সিডনির লাকেম্বায় ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সময় ১৬ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সিডনির বাঙ্গালী পাড়া খ্যাত লাকেম্বায় চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত হয়৷  দুপুর ১২ টা থেকে মেজবানের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোজন রসিক মানুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেজবানের ভেন্যু৷

আমন্ত্রিত অতিথিরা নিজ নিজ আসনে বসার পর গান পরিবেশন করেন স্থানীয় কণ্ঠশিল্পী মিঠু৷ অতিথিরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করেন৷ মেজবানের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, শ্যাডো মিনিস্টার ও এমপি টনি বার্ক, কাউন্সিল মোহাম্মাদ জামান, কাউন্সিলর নাজমুল হুদা, কবি খালেক সহ প্র বাংলাদেশ কম্যুনিটির সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও মেজবানে অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ফেসবুক সেলিব্রিটি আলী রাশেদ৷ মেজবানে আয়োজক গ্লোবাল বিজনেস ও কালচারাল এসোসিয়েশনের পাশাপাশি সহযোগী ছিলো স্বাধীন কন্ঠ, ইএসআই গ্লোবাল, সোলার ওয়ার্ল্ড, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস এন্ড মিডিয়া ক্লাব ও সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিল৷

নাস্তিকদের ধর্মকথা

বিজ্ঞানের যতগুলো শাখা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিষ্ময়কর শাখা হচ্ছে মহাকাশ বিজ্ঞান। মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রতিটি কথা ও আবিষ্কার আমাদেরকে কৌতুহলী করে তোলে। মহাকাশ বিজ্ঞানের গ্রহ-উপগ্রহ, সৌ্রজগৎ, ছায়াপথ, নক্ষত্র নিয়ে মহাবিশ্বের অবাক করা সাতটি ফ্যাক্টস্ রয়েছে। এই মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রতিদান দিবস সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র কুরআনের ৭৮ নম্বর সূরা আন-নাবা’র ১২,১৩,৩৭,৩৮ ও ৩৯ নম্বর আয়াতে বলেন; 

আর আমি তোমাদের উপরে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ (১২)। আর আমি সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল একটি প্রদীপ (১৩)। যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, পরম করুণাময়। তারা তাঁর সামনে কথা বলার সামর্থ্য রাখবে না (৩৭)। সেদিন রূহ* ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন সে ছাড়া অন্যরা কোন কথা বলবে না। আর সে সঠিক কথাই বলবে (৩৮)। ঐ দিনটি সত্য। অতএব যে চায়, সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক (৩৯)।

মহাকাশ বিজ্ঞানের ৭টি ফ্যাক্টস্ এর মধ্যে সপ্তম ফ্যাক্টটি হলো:  মহাবিশ্বে প্রায় দশ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে। দশ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির একটির নাম মিল্কিওয়ে। মিল্কিওয়েতে ছোট বড় সব মিলিয়ে আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন নক্ষত্র আছে (আরেকটা হিসাব বলছে ১০০ বিলিয়ন)। এই ২০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের একটির নাম সূর্য। সূ্র্যের ভর হচ্ছে ২০০০ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। পৃথিবীর ভর থেকে যা ৩০০,০০০ গুণ বেশি। যদিও সূ্র্যের বেশিরভাগ অংশই তৈরী মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা দুটি গ্যাস হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন দিয়ে সূর্যের আছে ৮ টি গ্রহ। এই ৮ টি গ্রহের একটি হল পৃথিবী। অনুমান করা হয় পৃথিবীতে এক ট্রিলিয়ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এদের মধ্যে একটি প্রজাতি মানুষ জাতি। 

২০২০ সালের এক হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা  মাত্র ৭.৭ বিলিয়ন। এই মানুষের মধ্যে কিছু কিছু অবিশ্বাসী মানুষ রয়েছে। যাদেরকে নাস্তিক বলা হয়। আবার কিছু কিছু মুসলমাননামধারী নাস্তিকও রয়েছে। যাদেরকে কখনো রোযা- নামাযে দেখা যায়না। এই নাস্তিকরা তাদের ফেসবুক, ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন পন্থায় পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কিছু কিছু অংশ বিকৃতভাবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষদেরকে বিভ্রান্তি করে। আমরা অনেকেই ভালভাবে না পড়ে না বুঝে লাইক ও শেয়ার দিয়ে যাচ্ছি। নাস্তিকদের এই ধর্মকথা থেকে আমাদেরকে সাবধানঅবলম্বন করতে হবে।

এই মহাবিশ্ব এবং সাত আসমান ও জমিনে আল্লাহ্ তা’আলার সৃষ্ট ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন …………মাকলুকাত  ও সবকিছু তাদের রবের প্রশংসায় মশগুল। কিছু সংখ্যক  মানুষ আল্লাহকে অবিশ্বাস করলে তাঁর কিছুই যায়-আসেনা। কিন্তু আমরা যারা বিশ্বাসী তাঁরা অবশ্যই আল্লাহ্ তা’আলা ও সৃষ্টির সেরা মানব রাসূলুল্লাহ (সা.) বিধি বিধান অনুযায়ী চলতে হবে এবং আমাদের রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে দুনিয়ার ফেৎনা থেকে হেফাজত করে ইসলামী জীবনবিধান অনুযায়ী চলার তৌফিক দান করুক। আমিন।

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া