করোনা ভাইরাস সংকটে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া’র উদ্যোগ

করোনা ভাইরাস সংকটে সারা পৃথিবী আজ বিপন্ন। “মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য” শ্লোগান নিয়ে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে করোনা ভাইরাসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার একজন মুখপাত্র জানান, সারা পৃথিবীর মত সিডনীতে বসবাসকারী কিছু বাংলাদেশীরাও আজ বিপন্ন। যারা সরকারী সাহায্য পাচ্ছে না কিংবা চাকুরী হারিয়েছে এবং সংকোচে এই কথা কাউকে বলতেও পারছে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ক্রান্তিকালে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পার্শে দাড়ানোর জন্য বিএনপি এবং তার অংগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া যৌথ উদ্যোগে তাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসী বাংলাদেশীদের আর্থিক সহযোগিতা করবে। তারা করোনা ভাইরাসে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সব পরিবারকে কয়েক সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী তাদের বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিবে যাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় থাকে। সার্বিক সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা যাবেঃ 0411 688 404, 0433 541 380, 0444 530 080 এবং 0401582004

অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য সাড়ে ১৬ কোটি ডলার প্রনোদনা দিচ্ছে সরকার

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: অস্ট্রেলিয়ায় মহামারি করোনা ভাইরাস শুরু পর থেকেই সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য সহ বিভিন্ন সেক্টরকে সচল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। 

সরকার সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার দু’টি বিমান কোম্পানি ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া ও কোয়ান্টাসের অভ্যন্তরীন রুটে বিমান চলাচলের জন্য সাড়ে ১৬ কোটি (১৬৫ মিলিয়ন) ডলার প্রনোদনা প্যাকেজ দেওয়ার কথা ঘোষনা করেছে। সরকার বলেছে, প্রনোদনা প্যাকেজ অভ্যন্তরীন রুট সহ লস এ্যান্জেলস্, লন্ডন, হংকং এবং অকল্যান্ডের আন্তর্জাতিক রুট সচল রাখতে সহায়তা করবে।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী মাইকেল ম্যাককারমাক বলেন, প্রাথমিকভাবে আট সপ্তাহ পরে অভ্যন্তরীন রুটে বিমান চলাচল শুরু হবে। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিজবেন, ক্যানবেরা, এডেলাইড এবং পার্থ সহ ৬৪ টি রিটার্ন সার্ভিস শুরু হবে এবং যে সমস্ত যাত্রীগন  তাদের বাতিল টিকেট পুনরায় বুকিং করতে আগ্রহী তাদেরকে অনলাইনে বুকিং করতে বলা হয়েছে। মাইকেল ম্যাককারমাক আরো বলেন, অস্ট্রেলিয়ানদের কে বাসায় অবস্থান করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র চিকিৎসা সরন্জাম সহ জরুরী প্রয়োজন ভ্রমন করা যাবে।

করোনার শক্তি ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে পাল্টে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার চিত্র

মোহাম্মদ আব্দুল মতিনঃ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় করোনার শক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, করোনাভাইরাস দমন করতে অস্ট্রেলিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। তবে সরকার চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বেঁধে দেয়া পথনির্দেশনা মেনেই চলছে। পরিস্থিতি আরো সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

অস্ট্রেলিয়ায় গতকাল ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৬ হাজারেরও অধিক লোকের করোনাভাইরাস আক্রান্তের শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এর ৯৮ শতাংশের বেশি ফলাফল নেগেটিভ। এ কারণে এ কয়েক দিনেই অস্ট্রেলিয়ার চিত্র পাল্টে গেছে। শুক্রবার সকাল ছ’টা থেকে আজ শনিবার সকাল ছ’টা পর্যন্ত দেশটিতে ৩৬ জন সংক্রমিত হয়েছে। করোনাভাইরাস অস্ট্রেলিয়ায় যেভাবে বেড়েছিল আবার ঠিক সেভাবেই কমতে শুরু করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রেন্ডন মারফি বলেন, যদি আমরা সামাজিক দূরত্ব ব্যবস্থাগুলো এখনই শিথিল করি, যা এখন কমিউনিটি সংক্রমণ বন্ধ বা হ্রাস করছে; তবে তা বেড়ে আরও বড় আকারে প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, আমরা শিথিলকরণে তখনই যেতে পারব, যখন আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা সুন্দরভাবে কার্যোপযোগী থাকবে। কোনো প্রাদুর্ভাবের আভাস পেলেই ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে পারব।

অস্ট্রেলিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছ ৬,৫৩৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৭ জন। এদের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসে আক্রান্ত ২,৯৩৬, ভিক্টোরিয়া-১,৩০২, কুইন্সল্যান্ডে ১,০০৭, সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩৫, ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪১, নর্দার্ন টেরিটোরি ২৭ এবং ক্যাপিটাল টেরিটোরিতে ১০৩ জন।

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন, নভেল করোনার বিরুদ্ধে কোনও ভ্যাকসিন না পাওয়া গেলে অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা এক বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য অব্যাহত থাকতে পারে।