সিডনিতে গানে গানে ৭১ এ আসবেন বাংলা’র তিন বরেণ্য শিল্পী

আগামী ২৯ মার্চ (রোববার) সন্ধ্যায় সিডনির লিভারপুলে মেকিউর হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে। দেশ বরেণ্য তিন শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরী কিবরিয়া এবং আপেল মাহমুদকে নিয়ে সিডনিতে সাজানো হয়েছে ‘গানে গানে ৭১ এর কথকতা’।

এই উপলক্ষ্যে আয়োজকেরা গত ২৯ মার্চ (শনিবার) সন্ধ্যায় লাকেম্বার গ্রামীন রেস্টুরেন্টে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। অস্ট্রেলিয়ার নামকরা সোলার কোম্পানী ‘সোলার ওয়ার্ল্ড’ এর পৃষ্ঠপোষকতায় সাজানো হয়েছে ‘গানে গানে ৭১ এর কথকতা’ অনুষ্ঠানটি।

সোলার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার এনামুল হক এবং অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মুক্তিযোদ্ধা বাশার ভূঁইয়া এবং সিডনি প্রবাসী শিল্পী আপেল মাহমুদ, কমিউনিটি নেতা বাশার খান এবং ইন্জিনিয়ার ফারুক হান্নান অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সম্পূর্ণ ফ্রি পার্কিংয়ের সুবিধা সহ, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটির প্রবেশ মূল্য চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি স্তরে দর্শকেরা প্রতিটি টিকেটের সাথে রাতের নৈশভোজে অংশ নিতে পারবেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে শিল্পী আপেল মাহমুদ নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সকলের উদ্দেশে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্মৃতিচারণ করেন। আপেল মাহমুদের কন্ঠে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ কিংবা ‘ তীর হারা ওই ঢেউয়ের সাগর’; রথীন্দ্রনাথ রায়ের কন্ঠে যুদ্ধদিনের গান ‘ ও বগীলারে কেনো বা আলু’, ‘ছোটদের বড়দের সকলের’ এবং কাদেরী কিবরিয়ার কন্ঠে সেসময়ের গান ‘দেশে দেশে ভ্রমি’ বা  রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রখ্যাত সেই গান যেটা স্বাধীন বাংলায় তিনি বারবার গেয়েছেন ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ জনপ্রিয় হয়েছে। সিডনিবাসী এই কিংবদন্তী শিল্পীদের কন্ঠে বারবার স্মৃতি আর গানের মোহনায় ফিরে যাবে সেই সব দিনে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী আপেল মাহমুদ এর পরিচালনায়, এবং রথীন্দ্রনাথ রায় ও কাদেরী কিবরিয়ার সহযোগিতায় সিডনির স্থানীয় শিল্পী রুহুল আমিন ও আয়েশা কলির নেতৃত্বে একটি গানের দল থাকছে অনুষ্ঠানটির সর্বাঙ্গীন সংগীতায়োজনে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী এই প্রথম বারের মতো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই তিন প্রথিতযশা শিল্পী শুধু মাত্র স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পরিবেশিত সেইসকল লোকমুখে ঘুরে বেড়ানো, যুদ্ধচলাকালীন বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের স্পৃহা জাগানিয়া সেইসব গান নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন আমাদের এই সিডনিতে। এর আগে পৃথিবীর কোন মঞ্চে স্বাধীনতার পর তাঁরা একসাথে পরিবেশনা করেননি।

অনুষ্ঠানে আসতে আগ্রহীরা সিডনির বিভিন্ন এলাকার বাংলাদেশী গ্রোসারী শপে কিংবা deshievents.com.au থেকে নিজের পছন্দসই আসনের প্রবেশ পত্রটি সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও অনুষ্ঠান সংক্রান্ত যেকোন তথ্যাবলী ও প্রবেশ পত্রের জন্য যোগাযোগ করুন : এনামুল 0430 534 809, বাশার 0412 848 684, রুহুল আমিন( সাংস্কৃতিক সমন্বয়ক) 0449 556 558 ফোন নম্বরে। সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত টেলিভিশন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা। তারা সকলে অনুষ্ঠানটির সাফল্য কামনা করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ফান্ড রাইজিং ডিনার অনুষ্ঠিত

গত ১ মার্চ রবিবার Punchbowl এ অবস্থিত ক্রয়েশিয়া ক্লাবে সিডনীর বাংলাদেশীদের অন্যতম বৃহত্তম ফান্ড রাইজিং ডিনার সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিজস্ব জমিতে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য এ ফান্ড রাইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর সিডনির মিন্টোতে একটি Multi purpose ইসলামিক সেন্টার গড়ে তোলার জন্য ৫ একর বিশিষ্ট এ জমিটি ক্রয় করা হয়। এখন কমিউনিটির সুবিধাসহ একটি ইসলামিক সেন্টার গড়ে প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠিতব্য ফান্ড রাইজিং ডিনারে সিডনীর বিশিষ্ট আলেম এবং রুটি হিলস ও কোয়ারহিলস মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সহ সমাজের বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রায় ১ হাজারের বেশী গেষ্ট উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশী ছাড়াও ভিন্ন দেশের অতিথিবৃন্দ ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সাধারন সম্পাদক ড. আনিছুল আফছার উপস্থানায় M.C এর দায়িত্ব পালন করেন Mohammad Sabsabi। আলোচনায় অতিথি বক্তা ছিলেনSheikh Abdul Moez Nati, Sheikh Ibrahim Abdullah Newman ও Sheikh Redwan Rafi।  বক্তাগন নতুন প্রজন্মের জন্য ইসলামিক সেন্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সকলকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন। আলোচনার মধ্যে অতিথিদের রাতের ডিনার পরিবেশন করা হয়।

সবশেষে Auction হয়। এ পর্বে সহযোগিতা করেন আবুল সরকার ও আফসি। Sheikh Redwan Rafi দোয়ার মাধ্যমে ডিনারের সমাপ্তি হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার বৃহত্তর ক্যাম্বেলটাউন এলাকায় ঈদের জামাত, কুরবানি, তারাবিহ জামাত, তরুন-তরুনীদের ইসলামিক শিক্ষাসহ, বুশফায়ার ও বর্ন্যাতদের সহায়তা মূলক কল্যানমুলক কর্মসূচীগুলি করে থাকে। অতি শীঘ্রেই বহুমূখী ইসলামিক সেন্টারের কাজ শুরু হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি