করোনা কালে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উদযাপন

সালেহ আহমেদ জামী: হঠাৎ-ই করোনার ভয়াল ছোবলে পৃথিবীর থমকে গেছে। ভীতি জাগানিয়া থমথমে অবরুদ্ধ এক বিচিত্র জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলা বর্তমান সময়টি আগের মতন নেই। তারপরও জীবন থেমে নেই। আশাবাদী মানুষদের হতাশা ও দুঃশ্চিন্তা থেকে রেহাই দিতে এই ঘোর অনিশ্চয়তাকে মাথায় নিয়েই ‘পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া’ বরণ করে নিয়েছে নতুন বাংলা বছরকে। এই আয়োজনের জন্য দরকার ছিল একদল প্রানোচ্ছল মানুষ যাঁদের অংশগ্রহণে দূরে থেকেও একে অপরকে সম্ভাষণ জানানো গেছে বর্ষ বরণের। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে থাকা গেছে করোনার ডামাডোল। বরাবরের রঙে রঙিন না হলেও অভিনব কায়দায় আয়োজন করা হয়েছিল পহেলা বৈশাখের ভার্চুয়াল আয়োজন। 

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য নিদির্ষ্ট পরামর্শ ও আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এই ক্রান্তিকালকে অতিক্রমের অভিলাষে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার শুভানুধ্যায়ী, লেখক ও শিল্পীরা তাঁদের গীতিতে, আবৃত্তিতে আর সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রেখেছিলেন নববর্ষের প্রথম প্রহর। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে একটানা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে নানান পরিবেশনা। সকাল ১১টায় নাহারের পরিবেশিত কবিতা আবৃত্তি দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এরপর একে একে কবিতা আবৃত্তি করেন কাশফী আহমেদ, ইশায়াত রহমান, নওশীন ঠাকুর, জেরিন আফরিন ও সাফিনা। দুপুর ১টায় নীলাদ্রি চক্রবর্তী,  হিমাদ্রি চক্রবর্তী,  মালা ঘটক চৌধুরী ও নির্মল চক্রবর্তীর সংগীত দিয়ে বর্ষ বরণের পর্বটি শুরু হয়। আরো গান গেয়ে শোনান অবনী মাহবুব, নিশাত সিদ্দিক, রওশন জামান, সারিতা রাহাত, সাকিনা, ইন্দ্রানী মুখার্জি, সুবীর গুহ, অনামিকা ধর, জিয়াউল ইসলাম তমাল, অভিজিৎ সরকার, প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস ও আত্তাবুর রহমান। সহস্রাধিক পেন্সিলর ঘরে বসেই উপভোগ করেছেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। 

মাঝে এক ফাঁকে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার  এডমিন সাকিনা আক্তার লাইভে এসে সকল পেন্সিলরকে শুভেচ্ছা জানান হ্যাপি পেন্সিলিং স্লোগান দিয়ে ! বর্ষবরণ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় সকল শিল্পীদের, দর্শকদের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে তিনি সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও সুস্থ জীবনের অভিপ্রায়ে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া পক্ষ থেকে সকলকে বাঁধতে চেয়েছে বিশ্বাসের বাহুডোরে। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারী হিসাবে ছিলেন জয় কবির, জিয়াউল ইসলাম তমাল, অনামিকা ধর ও সাকিনা আক্তার।

করোনা: দীর্ঘ পথ চলার পরও ঘরে ফেরা হলোনা সেই মেয়েটির

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: এমন একাটি ‘ভাইরাস’ বিষের করাল গ্রাসের সম্মুখীন হয়েছে মানবজাতি, যার সম্পর্কে এখনও ভাল মতো ওয়াকিবহাল নয় বিজ্ঞানীরা। আজকের করোনাভাইরাসকে প্রত্যাঘাত করার মতো অস্ত্র এখনও মানুষের হাতে নেই। তাই লকডাউনই এখন একমাত্র ভরসা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবকুলের জন্য। জীবিকার সন্ধানে ভারতের ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর থেকে  তেলঙ্গানার একটি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন জামলো মকদম নামের বার বছর বয়সী এক বালিকা। 

লকডাউনে কাজ বন্ধ, পরিবহন বন্ধ। বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে তেলঙ্গানা থেকে বিজাপুরের বাড়ি পৌঁছতে ১১ জন সহকর্মীর সাথে ছোট্ট ছোট্ট পায়েই পথ চলা শুরু করেছিল এই বালিকা। তেলঙ্গানা থেকে বিজাপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। হাইওয়ে দিয়ে গেলে পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা। তাই দুর্গম জঙ্গলের পথ ধরেই বাড়ি পৌঁছনোর চেষ্টা করে ওই দলটি। টানা তিন দিন ধরে পথ চলার পর শেষ পর্যন্ত আশার আলো দেখতে পায় দলটি।

 কিন্তু তিন দিন ধরে হাঁটার পরেও, শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছন হল না ওই বালিকার। খিদে, পিপাসা, আর দীর্ঘ পথ হাঁটার পরিশ্রমের ভার বইতে পারেনি ছোট্ট দেহ। বাড়ি থেকে যখন আর মাত্র ঘণ্টাখানেক দূরে, তখনই চিরনিদ্রায় তলিয়ে গেল বিজাপুরের সেই বালিকা! পায় হেঁটে দীর্ঘ পথ চলার ধকল সহ্য করতে পারেনি ছোট্ট শরীরটা। 

করোনা সংক্রমণ রুখতে বিশ্ব জুড়ে চলা লকডাউন এবং বিচ্ছিনতা থমকে দিয়েছে মানুষের জীবন। পরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন পন্থায় ঘরে ফেরার চেস্টা অসহায় মানুষদের। কঠিন, রুক্ষ পথ পেরিয়ে কেউ কেউ সত্যিই পৌঁছে গিয়েছেন নিজের গন্তব্যে। আবার জামলোর মত অনেকেরই ঘরে ফেরা হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষায় রয়েছে পিতা-মাতা ও স্বজনেরা। 

তবে আশার আলো হচ্ছে, বর্তমানে আমাদের হাতে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে একজোট হয়ে একদিন এই বিপর্যয় রুখতে সক্ষম আমরা। আবার শুরু হবে নতুন পথ চলা, নতুন পৃথিবী। শুধু হাজার হাজার বছর ধরে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ‘কোভিড-১৯ করোনাভাইরেস’র মহা-বিপর্যয়ের এই স্মৃতি।