বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিডনিতে নির্মিত গীতিচিত্র ‘বাবা’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা এইদিনটি পালন করে থাকেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা, কর্মীদের রাজনৈতিক স্লোগান, মাইকে ভেসে আসা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, দোয়া মাহফিল, কাঙালিভোজ, সংবাদ মাধ্যমে ঘটনার প্রচার – এই হলো আমার চেনা-জানা জাতীয় শোক দিবস। 

এর বাইরেও আরেকটি গল্প আছে যেটি আমাদের খুব নাড়া দেয়। সেটি হলো নিহতদের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের ব্যক্তিগত বেদনার গল্প। যে কয়জন স্বজন তাঁরা একসাথে হারিয়েছেন, ততগুলো কষ্টকে পৃথকভাবে একত্রে ভেবে দেখার অনেক চেষ্টা করেছি। পারিনি। এতো ভয়ঙ্কর বেদনাকে অন্তরে ধারণ করাটা মানবতার পক্ষে সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন চলে আসে, এমন নিষ্ঠুরভাবে যাঁদের পরিবারকে হত্যা করা হলো, কেমন আছেন সেই সন্তানেরা? সেইসব সন্তানদের ব্যক্তি-জীবনের এই অকল্পনীয় কষ্টকে ফুটিয়ে তুলতেই “বাবা” নামের গানটি লেখা এবং এর  গীতিচিত্র করা। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দুরন্তপনাগুলো নিয়ে আর দশজনের মতো বাবার স্নেহে যারা বড় হতে পারতো, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কারণে তাদের জীবন থেকে সেই দুরন্তপনা, স্নেহ এবং স্মৃতি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, দেয়া হয়েছিল শূন্যতা। “বাবা” গান এবং গীতিচিত্র সেই শূন্যতাকে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছে মাত্র। অস্ট্রেলিয়ায় নির্মিত এই গীতিচিত্রটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহতদের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের প্রতি উৎসর্গ করা। 

গানটি লিখেছেন, স্কটল্যান্ডের লোকগীতি অনুসারে সুর করেছেন এবং গীতিচিত্রটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন সিডনিবাসী রেমন্ড সালোমন, গানটি গেয়েছেন সিডনির ইউটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত নাফিসা শামা, সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জেমস ইংলান্ড। বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন। গানটি নির্মানকল্পে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অবস্কিওরের সাঈদ হাসান টিপু। 

গীতিচিত্রটির লিঙ্কঃ https://youtu.be/C2Vd_wzWR5w

গানটি নির্মানে ছিলেন, প্রযোজনা ও পরিচালনাঃ রেমন্ড সালোমন, আলোকসজ্জা ও পরিচালনা সহযোগীঃ ফাহাদ আসমার, সিনেমাটোগ্রাফি ও সম্পাদনাঃ শিমুল শিকদার, ভিএফএক্স সম্পাদনাঃ কেন অ্যাবট, কালার গ্রেডিংঃ মোশন গ্রাফিক্স এন্ড ভিস্যুয়াল এফেক্টস, মঞ্চসজ্জা ও শিল্প নির্দেশনাঃ রায়হান শাহেদ, গ্রাফিক্সঃ ইদা স্টয়চেভা, ফুটেজ পুনরুদ্ধারঃ বালাজ ভাসকান।  গীতিকার ও সুরকারঃ  রেমন্ড সালোমন, কন্ঠঃ নাফিসা শামা প্রভা, সংগীত পরিচালকঃ জেমস ইংলান্ড, শব্দ ধারনঃ ক্রাশ সিম্ফনি প্রোডাকশন, স্ট্রিংঃ ইয়ান কুপার, বাঁশিঃ অ্যান্ড্রু ওহ, পিয়ানোঃ জেমস ইংলান্ড।

অভিনয়েঃ শেখ মুজিবুর রহমান – রহমতউল্লাহ, শেখ হাসিনা- নাফিসা শামা প্রভা, শেখ রেহানা- ফিত্রিয়া পুর্বাওয়াতি, শেখ রাসেল- শেখ দাইয়ান, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব– শাহরিনা শারমিন। অন্যান্য- মনির স্বপন, আল নোমান শামিম, আমিনুল হক, এমদাদ হক। রূপসজ্জাঃ ডেভিড বউলস, এসএফএক্সঃ স্টুয়ার্ট রাঊজেল, ব্লাডহাউন্ড এফএক্স স্টুডিও। মঞ্চ ও প্রপ সরবরাহঃ সিডনি প্রপ স্পেশালিস্ট। বিশেষ উপদেষ্টাঃ আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s