সিডনির ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকাল ১১ টায় ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে তাদের সবুজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর স্কুলের শিশু কিশোর সহ বড়রা ভাষার গান, একক নৃত্য, কবিতা আবৃতি, দেশের গান ও একুশের পরিবেশনায় অংশগ্রহন করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসিভিক ভাষা সংগ্রামীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বহু সংস্কৃতির এই অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা ভাষাভাষীদের অবদানের কথা গর্ব ভরে উল্লেখ করেন। কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী তাঁর স্বাগত বক্তৃতায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলকে এই মহতি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসিভিকের নেতৃত্বে কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল সিডনি’র কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কাউন্সিল প্রাঙ্গনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম, স্বাধীন বাংলা বেতারের গায়ক আপেল মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা, মাল্টিকালচারাল কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শিশু কিশোর সহ প্রবাসী বাংলদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে একটি অতি গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। দিনটি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করার অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানেরা। এই অনন্য ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বাঙালির আত্ম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিনটি সারা বিশ্বেই পালিত হয়ে আসছে।

সিডনির বাংলাদেশ কনসুলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবস উদযাপন

গত ২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল সিডনি, যথাযথ মর্যাদায় ও বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবস পালন করে। সকালে বাংলাদেশ ভবন সিডনিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করে বাংলাদেশ কনসুলেট দিনের কর্মসূচীর উদ্বোধন করে।  মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে সিডনির ম্যাটরাভিল পাবলিক স্কুলের সাথে যৌথ উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে মাতৃভাষার বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সন্ধ্যায় কনসুলেট ভবনে কনসাল কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করে স্থানীয় শিশু কিশোর ও তাদের মায়েরা। এরপর কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। গীতা পাঠ করেন ড. রতন কুন্ডু। ভাষা শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তারপর কনসাল জেনারেল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান।

কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম তাঁর স্বাগত বক্তব্যে সকল ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মহান ভাষা আন্দলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও অবদানের প্রতি আলোকপাত করেন। ভাষা আন্দলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত রচিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্বের সকল মাতৃভাষার সংরক্ষনেও বাংলাদেশের দায়িত্ব পরিব্যপ্ত হয়েছে বলেও তিনি স্মরন করিয়ে দেন। এই প্রেক্ষাপটে, প্রবাসী নুতন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা চর্চায় উৎসাহিত করার জন্য উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ জানান।

মিসেস মাসুদুল আলমের সঞ্চালনায় শিশু, কিশোর ও বড়রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। মহান শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশী এবং বিভিন্ন সাহিত্য- সংস্কৃতি ও শিল্পগোষ্ঠী সহ পেশা ভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।