয়েছে।

কেউ কেউ খুব আফসোস করছে

কারোর চোখে ঝরছে জল।

আবার কেউ কেউ বলছে-

হয়তো মেয়েটাই নষ্টা ছিল।

হ্যাঁ, আমি সেই অভাগী মেয়ে-

কাল রাতে যাকে নরপশুদের লালসার শিকার হয়ে

গলাটিপে মেরে চলন্ত বাস থেকে

ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

হ্যাঁ,আমি সেই………..।

আজ আমি খুব নিরাপদে আছি

আর ভয়ে কাটাতে হবে না

প্রতিটা দিন প্রতিটা মূহুর্ত।

বেঁচে থাকার জন্য ছুটতে হবে না

কারখানার মালিকদের দ্বারে দ্বারে।

গরীব বাপের ঘরে জন্ম

পেটের ক্ষুধার জন্য তাইতো

শক্ত হাতে ধরতে হয়েছে

কারখানার মেশিনের চাকা।

অর্থনীতির চাকা ঘুরছে আমাদের হাতে

অথচ আমরাই দিন কাটাই

অর্ধাহার নতুবা অনাহারে।

দু’তিন মাসের মজুরি পাইনা

চাইলেই জোটে শুধু লাঠিপেটা।

বাড়ি ভাড়ার টাকা না দিতে পারায়

বাড়িওয়ালা বের করে দেয় রাস্তায়।

গরীবেরা এভাবে শোষিত হচ্ছে বারংবার

আর বিত্তবানরা গড়ছে সম্পদের পাহাড়।

জানো মা, আমি অনেক বার

পশুগুলোর হাত পা ধরেছিলাম,

বাঁচার জন্য অনেক আকুতি করেছিলাম।

ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না।

মৃত্যুর আগে শুধু তোমার মুখটা

ভাসছিল চোখে।

আর কখনো টাকা পাঠাতে পারব না

ছোট্ট ভাই বোনের পড়ালেখা ও হবে না।

মা, আমি এখন খুব ভালো আছি

এখানে মানুষরূপী কোন হায়না নেই,

বাঁচার জন্য লড়াই করতে ও হয় না।

একটাই শুধু কষ্ট

তোমার কোলে কখনও আর

মাথা রাখতে পারবো না।

লাভলী রায়

টরেন্টো বাংলা স্কুল প্রাবাসে বাংলা ভাষা চর্চার অনন্য এক প্রতিষ্ঠান

মো. নিয়াজ রহমান, টরেন্টো থেকেঃ মায়ের ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী একমাত্র জাতি হিসেবে যে গর্বের আসনে বাঙালি অধিষ্ঠিত, তা হৃদয় ধারন করে টরেন্টো বাংলা স্কুল আগামী প্রজন্মকেও এই গৌরবের অংশীদার করতে চায়। কানাডায় বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি শিক্ষা ও চর্চার অনন্য এক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশটিতে বসবাসরত বাংলোদেশিদের কাছে সমাদৃত টরোন্টো বাংলা স্কুল। করোনাকালে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার পর গেল দুই সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলিতে এই স্কুলের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে উপস্থিত সবার জন্য মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেয়া হয়। দীর্ঘদিন পর একসাথে হতে পেরে শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতে উঠে।

২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে এইচ এস ডি এন  ইন্টারন্যাশনাল এর উদ্যোগে টরোন্টো বাংলা স্কুলের  বিনামূল্যে কার্যক্রম শুরু হয়। টরোন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড,  টরোন্টো বাংলাদেশি প্যারেন্ট এ্যাডভাইজরি কমিটি এবং বাংলাদেশি কানাডিয়ান সার্ভিসেস এর সহযোগিতায় কমিউনিটির মাঝে সেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে এটি চালু করা হয়। এর প্রথম কার্যক্রম শুরু হয় ‘অকরিজ জুনিয়র পাবলিক স্কুলে’। শুরুতে টরোন্টো বাংলা স্কুলের ক্লাস পরিচালিত হতো প্রতি রোববার সকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সেখানে অভিবাভকরাই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন।

বাংলা স্কুলের মূল উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে বাংলা ভাষা শিক্ষা দেয়া এবং কানাডায় বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা। বর্তমানে কানাডার প্রভিন্সিয়াল সরকারের বাজেট সংকোচন নীতির কারণে বাংলা স্কুল স্থানান্তরিত হয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে এক্সেস এ্যালায়েন্স ড্যানফোর্থে। বর্তমানে বাংলা স্কুলের ক্লাসের সময় প্রতি শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে ২টা পর্যন্ত ।

স্কুলটির উদ্যোগে প্রতি বছর বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস, যেমন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ১লা ফাল্গুন, ১লা বৈশাখ পালন করে থাকে। অন্যদিকে কানাডা ডে, ফ্যামিলি ডে, বিশ্ব পরিবেশ দিবসও পালন করে তারা। প্রতি বছর গ্রীষ্মে সকল স্তরের জনগণের অংশগ্রহণে বনভোজন ও বারবিকিউ এর আয়োজন করা হয়।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলা স্কুলে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে জুন মাসের শুরুতে। প্রতি শনিবার সময় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টরোন্টো বাংলা স্কুলের মাধ্যমে ৪৫ এরও বেশি কানাডায় জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের প্রাথমিকভাবে বাংলা বলতে, লিখতে ও পড়তে শিখিয়েছে।

বাংলা স্কুলের একটি কার্যকরী কমিটি, একটি উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে এবং একটি বাৎসরিক পরিকল্পনা রয়েছে। উপদেষ্টা কমিটিতে অভিবাভকরা অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। এর মাধ্যমে বাংলা স্কুলের উন্নয়ন, কমিউনিটির সাহায্য সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।

বাংলা স্কুল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাচ্চাদের জন্য। যেমন চিত্রাঙ্কন, বাংলা লিখা, রচনা, বাংলা বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। তরুণদের যোগ্য নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপেরও আয়োজন করে থাকে। বাংলা স্কুল প্রতি বছর গুড প্যারেন্টিং শিরোনামে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সকল অভিভাবক ও কমিউনিটির সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারেন।

বাংলা স্কুলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে- টরোন্টো বাংলা স্কুলের সেবা বাংলাদেশি কানাডিয়ানদের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বাঙালি এলাকার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ডাইভার্সিটি এন্ড হেরিটেজ সেন্টার’ গড়ে তুলা। বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কানাডার মূলধারা সংস্কৃতির কাছে পৌঁছে দেয়া এবং সবাইকে জানানো বাংলা হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র ভাষা, যে ভাষার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ যুদ্ধ করেছিল এবং শহীদ হয়েছিল, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আান্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পুরো বিশ্ব আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসেবে।

বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার এই গৌরবগাথা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টরা।