অস্ট্রেলিয়ান সুপার স্টার করোনায় আক্রান্ত ॥ কোভিডসেফ আইন অমান্য করলে ৬৩ হাজার ডলার জরিমানা ও ৫ বছর জেল

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: অস্ট্রেলিয়ার সাউথ সিডনি রেবিওটস্  ক্লাবের সুপার স্টার লেটারেল মাইকেল সহ আরো তিন খেলোয়ার করোনায় আক্রান্ত  হয়েছেন। এর আগে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে লেটারেল মাইকেলকে ২০ হাজার ডলার জরিমাণা করা হয়েছিল। আগামী ২৮ মে থেকে ন্যাশনাল রাগবি লীগ ম্যাচ শুরু হবে এবং এই খেলার প্রস্তুতির পূর্বেই তার শরীরে করোনা ভাইরাস টেস্টে পজিটিভ ধরা পড়ল।

এদিকে গত ২২ জানুয়ারী থেকে আজ সোমবার ৪ মে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬ হাজার ৮২৫ জন এবং এর মধ্যে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ হেলথ এলার্ট। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৮৫৯ জন।

অস্ট্রেলিয়ান সরকার কোভিডসেফ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে। যেটা দিয়ে সহজেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়াদি দ্রুত বের করা যায়। কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না জেনেও এসে থাকে তাহলে এই অ্যাপের কল্যাণে দ্রুত কোয়ারেন্টিন ইত্যাদি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। গত কয়েকদিনে  প্রায় ৪৭ লক্ষ ৭৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান এই অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধিত হয়েছেন। 

অস্ট্রেলিয়ান সরকার কোভিডসেফ নামে একটি নতুন আইন প্রনয়ন করেছে। কোভিডসেফ অ্যাপে ডাউনলোডকৃত তথ্য (ডাটা) যদি কোন হ্যাকারস চুরি করে এবং অপব্যবহার করে তার জন্য ৬৩ হাজার ডলার জরিমানা করা হবে এবং ৫ বছর জেল খাটতে হবে।

অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার করোনোভাইরাস সংক্রমণ বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও করোনা প্রতিরোধে সফল হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ নিউজিল্যান্ড। দেশটিতে রবিবার নতুন করে কোনও করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। গত ১৬ মার্চের পর থেকে দেশটিতে এবারই প্রথম শূণ্যের ঘরে নেমে এসেছে নতুন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এছাড়া দেশটিতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত আর কারো মৃত্যু হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন। মারা গেছেন ২০ জন। গত সপ্তাহ থেকে নিউজিল্যান্ডে এক অঙ্কের ঘরে নেমে আসে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। আর এ কারণে দেশটিতে লকডাউন শিথিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার।

বিশেষ অনুমতিক্রমে অস্ট্রেলিয়া এসে পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ডের রাগবি দল

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: অস্ট্রেলিয়ার রাগবি লীগের বিশেষ অনুমতি গতকাল রবিবার ৩ এপ্রিল বিকেল একটি বিশেষ চার্টার বিমানে করে নিউজিল্যান্ডের রাগবি দল অস্ট্রেলিয়ার লোকাল এলাকা ট্যামওয়ার্থে পৌঁছেছে। সিডনি থেকে স্থলপথে পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই  ট্যামওয়ার্থ শহর। আপাতত সেখানেই ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকবে নিউজিল্যান্ডের ওয়ারিয়র্স রাগবি দল ও অন্যান্য স্টাফসহ ৩৬ জনের বহর। আগামী ২৮ মে থেকে ন্যাশনাল রাগবি লীগ ম্যাচ শুরু হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে অন্য কোনও দেশের প্লেয়ারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু দেশে বর্তমানে করোনা-পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যাও গত কয়েক সপ্তাহে কমেছে। যে কারণেই এই বিশেষ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। শনিবারই অস্ট্রেলিয়া বিশেষ ছাড় দিয়েছিল নিউ জিল্যান্ডের এই দলকে। মাত্র দু’জন প্লেয়ার ছাড়া নিউজিল্যান্ডের পুরো দল অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেছে। ওয়ারিয়র্সের প্রধান নির্বাহী ক্যামেরন জর্জ বলেন, ‘ওই দু’জন প্লেয়ার সামান্য অসুস্থ বোধ করার জন্য ওদের আনা হয়নি। তবে, ওদের সঙ্গে দলের অন্য প্লেয়ারদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। আমাদের যে শর্তে অস্ট্রেলিয়ায় আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা খুশি।

অস্ট্রেলিয়ার রাগবি লীগের মাত্র দু’রাউন্ড হওয়ার পরই তা বন্ধ করে দেওয়া হয় গত ২৪ মার্চ। মাঠে দর্শকদের জমায়েত করার ছাড়পত্র এখনও দেয়নি সরকার। কিন্তু, রাগবি লীগ শুরু হলে তা টিভিতে সম্প্রচার করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ছবি ও সূত্র (দি টেলিগ্রাফ)

ক্রিকেট সিরিজের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অগ্রিম অর্থ পেলো অস্ট্রেলিয়া

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: চলতি বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের। ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। যদি করোনা ভাইরাসের কারণে ভারত এই সফরে আসতে না পারে তবে এই সিরিজের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অগ্রিম হিসেবে এই অর্থ পেল অস্ট্রেলিয়া। কমনওয়েলথ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋনের অর্থ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছে। আর এর মধ্যে দিয়ে এটা গভর্নিং বডির নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোর্ডের খরচ কমাতে গত মাসে বোর্ডের ৮০ ভাগ স্টাফকে বাধ্যতামূল ছুটি দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, করোনায় এই রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী জুনের মধ্যে ২০০ স্টাফকে ছুটি না দিয়ে যদি ২০ শতাংশ খরচ কমানো না যায় তবে আগমী আগস্টে বোর্ডের সকল অর্থ শেষ হয়ে যাবে। যার কারণে সিএ’র ৩ মিলিয়র ডলার বেঁচে গিয়েছে। কিন্তু ৫০ মিলিয়ন ঋণ নিশ্চিতের ফলে এই কর্মী ছাঁটাইটা এখন প্রশ্নের মধ্যে পড়ে গেছে।

দি সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, রবার্টস নিজেই এখনও ৮০ শতাংশ বেতন পাচ্ছেন এবং তিনি রাষ্ট্রীয় সমিতিগুলোকে প্রস্তাব দিয়েছেন সিএ থেকে অনুদানের ২৫ শতাংশ যেন কমিয়ে ফেলা হয়। ভারত যদি অস্ট্রেলিয়া সফরে না আসে তবে সিএ’র ৩০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্ষতি হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের সভাপতি সাবেক অজি অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে খেলার আর্থিক অবস্থান বিষয়ে একটি সভা ডেকেছেন। সূত্র ও ছবি: (দি সিডনি মর্নিং হেরাল্ড )