ভিক্টোরিয়ায় কাউন্সিলর পদে লড়বেন বাংলাদেশী হাসান নাইম মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় আগামী অক্টোবরে লোকাল কাউন্সিলর নির্বাচনে হ্যারিসন ওয়ার্ডে প্রবাসী বাংলাদেশী হাসান নাইম মিরাজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বিগত ৬ বছর যাবত স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করছেন। কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাসান নাইম মিরাজ স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি নিজস্ব মালিকানাধীন ফার্মাসিউটিক্যলস ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ এবং আরআরএমআইটি ইউনিভার্সিটি থেকে রসায়নে এমএসসি করেন। তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিকালে নেতৃস্থানীয় পদে কাজ করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচনে পদপ্রার্থী হাসান নাইম মিরাজ জানান, তিনি বিজয়ী হলে স্থানীয় হ্যারিসন ওয়ার্ডে নুতন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, ফ্রি পার্কিং ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, বিনোদন, খেলাধুলা, সুস্বাস্থ্য, শিল্প ও সংস্কৃতি সহ নুতন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করবেন। তিনি নির্বাচনে জয়লাভের ব্যপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার কাঠামো তৈরির নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আনন্দিত অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা। উল্লেখ্য করোনার জন্য ডাকযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন অক্টোবরের শুরু থেকে স্থানীয় সকল ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পেপার সরবরাহ করবে।  

পারভেজ মিয়াকে সম্মাননা দেবে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল

‘দ্য রিয়েল হিরো’ পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়াকে (বিপিএম) সম্মানা দেবে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল। সম্মাননা স্মারক ছাড়াও তাকে ৫০ হাজার টাকা উপহার দেয়া হবে।

২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চাঁদপুরগামী একটি বাস রাস্তার পাশের খালে পড়ে যায়। সেই বাস থেকে ২৫-২৬ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছিলেন পারভেজ। সেদিন পারভেজ মিয়ার সাহসিকতায় বেঁচে গিয়েছিল শিশুসহ এসব যাত্রীর প্রাণ।

পুলিশের একজন সিপাহীর এমন সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি দিতে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সভাপতি ড. এনামুল হক ও কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। টাইমস টোয়েন্টিফোর টিভি’র ঢাকা অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে।

পেশাগত দক্ষতার কারণে পারভেজ মিয়া পেয়েছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বিপিএম পদক, শ্রেষ্ঠ কনস্টেবল পদকসহ নানা সম্মাননা স্মারক।

এ প্রসঙ্গে পারভেজ বলেন, ‘প্রয়োজনে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য জীবন দেব তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না, অর্থের লালসায় সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করব না।’

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস কারণে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রবাসী শরণার্থী ও অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যায়নরত অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বপ্রথম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিল।

এ ছাড়াও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদ, বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদ, ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিকদেরকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, বাংলাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে সিডনি প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সিডনি প্রবাসী শিক্ষার্থী অমর্ত্যের আকস্মিক মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশী তরুন প্রজন্ম অমর্ত্য মাত্র ২১ বছর বয়সে গতকাল ২৪ আগস্ট (সোমবার) রাতে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন) করেন। তিনি সিডনি প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারীর বড় ছেলে। অমর্ত্য গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে তাদের ইয়াগুনার বাসায় হঠাৎ বমি করতে করতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

তিনি ১৯৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটিতে ইকোনোমিকসে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছিলেন।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সিডনিতে তাদের বাসায় অসংখ্য শুভাখাঙ্খি ও স্বজনেরা শোক সন্তপ্ত বাবা ও মাকে সান্ত্বনা দিতে আসেন। অমর্ত্য’র ফুফা জানান, “সে বাসাতেই মারা গেছে। ময়না তদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই তিনদিন লাগবে। তারপরে জানাযা এবং দাফনের দিনক্ষন জানা যাবে”। অশ্রু সজল অমর্ত্য’র মা বলেন, “বড় ছেলেটা সংসারের অনেক কিছুর দায়িত্ব নিতে শিখে গিয়েছিলো। হঠাৎ হারিয়ে গেলো। আপনারা আমার ছেলেটার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করবেন।”

অমর্ত্যের মৃত্যুতে সিডনিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সিডনি প্রেস ও মিডিয়া কাউন্সিল অমর্ত্যের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সিডনি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের সবাইকে শোক সইবার তৌফিক দানের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া কামনা করছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলমনাই এসোসিয়েশন অষ্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আতিকুর রহমানঃ অহংকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানী ঢাকা থেকে ১২০কিলোমিটার উত্তরে ও ময়মনসিংহ শহর থেকে ৪কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চতর কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম বিদ্যাপীঠ জাতীয় ও আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত ও গৌরবমন্ডিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(বাকৃবি)। ১৯২১সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৫৩সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরেই ১৯৬১সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। গৌরবোজ্জ্বল ৫৯ বছর পাড়ি দিয়ে ৬০ বছরে পর্দাপন করেছে বাকৃবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধনে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আরও উঁচুতে পৌছাঁনো এবং বিভিন্ন সময়ে কোভিট-১৯ সহ বিভিন্ন কারনে পরলোকগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলমনাই এসোসিয়েশন অব অষ্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে অদ্য ২২শে আগষ্ট  দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল । 

সিডনীসহ সারা পৃথিবীতে কোভিট-১৯ প্রভাবের জন্য অষ্ট্রেলিয়াতেও স্বাস্থ্যনীতি থাকায় ব্যাপক আকারে কোন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। অষ্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যনীতি নিয়ম মেনে স্বল্প পরিসরে গত ২২ অগাস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় সিডনীর মিন্টোস্থ প্রপার্টি  কেয়ারটেকার এর অফিসে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়। জুমের ব্যবস্থা থাকায় সিডনী, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, কানাডা, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত কৃষিবিদরা অংশগ্রহন করেন। ফলে ক্ষনিকের জন্য হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো দিনের স্মৃতিতে ভেসে যান কৃষিবিদরা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবুল সরকার সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত কৃষিবিদরা জুমের মাধ্যমে তাদের মত বিনিময় আদান-প্রদান করেন। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। 

পরিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ে হারানো শিক্ষক ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র জনাব বাহার। দোয়া অনুষ্ঠানে ও আবুল সরকার, আবদুল্লাহ আল মামুন, ড. এখলাছ বাবু, ড. আনিছুল আফছার, ড. পাপড়িসহ  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীসহ ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, প্রপার্টি, কেয়ারটেকারের প্রিন্সিপাল ডাইরেক্টর কবীর হোসেন সহ গনমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শস্যের জাত, চাষাবাদ কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রসারে সাফল্য অর্জন করেছে। 

মেলবোর্ন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা কামরুল জলিল করোনায় আক্রান্ত

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন প্রবাসী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র (ব্যাচ সিএমসি ১৭) বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ কামরুল জলিল এটম কোভিডে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার মেলবোর্ণের মার্সি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে আছেন। মেলবোর্ন নিবাসী ডাঃ আহমেদ শরীফ শুভ এই তথ্য নিশ্চিত করে ডাঃ কামরুল জলিলের রোগমুক্তির জন্য তার ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

শোক দিবসে সিডনি আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টায় ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির প্যারামাত্তা ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি শাখা।

এরপর সন্ধ্যা ৬টায় সিডনি আওয়ামী লীগের সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদার সভাপতিত্বে ল্যাকেম্বার ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সিরাজুল হক বলেন, ‘১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য এক ভয়াল দিন, এই দিনটিতে যে ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে, তা কখনও ভুলবার নয়। ঘাতকেরা চেয়েছিল জাতির পিতাকে হত্যা করে তাঁকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে। কিন্তু আজ জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু বেশি শক্তিশালী।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি রতন কুন্ডু বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবধারার একটি রাষ্ট্র বানাবে। কিন্তু তাদের সে ঘৃণ্য চক্রান্ত আজ ব্যর্থ হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের কাছে।’

অনুষ্ঠানের অপর বিশেষ অতিথি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সিডনির সভাপতি ড. মাসুদুল হক বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা করে ঘাতকরা যেমন অন্যায় করেছিল এবং যারা সেই ঘাতকদের বিচার বাধাগ্রস্থ করতে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল তারাও ঠিক তেমনি অপরাধী। ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি গাউসুল আলম শাহাজাদা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, কতটা ঘৃণ্য মানসিকতার মানুষ হলে জাতির পিতাকে অসম্মান করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টে একটি ভুয়া জন্মদিন পালন করে। এজন্য খালেদা জিয়া ও বিএনপির জাতির নিকট ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও বাংলাদেশ অাওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বলেন, ‘যে নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না। সে নেতাকে হত্যা করা কতটা জঘন্যতম অপরাধ হতে পারে তা যেকোনো বিবেকবান মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে। অথচ জিয়াউর রহমান ও বিএনপি জাতির পিতার হত্যার বিচারকে বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পাশাপাশি জিয়া ও বিএনপিকেও ইতিহাস ক্ষমা করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতার খুনিদের বিচারের মাধ্যমে জাতি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে, আশা করি পলাতক ও বাকি খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে খুব শীঘ্রই।’

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন লাল্টু বলেন, ‘১৫ আগস্টের প্রতিটি মৃত্যুই হৃদয়বিদারক কিন্তু শিশু শেখ রাসেল হত্যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে বর্বরতম ঘটনা। যে ঘটনাটি মনে পড়লে চোখের জল ধরে রাখা যায় না। যে নরপিশাচরা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে জাহান্নামেও তাদের ঠাঁই হবে না।’

আলোচানায় বক্তারা জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি খুনিদের বিচার দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান। 

আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এইচএম লাবু, ত্রাণ সম্পাদক আবুল বাশার রিপন, সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও নির্মল কস্ট্রা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান ও জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন ও রিপন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সালামসহ আরও অনেকে।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মেলবোর্নে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন

গত ১৫ই আগস্ট (শনিবার) মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ, অষ্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে মেলবোর্নে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। মেলবোর্নে কোভিড-১৯ এর জন্য স্টেইজ-৪ রেস্ট্রিকশন এবং কারফিউ চলার কারনে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর এক চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডঃ মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে দলের সাধারন সম্পাদক মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক সবাইকে স্বাগত জানিয়ে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। অতঃপর ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে শহীদ সকলের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর এক অনলাইন চিত্র প্রদর্শনী চলাকালে স্মৃতিচারণ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতা কর্মী ও অতিথি গন। এতে উপস্থিত বাংলাদেশীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় এক আবেগ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকে অশ্রু সংবরন করতে ব্যার্থ হন।

এরপর এক তথ্য ও গবেষণামূলক অনলাইন আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক । তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে আলোচনা করা ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন যে, না চাইতেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে যে দুস্প্রাপ্য স্বাধীনতা উপহার দিয়ে গেছেন তা জাতি এখনও বুঝে উঠতে পারছে না। পরাধীন যেসব এলাকার জনগন নিষ্পেষিত হচ্ছে তারা জানে স্বাধীনতার মূল্য, একজন বঙ্গবন্ধুর মূল্য। স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে বঙ্গবন্ধুকে খুন করায় দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে যার কারনে বাংলাদেশ আজকে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত নয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্যে জান্নাতের দোয়া করেন ও বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের শাস্তি কার্জকর করার দাবী জানান। এ ব্যাপারে তিনি মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমেরিকা সরকারের কাছে খুনীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো জন্যে পাঠানো ইমেইলের কথা জানান। এছাড়া তিনি সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু, তার শহীদ পরিবার এবং তার বাবা চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীর কমিটির প্রাক্তন সদস্য জনাব অধ্যাপক মোল্লা মোঃ রিয়াছত উল্লাহ সাহেবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গত ১৪ই আগস্ট শুক্রবার চাঁদপুর জেলার মতলব (দঃ) পৌরসভায় কোভিড-১৯ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরনের কথা জানান।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ সরকারের অনারারী কনসাল বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান অনু বলেন যে বঙ্গবন্ধু চাইতেন সৎ মানুষরা রাজনীতিতে আসুক কিন্তু পরবর্তীতে জেনারেল জিয়ার সময় রাজনৈতিক দূর্নীতির কারনে ভালো মানুষের জন্যে রাজনীতি করা কস্টকর হয়ে যায়। মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের উপদেস্টা, জ্বালানী বিশেষজ্ঞ, কনসালটেন্ট, ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সালেক সূফি তার স্মৃতিচারনমূলক বক্তব্যে বলেন যে বঙ্গবন্ধু তাদের বলেছিলেন যে বাংলাদেশে প্রচুর তেল গ্যাস আছে, তা দিয়েই বাংলাদেশের মানুষের অনেক চাহিদা পূরন হবে। বুয়েটে যেন প্রচুর পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার বানানো হয় যাতে দেশের ছেলেরা দেশের জন্যে কাজ করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার আর এম আই টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের উপদেস্টা জনাব সানিয়াত ইসলাম বলেন যে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় সফলতা হলো উনি ৭ কোটি বাংলাদেশীকে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একত্রিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। আইটি বিশেষজ্ঞ এশরার ওসমান তার বক্তব্যে বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মনে প্রানে আমাদেরকে লালন করতে হবে এবং আমাদের জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে । বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রাশিদা হক কনিকা তার বাবা-ভাইসহ তার পরিবারের ৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধাসহ স্মরন করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যায় ষড়যন্ত্রকারী খন্দকার মুশতাকের মতো ঘরের শত্রু বিভীষণরা এখনো দলে আছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল হক বলেন বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু একই। বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে হলে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কারনে আজ নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর কথা জানতে পারছে। কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, এলজিআরডির প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী জনাব ওয়াহিদুর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কঠিন সময়ের কথা স্মরন করেন। মেলবোর্ন প্রবাসী চিত্রশিল্পী, লেখক এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাসিনা চৌধুরী মিতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে তাদের শিক্ষিত করার আহবান জানান। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মুলেন্দ গূনের লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।  ক্যানবেরা আওয়ামী লীগের সভাপতি ব্যারিস্টার ড. শামীম আলম বাংলাদেশ সরকার এবং আওয়ামী লীগ থেকে দূর্নীতি রোধ কল্পে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং গবেষক ড. শেখ আলিফ তার বক্তব্যে বাংলাদেশে সংঘটিত বিব্রতকর দূর্নীতি রোধকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সালেহীন, গোলাম রহমান চৌধুরী, মেলবোর্ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ জেমস খান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম সোহাগ, মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ শহীদ সরকার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জনাব আবু সাদেক সহ আরও অনেকে।

সমাপনী বক্তব্যে ড. মাহবুবুল আলম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ যারা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা জীবন দান করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে যেটা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী অন্তর্গত করার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর জীবনী তথা আমাদের ইতিহাস শিক্ষা দিচ্ছে । যে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে মেলবোর্নেও বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দেরকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্বীকৃতি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া’র আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস

গত ১৬ ই অগাস্ট (রবিবার) বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়া বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করে। সিডনিস্থ মিন্টোর নবাব রেস্টুরেন্টে অত্যন্ত ভাব গম্ভীর পরিবেশে এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতিঃ ড. রতন কুণ্ডু ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন। উক্ত অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কোভিড – ১৯ নির্দেশনা অনুসরণ করে শুধুমাত্র সংগঠনের সদস্যদের পরিবার নিয়ে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনসুলেটের চাঞ্চেরি প্রধান, কনসাল কামরুজ্জামান। 

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনার পর ১৫ ই অগাস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার, অন্যান্য যাঁরা নিহত হয়েছিলেন তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।  নিহতদের ও ৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোআ পরিচালনা করেন জাহেরুল ইসলাম। এরপর দিবসটি উপলক্ষে প্রেরিত মাননীয় প্রথান মন্ত্রীর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করে শোনান যথাক্রমে ডঃ তারিকুল ইসলাম ও ডঃ রতন কুণ্ডু। এরপর দিবসটির তাৎপর্য ও প্রবাসে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। 

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনের উপর আলোকপাত করে কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশে যখন বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছিলো, ঠিক তখনই সামরিক বাহিনীর কিছু কুলাঙ্গার তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে।  তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

সবশেষে সংগঠনের সভাপতিঃ ড. রতন কুণ্ডু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন বাস্তবায়ন  করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, ১৫ ই অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার ও খুনিদের অনেকের শাস্তি কার্যকর হলেও অবশিষ্ট খুনিদের দ্রুততার সাথে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের শাস্তি কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরিশেষে সবাইকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে সভার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিডনিতে নির্মিত গীতিচিত্র ‘বাবা’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা এইদিনটি পালন করে থাকেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা, কর্মীদের রাজনৈতিক স্লোগান, মাইকে ভেসে আসা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, দোয়া মাহফিল, কাঙালিভোজ, সংবাদ মাধ্যমে ঘটনার প্রচার – এই হলো আমার চেনা-জানা জাতীয় শোক দিবস। 

এর বাইরেও আরেকটি গল্প আছে যেটি আমাদের খুব নাড়া দেয়। সেটি হলো নিহতদের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের ব্যক্তিগত বেদনার গল্প। যে কয়জন স্বজন তাঁরা একসাথে হারিয়েছেন, ততগুলো কষ্টকে পৃথকভাবে একত্রে ভেবে দেখার অনেক চেষ্টা করেছি। পারিনি। এতো ভয়ঙ্কর বেদনাকে অন্তরে ধারণ করাটা মানবতার পক্ষে সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন চলে আসে, এমন নিষ্ঠুরভাবে যাঁদের পরিবারকে হত্যা করা হলো, কেমন আছেন সেই সন্তানেরা? সেইসব সন্তানদের ব্যক্তি-জীবনের এই অকল্পনীয় কষ্টকে ফুটিয়ে তুলতেই “বাবা” নামের গানটি লেখা এবং এর  গীতিচিত্র করা। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দুরন্তপনাগুলো নিয়ে আর দশজনের মতো বাবার স্নেহে যারা বড় হতে পারতো, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কারণে তাদের জীবন থেকে সেই দুরন্তপনা, স্নেহ এবং স্মৃতি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল, দেয়া হয়েছিল শূন্যতা। “বাবা” গান এবং গীতিচিত্র সেই শূন্যতাকে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছে মাত্র। অস্ট্রেলিয়ায় নির্মিত এই গীতিচিত্রটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহতদের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের প্রতি উৎসর্গ করা। 

গানটি লিখেছেন, স্কটল্যান্ডের লোকগীতি অনুসারে সুর করেছেন এবং গীতিচিত্রটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন সিডনিবাসী রেমন্ড সালোমন, গানটি গেয়েছেন সিডনির ইউটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত নাফিসা শামা, সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জেমস ইংলান্ড। বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন। গানটি নির্মানকল্পে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অবস্কিওরের সাঈদ হাসান টিপু। 

গীতিচিত্রটির লিঙ্কঃ https://youtu.be/C2Vd_wzWR5w

গানটি নির্মানে ছিলেন, প্রযোজনা ও পরিচালনাঃ রেমন্ড সালোমন, আলোকসজ্জা ও পরিচালনা সহযোগীঃ ফাহাদ আসমার, সিনেমাটোগ্রাফি ও সম্পাদনাঃ শিমুল শিকদার, ভিএফএক্স সম্পাদনাঃ কেন অ্যাবট, কালার গ্রেডিংঃ মোশন গ্রাফিক্স এন্ড ভিস্যুয়াল এফেক্টস, মঞ্চসজ্জা ও শিল্প নির্দেশনাঃ রায়হান শাহেদ, গ্রাফিক্সঃ ইদা স্টয়চেভা, ফুটেজ পুনরুদ্ধারঃ বালাজ ভাসকান।  গীতিকার ও সুরকারঃ  রেমন্ড সালোমন, কন্ঠঃ নাফিসা শামা প্রভা, সংগীত পরিচালকঃ জেমস ইংলান্ড, শব্দ ধারনঃ ক্রাশ সিম্ফনি প্রোডাকশন, স্ট্রিংঃ ইয়ান কুপার, বাঁশিঃ অ্যান্ড্রু ওহ, পিয়ানোঃ জেমস ইংলান্ড।

অভিনয়েঃ শেখ মুজিবুর রহমান – রহমতউল্লাহ, শেখ হাসিনা- নাফিসা শামা প্রভা, শেখ রেহানা- ফিত্রিয়া পুর্বাওয়াতি, শেখ রাসেল- শেখ দাইয়ান, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব– শাহরিনা শারমিন। অন্যান্য- মনির স্বপন, আল নোমান শামিম, আমিনুল হক, এমদাদ হক। রূপসজ্জাঃ ডেভিড বউলস, এসএফএক্সঃ স্টুয়ার্ট রাঊজেল, ব্লাডহাউন্ড এফএক্স স্টুডিও। মঞ্চ ও প্রপ সরবরাহঃ সিডনি প্রপ স্পেশালিস্ট। বিশেষ উপদেষ্টাঃ আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সিডনিতে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গত  ১৬ আগস্ট (রবিবার) অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সিডনিতে জুমের মাধ্যমে অনলাইনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসিম সামাদের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় বানিজ্যমন্ত্রী জনাব টিপু মুনশী এমপি। 

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন শফিকুর রহমান অনু (অকল্যান্ড), এমদাদ হক, লাইলাক শহীদ, ফয়সাল মতিন, ইহতেশামুল কবিরপিকলু, ব্যারিস্টার নির্মাল্য তালুকদার, অনুপ মন্ডল, মশিউর রহমান হৃদয়, মোহাম্মদ মুনীর হোসেন, আইভি রহমান, নোমান শামীম, তারিক বাপ্পী, মামুন হক, জামির আহমেদ, মেহেদী হাসান, অভিক সরকার, ওবায়েদুল হক, রাকসান্দ কামাল, ফাহাদ আসমার, প্রমুখ। 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী বলেন, পচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে তার আদর্শ ও চেতনাকে হত্যার করারঅপচেষ্টা করেছে। তারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করবার চক্রান্তে মেতেছিল। তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে? তবে একুশ বছরে তারাবাংলাদেশের অনেক ক্ষতি করে গেছে। সেখান থেকে উন্নয়নের ধারায় তুলে এনে আজ বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে রোল মডেলেপরিণত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, আমরা সবাই মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারনেতৃত্বে দেশের জন্য কাজ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারবো। 

সভায় অন্যান্য বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পেছনের রাজনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক কারণগুলো উন্মোচনকরার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবিলম্বে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশন গঠন করার দাবি জানান। বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ত্যাগের আদর্শ, ভোগের নয়। যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে দেশে-বিদেশে দুর্নীতি-প্রতারণার সাথেজড়িত, তাদের দলের সর্বস্তর থেকে বহিষ্কার করে দলে শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানান। আবার রাজনীতিবিদদের মাথায় কাঠালভেঙ্গে, ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে বাংলাদেশের কতিপয় আমলা ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের সাথেজড়িত। তাদের অনেকেই দুর্নীতিবাজ শাহেদদের গডফাদার। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।মুজিববর্ষে আয়োজিত এবারের এই শোকসভায় সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতেহবে। বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষিতে করোনা পরিস্থিতি সাহস এবং দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নকে টেকসই করবার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতকেশক্তিশালী করার জন্য আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আহবান জানানো হয়। সভায় বক্তারা সব ধরনেরবিভেদ ভুলে অস্ট্রেলিয়ায় ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গড়ে তুলবার জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনারসকল কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।