সিডনিতে ইউনাইটিং মিন্টো টিমের উদ্যোগে “লাইট আপ দা লেন” অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সময় গত ১ ফেব্রুয়ারী গত ( শনিবার) ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের সার্বিক সহযোগিতায় ইউনাইটিং মিন্টো টিম “লাইট আপ দা লেন” অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বতঃস্ফূর্ত দর্শকের প্রাণবন্ত উপস্থিতির মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতির শিল্পীদের পরিবেশনা ও খাবারের পাশাপাশি এরিকা লেনের সৌন্দর্য উপভোগ।

মিন্টো’কে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ‘টাউন টীম মুভমেন্ট’ ২০১৯ থেকে সহযোগিতা করছে। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে ‘টাউন টিম মুভমেন্ট’ কাউন্সিললের সহযোগিতায় একটি ওয়ার্কশপের আয়োজনের মাধ্যমে “ইউনাইটিং মিন্টো” নামে একটি কমিউনিটি মাল্টিকালটারাল টিম গঠন করে।

এই টিমে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটি একত্রিত হয়ে স্থানীয় কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে অসম সিদ্ধান্তে ব্রত হয়ে কাজ করতে একত্রিত হন। ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি ক্যারোলিন হল্মেস, টাউন টীম মুভমেন্ট’র কো-অর্ডিনেটর ডেভিড স্ন্যাডার এলিজা টুম্পাকে এই ইউনাইটিং মিন্টো’ টীম এর নেতৃত্বের জন্য নির্বাচিত করেন।

এই টিমের অন্যতম সদস্যরা হলেন  আলম তপন, শফিকুল আলম শফিক, মুনির হোসাইন, সায়েদ ফাইজ অপু, মাল ফ্রুইন, উষা খাদকা, শর্মিলা বাস্তকতি, এহসান আহমেদ, ফারজানা সৃষ্টি, মাসুদ মিথুন, রাকেশ মন্ডল, আলম অপু, রোকসানা বেগম, কানিজ আহমেদ, ফিরোজ সিদ্দিকী, আসমা আলম, মাহমুদ ইমন, আনিসুর রহমান, আশিক রহমান, মোঃ লুৎফর রহমান টিপু ও সেলিম কবির। সহযোগী সদস্যদের মধ্যে আছেন সাকিনা আক্তার, সৈয়দ একরাম উল্লাহ, শুভ্রা মুস্তারিন, মিলি ইসলাম, আতিকুর রহমান ও আশিক রহমান অ্যাশ।  

এই টিমের মাধ্যমে এরিকা লেনটিকেই প্রথমত “লাভ লেন” হিসেবে সৌন্দর্যমন্ডিত ও নিরাপদ করবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ এই লেনটি দীর্ঘদিন যাবৎ অসামাজিক কার্যকলাপ সহ নিয়মিত অনেক রকম অপ্রীতিকর দুর্ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। পাশাপাশি কমিউনিটিতে এই লেনটি আতংকের একটি জায়গা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। সব দিকগুলো বিবেচনা করে ইউনাইটিং মিন্টো’ টীম এরিকা লেনকে নিরাপদ ও সুন্দর করতে কাজ আরম্ভ করে। সেই উদ্দেশ্যেই আন্তর্জার্তিক পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গুণী শিল্পী পার্থ প্রতিম বালার আঁকা মুরাল চিত্র, চিত্রশিল্পী শুভাশীষ মজুমদার ও মুনির হোসাইন এর সহযোগিতায় ফুটপাতে আল্পনা, ছোট্ট পরিসরে নেটিভ ট্রি’র প্লান্টার বক্স দিয়ে সাজানো বাগান আর খোলা আকাশের নিচে বসবার জন্য দোলনা সহ চওড়া বেঞ্চ, পুরো লেনটির পুরোনো চেহারা পাল্টে দেয়।

নতুন রূপে সেজে উঠা এরিকা লেন এলাকাবাসির অতীতের ভয়ঙ্কর সব দুর্ঘটনাকে ভুলিয়ে দেয়। সেইসাথে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ফেস পেইন্টিং, মেহেদী সহ স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্টল ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সুস্বাদু ফুড ট্রাক এর মজাদার খাবার পুরো আয়োজন দর্শক ও ভোজন বিলাসীদের মাতিয়ে রাখে। অনুষ্ঠানে এরিকা লেনটির স্বত্তাধাকারী দুজন বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী আলম তপন ও আলম অপু তাদের নিজস্ব জায়গায় ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিল ও ইউনাইটিং মিন্টো’ টিমকে নতুন আলোকে সাঁজাতে অনুমতি দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউনাইটিং মিন্টো’ টিম তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানায়। 

অনুষ্ঠানে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ বিটিসিভিক তার বক্তৃতায় “ইউনাইটিং মিন্টো” টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র ডারসি লাউন্ড, কাউন্সিলরস মাসুদ চৌধুরী, ক্যারেন হান্ট, বেন গিলহোল্ম প্রমুখ। ইউনাইটিং মিন্টো’ টিম সদস্যদের পক্ষে এলিজা টুম্পা কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরীকে এই আয়োজনে উৎসাহ দিতে পাশে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, সংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ। 

দাবানলের ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠতেই, গ্রীষ্মের ৪৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা উপেক্ষা করে পুরো কমিউনিটি এই প্রথম মিন্টোতে নানান দেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স উপভোগ করে বাচ্চাদের আর্ট কম্পেটিশন, রকমারি পণ্যের বাহারি সমারোহ ও বিভিন্ন স্বাদের খাবার। বাংলাদেশী শিল্পীর হাতে আঁকানো এরিকা লেনের মুরাল দুটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, এই এলাকায় বসবাসরত এলাকাবাসীদের নিজ-দেশীয় আইকনগুলোর সংযোজন, যা বাঙালীদের জন্য আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল কাজ।  অনুষ্ঠানটি বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।  আয়োজক টীম জানিয়েছে, ইউনাইটিং মিন্টো’ টিমের এই টাউন বিউটিফিকেশন কর্মসূচী আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

সিডনিতে বসন্ত মেলা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি

সিডনিতে মহিলা সংগঠন ফাগুন হাওয়া আয়োজিত ৮ই ফেরুয়ারি ওয়াইলী পার্কে অনুষ্ঠিতব্য বসন্ত মেলা বৃষ্টিজনিত কারনে পিছিয়ে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটির পক্ষে তিশা তানিয়া, নাসরিন পলি ও সানজিদা আক্তার অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার কারনে মেলার তারিখ পিছিয়ে দেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বসন্তমেলার টাইটেল স্পনসর অস্ট্রাল বিল্ট।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি (শনিবার) এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, এবার বড়সর পরিসরে সম্পূর্ণ  মেয়েদের দ্বারা পরিচালিত হবে “ফাগুন মেলা”। হরেক রঙের ফুলের সমারোহে, আমরা সবাই  চারুকলার স্বাদ পাবো ফাগুন মেলার আল্পনার ঢঙে। রমনীরা আসবে হলুদ শাড়ী পড়ে, খোপায় ফুল গুজে। থাকছে নাচ গান কবিতা , ফ্যাশন সো, ডিজে সহ বাংলাদেশ থেকে আসছেন জনপ্রি়য় ফোক শিল্পী। থাকছে ফেস পেইন্টিং, বেলুন টুইস্টিং, ক্লাউন ফর কিডস সহ আরো অনেক আকর্ষণীয় আয়োজন সহ লোভনীয় সব পিঠা ও খাবারের দোকান। মেলাতে কোন প্রবেশ মূল্য থাকবে না।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফাগুনের মেলা হচ্ছে রঙর মেলা তাই সূর্যের আলো থাকতে থাকতেই চলে আসুন, আমরা থাকবো আপনাদের অপেক্ষায় মেলার মাঠ। মেলার সারা মাঠ সাজানো থাকবে রঙ বেরঙের ফুলে আর থাকবে দুটো ফটো বুথ সাথে আকর্ষণীয় সেলফি ফ্রেম।