অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন শহরে উচ্চস্বরে আজানের অনুমতি

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে মেলবোর্ন মুসলিম কমিউনিটির বিশেষ অনুরোধে গত শুক্রবার (১লা মে) অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্ন শহরের দু’টি মসজিদে আজানের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। শুধুমাত্র পবিত্র রমজান মাসে ইশা এবং জুমার নামাজের জন্য উচ্চস্বরে আজানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত মসজিদ দুটির বেশিরভাগ মুসল্লিই অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তুর্কি নাগরিক। 

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস্ রাজ্যের বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা লাকেম্বার বড় মসজিদে উচ্চস্বরে আজান প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত এখানে লাউডস্পিকারে করে মাগরিবের আজান প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন মসজিদটির পরিচালনাকারী অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমএ) নির্বাহী পরিচালক আহমদ মালাস।

অস্ট্রেলিয়ার লেবানিজ মুসলিম কমিউনিটির প্রচেষ্টায় এই আজানের অনুমতি মিলেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আহমদ মালাস। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের এই বৈশ্বিক মহামারিতে আজান প্রচার করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমবার যখন লাউড স্পীকারে আজান দেওয়া হলো, পুরো মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কমিউনিটি বসবাস করে  সিডনির এই লাকেম্বা শহরে। অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত মসজিদের ভেতরে ছোট করে আজান দেওয়া হতো। বড় কোনো মসজিদ এবং ঈদের নামাজের সময় কখনো ছোট মাইক্রোফোনে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এই প্রথম উচ্চ স্বরে আজান অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদের জন্য এক বিরল ঘটনা। 

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাস করে অন্ততপক্ষে ৬ লক্ষ ৪ হাজার মুসলমান। ছোট-বড় মিলিয়ে দুইশতেরও অধিক মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়। কিন্তু করোনার উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের সকল মসজিদ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলমানরা বাসায় বসে নামাজ আদায় করছে।