শোক দিবসে সিডনি আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির প্যারামাত্তা ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি শাখা।

এরপর সন্ধ্যা ৬টায় সিডনি আওয়ামী লীগের সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদার সভাপতিত্বে ল্যাকেম্বার ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সিরাজুল হক বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য এক ভয়াল দিন, এই দিনটিতে যে ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে, তা কখনও ভুলবার নয়। ঘাতকেরা চেয়েছিল জাতির পিতাকে হত্যা করে তাঁকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। কিন্তু আজ জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু বেশি শক্তিশালী।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি রতন কুন্ডু বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবধারার একটি রাষ্ট্র বানাবে। কিন্তু তাদের সে ঘৃণ্য চক্রান্ত আজ ব্যর্থ হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কাছে।’

অনুষ্ঠানের অপর বিশেষ অতিথি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সিডনির সভাপতি ড. মাসুদুল হক বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা করে ঘাতকরা যেমন অন্যায় করেছিল এবং যারা সেই ঘাতকদের বিচার বাধাগ্রস্থ করতে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল তারাও ঠিক তেমনি অপরাধী। ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, কতটা ঘৃণ্য মানসিকতার মানুষ হলে জাতির পিতাকে অসম্মান করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টে একটি ভুয়া জন্মদিন পালন করে। এজন্য খালেদা জিয়া ও বিএনপির জাতির নিকট ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বলেন, ‘যে নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না। সে নেতাকে হত্যা করা কতটা জঘন্যতম অপরাধ হতে পারে তা যেকোনো বিবেকবান মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে। অথচ জিয়াউর রহমান ও বিএনপি জাতির পিতার হত্যার বিচারকে বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পাশাপাশি জিয়া ও বিএনপিকেও ইতিহাস ক্ষমা করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতার খুনিদের বিচারের মাধ্যমে জাতি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে, আশা করি পলাতক ও বাকি খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে খুব শীঘ্রই।’

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন লাল্টু বলেন, ‘১৫ আগস্টের প্রতিটি মৃত্যুই হৃদয়বিদারক কিন্তু শিশু শেখ রাসেল হত্যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে বর্বরতম ঘটনা। যে ঘটনাটি মনে পড়লে চোখের জল ধরে রাখা যায় না। যে নরপিশাচরা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে জাহান্নামেও তাদের ঠাঁই হবে না।’

আলোচানায় বক্তারা জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি খুনিদের বিচার দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান। 

আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এইচএম লাবু, ত্রাণ সম্পাদক আবুল বাশার রিপন, সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও নির্মল কস্ট্রা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান ও জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন ও রিপন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সালামসহ আরও অনেকে।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s