মেলবোর্নে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

শতদল তালুকদারঃ গত ১৮ জানুয়ারি (শনিবার) অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নে জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া শাখার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। জাগো নতুন প্রভাত জাগো সময় হল, জাগো নব দিনমণি অন্ধ তিমিরও দ্বার খোলো হে খোল—শিব চক্রবর্তীর পরিবেশনা দিয়ে শুরুর হয়। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম যে তিনটি হল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল জগন্নাথ হল তার একটি। 

পুনর্মিলনী উপলক্ষে সিডনি সহ ভিক্টোরিয়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অনেক এলামনাই হাজির হন মেলবোর্নে। অভিজিৎ সাহার পরিচালনায় এ পুনর্মিলনী সভায় জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া শাখার সদস্যবৃন্দ ও তাদের পরিবারসহ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া তথা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জগন্নাথ হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। এই হলের এক সময়ের আবাসিক শিক্ষক ডক্টর সজল পালিত, প্রভোস্ট নিহার রঞ্জন সরকারের স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য যেন এক একটি রূপকথা।

এছাড়া সংগঠনের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জগন্নাথ হল নিয়ে গল্পকথায় স্মৃতিচারণ, হাসি আর বেদনার গল্প যেন সবাইকে নিয়ে যায় হারানো সেই পুরোনো দিনগুলিতে। ১৯৭১ খ্রীস্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকায় গণহত্যায় জগন্নাথ হলের বহু আবাসিক ছাত্র ও কর্মচারী নিহত হয়। অনুষ্ঠানে নিহতদের ও ১৯৮৫ খ্রীস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের ট্র্যাজেডিতে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হয় তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

খুদে শিল্পী ধ্রুব জ্যোতি রায় প্রাজ্ঞর পরিবেশনা আমরা শান্তির পায়রা, সূর্যের মতো মোরা উজ্জ্বল- ছিল এই মিলনমেলার অতিথিদের স্লোগান। এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখেই হোক এসোসিয়েশনের আগামীর পথ চলা।