অস্ট্রেলিয়ায় এবার দুইদিন ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হবে

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: যথাযথ মর্যাদা, আনন্দ উচ্ছ্বাস আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগামীকাল ২৪ মে (রোববার) এবং ২৫ মে (সোমবার) দুইদিন উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল ফিতর।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল (এনিক), লেবানিজ মুসলিম এসোসিয়েশন (এলএমএ) এবং দারুল ফতোয়া অস্ট্রেলিয়া পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল ২৪ মে (রোববার) ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে সিডনি সহ অস্ট্রেলিয়ার অন্য কোন রাজ্যে আজ সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় মুনসাইটিং অস্ট্রেলিয়া আগামী ২৫ মে (সোমবার) পবিত্র ঈদউল ফিতর পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারে ব্যতিক্রম ধর্মী ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্ততপক্ষে ৬ লক্ষ ৪ হাজার মুসলমান বসবাস করে এবং ছোট-বড় মিলিয়ে দুইশতেরও অধিক মসজিদ রয়েছে। কিন্তু করোনার উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের সকল মসজিদ ও ধর্মীয়উপাসনালয় গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

অপরদিকে গত ১৫ মে থেকে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো উন্মুক্ত করা হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাত্র ১০ জন মুসল্লীর নামাজে অংশগ্রহণ করার অনুমতি রয়েছে। তাই অধিকাংশ মুসলমান ঘরে বসেই তাঁদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন। তেমনি ঘরে বসেই এবারের ঈদের নামাজ আদায় অথবা এর পরিবর্তে (ছারছিনা দরবার শরীফের ফতোয়া অনুযায়ী) দুই রাকাত করে মোট চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে হবে।

এদিকে পবিত্র  ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, নিউসাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রিমিয়ার গ্লাডিস বেরেজিকলিয়ান, ফেডারেল এমপি টনি বার্ক সহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি নেতৃবন্দ।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, সকল ধর্মেই পবিত্র উৎসবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগতভাবে এবংকমিউনিটির দিক দিয়েও। আর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরের জন্য এটি সুনিশ্চিত ভাবেই সত্য। এটি একটি পূত-পবিত্র সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে, রোযা শেষ হওয়ার সময়, পরিবার এবং কমিউনিটি হিসেবে একত্রিত হওয়ার সময়। তবে এবছরের ঈদ ভিন্ন রকম। তবে, ঈদের বাণী এবং আপনাদের প্রতি আমার বার্তা নিঃসন্দেহে পরিবর্তিত হয় নি।

বিশ্ব মুসলমানের জীবনে রামাদ্বান যেমন আত্মশুদ্ধি ও সাম্যের বার্তা নিয়ে হাজির হয়, ঠিক তেমনি ঈদ বয়ে আনে সাম্য-মৈত্রী-সম্প্রতির সুমহান বার্তা। ঈদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। আল্লাহ যে নেয়ামত দান করেছেন তারজন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা। ঈদ উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষ ছোট বড়, ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে যায়। ঈদ হলো সম্প্রীতির সেতুবন্ধন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s