চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

গত ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়া, সিডনির বিভিন্ন সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস“ পালন করেছে। 

আয়োজক ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের আমন্ত্রনে গত ২২ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম ক্লাবের সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া হক তন্দ্রা এবং ক্লাবের সদস্যরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা  দিবস উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রটিশবিক, কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ হাই কমিশন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ভাষাভাষীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

২৩ ফেব্রুয়ারী “একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়া” কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশের প্রভাত ফেরীতে ক্লাবের সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সহ সভাপতি মোহাম্মদ চৌধুরী (ইমরান), সাধারন সম্পাদক সাদিয়া হক তন্দ্রা, নির্বাহী সদস্যসহ পরিবারবর্গ  ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই অনুষ্ঠানে সাদিয়া হক তন্দ্রা একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়াকে এমন মহতী উদ্যোগে ক্লাবকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই দিনে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল আয়োজিত বিশ্ব ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।

নাদেলকে সিডনি প্রবাসী সিলেটিদের সংবর্ধনা

অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। বাংলাদেশ বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণকারী দেশ থেকে এখন বিনিয়োগের অনুকূল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীদের বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য কর্মসংস্থানমূলক শিল্প-কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় সিডনিস্থ লাকাম্বা এলাকার একটি হোটেলের হল রুমে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত সিলেটিদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক অস্ট্রেলিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট নানু মিয়ার সভাপতিত্বে ও উবায়দুল হকের পরিচালনায় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক্স সিটি। যা ১৬২ একর জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে।

শফিউল আলম নাদেল বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। দিন দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পদ্ধতি ও আনুষ্ঠানিকতা সহজ করা হয়েছে। এখন এক খানেই সকল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসীরা চাইলেই এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস ইনক অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহ আলম, সাংবাদিক জুমান হোসাইন, মিকু চৌধুরী, মাসুদুর রহমান শ্যমল প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী (রবিবার) সিডনির এশফীল্ড পার্কে অনুষ্ঠিত বইমেলায় প্রভাত ফেরী শেষে স্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।  ৫২-এর মহান ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পনের সময় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনায়েতুর রহিম বেলাল ও সাধারন সম্পাদক ডঃ আবুল হাসনাত মিল্টন, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সহ-সভাপতি ডাঃ লাভলী রহমান ও সাধারন সম্পাদক নোমান শামীমসহ অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী নেতৃবৃন্দের মধ্যে এড নির্মল্য তালুকদার, ফয়সাল মতিন, সৈয়দা তাজমিরা আক্তার, ডাঃ আসাদ শামস, এলিজা আজাদ টুম্পা, আরিফুর রহমান, চমন রহমান, আশিক রহমান, মাসফি মারুফ, কবীর সারোয়ার, রকি তালুকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মেলবোর্নে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে মেলবোর্ন বাংলা স্কুল ও মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাতীয় শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপন করা হশুরুতেই অতিথিবৃন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ও অভিভাবকদের নিয়ে অমর একুশে উপলক্ষে আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, চিত্রশিল্পী হাসিনা চৌধুরী মিতা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের মাগফিরাতের জন্যে দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের অধ্যক্ষ ও মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেসনের সভাপতি মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক। তিনি স্কুলের শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সামনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, ভাষা রক্ষায় এর প্রয়োজনীয়তা, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে এর ভূমিকা, ইত্যাদির উপর আলোকপাত করেন ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ত আরোপ করেন। উনি সমাজ ও দেশের স্বার্থে করা মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেসনের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড সবার সামনে তুলে ধরেন ও মেলবোর্নে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ও মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের জন্যেএরপর অমর একুশের উপর এক প্রামান্য চিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের উইলস অঞ্চলের ফেডারেল এমপি পিটার খলিল, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মোরল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের সন্মানিত মেয়র ল্যাম্ব্রোস টাপিনোস ও কাউন্সিলর স্যু বোল্টন। তারা ব্যাক্তি ও সামাজিক জীবনে মাতৃভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলা ভাষার ইতিহাস জানতে পেরে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ভাষা ও জীবনের সংগ্রামের সাথে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের তুলনা করেন। তারা তাদের ছোটবেলায় ইংরেজীর পাশাপাশি আরবী, ইটালিয়ান ইত্যাদি ভাষা শিক্ষার কথা স্মরন করেন। স্থানীয় পাঠাগারে বাংলা বই সরবরাহ ছাড়াও ভবিষ্যতে বাংলা ভাষা শিক্ষা ও বাংলাদেশী কম্যূনিটির সবধরনের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আস-সিরাজ এরাবিক স্কুলের অধ্যক্ষ মাজিদা আলি, ও থাই ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের অধ্যক্ষ নামটিপ স্যাংমুরাং ম্যুর। তারা বলেন, যে কোন জাতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে বা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সেই জাতির মাতৃভাষার বিকল্প নাই। তাই মাতৃভাষাকে যথাযথ মর্যাদার সাথে গুরুত্ব সহকারে বাচ্চাদের শিক্ষা দিতে হবে। মেলবোর্ন বাংলাদেশি কম্যূনিটি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেস্টা ড. মাহবুব আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন রক্ত ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচতে পারে না তেমনি মাতৃভাষা ছাড়া কোন জাতি বাঁচতে পারেনা। তিনি আরও বলেন, আজ ২১ শে ফেব্রুযারী (অন্তর্র্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) সারা বিশ্বের প্রতিটি জাতিকে তাদের মাতৃভাষাকে মূল্যায়ণ ও সংরক্ষনের তাগিত দেয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট জিপি ড. আবুল কাসেম, অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ইসলামিক কাউন্সিলের সভাপতি জনাব আবু জাফর মোহাম্মাদ আলী, এমবিসিএফের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ কবির হোসেন, চিত্রশিল্পী হাসিনা চৌধুরী মিতা, প্রমুখ।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অতিথি স্কুল আসসিরাজ এরাবিক স্কুল ও থাই ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এরপর তাদেরকে ফুল দিয়ে সন্মানিত করা হয়। সম্মিলিত জাতীয় সঙ্গীত ও অমর একুশের গান গেয়ে শোনায় মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথি বৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি করে ও গান গেয়ে শোনায় মেলবোর্ন বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক বৃন্দ। তাদের মধ্যে সুমাইয়া হক, সাদ ইবনুল হক, মানহা মাহবুব, জাফির রায়িদ, আয়েশা বিনতে আফতাব, আরিশা বিনতে আফতাব, ইফতেখার আহমেদ, নেহান রানা, আরাশ রানা, সুমাইতা, মাহরুশ ও জারির উল্লেখযোগ্য।

এরপর শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরন করেন ফেডারেল এমপি পিটার খলিল। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ছোটদের মধ্যে প্রথম হয় আরাশ, দ্বিতীয় হয় সুমাইতা, ও তৃতীয় হয় আরিশা। বড়দের মধ্যে প্রথম হয় সাদ, দ্বিতীয় হয় নেহান এবং তৃতীয় হয় সুমাইয়া হক। তাছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন পুরস্কার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে সবাইকে অনুষ্ঠানে আসার জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন জনাব মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক। সার্বিক তত্তাবধানে ছিলেন মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক, ড. মাহবুবুল আলম, কবির হোসেন, মিতা পারভীন, জোবাইদা আলী, ড. মোসাম্মাৎ নাহার, নাসিমা খান, সাব্বির ফারুক,  মুহাম্মাদ সামদানি, এ কে এম আদনান, ইসমত আরা কানন সহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসাথে দুপুরের আহার উপভোগ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সিডনিতে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া’র পুষ্পস্তবক অর্পন

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত প্রভাত ফেরীতে অংশগ্রহণ করে সিডনির এশফিল্ড আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে। 

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া’র সদস্যরা ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য আলোকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন।

সিডনিতে ভিকারুন্নেসা এলামনাই এসোসিয়েশন’র পুষ্পস্তবক অর্পন

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভিকারুন্নেসা এলামনাই এসোসিয়েশন এর কার্যকরী কমিটি সিডনির এশফিল্ড আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করে। 

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ভিকারুন্নেসা এলামনাই এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট ডাঃ মাহবুবা খানম মুক্তা এবং সেক্রেটারী ডাঃ সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা প্রবাসে দিনটি সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রবাসী প্রজন্মের অভিভাবকদের সন্তানদের বাংলা শেখানোর অনুরোধ করেন।

সিডনিতে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে নৃত্য নকশার আয়োজন

ডঃ রতন কুণ্ডুঃ গত ২৩ ফেব্রুয়ারী (রবিবার) বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সিডনি অফিস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে এক নৃত্য নকশার আয়োজন করে।

সন্ধ্যায় ব্যাংকসটাউনের ব্রায়ান ব্রাউন থিয়েটারে আয়োজিত এই নৃত্য নকশায় বাংলাদেশ থেকে আগত ধৃতি নর্তনালয় তাদের প্রযোজনা উপস্থাপন করেন। ইতিহাস ভিত্তিক কাহিনী কবিতা ও গানের সাথে কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে জাতির পিতার জীবন দর্শন তুলে ধরা হয়। উপস্থিত সুধী মণ্ডলী এই সুন্দর আয়োজনের জন্য কনসাল জেনারেল ড.মাসুদুল আলম ও  কনসাল কামরুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান।

সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল’র ভাষা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন

স্থানীয় সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি (রোববার) বিকেল ৪টায় ‘সিডনি প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কাউন্সিল’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে অ্যাসফিল্ডের ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধে’ পুষ্পস্তবক অর্পন করে। 

কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে কাউন্সিলের সদস্য সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এই পুষ্পস্তবক অর্পনে অংশগ্রহণ করে। এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় মোহাম্মাদ আব্দুল মতিন  সকল ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে উপস্থিত সবাইকে অংশগ্রহন করর জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সিডনিতে ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানালো ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল

কাজী আশফাক রহমান: মায়ের ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী একমাত্র জাতি হিসেবে যে গর্বের আসনে বাঙালি অধিষ্ঠিত, তা হৃদয় ধারণ করে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলে আগামী প্রজন্মকেও এই গৌরবের অংশীদার করতে চায়। আর তাই প্রতি বছরের মত এবারও ভাষা সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজন করেছিল অমর একুশে (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) অনুষ্ঠান মালা।

স্থানীয় সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অমর একুশের অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, কার্যকরী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাংলা ভাষাভাষীরা যোগদান করেন। সকাল দশটায় প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে এই আয়োজন পর্বের সূচনা ঘটে। প্রভাত ফেরীটি স্কুলের খেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে পুরো স্কুল প্রদাক্ষিন করে শহীদ মিনারের বেদীমূলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। 

শুরুতে অমর একুশের (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) এবারের আয়োজনে সবাইকে স্বাগত জানান বাংলা স্কুল সাধারন সম্পাদক কাজী আশফাক রহমান। তিন পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসেভিক, স্থানীয় সংসদ সদস্য আনুলাক চানটিভং এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের কনসাল এবং হেড অফ চেনসারি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। আলোচনায় বক্তারা অমর একুশের তাৎপর্য এবং এর আন্তর্জাতিকতার উপর আলোকপাত করেন।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে অসামান্য অবদান রাখায় ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজ কর্মী প্রকৌশলী জনাব মির্জা মনিরুল হাসানকে একুশে সম্মাননা ২০২০ এ ভূষিত করা হয়। তিন ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য নাজমুল আহসান খান, শাহ আলম সৈয়দ এবং আবদুল জলিল এবং সম্মানিত নেতৃবৃন্দ এই কীর্তিমানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সভাপতি মাসুদ হোসেন মিথুন। 

দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে বাংলা স্কুলের ছাত্রী অপলা খালিদ সম্প্রতি প্রলয়ংকারী দাবানলে বিপর্যস্ত ভাগ্য বঞ্চিত প্রানীকুলের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসার আবেগঘন আহ্বান জানায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে খাবার বিক্রয় থেকে অর্জিত সমুদয় অর্থ অনুদান হিসেবে RSPCA তে প্রদান করা হবে। এই পর্বে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপহার দিয়ে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে।

পাঁচটি দলগত সংগীত, দুটি একক সংগীত, তিনটি বৃন্দ আবৃত্তি এবং দশটি একক আবৃত্তির প্রতিটিতে ছেলেমেয়েরা তাদের  প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। একক সংগীত পরিবেশন করে এলভিরা, জেইনা ও সুবাহ। একক আবৃত্তিতে অংশ নেয়  ফারহান, তাওহিদ, স্বপ্নীল, নাজিহা, এথিনা, নাবিহা, রুশনান,  মারজান, রেইনর, আলিশা, তামজিদ, আরিজ, রুশদা, ওয়াফি, রাসমিয়া, তাইশা, সম্প্রীতি,  কাইজান, সামরিন ও দৃপ্ত। 

তৃতীয় ও শেষ পর্বে সিডনির স্বনাম ধন্য দল ও শিল্পীদের হৃদয়গ্রাহী পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ইভানা শামস এবং স্কুলের শিক্ষক নাসরিন মোফাজ্জল। প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ সিরাজুস সালেকীনের নেতৃত্ব সংগীত পরিবেশন করে সাড়া জাগানো গানের দল প্রতীতি। গানে গানে ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান লুৎফা খালেদ ও স্কুলের শিক্ষক রুমানা ফেরদৌস লনি।

পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অমর একুশে অনুষ্ঠানের আহবায়ক ফায়সাল খালিদ শুভ। সঞ্চালনায় ছিলেন রুমানা খান মোনা, ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠান পরিবেশনায় সহায়তা করেন স্কুলের শিক্ষক নাসরিন মোফাজ্জল, আনজুমান আরা আইরিন,  মাসসিনা জেলিন ও ফাতিমা জান্নাত। তবলায় সংগত করেন স্বনামধন্য তবলা বাদক বিজয় সাহা। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সাজ্জাদ চৌধুরী বাপ্পী। শহীদ মিনার নির্মাণ ও মঞ্চ সজ্জা ও এর নির্মাণ এর মূল পরিকল্পনায় ছিলেন মসিউল আজম খান স্বপন  এবং মাসুদ মিথুন। সহায়তা করেন নুরুল ইসলাম শাহিন, মেহেদী হাসান, আহমেদ তারিক ও সাজ্জাদ সিদ্দিক। আপ্যায়নে ছিলেন নুরুল ইসলাম শাহিন ও আহমেদ তারিক। সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী আয়োজনগুলিতেও সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন বাংলা স্কুলের সভাপতি মাসুদ হোসেন মিথুন। প্রসংগত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলে প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।

সিডনির ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকাল ১১ টায় ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে তাদের সবুজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর স্কুলের শিশু কিশোর সহ বড়রা ভাষার গান, একক নৃত্য, কবিতা আবৃতি, দেশের গান ও একুশের পরিবেশনায় অংশগ্রহন করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসিভিক ভাষা সংগ্রামীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বহু সংস্কৃতির এই অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা ভাষাভাষীদের অবদানের কথা গর্ব ভরে উল্লেখ করেন। কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী তাঁর স্বাগত বক্তৃতায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলকে এই মহতি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসিভিকের নেতৃত্বে কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল সিডনি’র কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কাউন্সিল প্রাঙ্গনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম, স্বাধীন বাংলা বেতারের গায়ক আপেল মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা, মাল্টিকালচারাল কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, শিশু কিশোর সহ প্রবাসী বাংলদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে একটি অতি গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। দিনটি শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করার অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানেরা। এই অনন্য ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বাঙালির আত্ম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিনটি সারা বিশ্বেই পালিত হয়ে আসছে।