প্রিয় অঞ্জন দত্ত

মানুষটার সাথে আমার পরিচয় অন্যদের তুলনায় বেশ দেরীতেই। ১৯৯৭ ইং সালে বাবা-মা, ভাই, বোনের সাথে আমার চট্টগ্রাম ঘুরতে যাওয়া। উঠি ছোট নানা ভাই এর বাসায়। সাথে বেশ কিছু গল্পের বই নিয়েছিলাম। কখনো অলস ভাবে ড্রয়িং রুমে, কখনো বা বারান্দায় শুয়ে বসে বই পড়া হতো। কেন জানি একদিন লিটন মামার ঘরে ঢুকে নতুন বই ঘাঁটাতে গিয়ে ওনার কালেকশানের কিছু ক্যাসেট পেয়ে গেলাম… আমি খুব একটা গান শুনে বেড়ে উঠিনি, তাই ওপার বাংলার সুমন ছাড়া বাকি সকলেই ছিল অচেনা। কি ভেবে এমন এক অচেনা ক্যাসেট, প্লেয়ার এ ছাড়া মাত্রই কথা, সুর, গায়কী ভঙ্গিতেই মজে গেলাম। মনে হল আরে! এ যে দেখি আমাদের মতো কিশোরদের জন্য গাওয়া ( রঞ্জনা, আমি আর আসব না)। খুব মজা পেয়ে টানা কয়েক বার শুনেছিলাম। তখনো বুঝিনি ক্যাসেট এর দ্বিতীয় গানটি হয়ে যাবে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় গান গুলোর একটি। আমি অসম্ভব ভুলো মনা, দুইদিন আগের কিছুই আমি মনে রাখতে পারি না এমনকি আমার বিবাহ বার্ষিকী, বা কারো জন্মদিন (যদিও এটা কোন সুখকর কিছু না) তবু এই ২০/২২ বছরে গানটির এক লাইন ও ভুলি নাই। একমই ভুলি নাই John Denver এর Annie’s Song, হেমন্তের ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুব তারা’ বা আব্দুল জব্বারের ‘ওরে নীল দরিয়া’…

আহা কৈশোর! আমারও কৈশোরে ছিল এক অঞ্জন আর সেই সাথে তার ‘2441139’

প্রথমবারের মতো তাঁকে সিডনিতে এসে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিলো এ বছর ১৪ই মার্চ।বলাবাহুল্য আমি এ সুযোগ হেলায় হারাতে চাইনি। আর সে জন্যেই বিনে পয়সায় এক কথায় রাজি হয়েছিলাম তাঁর গানের অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে। আজ কিছু ছবি দিলাম অঞ্জন আর তাঁর ছেলে নীল দত্তের।

আমরা বুড়ো হব, প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে, যাবে

কিন্তু তাঁর সৃষ্টি থেকে যাবে, ছুঁয়ে যাবে দুই বাংলার অজস্র হৃদয়…

প্রিয় অঞ্জন দত্ত;

আপনি হয়তো কখনোই এই লেখা পরবেন না। আপনি ছিলেন, আজও আছেন এবং থাকবেন শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়। আবারও ভবিষ্যতে দেখা হবে, কথা হবে। আপনি কথা সুর দিয়ে মানুষের মনে স্বপ্ন বুনবেন আর আমি না হয় দূর থেকেই কিছু মুহূর্ত ফ্রেম বন্দী করে রাখবো।

ভালবাসান্তে-

তুমন আহসান

এপ্রিল, ২০২০ ইং

বৈশ্বিক চাপে চীন, করোনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি অস্ট্রেলিয়ার

মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন: আজ ১৯ শে এপ্রিল (রবিবার) অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পিয়েনে চ্যানেল বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে চীনের স্বচ্ছতার বিষয়টি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রাদুর্ভাব কিভাবে হলো এবং কিভাবে ছড়ালো এর স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই তদন্তের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া জোর দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে ক্রমেই চাপ বাড়ছে চীনের ওপর। ইতিপূর্বে ওয়াশিংটন পোস্ট ও ফক্স নিউজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, উহানে থাকা চীনের ল্যাব থেকেই করোনাভাইরাস শুরু হয়েছে। কারণ ওই ল্যাবে বিপজ্জনক সব ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হতো। 

এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প অভিযোগ তুলেছেন ভাইরাসের সূত্রপাত নিয়ে চীন লুকোচুরি খেলছে। তাই তাদের বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি করোনাভাইরাস চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলোজি ল্যাব থেকে শুরু হয় তবে চীনকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

মোহাম্মদ আবদুল মতিনের কলামঃ করোনা যুদ্ধ বনাম মানবিক সহযোগিতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানব সভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে নভেল করোনাভাইরাস। বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। হুমকির মুখে মানব জাতির অস্তিত্ব। দেশে দেশে চলছে লকডাউন, ঘরে বন্দি মানুষ। তবুও প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত বাড়ছে প্রতি মিনিটেই। মৃতপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপ আমেরিকা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিলগ্নে সৌদি আরবের মহানুভবতার দু’টি ঘটনা উল্লেখ করছি। আমরা বিভিন্ন সময় সৌদি আরবের সমালোচনা করে থাকি। কিন্তু মানবিক সহযোগিতার দিক দিয়ে সৌদি সবসময়ই এগিয়ে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস রোধে আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ৫০ কোটি ডলার দান করেছে সোদি আরব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেবরিয়েসুস বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লড়াইয়ে সৌদি আরব সহায়তার মাধ্যমে উদারতা প্রকাশ করায় দুই পবিত্র মসজিদের জিম্মাদারের কাছে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মহামারি করোনাভাইরাসের এই দুর্বিষহ অবস্থায় সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মহাপরিচালক মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে সৌদি আরবের সকল করোনাভাইরাস রোগীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. তৌফিক বিন ফাওজান আল-রাবিয়াহ সম্প্রতি রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে বাদশার আদেশের বিষয়ে এ ঘোষণা দেন। তিনি আরো জানান, দেশটির স্থায়ী ও অস্থায়ী সহ সব ধরণের বাসিন্দারা এ সেবা পাবেন।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা করেছেন, করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছাড়া আর কারো দায়িত্ব নেবে না সরকার। স্কট মরিসন বলেছেন, যার জন্ম যে দেশেই হোক না কেন, তিনি যদি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হন তাহলে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। যারা অস্থায়ী ভিসা নিয়ে এদেশে আছেন নিজেদের খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকলে তাদেরকে ফিরে যেতে হবে নিজ দেশে।

করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর না হয়ে একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসি। এই মহামারি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের সংযোগ যেমন ভাইরাস ছাড়াতে পারে তেমনি অন্যদের সুস্থ করার  জন্য সহযোগিতা ও মানবিক সংযোগের কোন বিকল্প নেই। এই মুহূর্তে সরাসরি সাহায্য করা সম্ভব নয় কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে থেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে পারি। বৈশ্বিক এই মহামারি থেকে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমরা টিকে যাব ইনশাআল্লাহ্ এবং এই সহযোগিতার জন্য অবশ্যই আমরা আখিরাতে পুরস্কৃত হবো।

করোনা ভাইরাস সংকটে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া’র উদ্যোগ

করোনা ভাইরাস সংকটে সারা পৃথিবী আজ বিপন্ন। “মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য” শ্লোগান নিয়ে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে করোনা ভাইরাসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার একজন মুখপাত্র জানান, সারা পৃথিবীর মত সিডনীতে বসবাসকারী কিছু বাংলাদেশীরাও আজ বিপন্ন। যারা সরকারী সাহায্য পাচ্ছে না কিংবা চাকুরী হারিয়েছে এবং সংকোচে এই কথা কাউকে বলতেও পারছে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ক্রান্তিকালে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পার্শে দাড়ানোর জন্য বিএনপি এবং তার অংগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া যৌথ উদ্যোগে তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসী বাংলাদেশীদের আর্থিক সহযোগিতা করবে। তারা করোনা ভাইরাসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সব পরিবারকে কয়েক সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী তাদের বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিবে যাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকে। সার্বিক সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা যাবেঃ 0411 688 404, 0433 541 380, 0444 530 080 এবং 0401582004

অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য সাড়ে ১৬ কোটি ডলার প্রনোদনা দিচ্ছে সরকার

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: অস্ট্রেলিয়ায় মহামারি করোনা ভাইরাস শুরু পর থেকেই সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য সহ বিভিন্ন সেক্টরকে সচল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। 

সরকার সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার দু’টি বিমান কোম্পানি ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া ও কোয়ান্টাসের অভ্যন্তরীন রুটে বিমান চলাচলের জন্য সাড়ে ১৬ কোটি (১৬৫ মিলিয়ন) ডলার প্রনোদনা প্যাকেজ দেওয়ার কথা ঘোষনা করেছে। সরকার বলেছে, প্রনোদনা প্যাকেজ অভ্যন্তরীন রুট সহ লস এ্যান্জেলস্, লন্ডন, হংকং এবং অকল্যান্ডের আন্তর্জাতিক রুট সচল রাখতে সহায়তা করবে।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী মাইকেল ম্যাককারমাক বলেন, প্রাথমিকভাবে আট সপ্তাহ পরে অভ্যন্তরীন রুটে বিমান চলাচল শুরু হবে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিজবেন, ক্যানবেরা, এডেলাইড এবং পার্থ সহ ৬৪ টি রিটার্ন সার্ভিস শুরু হবে এবং যে সমস্ত যাত্রীগন  তাদের বাতিল টিকেট পুনরায় বুকিং করতে আগ্রহী তাদেরকে অনলাইনে বুকিং করতে বলা হয়েছে। মাইকেল ম্যাককারমাক আরো বলেন, অস্ট্রেলিয়ানদের কে বাসায় অবস্থান করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র চিকিৎসা সরন্জাম সহ জরুরী প্রয়োজন ভ্রমন করা যাবে।

করোনার শক্তি ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে পাল্টে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার চিত্র

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় করোনার শক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, করোনাভাইরাস দমন করতে অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। তবে সরকার চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বেঁধে দেয়া পথনির্দেশনা মেনেই চলছে। পরিস্থিতি আরো সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

অস্ট্রেলিয়ায় গতকাল ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৬ হাজারেরও অধিক লোকের করোনাভাইরাস আক্রান্তের শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এর ৯৮ শতাংশের বেশি ফলাফল নেগেটিভ। এ কারণে এ কয়েক দিনেই অস্ট্রেলিয়ার চিত্র পাল্টে গেছে। শুক্রবার সকাল ছ’টা থেকে আজ শনিবার সকাল ছ’টা পর্যন্ত দেশটিতে ৩৬ জন সংক্রমিত হয়েছে। করোনাভাইরাস অস্ট্রেলিয়ায় যেভাবে বেড়েছিল আবার ঠিক সেভাবেই কমতে শুরু করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রেন্ডন মারফি বলেন, যদি আমরা সামাজিক দূরত্ব ব্যবস্থাগুলো এখনই শিথিল করি, যা এখন কমিউনিটি সংক্রমণ বন্ধ বা হ্রাস করছে; তবে তা বেড়ে আরও বড় আকারে প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, আমরা শিথিলকরণে তখনই যেতে পারব, যখন আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা সুন্দরভাবে কার্যোপযোগী থাকবে। কোনো প্রাদুর্ভাবের আভাস পেলেই ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে পারব।

অস্ট্রেলিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছ ৬,৫৩৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৭ জন। এদের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসে আক্রান্ত ২,৯৩৬, ভিক্টোরিয়া-১,৩০২, কুইন্সল্যান্ডে ১,০০৭, সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩৫, ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪১, নর্দার্ন টেরিটোরি ২৭ এবং ক্যাপিটাল টেরিটোরিতে ১০৩ জন।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন, নভেল করোনার বিরুদ্ধে কোনও ভ্যাকসিন না পাওয়া গেলে অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা এক বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য অব্যাহত থাকতে পারে।

দেখছি শুধু…..

‍কাটছে সময় রুমে ঘুরে, 

চলে যাচ্ছে মন শুধু দূরে। 

মাঝে মাঝে থাকছে চোখ টিভিতে, 

থাকছেও চোখ CVতে। 

হয়ে যাচ্ছে কান ভারী 

কথা হচ্ছে অবিরাম, 

নেই কোনো কমা-দাড়ি। 

খেলা হচ্ছে মোবাইলে অনবরত, 

মন বসেনা ঘরে আর কতো। 

টিভি দেখছি যত, 

মন খারাপ হচ্ছে ততো, 

মানুষ মারা যাচ্ছে আর 

ত্রাণ চুরি হচ্ছে কতো। 

মানবতা নেই এই মহাদুর্যুগে, 

দেখছি কতো কিছুই অবশেষে, 

মানুষও কান দিচ্ছে হুজুগে। 

কাটছে সময় বিছানায় শুয়ে-শুয়ে, 

লাফ দিয়ে উঠি আতঙ্কে আর ভয়ে। 

জানিনা থাকবে আর কতদিন করোনা, 

করছেনা একটুও করুনা। 

এনামুল হক মজুমদার (শাকিল)

অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের নিয়ে বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ছে আজ

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ করোনাভাইরাসের কারণে নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধের জটিলতায় বাংলাদেশে আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ান কূটনীতিক, তাদের পরিবার এবং নাগরিকদের দেশে ফেরাতে ২৯৪ সীটের একটি নন সিডিউল কর্মাশিয়াল ফ্লাইট ভাড়া করেছে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস। ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের দেশে ফেরাতে শ্রীলঙ্কার একটি নন সিডিউল কমার্শিয়াল ফ্লাইট ভাড়া করা হয়েছে। ফ্লাইটটি আজ ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়বে এবং কলম্বো হয়ে আগামীকাল মেলবোর্ন পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিমানবন্দরে (চীন বাদে) আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকলেও বিশেষ এই (চাটার্ড) ফ্লাইটটিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফ্লাইটের সব যাত্রীকে অস্ট্রেলিয়ান সরকার ঘোষিত বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। মেলবোর্নে কোয়ারান্টাইন শেষে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবে। 

এদিকে কানাডার নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির সরকারের ভাড়া করা দ্বিতীয় স্পেশাল ফ্লাইটটিও আজ ঢাকা ছাড়ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন- কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার দু’টি স্পেশাল ফ্লাইটই সন্ধ্যায় ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে। গত ১৪ ই এপ্রিল কানাডা সরকার কাতার এয়ারওয়েজের ভাড়া করা একটি উড়োজাহাজে (প্রথম ফ্লাইটে) তাদের ২১৪ জন নাগরিককে ঢাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

দেশে আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও স্থায়ী অভিবাসীদের ফিরতি ফ্লাইট ১৬ এপ্রিল

করোনা ভাইরাস সংকটে দেশে গিয়ে আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও স্থায়ী অভিবাসীদের ফেরত আনার জন্য ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন নন কমার্শিয়াল ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। আগামী ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাদের ঢাকা থেকে মেলবোর্নে নিয়ে আসা হবে। ফ্লাইটি ঐদিন রাত সোয়া ৮ টায় ঢাকা থেকে ছাড়বে এবং পরদিন ১৭ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে মেলবোর্নে পৌছাবে। এরপর সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে সকল যাত্রীদেরকে বিভিন্ন হোটেলে ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

টিকিটের দাম ইকোনমি ক্লাস  ১,০৩,২৯০ টাকা ও বিজনেস ক্লাস ১৬৫০৯৩ টাকা । বুকিং করতে ৯ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে  ইমেইলে dacres@srilankan.com যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত দেশে আটকা পড়া বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও স্থায়ী অভিবাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার আগ্রহ জানাচ্ছিল। অন্যদিকে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান  হাইকমিশনে কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছিল। ফলে আটকে পড়া ভ্রমণকারীরা মহা অনিশ্চয়তায় দিনপাত করছিলেন। এই অবস্থায় মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউন ইনকের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি এনাম হক, সিনিয়র সহ সভাপতি  জাহাঙ্গীর আলম, জেনারেল সেক্রেটারী  মো: সফিকুল আলম  স্ব-উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন, নাগরিকত্ব, অভিবাসী সেবা ও বহুসংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় যোগাযোগ শুরু করেন। এই সময় মন্ত্রনালয় থেকে তাদের কাছে আগ্রহীদের তালিকা চাওয়া হয়।

তালিকা করতে গত ১ এপ্রিল অনলাইন পত্রিকা বাংলাকথায় ” বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশীদের ফেরত আনার উদ্যোগ, সহযোগিতা দেবে মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউন ইনক” এই সংক্রান্ত নিউজ  প্রকাশিত হয়। এরপর কয়েক শতাধিক ইমেইলে ৭০৪ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও স্থায়ী অভিবাসীদের অস্ট্রেলিয়া ফেরত আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউন ইনকের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি ইমেইল প্রেরনকারীকে ফিরতি ইমেইেলে তাদের সহযোগিতার সর্বোচ্চ আশ্বাস দেয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করে। এই তালিকা নিয়ে মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনে ইনকের সিনিয়র সহ সভাপতি  জাহাঙ্গীর আলম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে দেখা করেন এবং আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেন ও পাঃ রেসিডেন্টেদের অস্ট্রেলিয়া ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরুর অনুরোধ জানান। অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী ব্যাপারটি নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার)  ফিরতি ফ্লাইটের তারিখ ঘোষনা করা হয়। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এলুমনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া’র সহায়তার উদ্যোগ

COVID-19 support for Humanity (মানবতা সহায়তা)

COVID-19 মহামারির  কারনে বিশ্ব আজ এক চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে।  আমরা যারা দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়াতে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি, তারা সবাই কম বেশি এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছি এবং নানাভাবে তার মোকাবেলা করছি। শতশত বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী যারা অস্ট্রেলিয়ার নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে, তারাও উদ্ভূত পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। বহু ছাত্রছাত্রী তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারও এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সকল আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীকে স্বদেশে ফেরত যাবার জন্য উৎসাহ দিয়েছে।

এইরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এলুমনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (RUAAA)  রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত সকল আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের সামগ্রিক পরিস্থিতি জানতে উদ্গ্রিব।  (RUAAA)’র অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবতার কথা চিন্তা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন   ছাত্রছাত্রীদের দুঃসময়ে পাশে থাকার  অঙ্গিকার ব্যক্ত করছে। আপনারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

জুলফিকার আহমেদ জুলু (সভাপতি) ০৪০৯ ৭১২ ৪১৩

তারিক জামান(সাধারন সম্পাদক) ০৪২৫ ৭০১ ১৫৫

ইমেইলঃ zulfiquer03@gmail.com, shuvo1999@yahoo.com (প্রেস রিলিজ )