বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩শে জুন। গতকাল (মঙ্গলবার) দলটির ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিস্থ ল্যাকেম্বার বনফুল রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সফল নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি গাউসুল আলম শাহজাদার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ও আইনজীবী সিরাজুল হক বলেন, আজ আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এই দিনটিতে ৭১ সংখ্যাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ৭১ সংখ্যাটি আমাদের স্বাধীনতার সাল ১৯৭১-এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা ও ভালোবাসায় যদি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত না হত তাহলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড আমরা পেতাম না। তাই আজকের এই দিনে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ও বর্তমানে নৌকার মাঝি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

আলোচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি গাউসুল আলম শাহজাদা বলেন, বাংলাদেশ মানে আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশ। দুটি শব্দই জাতির ইতিহাসে একে অপরের পরিপূরক। তাই ইতিহাসে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন আওয়ামী লীগ থাকবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন, আজকে আমরা যে বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাঙালি ও বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বে গর্বভরে পরিচয় দেই, তার সমস্ত কৃতিত্বের দাবিদার আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আ্ওয়ামী লীগ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ একটা কথা মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু না হলে আওয়ামী লীগ হত না, আর আওয়ামী লীগ না হলে বাংলাদেশ হত না। তাই এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবদেন করছি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ড. রতন কুন্ডু বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের মানুষের যত অর্জন তার প্রত্যেকটির পেছনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তাই বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে গেলে বারবার আওয়ামী লীগের নিকট ফিরে যেতে হবে।

আলোচনার এক পর্যায়ে বাসভূমি টিভির কর্ণধার ও লেখক আকিদুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এতটা সফল কোনো রাজনৈতিক দলের পাওয়া সত্যি দুষ্কর। কেননা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সফলতার বড় প্রমাণ এই দলটি একটি দেশের জন্ম দিয়েছে।আর তা সম্ভব হয়েছে কারণ আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত একজন নেতা ছিলেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আমিনুল ইসলাম রুবেল বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন, যে সংগঠনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সব সময় কাজ করে গেছে, ইতিহাসই তার সাক্ষী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়ার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার ত্রাণ সম্পাদক আবুল বাশার রিপন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি ড. তারিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালামসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন লালটুর শোক প্রস্তাবনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম, ধর্মমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সিলেটের সাবেক মেয়র বদরুদ্দিন কামরানসহ দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য মাগফেরাত কামনা করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংকস্টাউন সিটি কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শাহে জামান টিটো, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কচি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম লাবু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সহ-সভাপতি মিল্টন আহমেদ ও শফিক চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ শিহাব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জুয়েল হাওলাদার, আবুল কাশেম, রেজাউল করিম, ইমরান হোসেন ও  ম্যান্থন,  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শাহীন রেজা, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি জাকারিয়া আল স্বপন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পল সৈকত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিডনির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হাসান মেহেদী, কাজী আদনান মোস্তফা, রানা শরীফ, মিরাজ খান, হাবিব হাসান, কাউয়ুম আজাদ,শাহীন, কামাল ও আনোয়ার প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাসভূমি টিভির কর্ণধার ও লেখক আকিদুল ইসলামের সহধর্মিণী শামীমা সুমি।

উল্লেখ্য, আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয় এবং মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তৃতা ও এক প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের যবনিকা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় করোনার প্রকোপ বাড়ায় ভিক্টোরিয়া রাজ্যে সেনা মোতায়েন

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন:  প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দীর্ঘ একমাস পর গত দুই দিনে অস্ট্রেলিয়ায় ২ জন মৃত্যুবরণ করেঁচে এবং নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ জন। করোনা নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার রাজ্যের মেলবোর্নে সেনা মোতায়েন করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে নতুন করে ১৫০ করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং নতুন আক্রান্তের অধিকাংশই এই রাজ্যে। এই কারনে করোনার প্রকোপ প্রতিরোধের জন্য এক হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিন্ডা রেইনল্ডস বৃহস্পতিবার বলেন , আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দ্রুত সেনা মোতায়েন করা হবে। সেনাদের মধ্যে ৮৫০ জন বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মনিটর করবেন এবং বাকি ২০০ সেনা করোনা পরীক্ষার জন্য কাজ করবেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্হ্য অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭,৫৫৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬,৯৩১ জন। অস্ট্রেলিয়ায় এ পর্যন্ত সর্বোমোট প্রায় ২২ লক্ষ লোকের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। (ছবিঃ ইন্টারনেট)

করোনাকালে “বিশ্বভরা প্রাণ” এর সাংস্কৃতিক উদ্যোগ

শতদল তালুকদার: পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশ যখন করোনা ভাইরাসের  নির্মম ছোবলে অসহায়, শহরের পর শহর লকডাউনের ফলে মানুষের জীবন  যখন অতিষ্ঠ  ও হতাশাগ্রস্ত তখন একে অপরকে শক্তি ও সাহস যোগাতে “বিশ্বভরা প্রাণ” নামক একটি অনলাইন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একটি মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । মানুষের এই পরিস্থিতি উপলব্ধি করে সংগঠনটি নিয়মিত উদযাপন করে যাচ্ছে অনলাইন লাইভ যার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সারথিদের নিয়ে বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপনের ধারাবাহিকতায় বাংলার ঐতিহ্যমণ্ডিত ঋতু বর্ষাকে নিয়েও সাজিয়েছে বৈচিত্র্যমূলক অনুষ্ঠান। 

জাহান বশীরের উপস্থাপনায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন অনেক প্রথিতদশা শিল্পী ও আবৃত্তিকার । অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে যুক্ত হন দেবী সাহা যিনি অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাঙ্গালির শিল্প-সাহিত্যকে অস্ট্রেলিয়ায় সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছেন । তাছাড়া এখানকার জনপ্রিয় ভারতনৃত্যম ও ওডিসি নৃত্যশিল্পী শ্রেয়সী দাস নৃত্য পরিবেশনা করেন এবং কবি সৌমিক ঘোষ তার আবৃত্তির মূর্ছনায় সকলকে যেন কিছুক্ষণের জন্য যেন করোনা পরিস্থিকে বিস্মৃত করে ফেলে । 

আর বাংলাদেশ থেকে যুক্ত হন নারী জাগরণের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আশালতা সাহা। তিনি যে আজীবন মানুষকে সহযোগিতা করার ব্রত নিয়ে চলেছেন বিশেষ করে দুঃস্থ  নারীদের কর্মমূখী করতে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা শেয়ার করে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন । 

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে যুক্ত হন ভারতের শিল্পীবৃন্দ যাদের পরিবেশনা ছিলো মনোমুগ্ধকর । এ ছাড়া আমেরিকা থেকে যুক্ত হয়ে শিল্পীরা রাঙিয়ে দিয়েছেন সকলকে। সব মিলিয়ে এ অনুষ্ঠানটি মিলন মেলায় রূপান্তরিত হয়। মানুষ কিছু সময়ের জন্য হলেও ভুলে যায় করোনা আতঙ্ক। সবশেষে পৃথিবীর সকল জীবের কল্যাণ কামনা এবং করোনাকালে নিজ নিজ সাবধানতাকে গুরত্ব দেওয়া হয়।

সাইবার হামলার শিকার হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ॥ জানালেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিশন

মোহাম্মেদ আবদুল মতিন: সাইবার হামলার শিকার হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সরকারিক্ষেত্রের পাশাপাশি বেসরকারিক্ষেত্রেও সুরক্ষা লঙ্ঘন হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে। এমন ঘটনা কোন গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য প্রণোদিত নাকি ইচ্ছে করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেই জান গিয়েছে। 

স্থানীয় সময় ১৯ জুন শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই সাইবার হামলার ধারাবাহিকতা বেড়েছে। তিনি বলেন, হামলার ব্যপকতা, লক্ষ্য নির্ধারণের প্রকৃতির কারণে এসব হামলাকে রাষ্ট্রীয় মদদের হামলা বলে চিহ্নিত করেছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। কোন দেশ এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো বহু রাষ্ট্র রয়েছে। বিশ্ব জুড়ে এই ধরনের ‘বিদ্বেষপরায়ণ’ কর্মকাণ্ড দেখা যায় বলে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে এটি কোনও অনন্য ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেন স্কট মরিসন।

তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, “সফিসটিকেটেড স্টেট-বেসড সাইবার অ্যাক্টর” টার্গেট করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে, এমনটাই জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিশন। এই হামলায় টার্গেট সরকারিক্ষেত্রের সব পর্যায়, রাজনৈতিক সংস্থা, পরিকাঠামোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সার্ভিস এবং অপারেটর, ক্যানবেরায় সংবাদম্যধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মরিশন। সাইবার হামলার ধরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে “সফিসটিকেটেড স্টেট-বেসড সাইবার অ্যাক্টর”।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাস গুলিতে চীন- অস্ট্রেলিয়ারসসম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে । করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করার পর থেকে চীন একধরনের বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে ভারত সরকারের ওয়েবসাইট এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে টার্গেট করেছে চিন। তবে তা সফলভাবে ব্যর্থ করতে পরেছে ভারত, তেমনটাই জানা গিয়েছে মিডিয়া রিপোর্টে। চিনের চেংদু এলাকায় এই কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

পিপল লিবারেশন আর্মির ৬১৩৯৮ ইউনিটের সদর দফতর চেংদু’তেই। যে ইউনিট গোপনে সাইবার যুদ্ধ চালানোর জন্য পরিচিত। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বের একাধিক দেশের সংস্থা এবং সরকারিক্ষেত্রে সাইবার হামলা চালানোর জন্য পরিচিত। ১৯৯০ সাল থেকেই চিন নিজেদের সাইবার স্পেস ডকট্রিন তৈরির চেষ্টা করছে। ২০০৯ সালের ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার মনিটর রিপোর্ট ‘ট্র্যাকিং ঘোস্টনেট’ অনুযায়ী, তদন্তের পর দেখা গিয়েছে, ১৯৯০ সালের শেষের দিক থেকে সাইবার স্পেস ডকট্রিন তৈরির চেষ্টা করছে চিন যা চিন সেনার আধুনিকীকরণের অংশ।

পাশাপাশি, চাইনিজ হ্যাকারদের দুষে জানিয়েছে ‘বিদেশি সরকারের কম্পিউটার এবং বানিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্যচুরি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান সরকারের কম্পিউটার হ্যাক করা হয়েছে, উঠে এসেছে এমন তথ্য।

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন ধরনের সাইবার হ্যাকিংয়ের সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতার কথা দীর্ঘ দিন থেকেই বলে আসছেন সাইবার গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা। তবে চীনের পক্ষ থেকে হ্যাকিংয়ের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে। ছবিঃ ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক ছাত্র ও আশ্রয়প্রার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিলো মাল্টিকালচারাল সোসাইটি ক্যাম্বেলটাউন

অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থানরত কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত  আন্তর্জাতিক ছাত্র ও শরণার্থীদের  আর্থিক সহায়তা দিয়েছে মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনে ইনক। এই ফান্ড গঠনের জন্য মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনে ইনকের সদস্যরা ছাড়া ও কমিউনিটির স্বহৃদয়বান ব্যাক্তিরা অর্থ প্রদান করছেন। এর আগে আর্থিক অনুদান গ্রহনে আগ্রহী আন্তর্জাতিক ছাত্র ও শরণার্থীদের থেকে আবেদনপত্র আহবান করা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই জন্য উপ কমিটির সদস্যগণ আজ ১৩ জুন  শনিবার মিন্টোর স্হানীয় একটি রেস্টুরেন্ট এক  সভায় মিলিত হন। সভায় সভাপতিত্ব করেন  যাচাই-বাছাই  উপ কমিটির আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান। উপস্হিত ছিলেন মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনে ইনকের সভাপতি ইনাম হক, সাধারন সম্পাদক মোঃ শফিকুল আলম,সহ-সভাপতি টুঙ্গানাথ খারেল,যুগ্ম সম্পাদক রওনক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান এ্যাশ,সমাজকল্যান সম্পাদক সেলিম কবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আউয়াল খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উষা খাদকা, প্রমুখ।

সভায় প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য আন্তর্জাতিক ছাত্র ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাংক হিসাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্বান্ত গ্রহন করা হয়। এছাড়া সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত  আন্তর্জাতিক ছাত্র ও শরণার্থীদের  সাহায্যের জন্য  ফান্ড গঠন এবং বাংলাদেশ  আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশীদের ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহন করার জন্য সভাপতি ইনাম হক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

সিডনিতে নির্মিত স্বদেশ এন্টারটেইনমেন্টের নতুন গানচিত্র ‘এইবার যদি ফিরে আসি’

সিডনি প্রবাসী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ এন্টারটেইনমেন্ট’ প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ফয়সাল অাজাদের প্রযোজনায় সম্প্রতি সিডনিতে একটি গানচিত্রের শুটিং সম্পন্ন করেছে।

এইবার যদি ফিরে আসি’  শিরোনামে গান চিত্রটির গানের কথা লিখেছেন আরিফুর রহমান কণ্ঠ দিয়েছেন ফয়সাল চৌধুরী ও  সুর করেছেন মাহমুদুল হাসান। জায়েদ রিজওয়ানের পরিচালনায় মডেল হিসেবে অভিনয় করেন সাদী, রুপন্তি ও মাসুদুর রহমান। এছাড়া লাইন প্রোডিউসার হিসেবে ছিলেন ফকরুল রিয়া এবং শুটিংয়ে সার্বিক সহযোগিতার ছিলেন মাহফুজ আহমেদ।

গানচিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রযোজক ফয়সাল আজাদ বলেন, ‘স্বদেশ এন্টারটেইনমেন্ট’ সব সময় নতুন কিছু করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গানের কথা ও সুর খুবই ভালো হয়েছে। আশা করি দর্শকের মন জয় করতে পারবে। তিনিও আরো বলেন, ইতোমধ্যেই সিডনির দৃষ্টিনন্দন জায়গায় গানচিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এবং খুব শীঘ্রই গানচিত্রটি ইউটিউবে  মুক্তি দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ‘স্বদেশ এন্টারটেইনমেন্ট’ বাংলাদেশের টিভি নাটক নিয়ে কাজ করে ইতোমধ্যেই দর্শকের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক সফল প্রযোজনা নিয়ে দর্শকের সম্মুখে হাজির হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন গানচিত্র নিয়েও আশাবাদী নির্মাতারা।

বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষদের সাহায্যার্থে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসিদের প্রসংসনীয় উদ্যোগ

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: করোনা মহামারীর ফলে বাংলাদেশের কয়েক কোটি দরিদ্র মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ভাবেও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এসকল বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসিদের অলাভজনক সংগঠন ‘লিসেন ফর ইনক্’। এই সংগঠন এশিয়াটিক এক্সপো এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী অনলাইন ফান্ড রেইজিং কনসার্ট ‘স্বপ্নের ডাক’ এর আয়জন করেছে। কনসার্ট থেকে সংগৃহীত তহবিল ইউএনডিপির কোভিড -১৯ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় এই উদ্যোগটি সফল করতে লিসেন ফর ইনক্ এর পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় ১৪ জুন (রবিবার) সন্ধ্যায় সিডনির ইঙ্গেলবার্নস্থ একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, বাংলাদেশে করোনা মহামারীর একদম শুরু থেকেই ইউএনডিপি বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে আসছে । কোভিড ভাইরাস প্রতিরোধে, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ইউএনডিপি তাদের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের অর্থনৈতিক ক্ষতি মেটানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আর তারই একটি অংশ হিসেবে এশিয়াটিক এক্সপো এবং লিসেন ফর ইনক্ এর যৌথ উদ্যোগে ‘স্বপ্নের ডাক’ অনলাইন ফান্ড রেইজিং কনসার্টে, ইউএনডিপি পার্টনার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ।

অপরদিকে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বপ্নের ডাক অনলাইন ফান্ড রেইজিং কনসার্টে যুক্ত হবেন সংগীতশিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, আবৃত্তিকার সহ আরও অনেকে।

ইরেশ জাকের (বাংলাদেশ), মুনমুন (কানাডা) এবং আম্ব্রিন (কানাডা) এই তিনজনের সঞ্চালনায় দেশীয় সংগীতশিল্পী হিসেবে থাকবেন,শাফিন আহমেদ, কুমার বিশ্বজিত, বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়া, সামিনা চৌধুরী, মাক্সুদ ও ঢাকা, তাহসান খান, মিলা, আখি আলমগীর, দিনাত জাহান মুন্নি, হাসান আবেদুর জুয়েল, এলিটা করিম, শাকিব (ক্রিপ্টিক ফেইট), জন, শুভ, যোহাদ, কনা, হৃদয় খান, তন্ময়, শুন্য, ইমরান, পিন্টু ঘোষ, পারভেজ, রিয়াদ হাসান, ফারশিদ, জয় শাহরিয়ার, নন্দিতা ও রাজু।

এছাড়াও দেশের বাইরে থেকে যোগদান করবেন -শ্রীকান্ত আচার্য, নাচিকেতা, লোপামুদ্রা, অর্ক মুখারজি (ইন্ডিয়া)। চন্দন (কানাডা-উইনিং), আনিলা চৌধুরী (যুক্তরাষ্ট্র)। সিমিন, মালা (অস্ট্রেলিয়া), সিথি সাহা (নিউজিল্যান্ড), জোহান আলামগীর (যুক্তরাষ্ট্র) এবং প্রিতম আহমেদ (যুক্তরাজ্য)। 

পাশাপাশি আবৃত্তিকার হিসেবে থাকছেন, আসাদুজ্জামান নূর (এম পি), হাসান আরিফ, প্রজ্ঞা লাবনি এবং শারমীন লাকি।  

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সরাসরি আলাপচারীতায়ে যোগ দিবেন, সারা যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, জুয়েল আইচ, নুসরাত ফারিয়া, মিথিলা, বিদ্যা সিনহা মিম, অপূর্ব, ইমন, সজল, নাবিলা, ফজলুর রাহমান বাবু, আফসানা মিমি, বন্যা মির্জা সহ আরও অনেকে।

এই ফান্ড রেইজিং অনলাইন কনসার্টে যুক্ত হবার সুবিধার্থে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও বাংলাদেশ – এই  ৪টি টাইম জোনে ধারাবাহিক ৪টি পৃথক পর্বে এই অনলাইন কনসার্ট আয়োজিত হবে। 

যার প্রথম প্রদর্শিত হবে আগামী ২০ জুন ২০২০ বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায়। পরের কনসার্টটি একই দিনে ব্রিটিশ সামার স্ট্যান্ডার্ড টাইম জোনে রাত ৮টায় দেখতে পাওয়া যাবে (বাংলাদেশ সময় ২১শে জুন, ভোর ১টা)। ২০শে জুন নর্থ অ্যামেরিকা সময় রাত আটটায় দেখা যাবে তৃতীয় কনসার্টটি যা বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা। এই ক্যাম্পেইনের সর্বশেষ কনসার্টটি প্রদর্শিত হবে পরদিন ২১শে জুন অস্ট্রেলিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম জোনে সন্ধ্যা ৭টায়। 

www.swapner-daak.org  এই সাইটে গিয়ে (ও ফেসবুকে ) দর্শকরা সরাসরি এই অনলাইন কনসার্ট দেখতে পাবেন এবং এই মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, দুঃস্থ মানুষের জন্য আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন । আপনার দেয়া অর্থ  ইউএনডিপির মাধ্যমে সরাসরি চলে যাবে, কোভিড-১৯ এর ফলে অর্থনৈতিক ভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন, গরিব জনগণের দোরগোড়ায়, যেন তারা খুব শীঘ্রই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।  পেমেন্ট সংক্রান্ত নিয়মাবলী জানার জন্য ক্লিক করুন: www.swapner-daak.org

করোনামুক্তি চেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভার্চুয়াল প্রার্থনা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

শতদল তালুকদার : সারা বিশ্ব থেকে করোনা ভাইরাস তথা কভিড-১৯ থেকে মুক্তি চেয়ে ১৩ জুন সন্ধ্যায় জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া এক ভার্চুয়াল প্রার্থনা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে । এই অনুষ্ঠানে মূলত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে জুম এ্যাপের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন । এর লাইভ স্ট্রীমিং করা হয় ফেইসবুক পেইজে আর সেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন । 

করোনা ভাইরাস মহামারি আঁকার ধারণ করায় সমগ্র পৃথিবীর মানুষ এখন ভীষণ অসহায় । এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন আবার কেউবা হারিয়েছেন নিকট আত্মীয়দের অথবা কেউ কেউ মৃত্যুর প্রহার গুনছেন । এই মুহূর্তে কারো জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই , নেই কোনো আস্ফালন; শুধু সতর্ক অবস্থান আর সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা ছাড়া কোনো উপায় নেই । এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জগন্নাথ হলের প্রাক্তনীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে কেউ কেউ প্রার্থনা সংগীত করে আবার কেউ আবৃত্তি করে একে অপরকে শক্তি ও সাহস যোগানোর চেষ্টা করেছেন ।  

তুষার রায়ের উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানটি খুবই প্রাণবন্ত ও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে । আর সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন অভিজিত সরকার, পলাশ বসাক, নির্মল চৌধুরী, জ্যোতি বিশ্বাস, অদিতি রাউত, শিব চক্রবর্তী, সুভাষ সাহা, রিপন পালসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ আর আবৃত্তি করেন কবিতা রায়, প্রিয়ন্তী বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস প্রমূখ । এ অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্ব তথা টেকনিক্যাল সহযোগিতা করেন প্রদীপ রায় ।

সিডনিতে জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সহযোগিতা অব্যহত

মানুষ মানুষের জন্য,  জীবন জীবনের জন্য শ্লোগান নিয়ে জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া করোনা পরিস্থতিতে সিডনীতে ভুক্তভুগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছিল তা এখনো অব্যহত রেখেছে।

অস্ট্রেলিয়াতে করনা পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাদের কার্যক্রম  প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু  কিছু কিছু লোক এখনো তাদের কর্মসংস্থান ফিরে পাননি,  তারা জিয়া ফোরামের সাথে যোগাযোগ করে। জিয়া ফোরাম তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল প্রায় ৪০ টি পরিবারকে তাদের বাসায় গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল ডাল, পিয়াজ, তেল, নুডুলস, সস  ছোলা লবন এবং চানাচুর।

এখানে উল্লেখ্য যে জিয়া ফোরাম অস্ট্রলিয়া প্রতি বৎসর স্বাধীনতা বা বিজয় মেলা করে থাকে। কিন্তু সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তারা বুশ ফায়ারে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করে তা প্রদান, বাংলাদেশে শীতার্থ জনগনের মাঝে কম্বল বিতরন, করনাকালীন সময়ে বাংলাদেশের দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন, বাংলাদেশের এতিম খানায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন সহ  অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন মৃত ব্যক্তির দাফনে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।


গতকাল সকলের বাসায় খাদ্য সামগ্রী পৌছানো সহ একার্য্যক্রম তদারকী করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আহ্বায়ক ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ড. প্রফেসর ড. হুমায়ের চৌধুরী,  বিএনপি নেতা ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক সোহেল ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম রনী,  মো. ফরিদ মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মনজুরুল হক আলমগীর, প্রকাশনা সম্পাদক সা’দ সামাদ, প্রচার সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মিয়া অপু সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক তাফতুন নাঈম নিতু, দিপু সহ অন্যান্যরা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর শাহ জামান টিটু এবং কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বাবু। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিডনিতে লিসেন ফর এর সাংবাদিক সম্মেলন ১৪ জুন

আগামী ১৪ জুন (রবিবার) সন্ধ্যা ৭ টায় সিডনির ইঙ্গেলবার্নস্থ দাওয়াত রেস্টুরেন্টে অস্ট্রেলিয়ার ‘লিসেন ফর’ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন ইমন স্থানীয় সকল মিডিয়া ও তাদের প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

ইউএনডিপির সহযোগিতায় করোনা মহামারিতে সহায়তা তহবিল গঠনে ‘স্বপ্নের ডাক’ নামে অনলাইন কনসার্টের আয়োজন করেছে ‘এশিয়াটিক ইএক্সপি’ এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘লিসেন ফর’। কনসার্ট থেকে সংগৃহীত তহবিল ইউএনডিপির কোভিড -১৯ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের নীচে থাকা লোকদের সহায়তা করতে বিতরণ করা হবে। অস্ট্রেলিয়ায় এই উদ্যোগটি সফল করতে লিসেন ফর ইনক এর এই সাংবাদিক সম্মেলন।

অস্ট্রেলিয়ার ‘লিসেন ফর’ এর একজন মুখপাত্র জানান, আয়োজনটি বাংলাদেশ ও এর বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে চারটি জোন ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও বাংলাদেশে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্ব ২০ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় দেখা যাবে। পুরো কনসার্টটি সরাসরি দেখা যাবে স্বপ্নের ডাক ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে। এ আয়োজন থেকে পাওয়া অর্থসহায়তা ইউএনডিপির মাধ্যমে চলে যাবে অসহায় মানুষের কাছে।