অভাগী মেয়ে

চিনতে পারছো আমায়?

আজ খবরের কাগজের প্রথম পাতায়

যার ছবিটা খুব বড় করে ছাপা হয়েছে।

কেউ কেউ খুব আফসোস করছে

কারোর চোখে ঝরছে জল।

আবার কেউ কেউ বলছে-

হয়তো মেয়েটাই নষ্টা ছিল।

হ্যাঁ, আমি সেই অভাগী মেয়ে-

কাল রাতে যাকে নরপশুদের লালসার শিকার হয়ে

গলাটিপে মেরে চলন্ত বাস থেকে

ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে।

হ্যাঁ,আমি সেই………..।

আজ আমি খুব নিরাপদে আছি

আর ভয়ে কাটাতে হবে না

প্রতিটা দিন প্রতিটা মূহুর্ত।

বেঁচে থাকার জন্য ছুটতে হবে না

কারখানার মালিকদের দ্বারে দ্বারে।

গরীব বাপের ঘরে জন্ম

পেটের ক্ষুধার জন্য তাইতো

শক্ত হাতে ধরতে হয়েছে

কারখানার মেশিনের চাকা।

অর্থনীতির চাকা ঘুরছে আমাদের হাতে

অথচ আমরাই দিন কাটাই

অর্ধাহার নতুবা অনাহারে।

দু’তিন মাসের মজুরি পাইনা

চাইলেই জোটে শুধু লাঠিপেটা।

বাড়ি ভাড়ার টাকা না দিতে পারায়

বাড়িওয়ালা বের করে দেয় রাস্তায়।

গরীবেরা এভাবে শোষিত হচ্ছে বারংবার

আর বিত্তবানরা গড়ছে সম্পদের পাহাড়।

জানো মা, আমি অনেক বার

পশুগুলোর হাত পা ধরেছিলাম,

বাঁচার জন্য অনেক আকুতি করেছিলাম।

ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না।

মৃত্যুর আগে শুধু তোমার মুখটা

ভাসছিল চোখে।

আর কখনো টাকা পাঠাতে পারব না

ছোট্ট ভাই বোনের পড়ালেখা ও হবে না।

মা, আমি এখন খুব ভালো আছি

এখানে মানুষরূপী কোন হায়না নেই,

বাঁচার জন্য লড়াই করতে ও হয় না।

একটাই শুধু কষ্ট

তোমার কোলে কখনও আর

মাথা রাখতে পারবো না।

লাভলী রায়