করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারে অগ্রগতি লাভের দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়েছে। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির পথে বড় ধরনের অগ্রগতি লাভের দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই গবেষকরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিন আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রয়োগের ফলে করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

ছবি: এসবিএস নিউজ অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ান গবেষকদের দাবি, এটি শরীরে প্রয়োগের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক বেড়ে যায়। ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবেই করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে হার মানাতে পারে। এতে করে করোনামুক্ত হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।

ভ্যাকসিন উদ্ভাবক দলের একজন প্রফেসর পল ইয়াং বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের ফলে শরীরে কোষের সংস্কৃতি বদলে ভাইরাসের মৃত্যু ঘটছে। গবেষকদের বিশ্বাস, চলতি বছরের জুনের শুরুতেই প্রাথমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল চলে আসবে। তারপর মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। সূত্র ও ছবি: (এসবিএস নিউজ অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৫২ জন এবং এর মধ্যে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ হেলথ এলার্ট। 

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নিউ সাউথ ওয়েলসে আক্রান্ত ৩০১৬, ভিক্টোরিয়া ১৩৫৪, কুইন্সল্যান্ড ১০৩৪, ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়া ৫৫১, সাউথ অস্ট্রেলিয়া ৪৩৮, তাসমানিয়া ২২০, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরি ১০৫ এবং নর্দাণ টেরিটোরিতে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

গত চব্বিশ ঘন্টায় সমগ্র অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ জন।এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৭১৫ জন। প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যার প্রশান্তপাড়ের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লক্ষ ৫১ হাজার লোকের। পরীক্ষাকরণে এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ হার।

অস্ট্রেলিয়ান জনগণকে করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদে রাখার জন্য সরকার কোভিডসেফ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে। যেটা দিয়ে সহজেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়াদি দ্রুত বের করা যায়। কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না জেনেও এসে থাকে তাহলে এই অ্যাপের কল্যাণে দ্রুত কোয়ারেন্টিন ইত্যাদি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আবার কোন ব্যক্তি যদি একটি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকায় আক্রান্ত কেউ থাকে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক বার্তা পাঠাবে এই অ্যাপ। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির জটিলতার অথবা নতুন কারো সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবে। গত কয়েকদিনে ৩ মিলিয়নেরও অধিক অস্ট্রেলিয়ান এই অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধিত হয়েছেন। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে নীচের লিংকটিতে ক্লিক করুন। https://www.health.gov.au/resources/apps-and-tools/covidsafe-app#get-the-app