করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারে অগ্রগতি লাভের দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়েছে। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির পথে বড় ধরনের অগ্রগতি লাভের দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই গবেষকরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিন আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রয়োগের ফলে করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।

ছবি: এসবিএস নিউজ অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ান গবেষকদের দাবি, এটি শরীরে প্রয়োগের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক বেড়ে যায়। ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবেই করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে হার মানাতে পারে। এতে করে করোনামুক্ত হয়ে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।

ভ্যাকসিন উদ্ভাবক দলের একজন প্রফেসর পল ইয়াং বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের ফলে শরীরে কোষের সংস্কৃতি বদলে ভাইরাসের মৃত্যু ঘটছে। গবেষকদের বিশ্বাস, চলতি বছরের জুনের শুরুতেই প্রাথমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল চলে আসবে। তারপর মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। সূত্র ও ছবি: (এসবিএস নিউজ অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৫২ জন এবং এর মধ্যে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ হেলথ এলার্ট। 

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নিউ সাউথ ওয়েলসে আক্রান্ত ৩০১৬, ভিক্টোরিয়া ১৩৫৪, কুইন্সল্যান্ড ১০৩৪, ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়া ৫৫১, সাউথ অস্ট্রেলিয়া ৪৩৮, তাসমানিয়া ২২০, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরি ১০৫ এবং নর্দাণ টেরিটোরিতে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

গত চব্বিশ ঘন্টায় সমগ্র অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ জন।এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৭১৫ জন। প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যার প্রশান্তপাড়ের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লক্ষ ৫১ হাজার লোকের। পরীক্ষাকরণে এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ হার।

অস্ট্রেলিয়ান জনগণকে করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদে রাখার জন্য সরকার কোভিডসেফ নামে একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করেছে। যেটা দিয়ে সহজেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়াদি দ্রুত বের করা যায়। কেউ যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না জেনেও এসে থাকে তাহলে এই অ্যাপের কল্যাণে দ্রুত কোয়ারেন্টিন ইত্যাদি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আবার কোন ব্যক্তি যদি একটি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকায় আক্রান্ত কেউ থাকে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক বার্তা পাঠাবে এই অ্যাপ। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির জটিলতার অথবা নতুন কারো সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবে। গত কয়েকদিনে ৩ মিলিয়নেরও অধিক অস্ট্রেলিয়ান এই অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধিত হয়েছেন। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে নীচের লিংকটিতে ক্লিক করুন। https://www.health.gov.au/resources/apps-and-tools/covidsafe-app#get-the-app

বিএনপি ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সাহায্যের উদ্যোগ

COVID 19 এ সারা পৃথিবীর মানুষ আজ বিপন্ন।অস্ট্রেলিয়ার সিডনীও এর বাইরে নয়। কিছুদিন আগেও যারা ছিল স্বচ্ছল, জীবন ছিল কর্ম চাঞ্চল্যে ভরপুর হঠাৎ করেই তাদের জীবনে নেমে এসছে অমাবস্যার অন্ধকার। বিশেষ করে যারা এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য আইনী লড়াই করে যাচ্ছন অথবা মেধাবী ছাত্র যারা এখানে এসেছেন পড়াশুনা করতে তাদের অবস্থা  অত্যন্ত সংগীন। তাদের কথা মাথায় রেখে বিএনপি ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়া কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন করে। এ সমস্ত লোকদের জন্য ‘মানুষ মানুষের জন্যে জীবন জীবনের জন্যে’ শ্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল তারা কিছু ব্যক্তি এবং পরিবারকে প্রায় ৩ সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী তাদের ঘরে পৌছে দেন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তেল, ছোলা, লবন, মুড়ি এবং সামান্য ফলমুল ও সবজি।

সকলের বাসায় খাদ্য সামগ্রী পৌছানো সহ কার্য্যক্রম তদারকী করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আহ্বায়ক ড. প্রফেসর ড. হুমায়ের চৌধুরী, বিএনপি নেতা ও জিয়া ফোরাম অস্ট্রেলিয়ার সাধারন সম্পাদক সোহেল ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আলম লেনিন, জাসাস অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আব্দুস সামাদ শিবলী, মনজুরুল ইসলীম আলমগীর, তাফতুন নাঈম নিতু, দিপু সহ অন্যান্যরা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর শাহ জামান টিটু এবং কাউন্সিলর নাজমুল হুদা বাবু। উল্লেখ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রহমান এই ক্রান্তিকালে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পার্শে দাড়ানোর জন্য বিএনপি এবং তার অংগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অস্ট্রেলিয়া যুবদলের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপি খাদ্য সামগ্রী বিতরন

দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা জনাব হামিদুর রহমান হামিদের পরামর্শে জাতীয়তাবাদী যুবদল অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ইয়াসির আরাফাত সবুজের নিজস্ব অর্থ সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া যুবদলের উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় নেতা কর্মী ও অভাবগ্রস্ত ২৫০টি পরিবারের মাঝে দুইদিন ব্যাপি খাদ্য সামগ্রী উপহার হিসেবে  রাজধানীর ওয়ারি, জয়কালি মন্দির, বিএনপি পার্টি অফিস সহ ৩৮নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়। বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, ওয়ারি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেলিম, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সাবেক ভিপি ও এইচড্যাব এর সভাপতি ডাঃ শফিকুল আলম নাদিম,  সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক জোটের আহবায়ক ডাঃ আরিফুর রহমান মোল্লা, সদস্য সচিব মজিবুল্লা মজিব, যুগ্মআহবায়ক ডাঃ এ কে এম জাকির হোসেন, ডাঃ আবুল খায়ের ভূইয়া, ডাঃ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। 

এছারাও উপস্থিত ছিলেন ৩৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি গোলাম মাওলা, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ফয়সাল মেহবুব মিজু, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম সোহেল শেখ, ছাত্রনেতা মহিদুর রহমান রুমান ও সহসাধারন সম্পাদক রমজান ভূঁইয়া সহ কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পর্যায়ক্রমে যতদিন এই দুর্যোগ থাকবে ততদিন অসহায় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যক্ত করেন অস্ট্রেলিয়া যুবদলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত সবুজ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

করোনা নিয়ে চীন-অস্ট্রেলিয়া অসন্তোষ

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের অস্ট্রেলিয়ায় না পাঠানোর হুমকি দিয়েছে চীন। করোনাভাইরাস নিয়ে সম্প্রতি স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির এমন ঘোষণার পরই সেখানে শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের পাঠানো হবে না বলে সতর্ক করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

সম্প্রতি মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। করোনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের এমন ঘোষণাকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত চেং জিনগিয়ে।

করোনা পরিস্থিতি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত চেং জিনগিয়ে। তিনি বলেন, তার দেশ সঠিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাতে চীনাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, আমার মনে হয় এই পরিস্থিতি যদি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যায় তবে লোকজন ভাবতে শুরু করবে যে, আমরা কেন এমন দেশে যাব যারা চীনের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, পর্যটকরা অস্ট্রেলিয়ায় সফরের বিষয়ে দ্বিতীয়বার ভাববে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর বিষয়েও চিন্তা করবেন অভিভাবকরা। বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে যায় শিক্ষার্থীরা। এ থেকে দেশটির অর্থনীতিতে বড় অংকের অর্থ জমা হয়।

চীন থেকেও অনেক শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে যায়। যদি চীন তাদের শিক্ষার্থীদের আর অস্ট্রেলিয়ায় না পাঠায় তবে তা দেশটির জন্য নেতিবাচক হবে বলে উল্লেখ করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

সিডনি প্রবাসি নাসিম হোসেনের মৃত্যুতে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোকের ছাঁয়া

মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন: গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) সকালে ক্যান্টারবারী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন সিডনির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম হোসেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইনল্লা ইলাহি রাজেউন)।

দীর্ঘদিন যাবত তিনি মরণব্যাধী ক্যানসারে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলেন ৬২ বছর।  মরহুম নাসিম হোসেন স্ত্রী, দুই কন্যা, এক পুত্র এবং বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃতু্তে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে।

নাসিম হোসেন ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশে আসেন। তিনি সিডনির লাকেম্বায় বসবাস করতেন। নাসিম হোসেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, দক্ষ সংগঠক এবং একজন কন্ঠশিল্পী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ কমিউনির বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। নাসিম হোসেনকে ন্যারিল্যান্ড কবরস্থানের দাফন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র মাহে রমজান শুরু

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: রহমত-মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। আজ শুক্রবার থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই পবিত্রতম রমজান মাস শুরু হচ্ছে, কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে এবারের রমজান হবে মুসলমানদের জন্য একদম ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রিমিয়ার গ্লাডিস বেরেজিকলিয়ান ও পুলিশ কমিশনারের একজন মুখপাত্র পৃথক পৃথক ভিডিও বার্তায় পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় স্কট মরিসন বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাস অস্ট্রেলিয়া এবং সারা বিশ্বের মুসলিমরা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করেন। রমজান মাস মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা, রোজা রাখা ও ভক্তির সময়। করোনা প্রকোপের মধ্যে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রমজানের রোজা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তারাবি নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ। তবে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সেক্ষেত্রে ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ মসজিদে কর্মরতদের নিয়ে স্বল্প পরিসরে তারাবির নামজ আদায় করতে হবে।

মুন সাইটিং অস্ট্রেলিয়ার সূত্র মতে, নিউ সাউথ ওয়েলস, ক্যাপিটাল টেরিটোরি, ভিক্টোরিয়া, কুইন্সল্যান্ড, ওয়েস্টার্ণ অস্ট্রেলিয়া ও পার্থে গতকাল রমজানের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় তারা আগামীকাল ২৫ এপ্রিল শনিবার থেকে রোজা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু মুসলিম কমিউনিটি পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ শুক্রবার থেকে রোজা শুরু করছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে অস্ট্রেলিয়ার সকল মসজিদ ও উপাসনালয় বন্ধ থাকায় ঘরে বসেই তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে মুসলমানদের।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী দেশ নিউল্যান্ডে আজ রমজানের চাঁদা দেখা যায়নি। আগামীকাল ২৫ শে এপ্রিল শনিবার নিউজিল্যান্ডে রমজান শুরু হবে।

করোনা কালে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উদযাপন

সালেহ আহমেদ জামী: হঠাৎ-ই করোনার ভয়াল ছোবলে পৃথিবীর থমকে গেছে। ভীতি জাগানিয়া থমথমে অবরুদ্ধ এক বিচিত্র জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে চলা বর্তমান সময়টি আগের মতন নেই। তারপরও জীবন থেমে নেই। আশাবাদী মানুষদের হতাশা ও দুঃশ্চিন্তা থেকে রেহাই দিতে এই ঘোর অনিশ্চয়তাকে মাথায় নিয়েই ‘পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া’ বরণ করে নিয়েছে নতুন বাংলা বছরকে। এই আয়োজনের জন্য দরকার ছিল একদল প্রানোচ্ছল মানুষ যাঁদের অংশগ্রহণে দূরে থেকেও একে অপরকে সম্ভাষণ জানানো গেছে বর্ষ বরণের। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে থাকা গেছে করোনার ডামাডোল। বরাবরের রঙে রঙিন না হলেও অভিনব কায়দায় আয়োজন করা হয়েছিল পহেলা বৈশাখের ভার্চুয়াল আয়োজন। 

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য নিদির্ষ্ট পরামর্শ ও আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এই ক্রান্তিকালকে অতিক্রমের অভিলাষে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার শুভানুধ্যায়ী, লেখক ও শিল্পীরা তাঁদের গীতিতে, আবৃত্তিতে আর সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রেখেছিলেন নববর্ষের প্রথম প্রহর। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে একটানা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে নানান পরিবেশনা। সকাল ১১টায় নাহারের পরিবেশিত কবিতা আবৃত্তি দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এরপর একে একে কবিতা আবৃত্তি করেন কাশফী আহমেদ, ইশায়াত রহমান, নওশীন ঠাকুর, জেরিন আফরিন ও সাফিনা। দুপুর ১টায় নীলাদ্রি চক্রবর্তী,  হিমাদ্রি চক্রবর্তী,  মালা ঘটক চৌধুরী ও নির্মল চক্রবর্তীর সংগীত দিয়ে বর্ষ বরণের পর্বটি শুরু হয়। আরো গান গেয়ে শোনান অবনী মাহবুব, নিশাত সিদ্দিক, রওশন জামান, সারিতা রাহাত, সাকিনা, ইন্দ্রানী মুখার্জি, সুবীর গুহ, অনামিকা ধর, জিয়াউল ইসলাম তমাল, অভিজিৎ সরকার, প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস ও আত্তাবুর রহমান। সহস্রাধিক পেন্সিলর ঘরে বসেই উপভোগ করেছেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। 

মাঝে এক ফাঁকে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার  এডমিন সাকিনা আক্তার লাইভে এসে সকল পেন্সিলরকে শুভেচ্ছা জানান হ্যাপি পেন্সিলিং স্লোগান দিয়ে ! বর্ষবরণ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় সকল শিল্পীদের, দর্শকদের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে তিনি সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও সুস্থ জীবনের অভিপ্রায়ে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া পক্ষ থেকে সকলকে বাঁধতে চেয়েছে বিশ্বাসের বাহুডোরে। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারী হিসাবে ছিলেন জয় কবির, জিয়াউল ইসলাম তমাল, অনামিকা ধর ও সাকিনা আক্তার।

করোনা: দীর্ঘ পথ চলার পরও ঘরে ফেরা হলোনা সেই মেয়েটির

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন: এমন একাটি ‘ভাইরাস’ বিষের করাল গ্রাসের সম্মুখীন হয়েছে মানবজাতি, যার সম্পর্কে এখনও ভাল মতো ওয়াকিবহাল নয় বিজ্ঞানীরা। আজকের করোনাভাইরাসকে প্রত্যাঘাত করার মতো অস্ত্র এখনও মানুষের হাতে নেই। তাই লকডাউনই এখন একমাত্র ভরসা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবকুলের জন্য। জীবিকার সন্ধানে ভারতের ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর থেকে  তেলঙ্গানার একটি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন জামলো মকদম নামের বার বছর বয়সী এক বালিকা। 

লকডাউনে কাজ বন্ধ, পরিবহন বন্ধ। বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে তেলঙ্গানা থেকে বিজাপুরের বাড়ি পৌঁছতে ১১ জন সহকর্মীর সাথে ছোট্ট ছোট্ট পায়েই পথ চলা শুরু করেছিল এই বালিকা। তেলঙ্গানা থেকে বিজাপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। হাইওয়ে দিয়ে গেলে পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা। তাই দুর্গম জঙ্গলের পথ ধরেই বাড়ি পৌঁছনোর চেষ্টা করে ওই দলটি। টানা তিন দিন ধরে পথ চলার পর শেষ পর্যন্ত আশার আলো দেখতে পায় দলটি।

 কিন্তু তিন দিন ধরে হাঁটার পরেও, শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছন হল না ওই বালিকার। খিদে, পিপাসা, আর দীর্ঘ পথ হাঁটার পরিশ্রমের ভার বইতে পারেনি ছোট্ট দেহ। বাড়ি থেকে যখন আর মাত্র ঘণ্টাখানেক দূরে, তখনই চিরনিদ্রায় তলিয়ে গেল বিজাপুরের সেই বালিকা! পায় হেঁটে দীর্ঘ পথ চলার ধকল সহ্য করতে পারেনি ছোট্ট শরীরটা। 

করোনা সংক্রমণ রুখতে বিশ্ব জুড়ে চলা লকডাউন এবং বিচ্ছিনতা থমকে দিয়েছে মানুষের জীবন। পরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন পন্থায় ঘরে ফেরার চেস্টা অসহায় মানুষদের। কঠিন, রুক্ষ পথ পেরিয়ে কেউ কেউ সত্যিই পৌঁছে গিয়েছেন নিজের গন্তব্যে। আবার জামলোর মত অনেকেরই ঘরে ফেরা হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষায় রয়েছে পিতা-মাতা ও স্বজনেরা। 

তবে আশার আলো হচ্ছে, বর্তমানে আমাদের হাতে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে একজোট হয়ে একদিন এই বিপর্যয় রুখতে সক্ষম আমরা। আবার শুরু হবে নতুন পথ চলা, নতুন পৃথিবী। শুধু হাজার হাজার বছর ধরে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ‘কোভিড-১৯ করোনাভাইরেস’র মহা-বিপর্যয়ের এই স্মৃতি।