সিডনিতে ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানালো ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল

কাজী আশফাক রহমান: মায়ের ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী একমাত্র জাতি হিসেবে যে গর্বের আসনে বাঙালি অধিষ্ঠিত, তা হৃদয় ধারণ করে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলে আগামী প্রজন্মকেও এই গৌরবের অংশীদার করতে চায়। আর তাই প্রতি বছরের মত এবারও ভাষা সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজন করেছিল অমর একুশে (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) অনুষ্ঠান মালা।

স্থানীয় সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অমর একুশের অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, কার্যকরী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাংলা ভাষাভাষীরা যোগদান করেন। সকাল দশটায় প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে এই আয়োজন পর্বের সূচনা ঘটে। প্রভাত ফেরীটি স্কুলের খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে পুরো স্কুল প্রদাক্ষিন করে শহীদ মিনারের বেদীমূলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। 

শুরুতে অমর একুশের (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) এবারের আয়োজনে সবাইকে স্বাগত জানান বাংলা স্কুল সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান। তিন পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসেভিক, স্থানীয় সংসদ সদস্য আনুলাক চানটিভং এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কনসাল এবং হেড অফ চেনসারি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। আলোচনায় বক্তারা অমর একুশের তাৎপর্য এবং এর আন্তর্জাতিকতার উপর আলোকপাত করেন।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে অসামান্য অবদান রাখায় ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজ কর্মী প্রকৌশলী জনাব মির্জা মনিরুল হাসানকে একুশে সম্মাননা ২০২০ এ ভূষিত করা হয়। তিন ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান, শাহ আলম সৈয়দ এবং আবদুল জলিল এবং সম্মানিত নেতৃবৃন্দ এই কীর্তিমানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সভাপতি মাসুদ হোসেন মিথুন। 

দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে বাংলা স্কুলের ছাত্রী অপলা খালিদ সম্প্রতি প্রলয়ংকারী দাবানলে বিপর্যস্ত ভাগ্য বঞ্চিত প্রানীকুলের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসার আবেগঘন আহ্বান জানায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে খাবার বিক্রয় থেকে অর্জিত সমুদয় অর্থ অনুদান হিসেবে RSPCA তে প্রদান করা হবে। এই পর্বে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপহার দিয়ে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে।

পাঁচটি দলগত সংগীত, দুটি একক সংগীত, তিনটি বৃন্দ আবৃত্তি এবং দশটি একক আবৃত্তির প্রতিটিতে ছেলেমেয়েরা তাদের  প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। একক সংগীত পরিবেশন করে এলভিরা, জেইনা ও সুবাহ। একক আবৃত্তিতে অংশ নেয়  ফারহান, তাওহিদ, স্বপ্নীল, নাজিহা, এথিনা, নাবিহা, রুশনান,  মারজান, রেইনর, আলিশা, তামজিদ, আরিজ, রুশদা, ওয়াফি, রাসমিয়া, তাইশা, সম্প্রীতি,  কাইজান, সামরিন ও দৃপ্ত। 

তৃতীয় ও শেষ পর্বে সিডনির স্বনাম ধন্য দল ও শিল্পীদের হৃদয়গ্রাহী পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ইভানা শামস এবং স্কুলের শিক্ষক নাসরিন মোফাজ্জল। প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ সিরাজুস সালেকীনের নেতৃত্ব সংগীত পরিবেশন করে সাড়া জাগানো গানের দল প্রতীতি। গানে গানে ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান লুৎফা খালেদ ও স্কুলের শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি।

পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অমর একুশে অনুষ্ঠানের আহবায়ক ফায়সাল খালিদ শুভ। সঞ্চালনায় ছিলেন রুমানা খান মোনা, ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠান পরিবেশনায় সহায়তা করেন স্কুলের শিক্ষক নাসরিন মোফাজ্জল, আনজুমান আরা আইরিন,  মাসসিনা জেলিন ও ফাতিমা জান্নাত। তবলায় সংগত করেন স্বনামধন্য তবলা বাদক বিজয় সাহা। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সাজ্জাদ চৌধুরী বাপ্পী। শহীদ মিনার নির্মাণ ও মঞ্চ সজ্জা ও এর নির্মাণ এর মূল পরিকল্পনায় ছিলেন মসিউল আজম খান স্বপন  এবং মাসুদ মিথুন। সহায়তা করেন নুরুল ইসলাম শাহিন, মেহেদী হাসান, আহমেদ তারিক ও সাজ্জাদ সিদ্দিক। আপ্যায়নে ছিলেন নুরুল ইসলাম শাহিন ও আহমেদ তারিক। সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী আয়োজনগুলিতেও সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন বাংলা স্কুলের সভাপতি মাসুদ হোসেন মিথুন। প্রসংগত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলে প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s