প্রিয় অঞ্জন দত্ত

মানুষটার সাথে আমার পরিচয় অন্যদের তুলনায় বেশ দেরীতেই। ১৯৯৭ ইং সালে বাবা-মা, ভাই, বোনের সাথে আমার চট্টগ্রাম ঘুরতে যাওয়া। উঠি ছোট নানা ভাই এর বাসায়। সাথে বেশ কিছু গল্পের বই নিয়েছিলাম। কখনো অলস ভাবে ড্রয়িং রুমে, কখনো বা বারান্দায় শুয়ে বসে বই পড়া হতো। কেন জানি একদিন লিটন মামার ঘরে ঢুকে নতুন বই ঘাঁটাতে গিয়ে ওনার কালেকশানের কিছু ক্যাসেট পেয়ে গেলাম… আমি খুব একটা গান শুনে বেড়ে উঠিনি, তাই ওপার বাংলার সুমন ছাড়া বাকি সকলেই ছিল অচেনা। কি ভেবে এমন এক অচেনা ক্যাসেট, প্লেয়ার এ ছাড়া মাত্রই কথা, সুর, গায়কী ভঙ্গিতেই মজে গেলাম। মনে হল আরে! এ যে দেখি আমাদের মতো কিশোরদের জন্য গাওয়া ( রঞ্জনা, আমি আর আসব না)। খুব মজা পেয়ে টানা কয়েক বার শুনেছিলাম। তখনো বুঝিনি ক্যাসেট এর দ্বিতীয় গানটি হয়ে যাবে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় গান গুলোর একটি। আমি অসম্ভব ভুলো মনা, দুইদিন আগের কিছুই আমি মনে রাখতে পারি না এমনকি আমার বিবাহ বার্ষিকী, বা কারো জন্মদিন (যদিও এটা কোন সুখকর কিছু না) তবু এই ২০/২২ বছরে গানটির এক লাইন ও ভুলি নাই। একমই ভুলি নাই John Denver এর Annie’s Song, হেমন্তের ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুব তারা’ বা আব্দুল জব্বারের ‘ওরে নীল দরিয়া’…

আহা কৈশোর! আমারও কৈশোরে ছিল এক অঞ্জন আর সেই সাথে তার ‘2441139’

প্রথমবারের মতো তাঁকে সিডনিতে এসে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিলো এ বছর ১৪ই মার্চ।বলাবাহুল্য আমি এ সুযোগ হেলায় হারাতে চাইনি। আর সে জন্যেই বিনে পয়সায় এক কথায় রাজি হয়েছিলাম তাঁর গানের অনুষ্ঠানের ছবি তুলতে। আজ কিছু ছবি দিলাম অঞ্জন আর তাঁর ছেলে নীল দত্তের।

আমরা বুড়ো হব, প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসবে, যাবে

কিন্তু তাঁর সৃষ্টি থেকে যাবে, ছুঁয়ে যাবে দুই বাংলার অজস্র হৃদয়…

প্রিয় অঞ্জন দত্ত;

আপনি হয়তো কখনোই এই লেখা পরবেন না। আপনি ছিলেন, আজও আছেন এবং থাকবেন শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়। আবারও ভবিষ্যতে দেখা হবে, কথা হবে। আপনি কথা সুর দিয়ে মানুষের মনে স্বপ্ন বুনবেন আর আমি না হয় দূর থেকেই কিছু মুহূর্ত ফ্রেম বন্দী করে রাখবো।

ভালবাসান্তে-

তুমন আহসান

এপ্রিল, ২০২০ ইং